মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০০৫
عن عائشة: أن النبى ﷺ: كان يقبلها وهو صائم ويمص لسانها. رواه أبو داود
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সায়িম অবস্থায় চুমু খেতেন এবং তিনি তাঁর জিহবা লেহন করতেন। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০০৬
وعن أبى هريرة إن رجلا سأل النبى ﷺ عن المباشرة للصائم فرخص له. وأتاه اٰخر فسأله فنهاه فإذا الذى رخص له شيخ وإذا الذى نهاه شاب. رواه أبو داود
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সায়িম অবস্থায় স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে তা করার অনুমতি দিলেন। এরপর আরো এক ব্যক্তি এসে তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। এ ব্যক্তিকে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা করতে নিষেধ করলেন। যাকে তিনি অনুমতি দিয়েছিলেন সে ছিল বৃদ্ধ। আর যাকে নিষেধ করেছিলেন সে ছিল যুবক। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০০৭
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من ذرعه القيء وهو صائم فليس عليه قضاء ومن استقاء عمدا فليقض». رواه الترمذى وأبو داود وابن ماجه والدارمى. وقال الترمذى: هٰذا حديث غريب لا نعرفه إلا من حديث عيسى بن يونس. وقال محمد يعنى البخاري لا أراه محفوظا
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির সায়িম অবস্থায় (অনিচ্ছায়) বমি হবে তার সওম কাযা করতে হবে না। আর যে ব্যক্তি গলার ভিতর আঙ্গুল বা অন্য কিছু ঢুকিয়ে দিয়ে ইচ্ছাকৃত বমি করবে তাকে কাযা আদায় করতে হবে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ, দারিমী। ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গরীব। কারণ ‘ঈসা ইবনু ইউনুস ছাড়া এ হাদীসটি আর কারো বর্ণনায় রয়েছে তা আমরা জানি না। ইমাম বুখারীও এ হাদীসটিকে মাহফূয [সংরক্ষিত] মনে করেন না, অর্থাৎ- হাদীসটি মুনকার।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০০৮
وعن معدان بن طلحة أن أبا الدرداء حدثه أن رسول اللٰه ﷺ قاء فأفطر. قال: فلقيت ثوبان فى مسجد دمشق فقلت: إن أبا الدرداء حدثنى أن رسول اللٰه ﷺ قاء فأفطر. قال: صدق وأنا صببت له وضوءه. رواه أبو داود والترمذى والدارمى
তিনি আবূ দারদা (রাঃ) থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সওম অবস্থায়) বমি করেছেন। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সওম ভেঙ্গে ফেলেছেন। মা‘দান বলেন, এরপর আমি (দামেশকের মাসজিদে) সাওবান-এর সাথে মিলিত হই। তাকে আমি বলি যে, আবূ দারদা আমাকে এ হাদীসটি শুনিয়েছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) বমি করেছেন। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সওম ভেঙ্গে ফেলেছেন। সাওবান (এ কথা শুনে) বললেন, আবূ দারদা (রাঃ) পুরোপুরি সত্য বলেছেন। আর সে সময় আমিই তাঁর জন্য উযূর পানির ব্যবস্থা করেছিলাম। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০০৯
وعن عامر بن ربيعة قال: رأيت النبى ﷺ ما لا أحصى يتسوك وهو صائم. رواه الترمذى وأبو داود
তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সওম অবস্থায় এতবার মিসওয়াক করতে দেখেছি যে, তা আমি হিসাব করতে পারি না। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০১০
وعن أنس قال: جاء رجل إلى النبى ﷺ قال: اشتكيت عينى أفأكتحل وأنا صائم؟ قال: «نعم». رواه الترمذى وقال: ليس إسناده بالقوى وأبو عاتكة الراوى يضعف
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, আমার চোখে অসুখ। এ কারণে আমি কি সায়িম অবস্থায় চোখে সুরমা লাগাতে পারি? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ। (তিরমিযী; তিনি বলেন, এ হাদীসের সানাদ মজবুত নয়। আর এক বর্ণনাকারী আবূ ‘আতিকাহ্-কে দুর্বল মনে করা হয়।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০১১
وعن بعض أصحاب النبى ﷺ قال: لقد رأيت النبى ﷺ بالعرج يصب علٰى رأسه الماء وهو صائم من العطش أو من الحر. رواه مالك وأبو داود
একজন সাহাবী বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ‘আরজ’-এ (মক্কা মাদীনার মাঝখানে একটি জায়গার নাম) সায়িম অবস্থায় পিপাসা দমনের জন্য অথবা গরম কমানোর জন্য মাথায় পানি ঢালতে দেখেছি। (মালিক ও আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০১২
وعن شداد بن أوس: أن رسول اللٰه ﷺ أتٰى رجلا بالبقيع وهو يحتجم وهو اٰخذ بيدى لثمانى عشرة خلت من رمضان فقال: «أفطر الحاجم والمحجوم». رواه أبو داود وابن ماجه والدارمى. قال الشيخ الإمام محيى السنة رحمه اللٰه عليه: وتأوله بعض من رخص فى الحجامة: أى تعرضا للإفطار: المحجوم للضعف والحاجم لأنه لا يأمن من أن يصل شىء إلٰى جوفه بمص الملازم
তিনি বলেন, রমাযান (রমজান) মাসের আঠার তারিখে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাক্বী‘তে (মাদীনার কবরস্থানে) এমন এক লোকের কাছে আসলেন, যে শিঙ্গা লাগাচ্ছিল। এ সময় তিনি আমার হাত ধরেছিলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যে শিঙ্গা লাগায় ও যে শিঙ্গা দেয় উভয়েই নিজেদের সওম ভেঙ্গে ফেলেছে। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ ও দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০১৩
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من أفطر يوما من رمضان من غير رخصة ولا مرض لم يقض عنه صوم الدهر كله وإن صامه». رواه أحمد والترمذى وأبو داود وابن ماجه والدارمى والبخارى فى ترجمة باب وقال الترمذى: سمعت محمدا يعنى البخارى يقول. أبو المطوس الراوى لا أعرف له غير هٰذا الحديث
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন শার‘ঈ কারণ কিংবা কোন রোগ ছাড়া রমাযানের কোনদিন ইচ্ছা করে সওম পালন না করে, তাহলে সারা জীবন সওম রেখেও তার কাযা আদায় হবে না। (আহমদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ, দারিমী, তারজামাতুল বাব, বুখারী। ইমাম তিরমিযী বলেন, আমি মুহাম্মাদ অর্থাৎ- ইমাম বুখারীকে বলতে শুনেছি, আবূল মুত্বও্য়িস নামক রাবী এ হাদীস ছাড়া অন্য কোন হাদীস বর্ণনা করেছেন বলে জানি না।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০১৪
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «كم من صائم ليس له من صيامه إلا الظمأ وكم من قائم ليس له من قيامه إلا السهر». رواه الدارمى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অনেক সায়িম এমন আছে যারা তাদের সওম দ্বারা ‘ক্ষুধার্ত থাকা ছাড়া’ আর কোন ফল লাভ করতে পারে না। এমন অনেক কিয়ামরত (দন্ডায়মান) ব্যক্তি আছে যাদের রাতের ‘ইবাদাত নিশি জাগরণ ছাড়া আর কোন ফল আনতে পারে না। (দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০১৫
عن أبى سعيد قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «ثلاث لا يفطرن الصائم الحجامة والقيء والاحتلام». رواه الترمذى وقال: هٰذا حديث غير محفوظ وعبد الرحمٰن بن زيد الراوى يضعف فى الحديث
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি জিনিস সায়িমের সওম ভঙ্গ করে না। শিঙ্গা, বমি ও স্বপ্নদোষ। (তিরমিযী; তিনি বলেন, এ হাদীসটি ত্রুটিমুক্ত নয়। এর একজন বর্ণনাকারী ‘আবদুর রহমন ইবনু যায়দকে হাদীস সম্পর্কে দুর্বল হিসেবে গণ্য করা হয়।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০১৬
وعن ثابت البناني قال: سئل أنس بن مالك: كنتم تكرهون الحجامة للصائم علٰى عهد رسول اللٰه ﷺ؟ قال: لا إلا من أجل الضعف. رواه البخارى
তিনি বলেন, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনারা কী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে সায়িমকে শিঙ্গা দেয়া মাকরূহ মনে করতেন? তিনি বলেন, না; তবে দুর্বল আশংকা থাকলে। (বুখারী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০১৭
وعن البخارى تعليقا قال: كان ابن عمر يحتجم وهو صائم ثم تركه فكان يحتجم بالليل
বর্ণনা করেছেন যে, ইবনু ‘উমার (প্রথম প্রথম) সায়িম অবস্থায় (শরীরে) শিঙ্গা লাগাতেন। কিন্তু পরে তিনি তা ত্যাগ করেন। তবে রাতের বেলা তিনি শিঙ্গা লাগাতেন।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০১৮
وعن عطاء قال: إن مضمض ثم أفرغ ما فى فيه من الماء لا يضيره أن يزدرد ريقه وما بقى فى فيه ولا يمضغ العلك فإن ازدرد ريق العلك لا أقول: إنه يفطر ولكن ينهٰى عنه. رواه البخارى فى ترجمة باب
তিনি বলেন, সায়িম (রোযাদার) ব্যক্তি কুলি করে মুখ থেকে পানি ফেলে দেয় আর তার মুখের থুথু বা পানির অবশিষ্টাংশ যা থেকে যায় তাতে সওমের কোন ক্ষতি হবে না। আর কোন ব্যক্তি যেন চুইংগাম না চিবায়। যদি চিবানোর কারণে তার রস গিলে ফেলে, তাহলে তার ক্ষেত্রে আমি বলিনি যে, সে সওম ভঙ্গ করল, বরং তা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। (বুখারী- তরজমাতুল বাব)[১]