মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯০৭
عن عبد الله بن سلام قال: لما قدم النبي ﷺ المدينة جئت فلما تبينت وجهه عرفت أن وجهه ليس بوجه كذاب. فكان أول ما قال: «أيها الناس أفشوا السلام وأطعموا الطعام وصلوا الأرحام وصلوا بالليل والناس نيام تدخلوا الجنة بسلام» . رواه الترمذي وابن ماجه والدارمي
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাদীনায় আগমন করার পর আমি তাঁর কাছে গেলাম। তাঁর ‘চেহারা মুবারাক’ দেখেই আমি চিনতে পেরেছি এ কোন মিথ্যাবাদীর চেহারা হতে পারে না। সর্বপ্রথম তিনি যে কথা বলেছিলেন তা ছিল, “হে লোকেরা! তোমরা পরস্পর সালাম বিনিময় করো, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সদাচরণ করো, রাতের বেলা যখন লোকেরা ঘুমিয়ে থাকবে, তখন তাহাজ্জুদের সালাত আদায় কর, তাহলে প্রশান্তচিত্তে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, দারিমী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯০৮
وعن عبد الله بن عمرو قال: قال رسول الله ﷺ: «اعبدوا الرحمن وأطعموا الطعام وأفشوا السلام تدخلوا الجنة بسلام» . رواه الترمذي وابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ রহমানের ‘ইবাদাত করো, খাবার দাও, মুসলিমদেরকে সালাম দাও’ তোমরা সহজে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯০৯
وعن أنس قال: قال رسول الله ﷺ: «إن الصدقة لتطفئ غضب الرب وتدفع ميتة السوء» . رواه الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ অবশ্য অবশ্য সদাক্বাহ্ আল্লাহ তা’আলার ক্রোধকে ঠান্ডা করে, আর খারাপ মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করে। (তিরমিযী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯১০
وعن جابر قال : قال رسول الله ﷺ: «كل معروف صدقة وإن من المعروف أن تلقى أخاك بوجه طلق وأن تفرغ من دلوك فى إناء أخيك» . رواه أحمد والترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রতিটি ভাল কাজই সদাক্বাহ, আর তোমার নিজের কোন ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাৎ এবং কোন ভাইয়ের পাত্রে নিজের বালতি থেকে পানি ঢেলে দেয়াও ভাল কাজের অন্তর্ভূক্ত। (আহমাদ, তিরমিযী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯১১
وعن أبى ذر قال: قال رسول الله ﷺ: «تبسمك فى وجه أخيك صدقة وأمرك بالمعروف صدقة ن ونهيك عن المنكر صدقة وإرشادك الرجل في أرض الضلال لك صدقة ونصرك الرجل الردى ء البصر لك صدقة وإماطتك الحجر والشوك والعظم عن الطريق لك صدقة وإفراغك من دلوك فى دلو أخيك لك صدقة» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমার ভাইয়ের সামনে হাসি মুখে আগমন করা সদাক্বাহ্, নেক কাজ নির্দেশ, খারাপ কথাবার্তা হতে বিরত থাকা তোমার জন্য সদাক্বাহ, পথহারা প্রান্তরে কোন মানুষকে পথ বলে দেয়া, কোন অন্ধ বা দুর্বল দৃষ্টিশক্তির মানুষকে সাহায্য করা সদাক্বাহ্, পথের কাঁটা বা হাড় সরিয়ে দেয়া, নিজের বালতি থেকে অন্য কোন ভাইয়ের বালতিতে পানি দিয়ে ভরে দেয়া তোমার জন্য সাদাক্বাহ্। (তিরমিযী; তিনি বলেন, এ হাদীসটি গারীব) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯১২
وعن سعد بن عبادة قال: يا رسول الله إن أم سعد ماتت فأي الصدقة أفضل؟ قال: «الماء» . فحفر بئرا وقال: هذه لأم سعد. رواه أبو داود والنسائي
তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! উম্মু সা‘দ (অর্থাৎ আমার মা) মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁর মাগফিরাতের জন্য কোন ধরনের দান সদাক্বাহ্ উত্তম? রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ “পানি”, (এ কথা শুনে) সা‘দ কূপ খনন করলেন এবং বললেন, এ কূপ উম্মু সা‘দ (রাঃ) এর জন্য সদাক্বাহ্। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯১৩
وعن أبى سعيد قال: قال رسول الله ﷺ: «أيما مسلم كسا مسلما ثوبا على عري كساه الله من خضر الجنة وأيما مسلم أطعم مسلما على جوع أطعمه الله من ثمار الجنة. وأيما مسلم سقا مسلما على ظمأ سقاه الله من الرحيق المختوم» . رواه أبو داود والترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে মুসলিম কোন একজন উলঙ্গ মুসলিমকে কাপড় পরাবে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্বিয়ামাতের দিন জান্নাতের সবুজ পোশাক পরিধান করাবেন। যে মুসলিম কোন ক্ষুধার্ত মুসলিমকে খাবার দেবে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে জান্নাতের ফল-ফলাদি খাওয়াবেন। আর যে মুসলিম কোন পিপাসার্ত মুসলিমের পিপাসা মেটাবে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে ‘রাহীকুল মাখতূমের’র পানীয় দিয়ে পরিতৃপ্ত করাবেন। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯১৪
وعن فاطمة بنت قبيس قالت: قال رسول الله ﷺ: «إن في المال لحقا سوى الزكاة» ثم تلا: ﴿ليس البر أن تولوا وجوهكم قبل المشرق والمغرب﴾ [البقرة 2 : 177] الاية. رواه الترمذي وابن ماجه والدارمي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই সম্পদে যাকাত ছাড়াও (গরীবের) আরো অন্যান্য হাক্ব প্রতিষ্ঠিত আছে। তারপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন, “তোমরা নিজেদের মুখ পূর্ব দিকে কর কিংবা পশ্চিম দিকে এতে কোন পুণ্য (কল্যাণ) নেই”-(সূরাহ্ আল্ বাক্বারাহ্ ২:১৭৭) আয়াতের শেষ পর্যন্ত। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, দারিমী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯১৫
وعن بهيسة عن أبيها قالت: قال: يا رسول الله ما الشيء الذى لا يحل منعه؟ قال: «الماء» . قال: يا نبي الله ما الشيء الذى لا يحل منعه؟ قال: «الملح» . قال: يا نبي الله ما الشيء الذى لا يحل منعه؟ قال: «أن تفعل الخير خير لك» . رواه أبو داود
তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর পিতা আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটা কোন জিনিস যা দিতে অস্বীকার করা হালাল নয়? তিনি বললেন, ‘পানি’। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর নাবী! কোন জিনিস দিতে নিষেধ করা হালাল নয়? তিনি বললেন, ‘লবণ’। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর নাবী! আর কোন জিনিস নিষেধ করা হালাল নয়? নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সর্বপ্রকার কল্যাণের কাজই তোমার জন্য কল্যাণকর। (আবূ দাঊদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯১৬
وعن جابر قال: قال رسول الله ﷺ: «من أحيى أرضا ميتة فله فيها أجر وما أكلت العافية منه فهو له صدقة» . رواه النسائي والدارمي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন অনাবাদী জমি আবাদ করে (অর্থাৎ ফসল উৎপাদনের উপযোগী করে) তার এ কাজে তার জন্য সাওয়াব আছে। যদি এ জমি ক্ষুধার্ত কিছু খায় তাহলে এটাও তার জন্য সদাক্বাহ। (নাসায়ী, দারিমী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯১৭
وعن البراء قال: قال رسول الله ﷺ: «من منح منحة لبن أو ورق أو هدى زقاقا كان له مثل عتق رقبة» . رواه الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কাউকে একটি দুগ্ধবতী ছাগী দুধ পানের জন্য দিবে অথবা রূপা (অর্থাৎ টাকা-পয়সা) ধার হিসেবে দেবে অথবা পথহারা কোন ব্যক্তিকে পথ দেখিয়ে দেবে, সে একটি গোলাম স্বাধীন করার মতো সাওয়াব পাবে। (তিরমিযী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯১৮
وعن أبى جري جابر بن سليم قال: أتيت المدينة فرأيت رجلا يصدر الناس عن رأيه لا يقول شيئا إلا صدروا عنه قلت من هذا قالوا: هذا رسول الله ﷺ قلت: عليك السلام يا رسول الله مرتين قال: «لا تقل عليك السلام فإن عليك السلام تحية الميت قل السلام عليك» قلت: أنت رسول الله؟ قال: «أنا رسول الله الذى إذا أصابك ضر فدعوته كشفه عنك وإن أصابك عام سنة فدعوته أنبتها لك وإذا كنت بأرض قفراء أو فلاة فضلت راحلتك فدعوته ردها عليك» . قلت: اعهد إلي. قال: «لا تسبن أحدا» قال فما سببت بعده حرا ولا عبدا ولا بعيرا ولا شاة. قال: «ولا تحقرن شيئا من المعروف وأن تكلم أخاك وأنت منبسط إليه وجهك إن ذلك من المعروف وارفع إزارك إلى نصف الساق فإن أبيت فإلى الكعبين وإياك وإسبال الإزار فإنها من المخيلة وإن الله لا يحب المخيلة وإن امرؤ شتمك وعيرك بما يعلم فيك فلا تعيره بما تعلم فيه فإنما وبال ذلك عليه» . رواه أبو داود وروى الترمذي منه حديث السلام. وفي رواية: «فيكون لك أجر ذلك ووباله عليه
তিনি বলেন, আমি একবার মাদীনায় এলাম, দেখলাম লোকেরা এক ব্যক্তির মতামত ও জ্ঞানবুদ্ধির উপর নির্ভরশীল। সে ব্যক্তি যা বলছে, মানুষ সে অনুযায়ী কাজ করছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? লোকেরা বলল, ইনি আল্লাহর রসূল। বর্ণনাকারী বলেন, আমি (তাঁর খিদমাতে হাযির হয়ে) দু‘বার বললাম, ‘আলায়কাস্ সালা-ম’। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ‘আলায়কাস সালা-ম’ বলো না। কারণ ‘আলায়কাস সালা-ম’ হলো মৃত ব্যক্তির জন্য দু‘আ। বরং বলো, ‘আসসালা-মু আলায়কা। এরপর আমি বললাম, আপনি কি আল্লাহর রসূল? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি আল্লাহর রসূল। ওই আল্লাহর, যিনি কোন বিপদ-আপদে তুমি তাঁকে ডাকলে তিনি তা দূর করে দেন। তুমি যদি দুর্ভিক্ষে পতিত হয়ে তাঁকে ডাকো, তাহলে তিনি জমিনে তোমার জন্য সবুজ ফসল ফলিয়ে দেবেন। তৃণ ও প্রাণহীন কোন মরুপ্রান্তরে অথবা ময়দানে যখন থাকো এবং সেখানে তোমার বাহন হারিয়ে গেলে তুমি তাঁকে ডাকো, তিনি তা তোমাকে ফিরিয়ে দেবেন। জাবির (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আমাকে কিছু নসীহাত করুন। তিনি বললেন, কাউকে গালমন্দ করো না। আবূ জুরাই বলেন, এরপর আমি আর কাউকে গালমন্দ করিনি-মুক্ত ব্যক্তিকে, গোলামকে, উট এবং বকরী কাউকেই নয়। (এরপর) রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ কোন নেক কাজকে তুচ্ছ মনে করো না। যখন তোমার কোন ভাইয়ের সাথে কথাবার্তা বলবে তখন হাসিমুখে বলবে, এটাও নেক কাজের অংশ। তুমি তোমার পাজামা-লুঙ্গী হাঁটুর নীচ পর্যন্ত উঠিয়ে পড়বে। এতটুকু উঁচুতে উঠাতে না চাইলে টাখনুদ্বয়ের উপরে রেখে পড়বে। কাপড় টাখনুর নীচে ছেড়ে দেয়া সম্পর্কে সাবধান, কারণ টাখনুর নীচে কাপড় পড়া অহংকারের লক্ষণ। আল্লাহ তা‘আলা অহংকার পছন্দ করেন না। কেউ তোমাকে গালি দিলে এবং তোমার এমন কোন দোষের জন্য লজ্জা দিলে যা তোমার মধ্যে আছে বলে সে জানে, তাহলে তুমি (প্রতিশোধ নিতে) তার কোন দোষের জন্য তাকে লজ্জা দেবে না, যা তুমি জানো। কারণ তার গুনাহের ভাগী সে হবে। (আবূ দাঊদ; তিরমিযী এ হাদীসটি প্রথমাংশ অর্থাৎ ‘আসসালা-ম’ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। তিরমিযীর অপর এক বর্ণনায়, “ফায়াকূনু লাকা আজরু যা-লিকা, ওয়া ওয়াবা-লুহূ ‘আলাইহি” [তাহলে এর প্রতিদান তুমি পাবে এবং এর খারাপ পরিণতি তার উপর বর্তাবে] পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯১৯
وعن عائشة إنهم ذبحوا شاة فقال النبي ﷺ: «ما بقي منها؟» قالت: ما بقى منها إلا كتفها قال: «بقى كلها غير كتفها» . رواه الترمذي وصححه
তিনি বলেন, একবার সাহাবীগণ (অথবা তাঁর পরিবারবর্গ) একটি বকরী যবাহ্ করলেন। (গোশত বন্টনের পর) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, এর আর কী বাকী আছে? ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, একটি বাহু ছাড়া আর কিছু নেই। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এর ঐ বাহুটি ছাড়া আর সবই বাকী আছে। (তিরমিযী, তিনি বলেন, এ হাদীসটি সহীহ।) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯২০
وعن ابن عباس قال سمعت رسول الله ﷺ يقول: «ما من مسلم كسا مسلما ثوبا إلا كان فى حفظ من الله مادام عليه منه خرقة» . رواه أحمد والترمذي
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, যে মুসলিম ব্যক্তি অন্য কোন মুসলিম ব্যক্তিকে কাপড় পরাবে, সে আল্লাহ তা‘আলার হিফাযাতে থাকবে যতদিন ঐ কাপড়ের একটি টুকরা তাঁর পরনে থাকবে। (আহমাদ, তিরমিযী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯২১
وعن عبد الله بن مسعود يرفعه قال: «ثلاثة يحبهم الله: رجل قام من الليل يتلوا كتاب الله ورجل يتصدق بصدقة بيمينه يخفيها أراه قال: من شماله ورجل كان فى سرية فانهزم أصحابه فاستقبل العدو». رواه الترمذي وقال: هذا حديث غير محفوظ أحد رواته أبو بكر بن عياش كثير الغلط
‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নাম করে বলেন যে, তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ ভালবাসেন- (১) যে রাতে উঠে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, (২) যে ডান হাতে কিছু দান করে এবং গোপন রাখে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি মনে করি, তিনি বলেছেন- আপন বাম হাত থেকে (গোপন রাখে) এবং (৩) যে ব্যক্তি সৈন্যদলে থাকাবস্থায় তার সহচরগণ পরাজিত হলেও সে শত্রুর দিকে অগ্রসর হলো (এবং তাদেরকে পরাজিত করল অথবা শাহীদ হলো)। (তিরমিযী, তিনি একে গায়রে মাহফূয বা শায বলেছেন। এর একজন বর্ণনাকারী আবূ বাকর ইবনু ‘আইয়্যাশ বেশ ভুল করতেন। [কিন্তু অপর সানাদ অনুসারে এটা সহীহ]) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯২২
وعن أبى ذر عن النبي ﷺ قال: «ثلاثة يحبهم الله وثلاثة يبغضهم الله فأما الذين يحبهم الله فرجل أتى قوما فسألهم بالله ولم يسألهم بقرابة بينه وبينهم فمنعوه فتخلف رجل بأعيانهم فأعطاه سرا لا يعلم بعطيته إلا الله والذى أعطاه وقوم ساروا ليلتهم حتى إذا كان النوم أحب إليهم مما يعدل به فوضعوا رءوسهم فقام يتملقنى ويتلو اياتى ورجل كان فى سرية فلقي العدو فهزموا وأقبل بصدره حتى يقتل أو يفتح له والثلاثة الذين يبغضهم الله الشيخ الزانى والفقير المختال والغني الظلوم» . رواه الترمذي والنسائي
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তিন প্রকার লোককে আল্লাহ ভালবাসেন। তিন প্রকার লোককে অপছন্দ করেন। আল্লাহ ভালবাসেন, ঐ ব্যক্তিকে যে এক দল লোকের কাছে এসে আল্লাহর দোহাই দিয়ে চাইল, কোন আত্মীয়তা বা নৈকট্যের দোহাই দিলো না। এ দলটি তাকে কিছু না দিয়ে বিমুখ করল। এরপর এদের মধ্যে এক ব্যক্তি সংগোপনে লোকটিকে কিছু দিলো। আল্লাহ এবং যাকে দান করেছে সে ছাড়া এ দানের কথা আর কেউ জানে না। দ্বিতীয় ঐ ব্যক্তি যে তার দলের সাথে গোটা রাত অতিবাহিত করল। যখন তাদের সবার কাছে ঘুম প্রিয়তম হলো এবং দলের সকলে ঘুমিয়ে পড়ল। এ সময় ঐ ব্যক্তি দাড়িয়ে দাড়িয়ে আমার কাছে কান্নাকাটি করল ও কুরআন তিলাওয়াত শুরু করল। মোকাবেলা হলে তার বাহিনী যখন পরাজিত হল তখন সে ব্যক্তি শত্রুর মোকাবিলায় সর্বশক্তি নিয়োগ করল, যতক্ষণ না শাহীদ অথবা বিজয়ী হলো। যে তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ অপছন্দ করেন, (তারা হলো) বৃদ্ধ যিনাকারী, অহংকারী ফকীর এবং অত্যাচারী ধনী। (তিরমিযী, নাসায়ী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯২৩
وعن أنس بن مالك عن النبي ﷺ قال: «لما خلق الله الأرض جعلت تميد فخلق الجبال فقال بها عليها فاستقرت فعجبت الملائكة من شدة الجبال فقالوا يا رب هل من خلقك شيء أشد من الجبال قال نعم الحديد قالوا يا رب هل من خلقك شيء أشد من الحديد قال نعم النار فقالوا يا رب هل من خلقك شيء أشد من النار قال نعم الماء قالوا يا رب فهل من خلقك شيء أشد من الماء قال نعم الريح فقالوا يا رب هل من خلقك شيء أشد من الريح قال نعم ابن ادم تصدق بصدقة بيمينه يخفيها من شماله» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب وذكر حديث معاذ: «الصدقة تطفئ الخطيئة» . فى كتاب الإيمان
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবী সৃষ্টি করার পর তা দুলতে লাগল। তখন পাহাড়গুলো সৃষ্টি করে সেগুলো পৃথিবীর উপর দাঁড় করিয়ে দিলেন। পৃথিবী স্থির হয়ে গেল। পাহাড়ের শক্তি দেখে মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) বিস্মিত হলেন। তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে রাব্বুল আলামীন! আপনার সৃষ্টি জগতে পাহাড়ের চেয়ে শক্তিধর জিনিস আর কী আছে? আল্লাহ উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, আছে। তা হলো লোহা। মালাকগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে রব! লোহার চেয়ে শক্তিধর কী কিছু আছে? আল্লাহ বললেন, হ্যাঁ, আগুন। মালাকগণ বললেন, পরওয়ারদিগার। আপনার সৃষ্টির মধ্যে আগুনের চেয়েও বেশী শক্তিধর কী? আল্লাহ তা‘আলা বললেন, পানি। তারপর মালায়িকাহ্ জিজ্ঞেস করলেন, হে পরওয়ারদিগার! সৃষ্টির মধ্যে বাতাসের চেয়েও শক্তিধর কিছু আছে কী? আল্লাহ তা‘আলা বললেন, হ্যাঁ, আছে। (আর তা হলো) আদাম সন্তানের দান খায়রাত। ডান হাতে দান (এমনভাবে যে) বাম হাত হতেও গোপন করে থাকে। (তিরমিযী; তিনি বলেন, এ হাদীসটি গারীব) [১] মু‘আয-এর হাদীস (আরবী) (অর্থাৎ দান-সদাক্বাহ্ পাপ মিটিয়ে দেয়) ‘কিতাবুল ঈমান’-এ উল্লেখ করা হয়েছে।
মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯২৪
عن أبى ذر قال: قال رسول الله ﷺ: «ما من عبد مسلم ينفق من كل مال له زوجين فى سبيل الله إلا استقبلته حجبة الجنة كلهم يدعوه إلى ما عنده» . قلت: وكيف ذلك؟ قال: «إن كانت إبلا فبعيرين وإن كانتعن أبى ذر قال: قال رسول الله ﷺ: «ما من عبد مسلم ينفق من كل مال له زوجين فى سبيل الله إلا استقبلته حجبة الجنة كلهم يدعوه إلى ما عنده» . قلت: وكيف ذلك؟ قال: «إن كانت إبلا فبعيرين وإن كانت بقرة فبقرتين» . رواه النسائي بقرة فبقرتين» . رواه النسائي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেনঃ যে মুসলিম বান্দা তার ধন-সম্পদ থেকে দু’ দু‘টি (জোড়া) আল্লাহর পথে খরচ করে, জান্নাতের সকল প্রহরী তাকে অভ্যর্থনা জানাবে। তাকে তাদের কাছে রক্ষিত জিনিসের দিকে ডাকবে। আবূ যার (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, ‘দু’ দু‘টির অর্থ কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যদি তাঁর কাছে উট থাকে তাহলে দু’ দু‘টি করে উট আর যদি গরু থাকে, তাহলে দু’ দু‘টি করে গরু (দান করবে)। (নাসায়ী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯২৫
وعن مرثد بن عبد الله قال: حدثنى بعض أصحاب رسول الله ﷺ أنه سمع رسول الله ﷺ يقول: «إن ظل المؤمن يوم القيامة صدقته» . رواه أحمد
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কিছু সাহাবী আমাকে এ হাদীসটি শুনিয়েছেন যে, তাঁরা রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে এ কথা বলতে শুনেছেন, “ক্বিয়ামাতের দিন মু’মিনের ছায়া হবে তার দান সদাক্বাহ্”। (আহমাদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯২৬
وعن ابن مسعود قال: قال رسول الله ﷺ: «من وسع على عياله في النفقة يوم عاشوراء وسع الله عليه سائر سنته» . قال سفيان: إنا قد جربناه فوجدناه كذلك. رواه رزين
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি ‘আশুরার দিন নিজের পরিবার পরিজনের জন্য উদারহস্তে খরচ করবে আল্লাহ তা‘আলা গোটা বছর উদারহস্তে তাকে দান করবেন। সুফইয়ান সাওরী বলেন, আমরা এর পরীক্ষা করেছি এবং কথার সত্যতার প্রমাণ পেয়েছি। (রযীন) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯২৭
وروى البيهقي فى شعب الإيمان عنه وعن أبى هريرة وأبى سعيد وجابر وضعفه
এ হাদীসটিকে ইমাম বায়হাক্বী ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ, আবূ হুরায়রাহ্, আবূ সা‘ঈদ ও জাবির (রাঃ) হতে শু‘আবুল ঈমানে নকল করেছেন। তিনি এটি দুর্বল বলেও আখ্যায়িত করেছেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯২৮
وعن أبى أمامة قال: قال أبو ذر: يا نبي الله أرأيت الصدقة ماذا هي؟ قال: «أضعاف مضاعفة وعند الله المزيد» . رواه أحمد
তিনি বলেন, আবূ যার (রাঃ) আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে বলুন সদাক্বার সাওয়াব কী? রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এর সাওয়াব কয়েক গুণ। বরং আল্লাহর কাছে এর সাওয়াব আরও বেশী। (আহমাদ) [১]