মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৮৭
عن حفصة رضي اللٰه عنها قالت: قال رسول اللٰه ﷺ: «من لم يجمع الصيام قبل الفجر فلا صيام له». رواه الترمذى وأبو داود والنسائى والدارمى وقال أبو داود: وقفه علٰى حفصة معمر والزبيدى وابن عيينة ويونس الأيلى كلهم عن الزهرى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফজরের আগে সওমের নিয়্যাত করবে না তার সওম হবে না। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, দারিমী। ইমাম আবূ দাঊদ বলেন, মা‘মার ও যুবায়দী, ইবনু ‘উআয়নাহ্ এবং ইউনুস আয়লী সহ সকলে এ বর্ণনাটি হাফসাহ্’র কথা বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৮৮
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: إذا سمع النداء أحدكم والإناء فى يده فلا يضعه حتٰى يقضى حاجته منه. رواه أبو داود
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (সাহরী খাবার সময়) তোমাদের কেউ ফজরের আযান শুনতে পেলে সে যেন হাতের বাসন রেখে না দেয়। বরং নিজের প্রয়োজন সেরে নেবে। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৮৯
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «قال اللٰه تعالٰى: أحب عبادى إلى أعجلهم فطرا». رواه الترمذى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমার কাছে সে বান্দা বেশী প্রিয় যে (সময় হয়ে যাবার সাথে সাথে) ইফতার করতে ব্যস্ত হয়। (তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৯০
وعن سلمان بن عامر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إذا أفطر أحدكم فليفطر علٰى تمر فإنه بركة فإن لم يجد فليفطر علٰى ماء فإنه طهور». رواه أحمد والترمذى وأبو داود وابن ماجه والدارمى. ولم يذكر: «فإنه بركة» غير الترمذى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন ইফতার করবে সে যেন খেজুর দিয়ে (শুরু) করে। কারণ খেজুর বারাকাতময়। যদি খেজুর না পায়, তাহলে যেন পানি দিয়ে ইফতার তরে। কেননা পানি পবিত্র জিনিস। (আহমাদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ, দারিমী। فَإِنَّه بَرَكَةٌ [ফাইন্নাহূ বারাকাতুন] -এ অংশটুকু ইমাম তিরমিযী ছাড়া আর কেউ উল্লেখ করেননি।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৯১
وعن أنس قال: كان النبى ﷺ يفطر قبل أن يصلى علٰى رطبات فإن لم تكن فتميرات فإن لم تكن تميرات حسٰى حسوات من ماء. رواه الترمذى وأبو داود. وقال الترمذى: هٰذا حديث حسن غريب
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সলাতের আগে কিছু তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। যদি তাজা খেজুর না পেতেন, শুকনা খেজুর দিয়ে করতেন। যদি শুকনা খেজুরও না পেতেন, কয়েক চুমুক পানি পান করে নিতেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ। আর ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি হাসান ও গরীব।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৯২
وعن زيد بن خالد قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من فطر صائما أو جهز غازيا فله مثل أجره». رواه البيهقى فى شعب الإيمان ومحيى السنة فى شرح السنة وقال صحيح
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সায়িমকে ইফতার করাবে অথবা কোন গাযীর আসবাবপত্র ঠিক করে দেবে সে তাদের (সায়িম ও গাযীর) সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে। (বায়হাক্বী- শু‘আবূল ঈমান-এ আর মুহয়্যিইউস্ সুন্নাহ্- শারহে সুন্নাহ্’য় এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন হাদীসটি সহীহ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৯৩
وعن ابن عمر قال: كان النبى ﷺ إذا أفطر قال: ذهب الظمأ وابتلت العروق وثبت الأجر إن شاء الله. رواه أبو داود
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফতার করার পর বলতেন, পিপাসা চলে গেছে, (শরীরের) রগগুলো সতেজ হয়েছে। আল্লাহর মর্জি হলে সাওয়াব প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৯৪
وعن معاذ بن زهرة قال: إن النبى ﷺ كان إذا أفطر قال: «اللٰهم لك صمت وعلٰى رزقك أفطرت». رواه أبو داود مرسلا
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফতার করার সময় (এ দু‘আ) বলতেনঃ ‘‘আল্ল-হুম্মা লাকা সুমতু, ওয়া ‘আলা- রিয্কবিকা আফত্বরতু’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তোমার জন্য সওম রেখে, তোমার [দান] রিযক দিয়ে ইফতবার করছি)। (আবূ দাঊদ, হাদীসটি মুরসাল)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৯৫
عن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «لا يزال الدين ظاهرا ما عجل الناس الفطر لأن اليهود والنصارٰى يؤخرون». رواه أبو داود وابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দ্বীন সর্বদাই বিজয়ী থাকবে (ততদিন), যতদিন মানুষ তাড়াতাড়ি ইফতার করবে। কারণ ইয়াহূদী ও খৃষ্টানরা ইফতার করতে বিলম্ব করে। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৯৬
وعن أبى عطية قال: دخلت أنا ومسروق علٰى عائشة فقلنا: يا أم المؤمنين رجلان من أصحاب محمد ﷺ أحدهما يعجل الإفطار ويعجل الصلاة والاٰخر: يؤخر الإفطار ويؤخر الصلاة. قالت: أيهما يعجل الإفطار ويعجل الصلاة؟ قلنا عبد اللٰه بن مسعود. قالت: هكذا صنع رسول اللٰه ﷺ والاٰخر أبو موسٰى. رواه مسلم
তিনি বলেন, আমি ও মাসরূক উভয়ে (একদিন) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর কাছে গেলাম ও আমরা আরয করলাম, হে উম্মুল মু’মিনীন! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’জন সাথী আছেন। তাদের একজন দ্রুত ইফতার করেন, দ্রুত সলাত আদায় করেন। আর দ্বিতীয়জন বিলম্বে ইফতার করেন ও বিলম্বে সলাত আদায় করেন। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, তাড়াতাড়ি করে ইফতার করেন ও সলাত আদায় করেন কে? আমরা বললাম, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপই করতেন। আর অপর ব্যক্তি যিনি ইফতার করতে ও সলাত আদায় করতে দেরী করতেন, তিনি ছিলেন আবূ মূসা। (মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৯৭
وعن العرباض بن سارية قال: دعانى رسول اللٰه ﷺ إلى السحور فى رمضان فقال: «هلم إلى الغداء المبارك». رواه أبو داود والنسائى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদিন) আমাকে রমাযানের সাহরী খেতে ডাকলেন এবং বললেন, বারাকাতপূর্ণ খাবার খেতে এসো। (আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৯৮
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «نعم سحور المؤمن التمر». رواه أبو داود
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিনের জন্য সাহরীর উত্তম খাবার হলো খেজুর। (আবূ দাঊদ)[১]