প্রথম অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৭৬

وعن عائشة رضي اللٰه عنها قالت: دخل على النبى ﷺ ذات يوم فقال: «هل عندكم شىء؟» فقلنا: لا قال: «فإنى إذا صائم». ثم أتانا يوما اٰخر فقلنا: يا رسول اللٰه أهدى لنا حيس فقال: «أرينيه فلقد أصبحت صائما» فأكل. رواه مسلم

তিনি বলেন, একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এলেন। তিনি বললেন, তোমার কাছে কী (খাবার) কিছু আছে? আমি বললাম, না (কিছুতো নেই)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাহলে আমি (আজ) সিয়াম পালন করবো! এরপর আর একদিন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার কাছে এলেন। (জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কাছে কী খাবার কিছু আছে?) আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের জন্য ‘হায়স’ হাদিয়্যাহ্ এসেছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আনো, আমাকে দেখাও। আমি সকাল থেকে সওম রেখেছি। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘হায়স’ খেয়ে নিলেন। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৭৭

وعن أنس قال: دخل النبى ﷺ علٰى ام سليم فأتته بتمر وسمن فقال: «أعيدوا سمنكم فى سقائه وتمركم فى وعائه فإنى صائم». ثم قام إلٰى ناحية من البيت فصلٰى غير المكتوبة فدعا لأم سليم وأهل بيتها. رواه البخارى

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন উম্মু সুলায়ম-এর কাছে গেলেন। সে রসূলের জন্য ঘি ও খেজুর আনল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তুমি ঘি পাত্রে ঢালো আর খেজুরগুলোকে থালায় রাখো। কেননা আমি সায়িম। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে ফরয সলাত ছাড়া সলাত আদায় করতে লাগলেন। অতঃপর উম্মু সুলায়ম ও তাঁর পরিবারের জন্য দু‘আ করলেন। (বুখারী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৭৮

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إذا دعى أحدكم إلٰى طعام وهو صائم فليقل: إنى صائم». وفى رواية قال: «إذا دعى أحدكم فليجب فإن كان صائما فليصل وإن كان مفطرا فليطعم». رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কাউকে যদি খাবার জন্য দা‘ওয়াত দেয়া হয়, আর সে ব্যক্তি সায়িম হয়, তার বলা উচিত, ‘আমি সায়িম’ (রোযাদার)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কাউকে দা‘ওয়াত দেয়া হলে তার উচিত দা‘ওয়াত কবূল করা। সে সায়িম হলে দু’ রাক্‘আত (নফল) সলাত আদায় করবে। আর সায়িম না হলে খাওয়ায় অংশ নেবে। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৭৯

عن أم هانئ رضي اللٰه عنها قالت: لما كان يوم الفتح فتح مكة جاءت فاطمة فجلست علٰى يسار رسول اللٰه ﷺ وأم هانئ عن يمينه فجاءت الوليدة بإناء فيه شراب فناولته فشرب منه ثم ناوله أم هانئ فشربت منه فقالت: يا رسول اللٰه لقد أفطرت وكنت صائمة فقال لها: أكنت تقضين شيئا؟» قالت: لا. قال: «فلا يضرك إن كان تطوعا. رواه أبو داود والترمذى والدارمى وفى رواية لأحمد والترمذى نحوه وفيه فقالت: يا رسول اللٰه أما إنى كنت صائمة فقال: «الصائم أمير نفسه إن شاء صام وإن شاء أفطر

তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন ফাতিমা (রাঃ) এলেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাম পাশে বসলেন। আর উম্মু হানী (রাঃ) ছিলেন তাঁর ডান পাশে। এ সময় একটি দাসী হাতে একটি পাত্র নিয়ে এলো। এতে কিছু পানীয় ছিল। দাসীটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে পান পাত্রটি রাখল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখান থেকে কিছু পান করে তা উম্মু হানীকে দিলেন। উম্মু হানী (রাঃ)-ও ঐ পাত্র হতে কিছু পান করে বলতে লাগলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি তো ইফতার করে ফেলেছি। অথচ আমি সায়িম ছিলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি রমাযান (রমজান) মাসের কোন সওম বা মানৎ কাযা করছিলে? উম্মু হানী (রাঃ) বললেন, না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন বললেন, নফল সওম হলে কোন অসুবিধা নেই- (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, দারিমী)। ইমাম আহমদ ও আত্ তিরমিযীর এক বর্ণনায় এরূপই বর্ণিত হয়েছে। আর এতে আরো আছে, তখন উম্মু হানী (রাঃ) বললেন, আপনার জানা থাকতে পারে যে, আমি সায়িম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ নফল সায়িম নিজের নাফসের মালিক (সে রাখতেও পারে ভাঙতেও পারে)।[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৮০

وعن الزهرى عن عروة عن عائشة قالت: كنت أنا وحفصة صائمتين فعرض لنا طعام اشتهيناه فأكلنا منه فقالت حفصة: يا رسول اللٰه إنا كنا صائمتين فعرض لنا طعام اشتهيناه فأكلنا منه. قال: اقضيا يوما اخر مكانه. رواه الترمذى وذكر جماعة من الحفاظ رووا عن الزهرى عن عائشة مرسلا ولم يذكروا فيه عن عروة وهٰذا أصح. ورواه أبو داود عن زميل مولٰى عروة عن عروة عن عائشة

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি ও হাফসাহ্ দু’জনেই সওমে ছিলাম। আমাদের সামনে খাবার আনা হলো। খাবার দেখে আমাদের লোভ হলো। আমরা সওমে খেয়ে নিলাম। অতঃপর হাফসা (রাঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আরয করল, হে আল্লাহর রসূল! আমরা সওমে ছিলাম। আমাদের সামনে খাবার আনা হলে আমাদের লোভ হলো। তাই খেয়ে ফেললাম (আমাদের ব্যাপারে এখন হুকুম কী?) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ অন্য একদিন তা কাযা করে নিও- (তিরমিযী)। আর (হাদীসের) হাফেযদের একদল যুহরী হতে, যুহরী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। (তাতে ‘উরওয়াহ্ হতে উল্লেখ করা হয়নি।) এটাই বেশী সহীহ। হাদীসটি ইমাম আবূ দাঊদ যুমায়ল হতে উদ্ধৃত করেছেন। যুমায়ল ছিলেন ‘উরওয়ার আযাদ করা গোলাম। যুমায়ল ‘উরওয়াহ্ হতে, আর উরওয়াহ্ ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৮১

وعن أم عمارة بنت كعب أن النبى ﷺ دخل عليها فدعت له بطعام فقال لها: كلى. فقالت: إنى صائمة. فقال النبى ﷺ: إن الصائم إذا أكل عنده صلت عليه الملائكة حتٰى يفرغوا. رواه أحمد والترمذى وابن ماجه والدارمى

তিনি বলেন, একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু ‘উমারার ওখানে গেলেন। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য খাবার আনলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মু ‘উমারাহ্-কে বললেন, তুমিও খাও। উম্মু উমারাহ্ বললেন, আমি তো সায়িম। তিনি বললেন, যখন কোন সায়িমের সামনে খাওয়া হয় (তখন তারও খেতে লোভ হয়, সওম রাখা তার জন্য কষ্ট কর হয়), তখন যতক্ষণ খাবার গ্রহণকারী খাবার খেতে থাকে ততক্ষণ মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) (ফেরেশতাগণ) তার ওপর রহমত বর্ষণ করতে থাকেন। (আহমদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, দারিমী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৮২

عن بريدة قال: دخل بلال علٰى رسول اللٰه ﷺ وهو يتغدٰى فقال رسول اللٰه ﷺ: «الغداء يا بلال». قال: إنى صائم يا رسول اللٰه فقال رسول اللٰه ﷺ: «نأكل رزقنا وفضل رزق بلال فى الجنة أشعرت يا بلال أن الصائم تسبح عظامه وتستغفر له الملائكة ما أكل عنده؟». رواه البيهقى فى شعب الإيمان

তিনি বলেন, বিলাল (রাঃ) একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে এলেন। এ সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সকালের নাশতা করছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলালকে বললেন, হে বিলাল! এসো খাবার খাও। বিলাল বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি সওমে আছি। তিনি বললেন, আমরা তো (এখানে অর্থাৎ- দুনিয়ায়) আমাদের রিযক খাচ্ছি। আর বিলালের উত্তম খাবার হবে জান্নাতে। হে বিলাল! তুমি কি জানো? (সায়িমের সামনে যখন খাবার খাওয়া হয় তখন) সায়িমের হাড় আল্লাহর তাসবীহ করে। যতক্ষণ তার সামনে খাওয়া চলে। ততক্ষণ আল্লাহর মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) (ফেরেশতাগণ) তার জন্য মাগফিরাত কামনা করতে থাকেন। (বায়হাক্বী, শু‘আবিল ঈমান)[১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية