প্রথম অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৮৮

وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «من تصدق بعدل تمرة من كسب طيب ولا يقبل الله إلا الطيب فإن الله يتقبلها بيمينه ثم يربيها لصاحبها كما يربى أحدكم فلوه حتى تكون مثل الجبل». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বৈধভাবে অর্জিত সম্পদ থেকে একটি খেজুর সমান সদাক্বাহ্ করে এবং আল্লাহর তা‘আলা বৈধ ব্যতীত কোন কিছু কবূল করেন না। তাই বৈধ সম্পদ থেকে সদাক্বাহ্ করলে আল্লাহর তা‘আলা তা’ ডান হাতে কবূল করেন। অতঃপর এ সদাক্বাহ্ দানকারীর জন্য এভাবে লালন-পালন করেন যেভাবে তোমরা ঘোড়ার বাছুর লালন-পালন করে থাকো। এমনকি এ সদাক্বাহ্ অথবা এর সওয়াব একসময় পাহাড়ের মতো হয়ে যায়। (বুখারী, মুসলীম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৮৯

وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «ما نقصت صدقة من مال شيئا وما زاد الله عبدا بعفو إلا عزا وما تواضع أحد لله إلا رفعه الله» . رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ দান সদাক্বাহ্ ধন-সম্পদ কমায় না। যে ব্যক্তি কারো অপরাধ ক্ষমা করে, আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। আর যে শুধু আল্লাহরই জন্য বিনয় প্রকাশ করে আল্লাহর তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৯০

وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «من أنفق زوجين من شيء من الأشياء في سبيل الله دعي من أبواب الجنة وللجنة أبواب فمن كان من أهل الصلاة دعي من باب الصلاة ومن كان من أهل الجهاد دعي من باب الجهاد ومن كان من أهل الصدقة دعي من باب الصدقة ومن كان من أهل الصيام دعي من باب الريان» . فقال أبو بكر: ما على من دعي من تلك الأبواب من ضرورة فهل يدعى أحد من تلك الأبواب كلها؟ قال: «نعم وأرجو أن تكون منهم». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিজের ধন-সম্পদ হতে কোন জিনিস এক জোড়া (দু’ গুণ) আল্লাহর পথে সন্তষ্টির জন্য সদাক্বাহ্ করবে, জান্নাতের সবগুলো দরজা দিয়ে তাকে সাদর সম্ভাষণ জানানো হবে। আর জান্নাতের অনেক (আটটি) দরজা আছে। যে ব্যক্তি সলাত আদায়কারী হবে, তাকে ‘বাবুস্ সলাত’ হতে ডাকা হবে। যে আল্লাহর পথে জিহাদ করবে, তাকে ডাকা হবে ‘বাবুল জিহাদ’ হতে। দান সদাক্বাকারীকে ডাকা হবে ‘বাবুস্ সদাক্বাহ’ দিয়ে। যে ব্যক্তি সায়িম (রোযাদার) হবে, তাকে ‘বাবুর রাইয়্যান’ দিয়ে ডাকা হবে। এ কথা শুনে আবু বাকর (রাঃ) জানতে চাইলেন, যে ব্যক্তিকে এসব দরজার কোন একটি দিয়ে ডাকা হবে তাকে কি অন্য সকল দরজা দিয়ে ডাকার প্রয়োজন হবে? রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হ্যাঁ (হবে) আর আমি আশা করি তুমিই তাদেরই একজন হবে। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৯১

وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «من أصبح منكم اليوم صائما؟» قال أبو بكر: أنا قال: «فمن تبع منكم اليوم جنازة؟» قال أبو بكر: أنا. قال: «فمن أطعم منكم اليوم مسكينا؟» قال أبو بكر: أنا. قال: «فمن عاد منكم اليوم مريضا؟» . قال أبو بكر: أنا. فقال رسول الله ﷺ: «ما اجتمعن في امرئ إلا دخل الجنة» . رواه مسلم

একদিন সহাবীগণকে উদ্দেশ্য করে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেলেন, তোমাদের কে আজ সওম রেখেছ? আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আমি। তিনি বললেন আজ কে জানাযার সাথে গিয়েছ? আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আমি। তিনি বললেন তোমাদের কে আজ কে মিসকিনকে খাবার দিয়েছ? আবূ বাকর (রাঃ) জবাবে বললেন, আমি। তিনি বললেন, তোমাদের কে অসুস্থকে দেখতে গিয়েছ? আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আমি। একথা শুনে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেলেনঃ (শুনে রাখো) যে ব্যক্তির মধ্যে এতা গুনের সমাহার, সে জান্নাতে প্রবেশ করবেই। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৯২

وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «يا نساء المسلمات لا تحقرن جارة لجارتها ولو فرسن شاة». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ হে মুসলিম মহিলারা! তোমরা এক প্রতিবেশী আর এক প্রতিবেশীকে তুহফা দেয়া ছোট করে দেখো না। তা বকরীর খুর হলেও। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৯৩

وعن جابر وحذيفة قالا: قال رسول الله ﷺ: «كل معروف صدقة». (متفق عليه)

জাবির ও হুযায়ফাহ্ (রাঃ) একত্রে বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রত্যেক নেক কাজই সদাক্বাহ্। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৯৪

وعن أبى ذر قال: قال رسول الله ﷺ: «لا تحقرن من المعروف شيئا ولو أن تلقى أخاك بوجه طليق» . رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা কোন নেক কাজকে ছোট ভেবো না, যদিও তা তোমার ভাইয়ের সাথে হাসিখুশী মুখে সাক্ষাৎ করা হয়। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৯৫

وعن أبي موسى الأشعري قال: قال رسول الله ﷺ: «على كل مسلم صدقة» . قالوا: فإن لم يجد؟ قال: «فليعمل بيديه فينفع نفسه ويتصدق» . قالوا: فإن لم يستطع؟ أو لم يفعل؟ قال: «فيعين ذا الحاجة الملهوف» . قالوا: فإن لم يفعله؟ قال: «فيأمر بالخير» . قالوا: فإن لم يفعل؟ قال: «فيمسك عن الشر فإنه له صدقة». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (আল্লাহর নি‘আমাতের শুকরিয়া হিসাবে) প্রত্যেক মুসলিমেরই সদাক্বাহ্ দেয়া উচিৎ। সাহাবীগণ আরয করলেন, যদি কারো কাছে সদাক্বাহ্ করার মতো কিছু না থাকে? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ উচিত হবে কাজ করে নিজ হাতে উপার্জন করা। তাহলে নিজেও উপকৃত হতে পারবে, আবার দান সদাক্বাও করতে পারবে। সাহাবীগণ বললেন, যদি সে ব্যক্তি সামর্থ্যবান না হয়; অথবা বলেছেন, নিজ হাতে কাজকর্ম করতে না পারে? তিনি বললেন, সে যেন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত পরমুখাপেক্ষী লোকে সাহায্য করে। সাহাবীগণ আরয করলেন, যদি এটিও সে না করতে পারে? রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাহলে সে যেন ভাল কাজের নির্দেশ দেয়। সাহাবীগণ পুনঃ জানতে চাইলেন, যদি এটিও সে না পারে? তাহলে সে মন্দ কাজ হতে ফিরে থাকবে। এটাই তার জন্য সদাক্বাহ্। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৯৬

وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: « كل سلامى من الناس عليه صدقة: كل يوم تطلع فيه الشمس يعدل بين الاثنين صدقة ويعين الرجل على دابته فيحمل عليها أو يرفع عليها متاعه صدقة والكلمة الطيبة صدقة وكل خطوة تخطوها إلى الصلاة صدقة ويميط الأذى عن الطريق صدقة». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মানুষের উচিত শরীরের প্রতি জোড়ার জন্য প্রতিদিন সদাক্বাহ্ দেয়া। দু‘ ব্যক্তির মধ্যে ন্যায়বিচার করাও সদাক্বাহ্, কোন ব্যক্তিকে অথবা তার আসবাবপত্র নিজের বাহনে উঠিয়ে নেয়াও সদাক্বাহ্, কারো সাথে ভালো কথা বলা, সলাতের দিকে যাবার প্রতিটি কদম, এসবই এমনকি চলাচলের পথ থেকে কষ্টদায়ক কিছু সরিয়ে দেয়াও সদাক্বাহ্। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৯৭

وعن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله ﷺ: «خلق كل إنسان من بنى ادم على ستين وثلاثمائة مفصل فمن كبر الله وحمد الله وهلل الله وسبح الله واستغفر الله وعزل حجرا عن طريق الناس أو شوكة أو عظما أو أمر بمعروف أو نهى عن منكر عدد تلك الستين والثلاثمائة فإنه يمشى يومئذ وقد زحزح نفسه عن النار» . رواه مسلم

তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আদম সন্তানের প্রত্যেককে তিনশ’ ষাটটি জোড়া দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ অবস্থায় যে ব্যক্তি ‘আল্ল-হু আকবার’, ‘আলহামদুলিল্লা-হ’, ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’, ‘সুবহা-নাল্ল-হ’ বলবে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, মানুষের পথ হতে পাথর, কাঁটা কিংবা হাড্ডি সরিয়ে দেবে অথবা ভাল কাজের হুকুম করবে, খারাপ কাজে বাধা দেবে, আর এসব কাজ তিনশ’ ষাটটি জোড়ার সংখ্যা অনুসারে করবে, সে ব্যক্তি নিজকে সেদিন থেকে জাহান্নাম হতে বাঁচিয়ে চলতে থাকল। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৯৮

وعن أبي ذر قال: قال رسول الله ﷺ: «إن بكل تسبيحة صدقة وكل تكبيرة صدقة وكل تحميدة صدقة وكل تهليلة صدقة وأمر بالمعروف صدقة ونهي عن المنكر صدقة وفى بضع أحدكم صدقة» قالوا: يا رسول الله أيأتى أحدنا شهوته ويكون له فيها أجر؟ قال: «أرأيتم لو وضعها فى حرام أكان عليه فيه وزر؟ فكذلك إذا وضعها في الحلال كان له أجر» . رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রত্যেক ‘তাসবীহ’ অর্থাৎ সুবহা-নাল্ল-হ বলা সদাক্বাহ্, প্রত্যেক ‘তাকবীর’ অর্থাৎ আল্ল-হু আকবার বলা সদাক্বাহ্, প্রত্যেক ‘তাহমীদ’ বা আলহামদুলিল্ল-হ বলা সদাক্বাহ্। প্রত্যেক ‘তাহলীল’ বা ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ বলা সদাক্বাহ্। নেককাজের নির্দেশ দেয়া, খারাপ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখা সদাক্বাহ্। নিজের স্ত্রী অথবা দাসীর সাথে সহবাস করাও সদাক্বাহ্। সাহাবীগন আরয করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কেউ যদি নিজের কামভাব চরিতার্থ কতে তাতেও কি সে সাওয়াব পাবে? উত্তরে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমাকে বলো, কোন ব্যক্তি যদি হারাম উপায়ে কামভাব চরিতার্থ করে তাহলে সেকি গুনাহগার হবে না? ঠিক এভাবেই হালাল উপায়ে (স্ত্রী অথবা দাসীর সাথে) কামভাব চরিতার্থকারী সাওয়াব পাবে। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৯৯

وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «نعم الصدقة اللقحة الصفي منحة والشاة الصفي منحة تغدو بإناء وتروح باخر». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রচুর দুধ দানকারী উট, প্রচুর দুধ দানকারী বকরী কাউকে দুধ পান করার জন্য ধার দেয়াও উত্তম সদাক্বাহ্। যা সকাল এবং বিকালে পাত্র ভরে দুধ দেয়। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯০০

وعن أنس قال: قال رسول الله ﷺ: «ما من مسلم يغرس غرسا أو يزرع زرعا فيأكل منه إنسان أو طير أو بهيمة إلا كانت له صدقة». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন মুসলিম যে গাছ লাগায় অথবা ফসল ফলায় অতঃপর কোন মানুষ অথবা পশু, পাখী (মালিক-এর বিনানুমতিতে) এর থেকে কিছু খেয়ে ফেলে, তাহলে (এ ক্ষতি) মালিক-এর জন্য সদাক্বাহ্ গন্য হবে। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯০১

وفي رواية لمسلم عن جابر: «وما سرق منه له صدقة

মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, যা চুরি হয়ে যায় তাও তার জন্য সদাক্বাহ্। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯০২

وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «غفر لامرأة مومسة مرت بكلب على رأس ركي يلهث كاد يقتله العطش فنزعت خفها فأوثقته بخمارها فنزعت له من الماء فغفر لها بذلك» . قيل: إن لنا في البهائم أجرا؟ قال: «فى كل ذات كبد رطبة أجر». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (একবার) একটি পতিতা মহিলাকে মাফ করে দেয়া হলো। (কারণ) মহিলাটি একবার একটি কুকুরের কাছ দিয়ে যাবার সময় দেখলো সে পিপাসায় কাতর হয়ে একটি কূপের পাশে দাঁড়িয়ে জিহ্বা বের করে হাঁপাচ্ছে। পিপাসায় সে মরার উপক্রম। মহিলাটি (এ করুন অবস্থা দেখে) নিজের মোজা খুলে ওড়নার সাথে বেঁধে (কূপ হতে) পানি উঠিয়ে কুকুরটিকে পান করাল। এ কাজের জন্য তাকে মাফ করে দেয়া হলো। (এ কথা শুনে) সাহাবীগণ আরয করলেন, পশু-পাখির সাথে ভালো ব্যবহার করার মধ্যেও কি আমাদের জন্য সাওয়াব আছে? রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হ্যাঁ। প্রত্যেকটা প্রাণীর সাথে ভাল ব্যবহার করার মধ্যেও সাওয়াব আছে। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯০৩

وعن ابن عمر وأبى هريرة قالا: قال رسول الله ﷺ: «عذبت امرأة في هرة أمسكتها حتى ماتت من الجوع فلم تكن تطعمها ولا ترسلها فتأكل من خشاش الأرض». (متفق عليه)

তাঁরা উভয়ে বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ শুধু একটি বিড়ালকে বেঁধে রেখে ক্ষুধায় কষ্ট দিয়ে হত্যা করার কারণে একজন মহিলেকে শাস্তি দেয়া হয়েছিল। মহিলাটি বিড়ালটিকে না খাবার দিত, না ছেড়ে দিত। বিড়ালটি মাটির নীচের কিছু (ইঁদুর ইত্যাদি) খেত। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯০৪

وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «مر رجل بغصن شجرة على ظهر طريق فقال: لأنحين هذا عن طريق المسلمين لا يؤذيهم فأدخل الجنة». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (একদিন) এক ব্যক্তি পথচলা অবস্থায় সামনে দেখে একটি গাছের ডাল পথের উপর পড়ে আছে। সে ভাবলো, আমি মুসলিমদের চলার পথ থেকে ডালটিকে সরিয়ে দেব, যাতে তাদের কষ্ট না হয়। এ কারণে এ লোকটিকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হলো। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯০৫

وعن أبي هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «لقد رأيت رجلا يتقلب في الجنة فى شجرة قطعها من ظهر الطريق كانت تؤذي الناس» . رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি এক ব্যক্তিকে দেখলাম জান্নাতে একটি গাছের নীচে স্বাচ্ছন্দে হাঁটছে। সে এমন একটি গাছ রাস্তার মধ্য থেকে কেটে ফেলে দিয়েছিল যা মানুষকে কষ্ট দিত। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯০৬

وعن أبى برزة قال: قلت: يا نبي الله علمنى شيئا أنتفع به قال: «اعزل الأذى عن طريق المسلمين» . رواه مسلم وسنذكر حديث عدي ابن حاتم: «اتقوا النار» فى «باب علامات النبوة» إن شاء الله تعالى

তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর নাবী! আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দান করুন, যাতে আমি (পরকালে) উপকৃত হই। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ মুসলিমদের চলাচলের পথে কষ্টদায়ক কোন কিছু পেলে তা ফেলে দিবে। (মুসলিম)[১] ইমাম মুসলিম বলেন, ‘আদী ইবনু হাতিম-এর বর্ণনা (জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচ) ইনশাআল্লাহ আমি “আলা-মা-তুন্ নুবুওয়্যাহ্” অধ্যায়ে উল্লেখ করব।


মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯০৭

عن عبد الله بن سلام قال: لما قدم النبي ﷺ المدينة جئت فلما تبينت وجهه عرفت أن وجهه ليس بوجه كذاب. فكان أول ما قال: «أيها الناس أفشوا السلام وأطعموا الطعام وصلوا الأرحام وصلوا بالليل والناس نيام تدخلوا الجنة بسلام» . رواه الترمذي وابن ماجه والدارمي

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাদীনায় আগমন করার পর আমি তাঁর কাছে গেলাম। তাঁর ‘চেহারা মুবারাক’ দেখেই আমি চিনতে পেরেছি এ কোন মিথ্যাবাদীর চেহারা হতে পারে না। সর্বপ্রথম তিনি যে কথা বলেছিলেন তা ছিল, “হে লোকেরা! তোমরা পরস্পর সালাম বিনিময় করো, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সদাচরণ করো, রাতের বেলা যখন লোকেরা ঘুমিয়ে থাকবে, তখন তাহাজ্জুদের সালাত আদায় কর, তাহলে প্রশান্তচিত্তে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, দারিমী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯০৮

وعن عبد الله بن عمرو قال: قال رسول الله ﷺ: «اعبدوا الرحمن وأطعموا الطعام وأفشوا السلام تدخلوا الجنة بسلام» . رواه الترمذي وابن ماجه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ রহমানের ‘ইবাদাত করো, খাবার দাও, মুসলিমদেরকে সালাম দাও’ তোমরা সহজে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯০৯

وعن أنس قال: قال رسول الله ﷺ: «إن الصدقة لتطفئ غضب الرب وتدفع ميتة السوء» . رواه الترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ অবশ্য অবশ্য সদাক্বাহ্ আল্লাহ তা’আলার ক্রোধকে ঠান্ডা করে, আর খারাপ মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করে। (তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯১০

وعن جابر قال : قال رسول الله ﷺ: «كل معروف صدقة وإن من المعروف أن تلقى أخاك بوجه طلق وأن تفرغ من دلوك فى إناء أخيك» . رواه أحمد والترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রতিটি ভাল কাজই সদাক্বাহ‌, আর তোমার নিজের কোন ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাৎ এবং কোন ভাইয়ের পাত্রে নিজের বালতি থেকে পানি ঢেলে দেয়াও ভাল কাজের অন্তর্ভূক্ত। (আহমাদ, তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯১১

وعن أبى ذر قال: قال رسول الله ﷺ: «تبسمك فى وجه أخيك صدقة وأمرك بالمعروف صدقة ن ونهيك عن المنكر صدقة وإرشادك الرجل في أرض الضلال لك صدقة ونصرك الرجل الردى ء البصر لك صدقة وإماطتك الحجر والشوك والعظم عن الطريق لك صدقة وإفراغك من دلوك فى دلو أخيك لك صدقة» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমার ভাইয়ের সামনে হাসি মুখে আগমন করা সদাক্বাহ্, নেক কাজ নির্দেশ, খারাপ কথাবার্তা হতে বিরত থাকা তোমার জন্য সদাক্বাহ‌, পথহারা প্রান্তরে কোন মানুষকে পথ বলে দেয়া, কোন অন্ধ বা দুর্বল দৃষ্টিশক্তির মানুষকে সাহায্য করা সদাক্বাহ্, পথের কাঁটা বা হাড় সরিয়ে দেয়া, নিজের বালতি থেকে অন্য কোন ভাইয়ের বালতিতে পানি দিয়ে ভরে দেয়া তোমার জন্য সাদাক্বাহ‌্। (তিরমিযী; তিনি বলেন, এ হাদীসটি গারীব) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯১২

وعن سعد بن عبادة قال: يا رسول الله إن أم سعد ماتت فأي الصدقة أفضل؟ قال: «الماء» . فحفر بئرا وقال: هذه لأم سعد. رواه أبو داود والنسائي

তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! উম্মু সা‘দ (অর্থাৎ আমার মা) মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁর মাগফিরাতের জন্য কোন ধরনের দান সদাক্বাহ্ উত্তম? রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ “পানি”, (এ কথা শুনে) সা‘দ কূপ খনন করলেন এবং বললেন, এ কূপ উম্মু সা‘দ (রাঃ) এর জন্য সদাক্বাহ্। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯১৩

وعن أبى سعيد قال: قال رسول الله ﷺ: «أيما مسلم كسا مسلما ثوبا على عري كساه الله من خضر الجنة وأيما مسلم أطعم مسلما على جوع أطعمه الله من ثمار الجنة. وأيما مسلم سقا مسلما على ظمأ سقاه الله من الرحيق المختوم» . رواه أبو داود والترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে মুসলিম কোন একজন উলঙ্গ মুসলিমকে কাপড় পরাবে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্বিয়ামাতের দিন জান্নাতের সবুজ পোশাক পরিধান করাবেন। যে মুসলিম কোন ক্ষুধার্ত মুসলিমকে খাবার দেবে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে জান্নাতের ফল-ফলাদি খাওয়াবেন। আর যে মুসলিম কোন পিপাসার্ত মুসলিমের পিপাসা মেটাবে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে ‘রাহীকুল মাখতূমের’র পানীয় দিয়ে পরিতৃপ্ত করাবেন। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯১৪

وعن فاطمة بنت قبيس قالت: قال رسول الله ﷺ: «إن في المال لحقا سوى الزكاة» ثم تلا: ﴿ليس البر أن تولوا وجوهكم قبل المشرق والمغرب﴾ [البقرة 2 : 177] الاية. رواه الترمذي وابن ماجه والدارمي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই সম্পদে যাকাত ছাড়াও (গরীবের) আরো অন্যান্য হাক্ব প্রতিষ্ঠিত আছে। তারপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন, “তোমরা নিজেদের মুখ পূর্ব দিকে কর কিংবা পশ্চিম দিকে এতে কোন পুণ্য (কল্যাণ) নেই”-(সূরাহ্ আল্ বাক্বারাহ্ ২:১৭৭) আয়াতের শেষ পর্যন্ত। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, দারিমী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯১৫

وعن بهيسة عن أبيها قالت: قال: يا رسول الله ما الشيء الذى لا يحل منعه؟ قال: «الماء» . قال: يا نبي الله ما الشيء الذى لا يحل منعه؟ قال: «الملح» . قال: يا نبي الله ما الشيء الذى لا يحل منعه؟ قال: «أن تفعل الخير خير لك» . رواه أبو داود

তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর পিতা আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটা কোন জিনিস যা দিতে অস্বীকার করা হালাল নয়? তিনি বললেন, ‘পানি’। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর নাবী! কোন জিনিস দিতে নিষেধ করা হালাল নয়? তিনি বললেন, ‘লবণ’। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর নাবী! আর কোন জিনিস নিষেধ করা হালাল নয়? নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সর্বপ্রকার কল্যাণের কাজই তোমার জন্য কল্যাণকর। (আবূ দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯১৬

وعن جابر قال: قال رسول الله ﷺ: «من أحيى أرضا ميتة فله فيها أجر وما أكلت العافية منه فهو له صدقة» . رواه النسائي والدارمي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন অনাবাদী জমি আবাদ করে (অর্থাৎ ফসল উৎপাদনের উপযোগী করে) তার এ কাজে তার জন্য সাওয়াব আছে। যদি এ জমি ক্ষুধার্ত কিছু খায় তাহলে এটাও তার জন্য সদাক্বাহ। (নাসায়ী, দারিমী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯১৭

وعن البراء قال: قال رسول الله ﷺ: «من منح منحة لبن أو ورق أو هدى زقاقا كان له مثل عتق رقبة» . رواه الترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কাউকে একটি দুগ্ধবতী ছাগী দুধ পানের জন্য দিবে অথবা রূপা (অর্থাৎ টাকা-পয়সা) ধার হিসেবে দেবে অথবা পথহারা কোন ব্যক্তিকে পথ দেখিয়ে দেবে, সে একটি গোলাম স্বাধীন করার মতো সাওয়াব পাবে। (তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯১৮

وعن أبى جري جابر بن سليم قال: أتيت المدينة فرأيت رجلا يصدر الناس عن رأيه لا يقول شيئا إلا صدروا عنه قلت من هذا قالوا: هذا رسول الله ﷺ قلت: عليك السلام يا رسول الله مرتين قال: «لا تقل عليك السلام فإن عليك السلام تحية الميت قل السلام عليك» قلت: أنت رسول الله؟ قال: «أنا رسول الله الذى إذا أصابك ضر فدعوته كشفه عنك وإن أصابك عام سنة فدعوته أنبتها لك وإذا كنت بأرض قفراء أو فلاة فضلت راحلتك فدعوته ردها عليك» . قلت: اعهد إلي. قال: «لا تسبن أحدا» قال فما سببت بعده حرا ولا عبدا ولا بعيرا ولا شاة. قال: «ولا تحقرن شيئا من المعروف وأن تكلم أخاك وأنت منبسط إليه وجهك إن ذلك من المعروف وارفع إزارك إلى نصف الساق فإن أبيت فإلى الكعبين وإياك وإسبال الإزار فإنها من المخيلة وإن الله لا يحب المخيلة وإن امرؤ شتمك وعيرك بما يعلم فيك فلا تعيره بما تعلم فيه فإنما وبال ذلك عليه» . رواه أبو داود وروى الترمذي منه حديث السلام. وفي رواية: «فيكون لك أجر ذلك ووباله عليه

তিনি বলেন, আমি একবার মাদীনায় এলাম, দেখলাম লোকেরা এক ব্যক্তির মতামত ও জ্ঞানবুদ্ধির উপর নির্ভরশীল। সে ব্যক্তি যা বলছে, মানুষ সে অনুযায়ী কাজ করছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? লোকেরা বলল, ইনি আল্লাহর রসূল। বর্ণনাকারী বলেন, আমি (তাঁর খিদমাতে হাযির হয়ে) দু‘বার বললাম, ‘আলায়কাস্ সালা-ম’। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ‘আলায়কাস সালা-ম’ বলো না। কারণ ‘আলায়কাস সালা-ম’ হলো মৃত ব্যক্তির জন্য দু‘আ। বরং বলো, ‘আসসালা-মু আলায়কা। এরপর আমি বললাম, আপনি কি আল্লাহর রসূল? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি আল্লাহর রসূল। ওই আল্লাহর, যিনি কোন বিপদ-আপদে তুমি তাঁকে ডাকলে তিনি তা দূর করে দেন। তুমি যদি দুর্ভিক্ষে পতিত হয়ে তাঁকে ডাকো, তাহলে তিনি জমিনে তোমার জন্য সবুজ ফসল ফলিয়ে দেবেন। তৃণ ও প্রাণহীন কোন মরুপ্রান্তরে অথবা ময়দানে যখন থাকো এবং সেখানে তোমার বাহন হারিয়ে গেলে তুমি তাঁকে ডাকো, তিনি তা তোমাকে ফিরিয়ে দেবেন। জাবির (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আমাকে কিছু নসীহাত করুন। তিনি বললেন, কাউকে গালমন্দ করো না। আবূ জুরাই বলেন, এরপর আমি আর কাউকে গালমন্দ করিনি-মুক্ত ব্যক্তিকে, গোলামকে, উট এবং বকরী কাউকেই নয়। (এরপর) রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ কোন নেক কাজকে তুচ্ছ মনে করো না। যখন তোমার কোন ভাইয়ের সাথে কথাবার্তা বলবে তখন হাসিমুখে বলবে, এটাও নেক কাজের অংশ। তুমি তোমার পাজামা-লুঙ্গী হাঁটুর নীচ পর্যন্ত উঠিয়ে পড়বে। এতটুকু উঁচুতে উঠাতে না চাইলে টাখনুদ্বয়ের উপরে রেখে পড়বে। কাপড় টাখনুর নীচে ছেড়ে দেয়া সম্পর্কে সাবধান, কারণ টাখনুর নীচে কাপড় পড়া অহংকারের লক্ষণ। আল্লাহ তা‘আলা অহংকার পছন্দ করেন না। কেউ তোমাকে গালি দিলে এবং তোমার এমন কোন দোষের জন্য লজ্জা দিলে যা তোমার মধ্যে আছে বলে সে জানে, তাহলে তুমি (প্রতিশোধ নিতে) তার কোন দোষের জন্য তাকে লজ্জা দেবে না, যা তুমি জানো। কারণ তার গুনাহের ভাগী সে হবে। (আবূ দাঊদ; তিরমিযী এ হাদীসটি প্রথমাংশ অর্থাৎ ‘আসসালা-ম’ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। তিরমিযীর অপর এক বর্ণনায়, “ফায়াকূনু লাকা আজরু যা-লিকা, ওয়া ওয়াবা-লুহূ ‘আলাইহি” [তাহলে এর প্রতিদান তুমি পাবে এবং এর খারাপ পরিণতি তার উপর বর্তাবে] পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯১৯

وعن عائشة إنهم ذبحوا شاة فقال النبي ﷺ: «ما بقي منها؟» قالت: ما بقى منها إلا كتفها قال: «بقى كلها غير كتفها» . رواه الترمذي وصححه

তিনি বলেন, একবার সাহাবীগণ (অথবা তাঁর পরিবারবর্গ) একটি বকরী যবাহ্ করলেন। (গোশত বন্টনের পর) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, এর আর কী বাকী আছে? ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, একটি বাহু ছাড়া আর কিছু নেই। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এর ঐ বাহুটি ছাড়া আর সবই বাকী আছে। (তিরমিযী, তিনি বলেন, এ হাদীসটি সহীহ।) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯২০

وعن ابن عباس قال سمعت رسول الله ﷺ يقول: «ما من مسلم كسا مسلما ثوبا إلا كان فى حفظ من الله مادام عليه منه خرقة» . رواه أحمد والترمذي

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, যে মুসলিম ব্যক্তি অন্য কোন মুসলিম ব্যক্তিকে কাপড় পরাবে, সে আল্লাহ তা‘আলার হিফাযাতে থাকবে যতদিন ঐ কাপড়ের একটি টুকরা তাঁর পরনে থাকবে। (আহমাদ, তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯২১

وعن عبد الله بن مسعود يرفعه قال: «ثلاثة يحبهم الله: رجل قام من الليل يتلوا كتاب الله ورجل يتصدق بصدقة بيمينه يخفيها أراه قال: من شماله ورجل كان فى سرية فانهزم أصحابه فاستقبل العدو». رواه الترمذي وقال: هذا حديث غير محفوظ أحد رواته أبو بكر بن عياش كثير الغلط

‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নাম করে বলেন যে, তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ ভালবাসেন- (১) যে রাতে উঠে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, (২) যে ডান হাতে কিছু দান করে এবং গোপন রাখে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি মনে করি, তিনি বলেছেন- আপন বাম হাত থেকে (গোপন রাখে) এবং (৩) যে ব্যক্তি সৈন্যদলে থাকাবস্থায় তার সহচরগণ পরাজিত হলেও সে শত্রুর দিকে অগ্রসর হলো (এবং তাদেরকে পরাজিত করল অথবা শাহীদ হলো)। (তিরমিযী, তিনি একে গায়রে মাহফূয বা শায বলেছেন। এর একজন বর্ণনাকারী আবূ বাকর ইবনু ‘আইয়্যাশ বেশ ভুল করতেন। [কিন্তু অপর সানাদ অনুসারে এটা সহীহ]) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯২২

وعن أبى ذر عن النبي ﷺ قال: «ثلاثة يحبهم الله وثلاثة يبغضهم الله فأما الذين يحبهم الله فرجل أتى قوما فسألهم بالله ولم يسألهم بقرابة بينه وبينهم فمنعوه فتخلف رجل بأعيانهم فأعطاه سرا لا يعلم بعطيته إلا الله والذى أعطاه وقوم ساروا ليلتهم حتى إذا كان النوم أحب إليهم مما يعدل به فوضعوا رءوسهم فقام يتملقنى ويتلو اياتى ورجل كان فى سرية فلقي العدو فهزموا وأقبل بصدره حتى يقتل أو يفتح له والثلاثة الذين يبغضهم الله الشيخ الزانى والفقير المختال والغني الظلوم» . رواه الترمذي والنسائي

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তিন প্রকার লোককে আল্লাহ ভালবাসেন। তিন প্রকার লোককে অপছন্দ করেন। আল্লাহ ভালবাসেন, ঐ ব্যক্তিকে যে এক দল লোকের কাছে এসে আল্লাহর দোহাই দিয়ে চাইল, কোন আত্মীয়তা বা নৈকট্যের দোহাই দিলো না। এ দলটি তাকে কিছু না দিয়ে বিমুখ করল। এরপর এদের মধ্যে এক ব্যক্তি সংগোপনে লোকটিকে কিছু দিলো। আল্লাহ এবং যাকে দান করেছে সে ছাড়া এ দানের কথা আর কেউ জানে না। দ্বিতীয় ঐ ব্যক্তি যে তার দলের সাথে গোটা রাত অতিবাহিত করল। যখন তাদের সবার কাছে ঘুম প্রিয়তম হলো এবং দলের সকলে ঘুমিয়ে পড়ল। এ সময় ঐ ব্যক্তি দাড়িয়ে দাড়িয়ে আমার কাছে কান্নাকাটি করল ও কুরআন তিলাওয়াত শুরু করল। মোকাবেলা হলে তার বাহিনী যখন পরাজিত হল তখন সে ব্যক্তি শত্রুর মোকাবিলায় সর্বশক্তি নিয়োগ করল, যতক্ষণ না শাহীদ অথবা বিজয়ী হলো। যে তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ অপছন্দ করেন, (তারা হলো) বৃদ্ধ যিনাকারী, অহংকারী ফকীর এবং অত্যাচারী ধনী। (তিরমিযী, নাসায়ী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯২৩

وعن أنس بن مالك عن النبي ﷺ قال: «لما خلق الله الأرض جعلت تميد فخلق الجبال فقال بها عليها فاستقرت فعجبت الملائكة من شدة الجبال فقالوا يا رب هل من خلقك شيء أشد من الجبال قال نعم الحديد قالوا يا رب هل من خلقك شيء أشد من الحديد قال نعم النار فقالوا يا رب هل من خلقك شيء أشد من النار قال نعم الماء قالوا يا رب فهل من خلقك شيء أشد من الماء قال نعم الريح فقالوا يا رب هل من خلقك شيء أشد من الريح قال نعم ابن ادم تصدق بصدقة بيمينه يخفيها من شماله» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب وذكر حديث معاذ: «الصدقة تطفئ الخطيئة» . فى كتاب الإيمان

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবী সৃষ্টি করার পর তা দুলতে লাগল। তখন পাহাড়গুলো সৃষ্টি করে সেগুলো পৃথিবীর উপর দাঁড় করিয়ে দিলেন। পৃথিবী স্থির হয়ে গেল। পাহাড়ের শক্তি দেখে মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) বিস্মিত হলেন। তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে রাব্বুল আলামীন! আপনার সৃষ্টি জগতে পাহাড়ের চেয়ে শক্তিধর জিনিস আর কী আছে? আল্লাহ উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, আছে। তা হলো লোহা। মালাকগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে রব! লোহার চেয়ে শক্তিধর কী কিছু আছে? আল্লাহ বললেন, হ্যাঁ, আগুন। মালাকগণ বললেন, পরওয়ারদিগার। আপনার সৃষ্টির মধ্যে আগুনের চেয়েও বেশী শক্তিধর কী? আল্লাহ তা‘আলা বললেন, পানি। তারপর মালায়িকাহ্ জিজ্ঞেস করলেন, হে পরওয়ারদিগার! সৃষ্টির মধ্যে বাতাসের চেয়েও শক্তিধর কিছু আছে কী? আল্লাহ তা‘আলা বললেন, হ্যাঁ, আছে। (আর তা হলো) আদাম সন্তানের দান খায়রাত। ডান হাতে দান (এমনভাবে যে) বাম হাত হতেও গোপন করে থাকে। (তিরমিযী; তিনি বলেন, এ হাদীসটি গারীব) [১] মু‘আয-এর হাদীস (আরবী) (অর্থাৎ দান-সদাক্বাহ্ পাপ মিটিয়ে দেয়) ‘কিতাবুল ঈমান’-এ উল্লেখ করা হয়েছে।


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية