মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৯৭
وعن عائشة: أن النبى ﷺ كان يعتكف العشر الأواخر من رمضان حتٰى توفاه اللٰه ثم اعتكف أزواجه من بعده. (متفق عليه)
(তিনি বলেন) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সবসময়ই মাসের শেষ দশদিন ইতিকাফ করেছেন, তাঁর পরে তাঁর স্ত্রীগণও ইতিকাফ করেছেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৯৮
وعن ابن عباس قال: كان رسول اللٰه ﷺ أجود الناس بالخير وكان أجود ما يكون فى رمضان وكان جبريل يلقاه كل ليلة فى رمضان يعرض عليه النبى ﷺ القراٰن فإذا لقيه جبريل كان أجود بالخير من الريح المرسلة. (متفق عليه)
তিনি বলেন, কল্যাণকর কাজের ব্যাপারে (দান-খয়রাত) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী। আর তাঁর হৃদয়ের এ প্রশস্ততা রমাযান (রমজান) মাসে বেড়ে যেত সবচেয়ে বেশী। রমাযান (রমজান) মাসে প্রতি রাতে জিবরীল আমীন তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে কুরআন শুনাতেন। জিবরীল আমীনের সাক্ষাতের সময় তাঁর দান প্রবাহিত বাতাসের বেগের চেয়েও বেশী বেড়ে যেত। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৯৯
وعن أبى هريرة قال: كان يعرض على النبى ﷺ القراٰن كل عام مرة فعرض عليه مرتين فى العام الذى قبض وكان يعتكف كل عام عشرا فاعتكف عشرين فى العام الذى قبض. رواه البخارى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রতি বছর (রমাযানে) একবার কুরআন শরীফ পড়ে শুনানো হত। তাঁর মৃত্যুবরণের বছর কুরআন শুনানো হয়েছিল (দু’বার)। তিনি প্রতি বছর (রমাযান (রমজান) মাসে) দশ দিন ইতিকাফ করতেন। কিন্তু ইন্তিকালের বছর তিনি ইতিকাফ করেছেন বিশ দিন। (বুখারী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১০০
وعن عائشة رضي اللٰه عنها قالت: كان رسول اللٰه ﷺ إذا اعتكف أدنٰى إلى رأسه وهو فى المسجد فأرجله وكان لا يدخل البيت إلا لحاجة الإنسان. (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ করার সময় মাসজিদ থেকে আমার দিকে তাঁর মাথা বাড়িয়ে দিতেন। আমি মাথা আঁচড়ে দিতাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া কখনো ঘরে প্রবেশ কর তেন না। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১০১
وعن ابن عمر: أن عمر سأل النبى ﷺ قال: كنت نذرت فى الجاهلية أن أعتكف ليلة فى المسجد الحرام؟ قال: «فأوف بنذرك». (متفق عليه)
তিনি বলেন, একবার ‘উমার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন, (হে আল্লাহর রসূল!) জাহিলিয়্যাতের যুগে আমি এক রাতে মাসজিদে হারামে ইতিকাফ করার মানৎ করেছিলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার মানৎ পুরা করো। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১০২
عن أنس قال: كان النبى ﷺ يعتكف فى العشر الأواخر من رمضان فلم يعتكف عاما. فلما كان العام المقبل اعتكف عشرين. رواه الترمذى
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক রমাযানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। কিন্তু এক বছর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা করতে পারলেন না। এর পরের বছর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিশ দিন ‘ইতিকাফ’ করলেন। (তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১০৩
ورواه أبو داود وابن ماجه عن أبى بن كعب
হাদীসটি উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১০৪
وعن عائشة رضي اللٰه عنها قالت: كان رسول اللٰه ﷺ إذا أراد أن يعتكف صلى الفجر ثم دخل فى معتكفه. رواه أبو داود وابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইতিকাফ’ করার নিয়্যাত করলে (প্রথম) ফজরের সলাত আদায় করতেন। তারপর ইতিকাফের স্থানে প্রবেশ করতেন। (আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১০৫
وعن عائشة رضي اللٰه عنها قالت: كان النبى ﷺ يعود المريض وهو معتكف فيمر كما هو فلا يعرج يسأل عنه. رواه أبو داود وابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ অবস্থায় হাঁটতে হাঁটতে পথের এদিক সেদিক না গিয়ে ও না দাঁড়িয়ে রোগীর অবস্থা জিজ্ঞেস করতেন। (আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১০৬
وعن عائشة رضي الله عنها قالت: السنة على المعتكف أن لا يعود مريضا ولا يشهد جنازة ولا يمس المرأة ولا يباشرها ولا يخرج لحاجة إلا لما لابد منه ولا اعتكاف إلا بصوم ولا اعتكاف إلا فى مسجد جامع. رواه أبو داود
তিনি বলেন, ইতিকাফকারীর জন্য এ নিয়ম পালন করা জরুরী- (১) সে যেন কোন রোগী দেখতে না যায়। (২) কোন জানাযায় শারীক না হয়। (৩) স্ত্রী সহবাস না করে। (৪) স্ত্রীর সাথে ঘেঁষাঘেষি না করে। (৫) প্রয়োজন ছাড়া কোন কাজে বের না হয়। (৬) সওম ছাড়া ইতিকাফ না করে এবং (৭) জামি‘ মাসজিদ ছাড়া যেন অন্য কোথাও ইতিকাফে না বসে। (আবূ দাঊদ)[১]