মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০২৭
عن جابر: أن رسول اللٰه ﷺ خرج عام الفتح إلٰى مكة فى رمضان فصام حتٰى بلغ كراع الغميم فصام الناس ثم دعا بقدح من ماء فرفعه حتٰى نظر الناس إليه ثم شرب فقيل له بعد ذٰلك إن بعض الناس قد صام. فقال: «أولٰئك العصاة أولٰئك العصاة». رواه مسلم
তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের বছর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযান (রমজান) মাসে (মাদীনাহ্ হতে) মক্কা অভিমুখে রওনা হলেন। তিনি (মক্কা মাদীনার মধ্যবর্তী স্থান ‘উসফানের কাছে) ‘‘কুরা-‘আল গমীম’’ পৌঁছা পর্যন্ত সওম রাখলেন। অন্যান্য লোকেরাও সওমে ছিলেন। (এখানে পৌঁছার পর) তিনি পেয়ালায় করে পানি চেয়ে আনলেন। পেয়ালাটিকে (হাতে উঠিয়ে এতো) উঁচুতে তুলে ধরলেন যে, মানুষেরা এর দিকে তাকাল। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পানি পান করলেন। এরপর কিছু লোক আরয করল যে, (এখনো) কিছু লোক সওম রেখেছে (অর্থাৎ- রসূলের অনুসরণে সওম ভাঙেনি)। (এ কথা শুনে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ এসব লোক পাক্কা গুনাহগার, এসব লোক পাক্কা গুনাহগার। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০২৮
وعن عبد الرحمٰن بن عوف قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «صائم رمضان فى السفر كالمفطر فى الحضر». رواه ابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রমাযান (রমজান) মাসে সফরের সায়িম, নিজের বাসস্থানে সায়িম না থাকার মতো। (ইবনু মাজাহ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০২৯
وعن حمزة بن عمرو الأسلمي أنه قال: يا رسول اللٰه إنى أجد بى قوة على الصيام فى السفر فهل على جناح؟ قال: «هى رخصة من اللٰه عز وجل فمن أخذ بها فحسن ومن أحب أن يصوم فلا جناح عليه». رواه مسلم
তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! সফর অবস্থায় আমি সওম পালনে সমর্থ। (না রাখলে) আমার কী কোন গুনাহ হবে? তিনি বললেন, এ ক্ষেত্রে আল্লাহ ‘আযযা ওয়াজাল্লা তোমাকে অবকাশ দিয়েছেন। যে ব্যক্তি এ অবকাশ গ্রহণ করবে, সে উত্তম কাজ করবে। আর যে ব্যক্তি সওম রাখা পছন্দ করবে (সে রাখবে), তার কোন গুনাহ হবে না। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৩০
عن عائشة قالت: كان يكون على الصوم من رمضان فما أستطيع أن أقضى إلا فى شعبان. قال يحيى بن سعيد: تعنى الشغل من النبى أو بالنبى ﷺ. (متفق عليه)
তিনি বলেন, রমাযান (রমজান) মাসের সওমের কাযা আমি শুধু শা‘বান মাসেই করতে পারি। ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা‘ঈদ বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে ব্যস্ত থাকায় অথবা বলেছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতের ব্যস্ততা ‘আয়িশাহকে (শা‘বান মাস ছাড়া অন্য কোন মাসে) কাযা সওম আদায়ের সুযোগ দিত না। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৩১
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «لا يحل للمرأة أن تصوم وزوجها شاهد إلا بإذنه ولا تأذن فى بيته إلا بإذنه». رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন নারীর উচিত নয় স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ছাড়া নফল সওম পালন করা। ঠিক তেমনই কোন নারীর জন্য স্বামীর অনুমতি ছাড়া কাউকে ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়াও অনুচিত। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৩২
وعن معاذة العدوية أنها قالت لعائشة: ما بال الحائض تقضى الصوم ولا تقضى الصلاة؟ قالت عائشة: كان يصيبنا ذٰلك فنؤمر بقضاء الصوم ولا نؤمر بقضاء الصلاة. رواه مسلم
তিনি উম্মুল মু’মিনীনাহ্ ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ঋতুবতী মহিলাদের সওম কাযা করতে হয়, অথচ সলাত কাযা করতে হয় না, কারণ কী? ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় আমাদের যখন মাসিক হত, তখন সওম কাযা করার হুকুম দেয়া হত। কিন্তু সলাত কাযা করার হুকুম দেয়া হত না। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০৩৩
وعن عائشة رضي اللٰه عنها قالت: قال رسول اللٰه ﷺ: «من مات وعليه صوم صام عنه وليه». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছে অথচ তার সওম অনাদায়ী ছিল, এ ক্ষেত্রে তার ওয়ারিসগণ সওমের কাযা আদায় করে দেবে। (বুখারী, মুসলিম)[১]