তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৬৭

عن ابن عباس أن رسول اللٰه ﷺ قدم المدينة فوجد اليهود صياما يوم عاشوراء فقال لهم رسول اللٰه ﷺ: «ما هٰذا اليوم الذى تصومونه؟» فقالوا: هٰذا يوم عظيم: أنجى اللٰه فيه موسٰى وقومه وغرق فرعون وقومه فصامه موسٰى شكرا فنحن نصومه فقال رسول اللٰه ﷺ: «فنحن أحق وأولٰى بموسٰى منكم» فصامه رسول اللٰه ﷺ وأمر بصيامه. (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনায় গমন করার পর দেখলেন ইয়াহূদীরা ‘আশূরার দিন সওম রাখে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের জিজ্ঞেস করলেন, এ দিনটার বৈশিষ্ট্য কি যে, তোমরা সওম রাখো? তারা বলল, এটা একটি গুরুত্ববহ দিন। এ দিনে আল্লাহ তা‘আলা মূসা (আঃ) ও তাঁর জাতিকে মুক্তি দিয়েছেন। আর ফির্‘আওন ও তার জাতিকে (সমুদ্রে) ডুবিয়েছেন। মূসা (আঃ) শুকরিয়া হিসেবে এ দিন সওম রেখেছেন। অতএব তাঁর অনুসরণে আমরাও রাখি। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দ্বীনের দিক দিয়ে আমরা মূসার বেশী নিকটে আর তার তরফ থেকে শুকরিয়া আদায়ের ব্যাপারে তোমাদের চেয়ে আমরা বেশী হকদার। বস্তুত ‘আশূরার দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও সওম রেখেছেন অন্যদেরকেও রাখার হুকুম দিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৬৮

وعن أم سلمة قالت: كان رسول اللٰه ﷺ يصوم يوم السبت ويوم الأحد أكثر ما يصوم من الأيام ويقول: «إنهما يوما عيد للمشركين فأنا أحب أن أخالفهم». رواه أحمد

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য দিন সওম রাখার চেয়ে শনি ও রবিবার দিন বেশী রাখতেন। তিনি বলতেন, এ দু’ দিন মুশরিকদের ঈদের দিন। তাই আমি তাদের বিপরীত কাজ করতে ভালবাসি। (আহমদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৬৯

وعن جابر بن سمرة قال: كان رسول اللٰه ﷺ يأمر بصيام يوم عاشوراء ويحثنا عليه ويتعاهدنا عنده فلما فرض رمضان لم يأمرنا ولم ينهنا عنه ولم يتعاهدنا عنده. رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম প্রথম আমাদেরকে ‘আশূরার দিন সওম রাখার হুকুম দিয়েছেন। এর প্রতি অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন; এ দিন আসার সময় আমাদের খোঁজ-খবর নিয়েছেন। কিন্তু রমাযানের সওম ফরয হবার পর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আর আমাদেরকে এ দিনের সওম রাখতে না হুকুম দিয়েছেন, না নিষেধ করেছেন। আর এ দিন এলে আমাদের না কোন খোঁজ-খবর নিয়েছেন। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৭০

وعن حفصة قالت: أربع لم يكن يدعهن النبى ﷺ: «صيام عاشوراء والعشر وثلاثة أيام من كل شهر وركعتان قبل الفجر». رواه النسائي

তিনি বলেন, চারটি জিনিস এমন আছে যা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়তেন না। ১. ‘আশূরার সওম। ২. যিলহজ মাসের প্রথম নয় দিনের সওম। ৩. প্রতি মাসের তিনদিন সওম। ৪. আর ফজরের (ফরযের) আগের দু’ রাক্‘আত (সুন্নাত) সলাত। (নাসায়ী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৭১

وعن ابن عباس قال: كان رسول اللٰه ﷺ لا يفطر أيام البيض فى حضر ولا فى سفر. رواه النسائي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আইয়ামে বীয’-এ সফরে অথবা মুকীম অবস্থায় সওম ছাড়া থাকতেন না। (নাসায়ী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৭২

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «لكل شىء زكاة وزكاة الجسد الصوم». رواه ابن ماجه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক জিনিসেরই যাকাত আছে। শরীরের যাকাত হলো সওম। (ইবনু মাজাহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৭৩

وعن أبى هريرة أن النبى ﷺ: كان يصوم يوم الاثنين والخميس. فقيل: يا رسول اللٰه إنك تصوم يوم الاثنين والخميس. فقال: «إن يوم الاثنين والخميس يغفر اللٰه فيهما لكل مسلم إلا ذا هاجرين يقول: دعهما حتٰى يصطلحا». رواه أحمد وابن ماجه

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোমবার ও বৃহস্পতিবার সওম রাখতেন। তাঁর কাছে আরয করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! আপনি অধিকাংশ সময়ই সোম ও বৃহস্পতিবার সওম রাখেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সোম ও বৃহস্পতিবার হলো ঐ দিন, যেদিন আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক মুসলিমকে মাফ করে দেন। কিন্তু ওদেরকে মাফ করে দেন না যারা সম্পর্কচ্ছেদ করে রাখে। তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা)-কে (ফেরেশতাগণকে) বলেন, ওদেরকে ছেড়ে দাও যে পর্যন্ত তারা পরস্পর সম্পর্ক ঠিক করে নেয় (এরপর তাদেরকে মাফ করে দেয়া হবে)। (আহমদ, ইবনু মাজাহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৭৪

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من صام يوما ابتغاء وجه اللٰه بعده اللٰه من جهنم كبعد غراب طائر وهو فرخ حتٰى مات هرما». رواه أحمد

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় সওম রাখে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে জাহান্নাম থেকে ওই উড়তে থাকা কাকের দূরত্বের পরিমাণ দূরে রাখবেন, যে কাক বাচ্চা অবস্থায় উড়তে শুরু করে বৃদ্ধ অবস্থায় মারা যায়। (আহমদ, বায়হাক্বী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৭৫

وروى البيهقي فى شعب الإيمان عن سلمة بن قيس

হতে শু‘আবূল ঈমান-এ এটি বর্ণনা করেছেন।[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৭৬

وعن عائشة رضي اللٰه عنها قالت: دخل على النبى ﷺ ذات يوم فقال: «هل عندكم شىء؟» فقلنا: لا قال: «فإنى إذا صائم». ثم أتانا يوما اٰخر فقلنا: يا رسول اللٰه أهدى لنا حيس فقال: «أرينيه فلقد أصبحت صائما» فأكل. رواه مسلم

তিনি বলেন, একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এলেন। তিনি বললেন, তোমার কাছে কী (খাবার) কিছু আছে? আমি বললাম, না (কিছুতো নেই)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাহলে আমি (আজ) সিয়াম পালন করবো! এরপর আর একদিন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার কাছে এলেন। (জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কাছে কী খাবার কিছু আছে?) আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের জন্য ‘হায়স’ হাদিয়্যাহ্ এসেছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আনো, আমাকে দেখাও। আমি সকাল থেকে সওম রেখেছি। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘হায়স’ খেয়ে নিলেন। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৭৭

وعن أنس قال: دخل النبى ﷺ علٰى ام سليم فأتته بتمر وسمن فقال: «أعيدوا سمنكم فى سقائه وتمركم فى وعائه فإنى صائم». ثم قام إلٰى ناحية من البيت فصلٰى غير المكتوبة فدعا لأم سليم وأهل بيتها. رواه البخارى

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন উম্মু সুলায়ম-এর কাছে গেলেন। সে রসূলের জন্য ঘি ও খেজুর আনল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তুমি ঘি পাত্রে ঢালো আর খেজুরগুলোকে থালায় রাখো। কেননা আমি সায়িম। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে ফরয সলাত ছাড়া সলাত আদায় করতে লাগলেন। অতঃপর উম্মু সুলায়ম ও তাঁর পরিবারের জন্য দু‘আ করলেন। (বুখারী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৭৮

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إذا دعى أحدكم إلٰى طعام وهو صائم فليقل: إنى صائم». وفى رواية قال: «إذا دعى أحدكم فليجب فإن كان صائما فليصل وإن كان مفطرا فليطعم». رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কাউকে যদি খাবার জন্য দা‘ওয়াত দেয়া হয়, আর সে ব্যক্তি সায়িম হয়, তার বলা উচিত, ‘আমি সায়িম’ (রোযাদার)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কাউকে দা‘ওয়াত দেয়া হলে তার উচিত দা‘ওয়াত কবূল করা। সে সায়িম হলে দু’ রাক্‘আত (নফল) সলাত আদায় করবে। আর সায়িম না হলে খাওয়ায় অংশ নেবে। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৭৯

عن أم هانئ رضي اللٰه عنها قالت: لما كان يوم الفتح فتح مكة جاءت فاطمة فجلست علٰى يسار رسول اللٰه ﷺ وأم هانئ عن يمينه فجاءت الوليدة بإناء فيه شراب فناولته فشرب منه ثم ناوله أم هانئ فشربت منه فقالت: يا رسول اللٰه لقد أفطرت وكنت صائمة فقال لها: أكنت تقضين شيئا؟» قالت: لا. قال: «فلا يضرك إن كان تطوعا. رواه أبو داود والترمذى والدارمى وفى رواية لأحمد والترمذى نحوه وفيه فقالت: يا رسول اللٰه أما إنى كنت صائمة فقال: «الصائم أمير نفسه إن شاء صام وإن شاء أفطر

তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন ফাতিমা (রাঃ) এলেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাম পাশে বসলেন। আর উম্মু হানী (রাঃ) ছিলেন তাঁর ডান পাশে। এ সময় একটি দাসী হাতে একটি পাত্র নিয়ে এলো। এতে কিছু পানীয় ছিল। দাসীটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে পান পাত্রটি রাখল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখান থেকে কিছু পান করে তা উম্মু হানীকে দিলেন। উম্মু হানী (রাঃ)-ও ঐ পাত্র হতে কিছু পান করে বলতে লাগলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি তো ইফতার করে ফেলেছি। অথচ আমি সায়িম ছিলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি রমাযান (রমজান) মাসের কোন সওম বা মানৎ কাযা করছিলে? উম্মু হানী (রাঃ) বললেন, না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন বললেন, নফল সওম হলে কোন অসুবিধা নেই- (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, দারিমী)। ইমাম আহমদ ও আত্ তিরমিযীর এক বর্ণনায় এরূপই বর্ণিত হয়েছে। আর এতে আরো আছে, তখন উম্মু হানী (রাঃ) বললেন, আপনার জানা থাকতে পারে যে, আমি সায়িম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ নফল সায়িম নিজের নাফসের মালিক (সে রাখতেও পারে ভাঙতেও পারে)।[১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية