তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৬২

عن أبى هريرة ، قال : قال رسول اللٰه ﷺ : «أتاكم رمضان شهر مبارك، فرض اللٰه عليكم صيامه، تفتح فيه أبواب السماء، وتغلق فيه أبواب الجحيم وتغل فيه مردة الشياطين، للٰه فيه ليلة خير من ألف شهر، من حرم خيرها فقد حرم». رواه أحمد، والنسائى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের জন্য রমাযানের বারাকাতময় মাস এসেছে। এ মাসে সওম রাখা আল্লাহ তোমাদের জন্য ফরয করে দিয়েছেন। এ মাসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং বন্ধ করে দেয়া হয় জাহান্নামের সব দরজা। এ মাসে বিদ্রোহী শয়তানগুলোকে কয়েদ করা হয়। এ মাসে একটি রাত আছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি এ রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো; সে অবশ্য অবশ্যই প্রত্যেক কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত রইল। (আহমদ ও নাসায়ী)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৬৩

وعن عبد اللٰه بن عمرو : أن رسول اللٰه ﷺ قال : «الصيام والقراٰن يشفعان للعبد، يقول الصيام : أي رب! إنى منعته الطعام والشهوات بالنهار، فشفعنى فيه، ويقول القراٰن : منعته النوم بالليل فشفعنى فيه، فيشفعان». رواه البيهقي فى شعب الإيمان

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সিয়াম এবং কুরআন বান্দার জন্য শাফা‘আত করবে। সিয়াম বলবে, হে রব! আমি তাকে দিনে খাবার গ্রহণ করতে ও প্রবৃত্তির তাড়না মিটাতে বাধা দিয়েছি। অতএব তার ব্যাপারে এখন আমার শাফা‘আত কবূল করো। কুরআন বলবে, হে রব! আমি তাকে রাতে ঘুম থেকে বিরত রেখেছি। অতএব তার ব্যাপারে এখন আমার সুপারিশ গ্রহণ করো। অতঃপর উভয়ের সুপারিশই কবূল করা হবে। (বায়হাক্বী; শু‘আবূল ‘ঈমান)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৬৪

وعن أنس بن مالك ، قال : دخل رمضان فقال رسول اللٰه ﷺ : «إن هٰذا الشهر قد حضركم، وفيه ليلة خير من ألف شهر، من حرمها فقد حرم الخير كله، ولا يحرم خيرها إلا كل محروم». رواه ابن ماجه

তিনি বলেন, রমাযান (রমজান) মাস এলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, রমাযান (রমজান) মাস তোমাদের মাঝে উপস্থিত। এ মাসে রয়েছে এমন এক রাত, যা হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম। যে ব্যক্তি এ রাতের (কল্যাণ হতে) বঞ্চিত রয়েছে; সে এর সকল কল্যাণ হতেই বঞ্চিত। শুধু হতভাগ্যরাই এ রাতের কল্যাণ লাভ হতে বঞ্চিত থাকে। (ইবনু মাজাহ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৬৫

وعن سلمان الفارسى ، قال : خطبنا رسول اللٰه ﷺ فى اٰخر يوم من شعبان فقال : يا أيها الناس! قد أظلكم شهر عظيم، شهر مبارك، شهر فيه ليلة خير من ألف شهر، جعل الله تعالٰى صيامه فريضة، وقيام ليله تطوعا، من تقرب فيه بخصلة من الخير كان كمن أدٰى فريضة فيما سواه، ومن أدٰى فريضة فيه كان كمن أدٰى سبعين فريضة فيما سواه. وهو شهر الصبر، والصبر ثوابه الجنة، وشهر المواساة، وشهر يزداد فيه رزق المؤمن، من فطر فيه صائما كان له مغفرة لذنوبه، وعتق رقبته من النار، وكان له مثل أجره من غير أن ينقص من أجره شىء» قلنا : يا رسول اللٰه! ليس كلنا ن جد ما نفطر به الصائم. فقال رسول اللٰه ﷺ : «يعطى اللٰه هٰذا الثواب من فطر صائما علٰى مذقة لبن، أو تمرة أو شربة من ماء، ومن أشبع صائما؛ سقاه اللٰه من حوضى شربة لا يظمأ حتٰى يدخل الجنة. وهو شهر أوله رحمة، وأوسطه مغفرة، واٰخره عتق من النار. ومن خفف عن مملوكه فيه؛ غفر الله له وأعتقه من النار

তিনি বলেন, শা‘বান মাসের শেষ দিনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন, হে লোক সকল! একটি মহিমান্বিত মাস তোমাদেরকে ছায়া হয়ে ঘিরে ধরেছে। এ মাস একটি বারাকাতময় মাস। এটি এমন এক মাস, যার মধ্যে একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। আল্লাহ এ মাসের সিয়াম ফরয করেছেন আর নফল করে দিয়েছেন এ মাসে রাতের কিয়ামকে। যে ব্যক্তি এ মাসে একটি নফল কাজ করবে, সে যেন অন্য মাসের একটি ফরয আদায় করল। আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরয আদায় করেন, সে যেন অন্য মাসের সত্তরটি ফরয সম্পাদন করল। এ মাস সবরের (ধৈর্যের) মাস; সবরের সাওয়াব জান্নাত। এ মাস সহমর্মিতার। এ এমন এক মাস যাতে মু’মিনের রিযক বৃদ্ধি করা হয়। যে ব্যক্তি এ মাসে কোন সায়িমকে ইফতার করাবে, এ ইফতার তার গুনাহ মাফের কারণ হবে, হবে জাহান্নামের অগ্নিমুক্তির উপায়। তার সাওয়াব হবে সায়িমের অনুরূপ। অথচ সায়িমের সাওয়াব একটুও কমানো হবে না। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের সকলে তো সায়িমের ইফতারীর আয়োজন করতে সমর্থ নয়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ সাওয়াব আল্লাহ তা‘আলা ঐ ইফতার পরিবেশনকারীকেও প্রদান করেন, যে একজন সায়িমকে এক চুমুক দুধ, একটি খেজুর অথবা এক চুমুক পানি দিয়ে ইফতার করায়। আর যে ব্যক্তি একজন সায়িমকে পেট ভরে খাইয়ে পরিতৃপ্ত করল, আল্লাহ তা‘আলা তাকে আমার হাওযে কাওসার থেকে এভাবে পানি খাইয়ে পরিতৃপ্ত করবেন, যার পর সে জান্নাতে (প্রবেশ করার পূর্বে) আর পিপাসার্ত হবে না। এমনকি সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এটা এমন এক মাস যার প্রথম অংশে রহমত। মধ্য অংশে মাগফিরাত, শেষাংশে জাহান্নামের আগুন থেকে নাজাত। যে ব্যক্তি এ মাসে তার অধিনস্তদের ভার-বোঝা সহজ করে দেবে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন। তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেবেন।[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৬৬

وعن ابن عباس ، قال : كان رسول اللٰه ﷺ إذا دخل شهر رمضان أطلق كل أسير وأعطٰى كل سائل

তিনি বলেন, রমাযান (রমজান) মাস শুরু হলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক বন্দীকে মুক্তি দিতেন এবং প্রত্যেক সাহায্যপ্রার্থীকে দান করতেন।[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৬৭

وعن ابن عمر ، أن النبى ﷺ قال : إن الجنة تزخرف لرمضان من رأس الحول إلٰى حول قابل قال : فإذا كان أول يوم من رمضان هبت ريح تحت العرش من ورق الجنة على الحور العين، فيقلن : يا رب؛ اجعل لنا من عبادك أزواجا تقر بهم أعيننا، وتقر أعينهم بنا روى البيهقي الأحاديث الثلاثة فى شعب الإيمان

তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রমাযানকে স্বাগত জানাবার জন্য বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জান্নাতকে সাজানো হতে থাকে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, বস্তুত যখন রমাযানের প্রথম দিন শুরু হয়, ‘আরশের নীচে জান্নাতের গাছপালার পাতাগুলো হতে ‘‘হূরিল ‘ঈন’’-এর মাথার উপর বাতাস বইতে শুরু করে। তারপর হূরিল ‘ঈন বলতে থাকে, হে আমাদের রব! তোমার বান্দাদেরকে আমাদের স্বামী বানিয়ে দাও। তাদের সাহচর্যে আমাদের আঁখি যুগল ঠাণ্ডা হোক আর তাদের চোখ আমাদের সাহচর্যে শীতল হোক। (উপরোক্ত তিনটি হাদীস ইমাম বায়হাক্বী তাঁর ‘‘শু‘আবূল ঈমান’’-এ বর্ণনা করেছেন)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৬৮

وعن أبى هريرة : عن النبى ﷺ أنه قال: «يغفر لأمته فى اخر ليلة فى رمضان». قيل: يا رسول اللٰه أهى ليلة القدر؟ قال: «لا ولكن العامل إنما يوفٰى أجره إذا قضٰى عمله». رواه أحمد

তিনি বলেছেনঃ তাঁর উম্মাতকে রমাযান (রমজান) মাসের শেষ রাতে মাফ করে দেয়া হয়। নিবেদন করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! সেটা কি লায়লাতুল কদরের রাত? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, না। বরং ‘আমালকারী যখন নিজের ‘আমাল শেষ করে তখনই তার বিনিময় তাকে মিটিয়ে দেয়া হয়। (আহমদ)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৬৯

عن عمر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «لا تصوموا حتٰى تروا الهلال ولا تفطروا حتٰى تروه فإن غم عليكم فاقدروا له». وفى رواية قال: الشهر تسع وعشرون ليلة فلا تصوموا حتٰى تروه فإن غم عليكم فأكملوا العدة ثلاثين (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা চাঁদ না দেখা পর্যন্ত সওম (রোযা) পালন করবে না এবং তা না দেখা পর্যন্ত সওম শেষ (ভঙ্গ) করবে না। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় তোমরা যদি চাঁদ না দেখতে পাও তাহলে (শা‘বান) মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ করো (অর্থাৎ- এ মাসকে ত্রিশ দিন হিসেবে গণ্য করো)। অপর বর্ণনায় আছেঃ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ মাস ঊনত্রিশ রাতেও হয়। তাই চাঁদ না দেখা পর্যন্ত সওম পালন করবে না। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তাহলে মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করো। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৭০

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: صوموا لرؤيته وأفطروا لرؤيته فإن غم عليكم فأكملوا عدة شعبان ثلاثين

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সওম পালন করো চাঁদ দেখে এবং ছাড়ো (ভঙ্গ করো) চাঁদ দেখে। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তাহলে শা‘বান মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করো। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৭১

وعن ابن عمر قال: قال رسول اللٰه ﷺ: أنا أمة أمية لا نكتب ولا نحسب الشهر هكذا وهكذا وهكذا». وعقد الإبهام فى الثالثة. ثم قال: الشهر هكذا وهكذا وهكذا. يعنى تمام الثلاثين يعنى مرة تسعا وعشرين ومرة ثلاثين

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা উম্মি জাতি। হিসাব-কিতাব জানি না, কোন মাস এত, এত, এত (অর্থাৎ- কোন মাস এভাবে বা এভাবে এভাবে হয়।) তিনি তৃতীয়বারে বৃদ্ধাঙ্গুলি বন্ধ করলেন। তারপর বললেন, মাস এত দিনে, এত দিনে এবং এত দিনে অর্থাৎ- পুরা ত্রিশ দিনে হয়। অর্থাৎ- কখনো মাস ঊনত্রিশ আবার কখনো ত্রিশ দিনে হয়। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৭২

وعن أبى بكرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: شهرا عيد لا ينقصان: رمضان وذو الحجة

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈদের দু’ মাস, রমাযান (রমজান) ও যিলহজ কম হয় না। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯৭৩

وعن أبى هريرة قال: قال رسول اللٰه ﷺ: «لا يتقدمن أحدكم رمضان بصوم يوم أو يومين إلا أن يكون رجل كان يصوم صوما فليصم ذٰلك اليوم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন রমাযান (রমজান) মাস আসার এক কি দু’দিন আগে থেকে সওম (রোযা) না রাখে। তবে যে ব্যক্তি কোন দিনে সওম রাখতে অভ্যস্ত সে ওসব দিনে সওম রাখতে পারে। (বুখারী, মুসলিম)[১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية