মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৩৫
عن مالك بلغه أن ابن عمر كان يسأل: هل يصوم أحد عن أحد أو يصلى أحد عن أحد؟ فيقول: لا يصوم أحد عن أحد. ولا يصلى أحد عن أحد. رواه فى الموطأ
তাঁর পর্যন্ত এ বর্ণনাটি পৌঁছেছে যে, ইবনু ‘উমার (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করা হত, কোন ব্যক্তি কি অন্য কোন ব্যক্তির পক্ষ থেকে সওম আদায় করে দিতে পারে, কিংবা সলাত আদায় করে দিতে পারে? এ প্রশ্নের জবাবে ইবনু ‘উমার বলতেন, কোন লোকের পক্ষ থেকে কেউ না সলাত আদায় করতে পারে আর না কেউ সওম রাখতে পারে। (মুয়াত্ত্বা)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৩৬
عن عائشة قالت: كان رسول اللٰه ﷺ يصوم حتٰى نقول: لا يفطر ويفطر حتٰى نقول: لا يصوم وما رأيت رسول اللٰه ﷺ استكمل صيام شهر قط إلا رمضان وما رأيته فى شهر أكثر منه صياما فى شعبان. وفى رواية قالت: كان يصوم شعبان كله، كان يصوم شعبان إلا قليلا. (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (নফল) সওম রাখা শুরু করতেন, এমনকি আমরা বলতাম, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি এখন সওম বন্ধ করবেন না। আবার তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সওম রাখা ছেড়ে দিতেন আমরা বলতাম, এখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি আর সওম রাখবেন না। রমাযান (রমজান) ছাড়া অন্য কোন মাসে তাঁকে পূর্ণ মাস সওম রাখতে দেখিনি। আর শা‘বান ছাড়া অন্য কোন মাসে তাঁকে আমি এত বেশী সওম রাখতে দেখিনি। আর একটি বর্ণনায় রয়েছে তিনি [‘আয়িশাহ্ (রাঃ)] বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু দিন ছাড়া শা‘বানের গোটা মাস সওম পালন করতেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৩৭
وعن عبد اللٰه بن شقيق قال: قلت لعائشة: أكان النبى ﷺ يصوم شهرا كله؟ قال: ما علمته صام شهرا كله إلا رمضان ولا أفطره كله حتٰى يصوم منه حتٰى مضٰى لسبيله. رواه مسلم
তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছি যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি গোটা মাস সওম রাখতেন? তিনি [‘আয়িশাহ্ (রাঃ)] বললেন, আমি জানি না যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযান (রমজান) ছাড়া অন্য কোন মাস পুরো সওম রেখেছেন কিনা? কিংবা এমন কোন মাসের কথাও জানি না যে, মাসে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মোটেও সওম রাখেননি। তিনি প্রতি মাসেই কিছু দিন সওম পালন করতেন। এ নিয়মেই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবন কাটিয়েছেন। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৩৮
وعن عمران بن حصين عن النبى ﷺ: أنه سأله أو سأل رجلا وعمران يسمع فقال: «يا أبا فلان أما صمت من سرر شعبان؟» قال: لا قال: «فإذا أفطرت فصم يومين». (متفق عليه)
তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘ইমরানকে অথবা অন্য কোন লোককে জিজ্ঞেস করেছেন, আর ‘ইমরান তা শুনছিলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে অমুক ব্যক্তির পিতা! তুমি কী শা‘বান মাসের শেষ দিনগুলো সওম রাখো না? তখন তিনি বললেন, না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি (রমাযানের শেষে শা‘বান মাসের) দু’টি সওম পালন করে নিবে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৩৯
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «أفضل الصيام بعد رمضان شهر اللٰه المحرم وأفضل الصلاة بعد الفريضة صلاة الليل». رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রমাযান (রমজান) মাসের সওমের পরে উত্তম সওম হলো আল্লাহর মাস, মুহাররম মাসের ‘আশূরার সওম। আর ফরয সলাতের পরে সর্বোত্তম সলাত হলো রাতের সলাত (অর্থাৎ- তাহাজ্জুদ)। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৪০
وعن ابن عباس قال: ما رأيت النبى ﷺ يتحرٰى صيام يوم فضله علٰى غيره إلا هٰذا اليوم: يوم عاشوراء وهٰذا الشهر يعنى شهر رمضان. (متفق عليه)
তিনি বলেন, আমি কখনো নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সওম পালনের ক্ষেত্রে ‘আশূরার দিনের সওম ছাড়া অন্য কোন দিনের সওমকে এবং এ মাস (অর্থাৎ-) রমাযান (রমজান) ছাড়া অন্য কোন মাসের সওমকে অধিক মর্যাদা দিতে দেখিনি। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৪১
وعن ابن عباس قال: حين صام رسول اللٰه ﷺ يوم عاشوراء وأمر بصيامه قالوا: يا رسول اللٰه إنه يوم يعظمه اليهود والنصارٰى. فقال رسول اللٰه ﷺ: «لئن بقيت إلٰى قابل لأصومن التاسع». رواه مسلم
তিনি বলেন, যে সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আশূরার দিন সওম রেখেছেন; আর সাহাবীগণকেও রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সাহাবীগণ আরয করেন, হে আল্লাহর রসূল! এদিন তো ঐদিন, যেটি ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টানদের নিকট খুবই গুরুত্বপূর্ণ! (আর যেহেতু ইয়াহূদী-খ্রিষ্টানদের আমরা বিরোধিতা করি, তাই আমরা সওম রেখে তো এ দিনের গুরুত্ব প্রদানের ব্যাপারে তাদের সহযোগিতা করছি)। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি আমি আগামী বছর জীবিত থাকি, তাহলে অবশ্য অবশ্যই নয় তারিখেও সওম রাখবো। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৪২
وعن أم الفضل بنت الحارث: أن ناسا تماروا عندها يوم عرفة فى صيام رسول اللٰه ﷺ فقال بعضهم: هو صائم وقال بعضهم: ليس بصائم فأرسلت إليه بقدح لبن وهو واقف علٰى بعيره بعرفة فشربه. (متفق عليه)
তিনি বলেন, একবার ‘আরাফার দিন আমার সামনে কিছু লোক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সওম সম্পর্কে তর্কবিতর্ক করছিল। কেউ বলছিল, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আজ সওমে আছেন। আর কেউ বলছিল, না, আজ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সায়িম নন। তাদের এ তর্কবিতর্ক দেখে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এক কাপ দুধ পাঠালাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন ‘আরাফাতের ময়দানে নিজের উটের উপর বসা ছিলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (পেয়ালা হাতে নিয়ে) দুধ পান করলেন। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৪৩
وعن عائشة رضي اللٰه عنها قالت: ما رأيت رسول اللٰه ﷺ صائما فى العشر قط. رواه مسلم
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কখনো ‘আশর-এ (অর্থাৎ- যিলহজ মাসের প্রথম দশকে) সওম পালন করতে দেখিনি। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৪৪
وعن أبى قتادة: أن رجلا أتى النبى ﷺ فقال كيف تصوم فغضب رسول اللٰه ﷺ من قوله. فلما رأى عمر رضى الله عنهم غضبه قال رضينا باللٰه ربا وبالإسلام دينا وبمحمد نبيا نعوذ باللٰه من غضب اللٰه وغضب رسوله فجعل عمر رضى الله عنهم يردد هٰذا الكلام حتٰى سكن غضبه فقال عمر يا رسول الله كيف من يصوم الدهر كله قال: «لا صام ولا أفطر». أو قال: «لم يصم ولم يفطر». قال كيف من يصوم يومين ويفطر يوما قال: «ويطيق ذٰلك أحد». قال كيف من يصوم يوما ويفطر يوما قال: «ذٰلك صوم داود ؑ» قال كيف من يصوم يوما ويفطر يومين قال: «وددت أنى طوقت ذٰلك». ثم قال رسول اللٰه ﷺ: «ثلاث من كل شهر ورمضان إلٰى رمضان فهذا صيام الدهر كله صيام يوم عرفة أحتسب على اللٰه أن يكفر السنة التى قبله والسنة التى بعده وصيام يوم عاشوراء أحتسب على اللٰه أن يكفر السنة التى قبله». رواه مسلم
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে হাযির হয়ে জিজ্ঞেস করল, আপনি কিভাবে সওম রাখেন? তার কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হলেন। ‘উমার তাঁর রাগ দেখে বলে উঠলেন, ‘‘রযীনা- বিল্লা-হি রব্বান, ওয়াবিল ইসলা-মি দীনান, ওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিয়্যা। না‘ঊযুবিল্লা-হি মিন গযাবিল্লা-হি ওয়া গযাবি রসূলিহী’’ (অর্থাৎ- আমরা রব হিসেবে আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট। দ্বীন হিসেবে ইসলামের ওপর সন্তুষ্ট। আর নাবী হিসেবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর সন্তুষ্ট। আমরা আল্লাহ ও আল্লাহর রসূলের গযব হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।) ‘উমার এ বাক্যগুলো বার বার আওড়াতে থাকেন। এমনকি এ সময় রসূলের রাগ প্রশমিত হলো। এরপর ‘উমার জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! যে ব্যক্তি একাধারে সওম রাখে তার কী হুকুম? তিনি বললেন, সে ব্যক্তি না সওম রেখেছে, আর না ছেড়েছে। অথবা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, না সওম রেখেছে আর না সওম ছেড়ে দিয়েছে। (অর্থাৎ- এখানে বর্ণনাকারীর সন্দেহ রসূলুল্লাহ কি لَا صَامَ وَلَا أَفْطَرَ বলেছেন, না কি لَمْ يَصُمْ وَلَمْ يُفْطِرْ বলেছেন)। তারপর ‘উমার জিজ্ঞেস করলেন, ওই ব্যক্তির ব্যাপারে কি হুকুম, যে দু’ দিন সওম রাখে আর একদিন তা ছাড়া থাকে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কেউ কী এমন শক্তি রাখে? তারপর ‘উমার বললেন, ওই ব্যক্তির ব্যাপারে কি হুকুম, যে একদিন রাখে আর একদিন রাখে না? এবার তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এটা হলো দাঊদ (আঃ)-এর সওম। ‘উমার জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা ওই ব্যক্তির ব্যাপারে কি হুকুম যে, একদিন সওম রাখে আর দু’দিন রাখে না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি এটা পছন্দ করি যে, এতটুকু শক্তি আমার সংগ্রহ হোক। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এক রমাযান (রমজান) থেকে আর এক রমাযান (রমজান) পর্যন্ত প্রতি মাসের তিনটি সওম একাধারে রাখার সমান। ‘আরাফার দিনের সওমের ব্যাপারে আমি আশা করি আল্লাহ এর আগের ও পরের বছরের সব গুনাহ মাফ করে দেবেন। আর ‘আশূরার দিনের সওমের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে আমার প্রত্যাশা, আল্লাহ এর দ্বারা আগের বছরের সব গুনাহ মাফ করে দেবেন। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৪৫
وعن أبى قتادة قال: سئل رسول اللٰه ﷺ عن صوم الاثنين فقال: «فيه ولدت وفيه أنزل على». رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সোমবারের সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ এ দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি। এ দিনে আমার ওপর (কুরআন) নাযিল করা হয়েছে। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৪৬
وعن معاذة العدوية أنها سألت عائشة: أكان رسول اللٰه ﷺ يصوم من كل شهر ثلاثة أيام؟ قالت: نعم فقلت لها: من أى أيام الشهر كان يصوم؟ قالت: لم يكن يبالى من أى أيام الشهر يصوم. رواه مسلم
তিনি উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি প্রতি মাসে তিনটি করে (নফল সওম) রাখতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারপর আবার আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, মাসের কোন্ দিনগুলোতে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সওম রাখতেন? তিনি বললেন, মাসের বিশেষ কোন দিনের সওমের প্রতি লক্ষ্য করতেন না। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৪৭
وعن أبى أيوب الأنصاري أنه حدثه أن رسول اللٰه ﷺ قال: «من صام رمضان ثم أتبعه ستا من شوال كان كصيام الدهر». رواه مسلم
তিনি এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রমাযান (রমজান) মাসের সওম রাখবে। এরপর সে শাওয়াল মাসের ছয়টি সওমও রাখবে তাহলে সে একাধারে সওম পালনকারী গণ্য হবে। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৪৮
وعن أبى سعيد الخدرى قال: نهٰى رسول اللٰه ﷺ عن صوم يوم الفطر والنحر. (متفق عليه)
তিনি বলেন, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন সওম পালন করতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৪৯
وعن أبى سعيد الخدرى قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «لا صوم فى يومين: الفطر والضحٰى». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু’ দিন কোন সওম নেই। ঈদুল ফিতর আর ঈদুল আযহা। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৫০
وعن نبيشة الهذلى قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «أيام التشريق أيام أكل وشرب وذكر الله». رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘আইয়্যামুত তাশরীক’ হলো খানাপিনার ও পান করার এবং আল্লাহর জিকির করার দিন। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৫১
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «لا يصوم أحدكم يوم الجمعة إلا أن بصوم قبله أو يصوم بعده». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তি যেন জুমার দিন সওম না রাখে। হ্যাঁ, জুমার আগের অথবা পরের দিনসহ সওম রাখতে পারে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৫২
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «لا تختصوا ليلة الجمعة بقيام من بين الليالى ولا تختصوا يوم الجمعة بصيام من بين الأيام إلا أن يكون فى صوم يصومه أحدكم». رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অন্যান্য রাতগুলোর মধ্যে লায়লাতুল জুমাকে ‘ইবাদাত বন্দেগীর জন্য খাস করো না। আর ইয়াওমুল জুমাকেও (জুমার দিন) অন্যান্য দিনের মধ্যে সওমের জন্য নির্দিষ্ট করে নিও না। তবে তোমাদের কেউ যদি আগে থেকেই অভ্যস্ত থাকে, জুমাহ্ ওর মধ্যে পড়ে যায়, তাহলে জুমার দিন সওমে অসুবিধা নেই। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৫৩
وعن أبى سعيد الخدرى قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من صام يوما فى سبيل اللٰه بعد اللٰه وجهه عن النار سبعين خريفا». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি একদিন আল্লাহর পথে (অর্থাৎ- জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ-এর সময় খালিসভাবে আল্লাহর জন্য) সওম রাখে, আল্লাহ তা‘আলা তার মুখম-লকে (অর্থাৎ- তাকে) জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে রাখবেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৫৪
وعن عبد اللٰه بن عمرو بن العاص قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «يا عبد اللٰه ألم أخبر أنك تصوم النهار وتقوم الليل؟» فقلت: بلٰى يا رسول اللٰه. قال: «فلا تفعل صم وأفطر وقم ونم فإن لجسدك عليك حقا وإن لعينك عليك حقا وإن لزوجك عليك حقا وإن لزورك عليك حقا. لا صام من صام الدهر. صوم ثلاثة أيام من كل شهر صوم الدهر كله. صم كل شهر ثلاثة أيام واقرأ القراٰن فى كل شهر». قلت: إنى أطيق أكثر من ذٰلك. قال: «صم أفضل الصوم صوم داود: صيام يوم وإفطار يوم. واقرأ فى كل سبع ليال مرة ولا تزد علٰى ذٰلك». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে ‘আবদুল্লাহ! আমি জানতে পেরেছি, তুমি দিনে সওম রাখো ও রাত জেগে সলাত আদায় করো। আমি বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল! তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ না, (এরূপ) করো না। সওম রাখবে, আবার ছেড়ে দেবে। সলাত আদায় করবে, আবার ঘুমাবে। অবশ্য অবশ্যই তোমার ওপর তোমার শরীরের হক আছে, তোমার চোখের ওপর হক আছে, তোমার ওপর তোমার স্ত্রীর হক আছে। তোমার মেহমানদেরও তোমার ওপর হক আছে। যে সবসময় সওম রাখে সে (যেন) সওমই রাখল না। অবশ্য প্রতি মাসে তিনটি সওম সবসময়ে সওম রাখার সমান। অতএব প্রতি মাসে (আইয়্যামে বীযে অথবা যে কোন দিনে তিনদিন) সওম রাখো। এভাবে প্রতি মাসে কুরআন পড়বে। আমি নিবেদন করলাম, আমি তো এর চেয়ে বেশী করার সামর্থ্য রাখি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাহলে উত্তম দাঊদ (আঃ)-এর সওম রাখো। একদিন রাখবে, আর একদিন ছেড়ে দেবে। আর সাত রাতে একবার কুরআন খতম করবে। এতে আর মাত্রা বাড়াবে না। (বুখারী, মুসলিম)[১]