প্রথম অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৮২

عن أنس قال: قال رسول اللٰه ﷺ: تسحروا فإن فى السحور بركة (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ‘সাহরী’ খাও। সাহরীতে অবশ্যই বারাকাত আছে। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৮৩

وعن عمرو بن العاص قال: قال رسول اللٰه ﷺ: فصل ما بين صيامنا وصيام أهل الكتاب أكلة السحر. رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের ও আহলে কিতাবদের (ইয়াহূদী ও খৃষ্টান) সওমের মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরীর। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৮৪

وعن سهل قال: قال رسول اللٰه ﷺ: لا يزال الناس بخير ما عجلوا الفطر. (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যতদিন পর্যন্ত মানুষ তাড়াতাড়ি ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের মধ্যে থাকবে। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৮৫

وعن عمر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: إذا أقبل الليل من هٰهنا وأدبر النهار من هٰهنا وغربت الشمس فقد أفطر الصائم. (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন ওদিক থেকে রাত (পূর্বদিক হতে রাতের কালো রেখা) নেমে আসে, আর এদিক থেকে (পশ্চিম দিকে) দিন চলে যায় এবং সূর্য ডুবে যায়, তখনই সায়িম (রোযাদার) ইফতার করে। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৮৬

وعن أبى هريرة قال: نهٰى رسول اللٰه ﷺ عن الوصال فى الصوم. فقال له رجل: إنك تواصل يا رسول اللٰه ﷺ قال: وأيكم مثلى إنى أبيت يطعمنى ربى ويسقينى. (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওমে বিসাল (অর্থাৎ- একাধারে সওম রাখতে) নিষেধ করেছেন। তখন তাঁকে একজন জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি তো একাধারে সওম রাখেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কে আমার মতো? আমি তো এভাবে রাত কাটাই যে, আমার রব আমাকে খাওয়ান ও পরিতৃপ্ত করেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৮৭

عن حفصة رضي اللٰه عنها قالت: قال رسول اللٰه ﷺ: «من لم يجمع الصيام قبل الفجر فلا صيام له». رواه الترمذى وأبو داود والنسائى والدارمى وقال أبو داود: وقفه علٰى حفصة معمر والزبيدى وابن عيينة ويونس الأيلى كلهم عن الزهرى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফজরের আগে সওমের নিয়্যাত করবে না তার সওম হবে না। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, দারিমী। ইমাম আবূ দাঊদ বলেন, মা‘মার ও যুবায়দী, ইবনু ‘উআয়নাহ্ এবং ইউনুস আয়লী সহ সকলে এ বর্ণনাটি হাফসাহ্’র কথা বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন।)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৮৮

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: إذا سمع النداء أحدكم والإناء فى يده فلا يضعه حتٰى يقضى حاجته منه. رواه أبو داود

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (সাহরী খাবার সময়) তোমাদের কেউ ফজরের আযান শুনতে পেলে সে যেন হাতের বাসন রেখে না দেয়। বরং নিজের প্রয়োজন সেরে নেবে। (আবূ দাঊদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৮৯

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «قال اللٰه تعالٰى: أحب عبادى إلى أعجلهم فطرا». رواه الترمذى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমার কাছে সে বান্দা বেশী প্রিয় যে (সময় হয়ে যাবার সাথে সাথে) ইফতার করতে ব্যস্ত হয়। (তিরমিযী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৯০

وعن سلمان بن عامر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إذا أفطر أحدكم فليفطر علٰى تمر فإنه بركة فإن لم يجد فليفطر علٰى ماء فإنه طهور». رواه أحمد والترمذى وأبو داود وابن ماجه والدارمى. ولم يذكر: «فإنه بركة» غير الترمذى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন ইফতার করবে সে যেন খেজুর দিয়ে (শুরু) করে। কারণ খেজুর বারাকাতময়। যদি খেজুর না পায়, তাহলে যেন পানি দিয়ে ইফতার তরে। কেননা পানি পবিত্র জিনিস। (আহমাদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ, দারিমী। فَإِنَّه بَرَكَةٌ [ফাইন্নাহূ বারাকাতুন] -এ অংশটুকু ইমাম তিরমিযী ছাড়া আর কেউ উল্লেখ করেননি।)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৯১

وعن أنس قال: كان النبى ﷺ يفطر قبل أن يصلى علٰى رطبات فإن لم تكن فتميرات فإن لم تكن تميرات حسٰى حسوات من ماء. رواه الترمذى وأبو داود. وقال الترمذى: هٰذا حديث حسن غريب

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সলাতের আগে কিছু তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। যদি তাজা খেজুর না পেতেন, শুকনা খেজুর দিয়ে করতেন। যদি শুকনা খেজুরও না পেতেন, কয়েক চুমুক পানি পান করে নিতেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ। আর ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি হাসান ও গরীব।)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৯২

وعن زيد بن خالد قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «من فطر صائما أو جهز غازيا فله مثل أجره». رواه البيهقى فى شعب الإيمان ومحيى السنة فى شرح السنة وقال صحيح

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সায়িমকে ইফতার করাবে অথবা কোন গাযীর আসবাবপত্র ঠিক করে দেবে সে তাদের (সায়িম ও গাযীর) সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে। (বায়হাক্বী- শু‘আবূল ঈমান-এ আর মুহয়্যিইউস্ সুন্নাহ্- শারহে সুন্নাহ্’য় এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন হাদীসটি সহীহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৯৩

وعن ابن عمر قال: كان النبى ﷺ إذا أفطر قال: ذهب الظمأ وابتلت العروق وثبت الأجر إن شاء الله. رواه أبو داود

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফতার করার পর বলতেন, পিপাসা চলে গেছে, (শরীরের) রগগুলো সতেজ হয়েছে। আল্লাহর মর্জি হলে সাওয়াব প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। (আবূ দাঊদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৯৪

وعن معاذ بن زهرة قال: إن النبى ﷺ كان إذا أفطر قال: «اللٰهم لك صمت وعلٰى رزقك أفطرت». رواه أبو داود مرسلا

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফতার করার সময় (এ দু‘আ) বলতেনঃ ‘‘আল্ল-হুম্মা লাকা সুমতু, ওয়া ‘আলা- রিয্কবিকা আফত্বরতু’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তোমার জন্য সওম রেখে, তোমার [দান] রিযক দিয়ে ইফতবার করছি)। (আবূ দাঊদ, হাদীসটি মুরসাল)[১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية