প্রথম অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৬৯

عن عمر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «لا تصوموا حتٰى تروا الهلال ولا تفطروا حتٰى تروه فإن غم عليكم فاقدروا له». وفى رواية قال: الشهر تسع وعشرون ليلة فلا تصوموا حتٰى تروه فإن غم عليكم فأكملوا العدة ثلاثين (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা চাঁদ না দেখা পর্যন্ত সওম (রোযা) পালন করবে না এবং তা না দেখা পর্যন্ত সওম শেষ (ভঙ্গ) করবে না। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় তোমরা যদি চাঁদ না দেখতে পাও তাহলে (শা‘বান) মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ করো (অর্থাৎ- এ মাসকে ত্রিশ দিন হিসেবে গণ্য করো)। অপর বর্ণনায় আছেঃ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ মাস ঊনত্রিশ রাতেও হয়। তাই চাঁদ না দেখা পর্যন্ত সওম পালন করবে না। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তাহলে মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করো। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৭০

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: صوموا لرؤيته وأفطروا لرؤيته فإن غم عليكم فأكملوا عدة شعبان ثلاثين

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সওম পালন করো চাঁদ দেখে এবং ছাড়ো (ভঙ্গ করো) চাঁদ দেখে। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তাহলে শা‘বান মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করো। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৭১

وعن ابن عمر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: أنا أمة أمية لا نكتب ولا نحسب الشهر هكذا وهكذا وهكذا». وعقد الإبهام فى الثالثة. ثم قال: الشهر هكذا وهكذا وهكذا. يعنى تمام الثلاثين يعنى مرة تسعا وعشرين ومرة ثلاثين

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা উম্মি জাতি। হিসাব-কিতাব জানি না, কোন মাস এত, এত, এত (অর্থাৎ- কোন মাস এভাবে বা এভাবে এভাবে হয়।) তিনি তৃতীয়বারে বৃদ্ধাঙ্গুলি বন্ধ করলেন। তারপর বললেন, মাস এত দিনে, এত দিনে এবং এত দিনে অর্থাৎ- পুরা ত্রিশ দিনে হয়। অর্থাৎ- কখনো মাস ঊনত্রিশ আবার কখনো ত্রিশ দিনে হয়। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৭২

وعن أبى بكرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: شهرا عيد لا ينقصان: رمضان وذو الحجة

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈদের দু’ মাস, রমাযান (রমজান) ও যিলহজ কম হয় না। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৭৩

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «لا يتقدمن أحدكم رمضان بصوم يوم أو يومين إلا أن يكون رجل كان يصوم صوما فليصم ذٰلك اليوم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন রমাযান (রমজান) মাস আসার এক কি দু’দিন আগে থেকে সওম (রোযা) না রাখে। তবে যে ব্যক্তি কোন দিনে সওম রাখতে অভ্যস্ত সে ওসব দিনে সওম রাখতে পারে। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৭৪

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «إذا انتصف شعبان فلا تصوموا». رواه أبو داود والترمذى وابن ماجه والدارمى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শা‘বান মাসের অর্ধেক সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে তোমরা সওম পালন করবে না। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, দারিমী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৭৫

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «أحصوا هلال شعبان لرمضان». رواه الترمذى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রমাযান (রমজান) মাসের জন্য শা‘বান মাসের (নতুন চাঁদের) হিসাব রেখ। (তিরমিযী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৭৬

وعن أم سلمة قالت: ما رأيت النبى ﷺ يصوم شهرين متتابعين إلا شعبان ورمضان. رواه أبو داود والترمذى والنسائى وابن ماجه

তিনি বলেন, আমি কক্ষনো নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে শা‘বান ও রমাযান (রমজান) ছাড়া একাধারে দু’ মাস সিয়াম পালন করতে দেখিনি। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৭৭

وعن عمار بن ياسر رضي اللٰه عنهما قال: من صام اليوم الذي يشك فيه فقد عصٰى أبا القاسم ﷺ. رواه أبو داود والترمذى والنسائى وابن ماجه والدارمى

তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ‘ইয়াওমুশ্ শাক-এ’ (অর্থাৎ- সন্দেহের দিন) সিয়াম রাখে সে আবূল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে নাফরমানী করল। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ, দারিমী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৭৮

وعن ابن عباس قال: جاء أعرابى إلى النبى ﷺ فقال: إنى رأيت الهلال يعنى هلال رمضان فقال: «أتشهد أن لا إلٰه إلا اللٰه؟» قال: نعم قال: «أتشهد أن محمدا رسول اللٰه؟» قال: نعم. قال: «يا بلال أذن فى الناس أن يصوموا غدا». رواه أبو داود والترمذى والنسائى وابن ماجه والدارمى

তিনি বলেন, একজন গ্রাম্য ‘আরব নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলো এবং বলল, আমি চাঁদ দেখেছি অর্থাৎ- রমাযানের চাঁদ। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তুমি কি সাক্ষ্য দিচ্ছো আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোন ইলাহ নেই। সে বলল, হ্যাঁ। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তুমি কি সাক্ষ্য দিচ্ছো যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল? সে বলল, জ্বি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হে বিলাল! লোকদের মধ্যে ঘোষণা করে দাও, আগামীকাল যেন সওম রাখে। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ, দারিমী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৭৯

وعن ابن عمر قال: تراء الناس الهلال فأخبرت رسول اللٰه ﷺ أنى رأيته فصام وأمر الناس بصيامه. رواه أبو داود والدارمى

তিনি বলেন, (একবার) চাঁদ দেখার জন্য লোকেরা একত্রিত হলো। (এ সময়) আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালাম যে, আমি চাঁদ দেখেছি। এতে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে সওম পালন শুরু করলেন এবং লোকদেরকেও সওমের পালনের নির্দেশ দিলেন। (আবূ দাঊদ, দারিমী)[১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية