মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৭৪
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إذا انتصف شعبان فلا تصوموا». رواه أبو داود والترمذى وابن ماجه والدارمى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শা‘বান মাসের অর্ধেক সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে তোমরা সওম পালন করবে না। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৭৫
وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «أحصوا هلال شعبان لرمضان». رواه الترمذى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রমাযান (রমজান) মাসের জন্য শা‘বান মাসের (নতুন চাঁদের) হিসাব রেখ। (তিরমিযী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৭৬
وعن أم سلمة قالت: ما رأيت النبى ﷺ يصوم شهرين متتابعين إلا شعبان ورمضان. رواه أبو داود والترمذى والنسائى وابن ماجه
তিনি বলেন, আমি কক্ষনো নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে শা‘বান ও রমাযান (রমজান) ছাড়া একাধারে দু’ মাস সিয়াম পালন করতে দেখিনি। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৭৭
وعن عمار بن ياسر رضي اللٰه عنهما قال: من صام اليوم الذي يشك فيه فقد عصٰى أبا القاسم ﷺ. رواه أبو داود والترمذى والنسائى وابن ماجه والدارمى
তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ‘ইয়াওমুশ্ শাক-এ’ (অর্থাৎ- সন্দেহের দিন) সিয়াম রাখে সে আবূল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে নাফরমানী করল। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ, দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৭৮
وعن ابن عباس قال: جاء أعرابى إلى النبى ﷺ فقال: إنى رأيت الهلال يعنى هلال رمضان فقال: «أتشهد أن لا إلٰه إلا اللٰه؟» قال: نعم قال: «أتشهد أن محمدا رسول اللٰه؟» قال: نعم. قال: «يا بلال أذن فى الناس أن يصوموا غدا». رواه أبو داود والترمذى والنسائى وابن ماجه والدارمى
তিনি বলেন, একজন গ্রাম্য ‘আরব নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলো এবং বলল, আমি চাঁদ দেখেছি অর্থাৎ- রমাযানের চাঁদ। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তুমি কি সাক্ষ্য দিচ্ছো আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোন ইলাহ নেই। সে বলল, হ্যাঁ। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তুমি কি সাক্ষ্য দিচ্ছো যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল? সে বলল, জ্বি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হে বিলাল! লোকদের মধ্যে ঘোষণা করে দাও, আগামীকাল যেন সওম রাখে। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ, দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৭৯
وعن ابن عمر قال: تراء الناس الهلال فأخبرت رسول اللٰه ﷺ أنى رأيته فصام وأمر الناس بصيامه. رواه أبو داود والدارمى
তিনি বলেন, (একবার) চাঁদ দেখার জন্য লোকেরা একত্রিত হলো। (এ সময়) আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালাম যে, আমি চাঁদ দেখেছি। এতে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে সওম পালন শুরু করলেন এবং লোকদেরকেও সওমের পালনের নির্দেশ দিলেন। (আবূ দাঊদ, দারিমী)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৮০
وعن عائشة رضي اللٰه عنها قالت: كان رسول اللٰه ﷺ يتحفظ من شعبان مالا يتحفظ من غيره. ثم يصوم لرؤية رمضان فإن غم عليه عد ثلاثين يوما ثم صام. رواه أبو داود
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শা‘বান মাসে যেরূপ সতর্ক থাকতেন অন্য মাসে এতটা সতর্ক থাকতেন না। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমাযানের চাঁদ দেখে সওম পালন করতেন। আকাশ মেঘলা থাকলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (শা‘বান মাস) ত্রিশদিন পুরা করার পর সওম শুরু করতেন। (আবূ দাঊদ)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৮১
وعن أبى البخترى قال: خرجنا للعمرة فلما نزلنا ببطن نخلة تراءينا الهلال. فقال بعض القوم: هو ابن ثلاث. وقال بعض القوم: هو ابن ليلتين فلقينا ابن عباس فقلنا: إنا رأينا الهلال فقال بعض القوم: هو ابن ثلاث وقال بعض القوم: هو ابن ليلتين. فقال: أى ليلة رأيتموه؟ قلنا: ليلة كذا وكذا. فقال: إن رسول اللٰه ﷺ مده للرؤية فهو لليلة رأيتموه. وفى رواية عنه. قال: أهللنا رمضان ونحن بذات عرق فأرسلنا رجلا إلى ابن عباس يسأله فقال ابن عباس: قال رسول اللٰه ﷺ: إن الله تعالٰى قد أمده لرؤيته فإن أغمى عليكم فأكملوا العدة. رواه مسلم
তিনি বলেন, আমরা ‘উমরাহ্ করার জন্য বের হলাম। অতঃপর যখন আমরা ‘বাত্বনি নাখলাহ্’ নামক (মক্কা আর ত্বয়িফের মধ্যবর্তী একটি স্থানের নাম) স্থানে পৌঁছে আমরা (নতুন) চাঁদ দেখলাম। কিছু লোক বলল, এ চাঁদ তৃতীয় রাতের (তৃতীয়ার), কিছু লোক বলল, এ চাঁদ দু’ রাতের (দ্বিতীয়ার) চাঁদ। এরপর আমরা ইবনু ‘আব্বাস-এর সাক্ষাত পেলাম। তাঁকে বললাম, আমরা নতুন চাঁদ দেখেছি। আমাদের কেউ কেউ বলেন, এ চাঁদ তৃতীয়ার চাঁদ। আবার কেউ বলেন, দ্বিতীয়ার চাঁদ। ইবনু ‘আব্বাস জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কোন্ রাতে চাঁদ দেখেছ? আমরা বললাম, ঐ ঐ রাতে। তখন ইবনু ‘আব্বাস বললেন, নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানের সময়কে চাঁদ দেখার উপর নির্দিষ্ট করেছেন। অতএব এ চাঁদ সে রাতের যে রাতে তোমরা দেখেছ। এ বর্ণনাকারী হতেই অন্য একটি বর্ণনায় বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আমরা ‘যা-তি ‘ইরক্ব’ নামক স্থানে (বাত্বনি নাখলাহ্’র কাছাকাছি একটি স্থান) রমাযানের চাঁদ দেখলাম। অতএব আমরা ইবনু ‘আব্বাসকে জিজ্ঞেস করার জন্য লোক পাঠালাম। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা শা‘বানমাসকে রমাযানের চাঁদ দেখা পর্যন্ত দীর্ঘ করেছেন। যদি তোমাদের ওপর আকাশ মেঘলা থাকে, তাহলে গণনা পূর্ণ করো (অর্থাৎ- শা‘বান মাসের সময় ত্রিশদিন পূর্ণ করো)। (মুসলিম)[১]