দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৫৫

وعن عائشة رضي اللٰه عنها قالت: كان رسول اللٰه ﷺ يصوم الاثنين والخميس. رواه الترمذى والنسائي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোমবার ও বৃহস্পতিবারে সওম রাখতেন। (তিরমিযী, নাসায়ী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৫৬

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «تعرض الأعمال يوم الاثنين والخميس فأحب أن يعرض عملى وأنا صائم». رواه الترمذى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সোমবার ও বৃহস্পতিবারে (আল্লাহর দরবারে বান্দার) ‘আমাল পেশ করা হয়। তাই আমি চাই আমার ‘আমাল পেশ করার সময় আমি সওম অবস্থায় থাকি। (তিরমিযী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৫৭

وعن أبى ذر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «يا أبا ذر إذا صمت من الشهر ثلاثة أيام فصم ثلاث عشرة وأربع عشرة وخمس عشرة». رواه الترمذى والنسائي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আবূ যার! তুমি যখন কোন মাসে তিনদিন সওম পালন করতে চাও, তাহলে তেরো, চৌদ্দ ও পনের তারিখে করবে। (তিরমিযী ও নাসায়ী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৫৮

وعن عبد اللٰه بن مسعود قال: كان رسول اللٰه ﷺ يصوم من غرة كل شهر ثلاثة أيام وقلما كان يفطر يوم الجمعة. رواه الترمذى والنسائى ورواه أبو داود إلٰى ثلاثة أيام

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কখনো) মাসের প্রথম তিনদিন সওম রাখতেন। আর খুব কম দিনই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুমার দিন সওম ছাড়তেন। (তিরমিযী, নাসায়ী। আর ইমাম আবূ দাঊদ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ অর্থাৎ- ‘‘তিনদিন’’ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৫৯

وعن عائشة رضي اللٰه عنها قالت: كان رسول اللٰه ﷺ يصوم من الشهر السبت والأحد والاثنين ومن الشهر الاٰخر الثلاثاء والأربعاء والخميس. رواه الترمذى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন মাসে শনি, রবি, সোমবার, আবার কোন মাসে মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার দিন সওম রাখতেন। (তিরমিযী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৬০

وعن أم سلمة قالت: كان رسول اللٰه ﷺ يأمرنى أن أصوم ثلاثة أيام من كل شهر أولها الاثنين والخميس. رواه أبو داود والنسائي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রতি মাসে তিনটি সওম রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। (আর এ সওমের) শুরু সোমবার অথবা বৃহস্পতিবার থেকে করতে বলেছেন। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৬১

وعن مسلم القرشى قال: سألت أو سئل رسول اللٰه ﷺ عن صيام الدهر فقال: «إن لأهلك عليك حقا صم رمضان والذى يليه وكل أربعاء وخميس فإذا أنت قد صمت الدهر كله». رواه أبو داود والترمذى

তিনি বলেন, আমি অথবা অন্য কোন ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সবসময়ে সওম পালনের বিষয় জিজ্ঞেস করেছে। তখন তিনি বলেছেন, তোমার ওপর তোমার পরিবার-পরিজনের হক আছে। রমাযান (রমজান) মাসের সওম রাখো। আর রমাযান (রমজান) মাসের সাথের দিনগুলোতে রাখো। অর্থাৎ- ঈদুল ফিতরের পরের দিন থেকে ছয়টি সওম পালন কর। আর প্রত্যেক বুধ, বৃহস্পতিবার রাখতে পার। যদি তুমি এ দিনগুলো সওম রাখো তাহলে মনে করবে যে, তুমি সব সময়ই সিয়াম রেখেছ। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৬২

وعن أبى هريرة أن رسول اللٰه ﷺ: نهٰى عن صوم يوم عرفة بعرفة. رواه أبو داود

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আরাফার দিন ‘আরাফার ময়দানে সওম রাখতে নিষেধ করেছেন। (আবূ দাঊদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৬৩

وعن عبد اللٰه بن بسر عن أخته الصماء أن رسول اللٰه ﷺ قال: «لا تصوموا يوم السبت إلا فيما افترض عليكم فإن لم يجد أحدكم إلا لحاء عنبة أو عود شجرة فليمضغه». رواه أحمد وأبو داود والترمذى وابن ماجه والدارمى

তার বোন সাম্মা হতে বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা শনিবার দিন একান্ত প্রয়োজন না হলে সওম রেখ না। যদি কিছু না পাও তাহলে অন্ততঃ গাছের ছাল অথবা ডালপালা চিবিয়ে হলেও ইফতার করবে। (আহমদ, আবূ দাঊদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, দারিমী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৬৪

وعن أبى أمامة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من صام يوما فى سبيل اللٰه جعل اللٰه بينه وبين النار خندقا كما بين السماء والأرض». رواه الترمذى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একদিন সওম রাখবে, আল্লাহ তা‘আলা তার ও জাহান্নামের মধ্যে এমন একটা পরিখা আড় হিসেবে বানিয়ে দেবেন যা আসমান ও জমিনের মধ্যে দূরত্বের সমান হবে। (তিরমিযী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৬৫

وعن عامر بن مسعود قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «الغنيمة الباردة الصوم فى الشتاء». رواه أحمد والترمذى وقال: هٰذا حديث مرسل

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ঠাণ্ডা গনীমাত (অর্থাৎ- বিনা কষ্ট-ক্লেশে সাওয়াব পাওয়া) শীতের দিনে সওম পালন করা। [আহমদ ও তিরমিযী;[১] ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেন, হাদীসটি মুরসাল।]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৬৬

وذكر حديث أبى هريرة: «ما من أيام أحب إلى الله» فى باب الأضحية.

এর বর্ণিত হাদীস (তিরমিযী’র) কুরবানীর অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এমন কোন দিন নেই যা আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়।[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৬৭

عن ابن عباس أن رسول اللٰه ﷺ قدم المدينة فوجد اليهود صياما يوم عاشوراء فقال لهم رسول اللٰه ﷺ: «ما هٰذا اليوم الذى تصومونه؟» فقالوا: هٰذا يوم عظيم: أنجى اللٰه فيه موسٰى وقومه وغرق فرعون وقومه فصامه موسٰى شكرا فنحن نصومه فقال رسول اللٰه ﷺ: «فنحن أحق وأولٰى بموسٰى منكم» فصامه رسول اللٰه ﷺ وأمر بصيامه. (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনায় গমন করার পর দেখলেন ইয়াহূদীরা ‘আশূরার দিন সওম রাখে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের জিজ্ঞেস করলেন, এ দিনটার বৈশিষ্ট্য কি যে, তোমরা সওম রাখো? তারা বলল, এটা একটি গুরুত্ববহ দিন। এ দিনে আল্লাহ তা‘আলা মূসা (আঃ) ও তাঁর জাতিকে মুক্তি দিয়েছেন। আর ফির্‘আওন ও তার জাতিকে (সমুদ্রে) ডুবিয়েছেন। মূসা (আঃ) শুকরিয়া হিসেবে এ দিন সওম রেখেছেন। অতএব তাঁর অনুসরণে আমরাও রাখি। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দ্বীনের দিক দিয়ে আমরা মূসার বেশী নিকটে আর তার তরফ থেকে শুকরিয়া আদায়ের ব্যাপারে তোমাদের চেয়ে আমরা বেশী হকদার। বস্তুত ‘আশূরার দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও সওম রেখেছেন অন্যদেরকেও রাখার হুকুম দিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৬৮

وعن أم سلمة قالت: كان رسول اللٰه ﷺ يصوم يوم السبت ويوم الأحد أكثر ما يصوم من الأيام ويقول: «إنهما يوما عيد للمشركين فأنا أحب أن أخالفهم». رواه أحمد

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য দিন সওম রাখার চেয়ে শনি ও রবিবার দিন বেশী রাখতেন। তিনি বলতেন, এ দু’ দিন মুশরিকদের ঈদের দিন। তাই আমি তাদের বিপরীত কাজ করতে ভালবাসি। (আহমদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৬৯

وعن جابر بن سمرة قال: كان رسول اللٰه ﷺ يأمر بصيام يوم عاشوراء ويحثنا عليه ويتعاهدنا عنده فلما فرض رمضان لم يأمرنا ولم ينهنا عنه ولم يتعاهدنا عنده. رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম প্রথম আমাদেরকে ‘আশূরার দিন সওম রাখার হুকুম দিয়েছেন। এর প্রতি অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন; এ দিন আসার সময় আমাদের খোঁজ-খবর নিয়েছেন। কিন্তু রমাযানের সওম ফরয হবার পর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আর আমাদেরকে এ দিনের সওম রাখতে না হুকুম দিয়েছেন, না নিষেধ করেছেন। আর এ দিন এলে আমাদের না কোন খোঁজ-খবর নিয়েছেন। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৭০

وعن حفصة قالت: أربع لم يكن يدعهن النبى ﷺ: «صيام عاشوراء والعشر وثلاثة أيام من كل شهر وركعتان قبل الفجر». رواه النسائي

তিনি বলেন, চারটি জিনিস এমন আছে যা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়তেন না। ১. ‘আশূরার সওম। ২. যিলহজ মাসের প্রথম নয় দিনের সওম। ৩. প্রতি মাসের তিনদিন সওম। ৪. আর ফজরের (ফরযের) আগের দু’ রাক্‘আত (সুন্নাত) সলাত। (নাসায়ী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৭১

وعن ابن عباس قال: كان رسول اللٰه ﷺ لا يفطر أيام البيض فى حضر ولا فى سفر. رواه النسائي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আইয়ামে বীয’-এ সফরে অথবা মুকীম অবস্থায় সওম ছাড়া থাকতেন না। (নাসায়ী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৭২

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «لكل شىء زكاة وزكاة الجسد الصوم». رواه ابن ماجه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক জিনিসেরই যাকাত আছে। শরীরের যাকাত হলো সওম। (ইবনু মাজাহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৭৩

وعن أبى هريرة أن النبى ﷺ: كان يصوم يوم الاثنين والخميس. فقيل: يا رسول اللٰه إنك تصوم يوم الاثنين والخميس. فقال: «إن يوم الاثنين والخميس يغفر اللٰه فيهما لكل مسلم إلا ذا هاجرين يقول: دعهما حتٰى يصطلحا». رواه أحمد وابن ماجه

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোমবার ও বৃহস্পতিবার সওম রাখতেন। তাঁর কাছে আরয করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! আপনি অধিকাংশ সময়ই সোম ও বৃহস্পতিবার সওম রাখেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সোম ও বৃহস্পতিবার হলো ঐ দিন, যেদিন আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক মুসলিমকে মাফ করে দেন। কিন্তু ওদেরকে মাফ করে দেন না যারা সম্পর্কচ্ছেদ করে রাখে। তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা)-কে (ফেরেশতাগণকে) বলেন, ওদেরকে ছেড়ে দাও যে পর্যন্ত তারা পরস্পর সম্পর্ক ঠিক করে নেয় (এরপর তাদেরকে মাফ করে দেয়া হবে)। (আহমদ, ইবনু মাজাহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৭৪

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من صام يوما ابتغاء وجه اللٰه بعده اللٰه من جهنم كبعد غراب طائر وهو فرخ حتٰى مات هرما». رواه أحمد

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় সওম রাখে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে জাহান্নাম থেকে ওই উড়তে থাকা কাকের দূরত্বের পরিমাণ দূরে রাখবেন, যে কাক বাচ্চা অবস্থায় উড়তে শুরু করে বৃদ্ধ অবস্থায় মারা যায়। (আহমদ, বায়হাক্বী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৭৫

وروى البيهقي فى شعب الإيمان عن سلمة بن قيس

হতে শু‘আবূল ঈমান-এ এটি বর্ণনা করেছেন।[১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية