দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৮০

وعن الزهرى عن عروة عن عائشة قالت: كنت أنا وحفصة صائمتين فعرض لنا طعام اشتهيناه فأكلنا منه فقالت حفصة: يا رسول اللٰه إنا كنا صائمتين فعرض لنا طعام اشتهيناه فأكلنا منه. قال: اقضيا يوما اخر مكانه. رواه الترمذى وذكر جماعة من الحفاظ رووا عن الزهرى عن عائشة مرسلا ولم يذكروا فيه عن عروة وهٰذا أصح. ورواه أبو داود عن زميل مولٰى عروة عن عروة عن عائشة

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি ও হাফসাহ্ দু’জনেই সওমে ছিলাম। আমাদের সামনে খাবার আনা হলো। খাবার দেখে আমাদের লোভ হলো। আমরা সওমে খেয়ে নিলাম। অতঃপর হাফসা (রাঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আরয করল, হে আল্লাহর রসূল! আমরা সওমে ছিলাম। আমাদের সামনে খাবার আনা হলে আমাদের লোভ হলো। তাই খেয়ে ফেললাম (আমাদের ব্যাপারে এখন হুকুম কী?) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ অন্য একদিন তা কাযা করে নিও- (তিরমিযী)। আর (হাদীসের) হাফেযদের একদল যুহরী হতে, যুহরী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। (তাতে ‘উরওয়াহ্ হতে উল্লেখ করা হয়নি।) এটাই বেশী সহীহ। হাদীসটি ইমাম আবূ দাঊদ যুমায়ল হতে উদ্ধৃত করেছেন। যুমায়ল ছিলেন ‘উরওয়ার আযাদ করা গোলাম। যুমায়ল ‘উরওয়াহ্ হতে, আর উরওয়াহ্ ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৮১

وعن أم عمارة بنت كعب أن النبى ﷺ دخل عليها فدعت له بطعام فقال لها: كلى. فقالت: إنى صائمة. فقال النبى ﷺ: إن الصائم إذا أكل عنده صلت عليه الملائكة حتٰى يفرغوا. رواه أحمد والترمذى وابن ماجه والدارمى

তিনি বলেন, একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু ‘উমারার ওখানে গেলেন। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য খাবার আনলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মু ‘উমারাহ্-কে বললেন, তুমিও খাও। উম্মু উমারাহ্ বললেন, আমি তো সায়িম। তিনি বললেন, যখন কোন সায়িমের সামনে খাওয়া হয় (তখন তারও খেতে লোভ হয়, সওম রাখা তার জন্য কষ্ট কর হয়), তখন যতক্ষণ খাবার গ্রহণকারী খাবার খেতে থাকে ততক্ষণ মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) (ফেরেশতাগণ) তার ওপর রহমত বর্ষণ করতে থাকেন। (আহমদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, দারিমী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৮২

عن بريدة قال: دخل بلال علٰى رسول اللٰه ﷺ وهو يتغدٰى فقال رسول اللٰه ﷺ: «الغداء يا بلال». قال: إنى صائم يا رسول اللٰه فقال رسول اللٰه ﷺ: «نأكل رزقنا وفضل رزق بلال فى الجنة أشعرت يا بلال أن الصائم تسبح عظامه وتستغفر له الملائكة ما أكل عنده؟». رواه البيهقى فى شعب الإيمان

তিনি বলেন, বিলাল (রাঃ) একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে এলেন। এ সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সকালের নাশতা করছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলালকে বললেন, হে বিলাল! এসো খাবার খাও। বিলাল বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি সওমে আছি। তিনি বললেন, আমরা তো (এখানে অর্থাৎ- দুনিয়ায়) আমাদের রিযক খাচ্ছি। আর বিলালের উত্তম খাবার হবে জান্নাতে। হে বিলাল! তুমি কি জানো? (সায়িমের সামনে যখন খাবার খাওয়া হয় তখন) সায়িমের হাড় আল্লাহর তাসবীহ করে। যতক্ষণ তার সামনে খাওয়া চলে। ততক্ষণ আল্লাহর মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) (ফেরেশতাগণ) তার জন্য মাগফিরাত কামনা করতে থাকেন। (বায়হাক্বী, শু‘আবিল ঈমান)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৮৩

وعن عائشة رضي اللٰه عنها قالت: قال رسول اللٰه ﷺ: «تحروا ليلة القدر فى الوتر من العشر الأواخر من رمضان». رواه البخارى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কদর রজনীকে রমাযান (রমজান) মাসের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতে অনুসন্ধান করো। (বুখারী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৮৪

وعن ابن عمر قال: أن رجلا من أصحاب النبى ﷺ أروا ليلة القدر فى المنام فى السبع الأواخر فقال رسول اللٰه ﷺ: «أرٰى رؤياكم قد تواطأت فى السبع الأواخر فمن كان متحريها فليتحرها فى السبع الأواخر». (متفق عليه)

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথীদের কয়েক ব্যক্তিকে লায়লাতুল কদর (রমাযান (রমজান) মাসের) শেষ সাতদিনে স্বপ্নে দেখানো হয়েছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি দেখছি তোমাদের সকলের স্বপ্ন শেষ সাত রাতের ব্যাপারে এক। তাই তোমাদের যে ব্যক্তি কদর রজনী পেতে চাও সে যেন (রমাযান (রমজান) মাসের) শেষ সাত রাতে তা খুঁজে। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৮৫

وعن ابن عباس أن النبى ﷺ قال: التمسوها فى العشر الأواخر من رمضان ليلة القدر: فى تاسعة تبقٰى فى سابعة تبقٰى فى خامسة تبقٰى. رواه البخارى

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা লায়লাতুল কদরকে রমাযান (রমজান) মাসের শেষ দশকে সন্ধান করো। লায়লাতুল কদর হলো নবম রাতে (অর্থাৎ- একুশতম রাতে), বাকী দিন হলো সপ্তম রাতে (সেটা হলো তেইশতম রাত), আর অবশিষ্ট থাকল পঞ্চম রাত (আর তা হলো পঁচিশতম) রাত। (বুখারী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৮৬

وعن أبى سعيد الخدرى رضي اللٰه عنهم أن رسول اللٰه ﷺ اعتكف العشر الأول من رمضان ثم اعتكف العشر الأوسط فى قبة تركية ثم أطلع رأسه. فقال: «إنى اعتكف العشر الأول ألتمس هٰذه الليلة ثم اعتكف العشر الأوسط ثم أتيت فقيل لى إنها فى العشر الأواخر فمن كان اعتكف معى فليعتكف العشر الأواخر فقد أريت هٰذه الليلة ثم أنسيتها وقد رأيتنى أسجد فى ماء وطين من صبيحتها فالتمسوها فى العشر الأواخر والتمسوها فى كل وتر». قال: فمطرت السماء تلك الليلة وكان المسجد علٰى عريش فوكف المسجد فبصرت عيناى رسول اللٰه ﷺ وعلٰى جبهته أثر الماء والطين من صبيحة إحدٰى وعشرين. متفق عليه فى المعنٰى واللفظ لمسلم إلٰى قوله: «فقيل لى: إنها فى العشر الأواخر». والباقى للبخارى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানের প্রথম দশ দিনে ইতিকাফ করেছেন। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি তুর্কী ছোট তাঁবুতে ইতিকাফ করেছেন মধ্যের দশ দিন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মাথা (তাঁবুর বাইরে) বের করে বলেছেন, আমি ‘কদর রজনী’ সন্ধান করার জন্য প্রথম দশ দিনে ইতিকাফ করেছি। তারপর করেছি মাঝের দশ দিনে। তারপর আমার কাছে তিনি এসেছেন। মালাক (ফেরেশতা) আমাকে বলেছেন, ‘লায়লাতুল কদর’ রমাযানের শেষ দশ দিনে। অতএব যে আমার সাথে ‘ইতিকাফ’ করতে চায় সে যেন শেষ দশ দিনে করে। আমাকে স্বপ্নে ‘কদর রজনী’ নির্দিষ্ট করে দেখিয়েছেন। তারপর তা আমাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে (অর্থাৎ- জিবরীল (আঃ) আমাকে বললেন, অমুক রাতে শবে কদর। তারপর তা কোন্ রাত আমি ভুলে গিয়েছি)। (স্বপ্নে) নিজেকে দেখলাম যে, আমি এর ভোরে (অর্থাৎ- লায়লাতুল কদরের ভোরে) কাদামাটিতে সাজদাহ্ করছি। যেহেতু আমি ভুলে গিয়েছি সেটা কোন্ রাত ছিল। তাই এ রাতকে (রমাযানের) শেষ দশ দিনের মধ্যে সন্ধান করো। তাছাড়াও লায়লাতুল কদরকে বেজোড় রাতে অর্থাৎ- শেষ দশের বেজোড় রাতে সন্ধান করো। বর্ণনাকারী বলেন, (যে রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নে দেখেছিলেন) সে রাতে বৃষ্টি হয়েছিল। মাসজিদের ছাদ খেজুরের ডালপাতার হওয়ায় একুশতম রাতের সকালে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কপালে পানি ও মাটির চিহ্ন ছিল। (এ হাদীস বর্ণনার ব্যাপারে অর্থের দিক দিয়ে বুখারী ও মুসলিম একমত। অবশ্য এ পর্যন্ত বর্ণনার শব্দগুলো ইমাম মুসলিম উদ্ধৃত করেছেন। আর রিওয়ায়াতের বাকী শব্দগুলো উদ্ধৃত করেছেন ইমাম বুখারী।)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৮৭

وفى رواية عبد اللٰه بن أنيس قال: «ليلة ثلاث وعشرين». رواه مسلم

সে বর্ণনা ‘২১তম রাতের সকালের’ স্থলে ‘২৩তম রাতের সকালে’ শব্দটি আছে। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৮৮

وعن زر بن حبيش قال: سألت أبي بن كعب فقلت إن أخاك ابن مسعود يقول: من يقم الحول يصب ليلة القدر. فقال رحمه الله أراد أن لا يتكل الناس أما إنه قد علم أنها فى رمضان وأنها فى العشر الأواخر وأنها ليلة سبع وعشرين ثم حلف لا يستثنى أنها ليلة سبع وعشرين. فقلت: بأى شىء تقول ذٰلك يا أبا المنذر؟ قال: بالعلامة أو بالاٰية التى أخبرنا رسول اللٰه ﷺ إنها تطلع يومئذ لا شعاع لها. رواه مسلم

তিনি বলেন, আমি উবাই ইবনু কা‘বকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার (দীনী) ভাই ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ বলেন, যে ব্যক্তি গোটা বছর ‘ইবাদাত করার জন্য রাত জাগরণ করবে, সে ‘কদর রজনী’ পাবে। উবাই ইবনু কা‘ব বললেন, আল্লাহ তা‘আলা ইবনু মাস‘ঊদ এর ওপর রহম করুন। তিনি এ কথাটা এজন্য বলেছেন, যেন মানুষ ভরসা করে বসে না থাকে। নতুবা তিনি তো জানেন যে, ‘কদর’ রমাযান (রমজান) মাসেই আসে। আর রমাযান (রমজান) মাসের শেষ দশ দিনের এক রাতে কদর রজনী হয়। সে রাতটা সাতাশতম রাত। এদিকে উবাই ইবনু কা‘ব কসম করেছেন এবং ‘ইনশা-আল্ল-হ’ বলা ছাড়াই বলেছেন, ‘নিঃসন্দেহে কদর রাত (রমাযানের) সাতাশতম রাত’। আমি আরয করলাম, হে আবূল মুনযির (উবাই-এর ডাক নাম)! কিসের ভিত্তিতে আপনি এ কথা বলেছেন? তিনি বললেন, ঐ আলামাত ও আয়াতের ভিত্তিতে, যা আমাদেরকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। (তিনি বলেছেন), ঐ রাতের সকালে সূর্য উদয় হবে, কিন্তু এতে কিরণ বা আলো থাকবে না। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৮৯

وعن عائشة رضي اللٰه عنها قالت: كان رسول اللٰه ﷺ يجتهد فى العشر الأواخر ما لا يجتهد فى غيره. رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযান (রমজান) মাসের শেষ দশ দিনে যত ‘ইবাদাত বন্দেগী (মুজাহাদাহ্) করতেন এতো আর কোন মাসে করতেন না। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৯০

وعن عائشة رضي اللٰه عنها قالت: كان رسول اللٰه ﷺ إذا دخل العشر شد مئزره وأحيا ليله وأيقظ أهله. (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানের শেষ দশ দিন এলে ‘ইবাদাতের জন্য জোর প্রস্তুতি নিতেন। রাত জেগে থাকতেন, নিজের পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية