মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৭৫
عن عائشة رضي الله عنها أن بعض أزواج النبي ﷺ قلن للنبي ﷺ أينا أسرع بك لحوقا؟ قال: أطولكن يدا» فأخذوا قصبة يذرعونها فكانت سودة أطولهن يدا فعلمنا بعد أنما كانت طول يدها الصدقة وكانت أسرعنا لحوقا به زينب وكانت تحب الصدقة. رواه البخاري. وفى رواية مسلم قالت: قال رسول الله ﷺ: أسرعكن لحوقا بى أطولكن يدا» . قالت: فكانت أطولنا يدا زينب؟ لأنها كانت تعمل بيدها وتتصدق
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীদের কেউ কেউ তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের মধ্যে কে আপনার সাথে প্রথমে মিলিত হবেন (অর্থাৎ আপনার মৃত্যুর পর কে প্রথম মৃত্যুবরণ করবে)? তিনি বললেন, যার হাত সবচেয়ে বেশী লম্বা। ['আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা শুনার পর] তাঁর স্ত্রীগণ বাঁশ অথবা কঞ্চির টুকরা দিয়ে নিজেদের হাত মাপতে লাগলেন। রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী সাওদা (রাঃ)-এর হাত সবচেয়ে লম্বা ছিল। কিন্ত এরপর আমরা জানতে পারলাম, হাত লম্বা অর্থ দান সদাক্বাহ্ বেশী করে করা। আর আমাদের মধ্যে যিনি সবার আগে তাঁর সাথে মিলিত হলেন তিনি যায়নাব। দান সদাক্বাহ তিনি খুবই ভালবাসতেন। বুখারী, মুসলিমের এক বর্ণনায় 'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি (স্ত্রীদের প্রশ্নের জবাবে) বলেন, তোমাদের মধ্যে যার হাত লম্বা সে আমার সাথে সকলের আগে মিলিত হবে। 'আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, (এ কথা শুনে) স্ত্রীগণ মেপে দেখতে লাগলেন, কার হাত বেশী লম্বা। প্রকৃতপক্ষে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে লম্বা হাত ছিল যায়নাব-এর। কেননা তিনি নিজ হাতে সব কাজ করতেন এবং বেশী বেশী দান সদাক্বাহ্ করতেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৭৬
وعن أبى هريرة أن رسول الله ﷺ قال: «قال رجل: لأتصدقن بصدقة فخرج بصدقته فوضعها فى يد سارق فأصبحوا يتحدثون تصدق على سارق فقال اللهم لك الحمد على سارق لأتصدقن بصدقة فخرج بصدقته فوضعها فى يد زانية فأصبحوا يتحدثون تصدق الليلة على زانية فقال اللهم لك الحمد على زانية لأتصدقن بصدقة فخرج بصدقته فوضعها فى يدي غنى فأصبحوا يتحدثون تصدق على غني فقال اللهم لك الحمد على سارق وعلى زانية وعلى غني فأتي فقيل له أما صدقتك على سارق فلعله أن يستعف عن سرقته وأما الزانية فلعلها أن تستعف عن زناها وأما الغني فلعله يعتبر فينفق مما أعطاه الله». متفق عليه ولفظه للبخاري
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (বানী ইসরাঈলের) এক ব্যক্তি বলল, আমি (আজ রাতে) আল্লাহর পথে কিছু মাল খরচ করব। তাই সে কিছু মাল নিয়ে বের হলো এবং সে মাল (তার অজান্তে) এক চোরকে দিয়ে দিল। (কোনভাবে এ কথা জানতে পেরে) ভোরে লোকেরা বলাবলি করতে লাগল, আজ রাতে একজন চোরকে সদাক্বার মাল দেয়া হয়েছে। (সদাক্বাহ্ দানকারী এ কথা জানতে পেরে) বলতে লাগল, হে আল্লাহ! সদাক্বার মাল একজন চোরকে (দেয়া সত্ত্বেও) সব প্রশংসা তোমার। তারপর সে বলল, (আজ রাতেও) আবার সদাক্বাহ্ দেব। তাই সে সদাক্বাহ্ দেবার উদ্দেশে আবারও সদাক্বার মাল নিয়ে বের হলো। (এবার এ সদাক্বাহ্ ভুলবশতঃ) একজন ব্যভিচারিণীকে দিয়ে দিলো। সকালে লোকেরা বলাবলি করতে লাগল, আজও তো সদাক্বার মাল একজন ব্যভিচারিণীকে দেয়া হয়েছে। (এ কথা জানতে পেরে) লোকটি বলল, হে আল্লাহ! একজন ব্যভিচারিণীকে সদাক্বাহ্ দিবার জন্য সব প্রশংসা তোমার। এরপর সে বলল,(আজ রাতেও) আমি সদাক্বাহ্ দিব। সে আবারও কিছু মাল নিয়ে বের হলো। (এবারও ভুলবশতঃ) সে সদাক্বাহ্ সে একজন ধনীকে দিয়ে দিলো। সকালে লোকেরা (এ নিয়ে) বলাবলি করতে লাগল, আজ রাতে একজন ধনী ব্যক্তিকে সদাক্বার মাল দেয়া হয়েছে। এ কথা শুনে সে ব্যক্তি বলতে লাগল, হে আল্লাহ! সব প্রশংসাই তোমার যদিও সদাক্বার মাল চোর, ব্যভিচারিণী ও ধনী ব্যক্তি পেয়ে গেছে। স্বপ্নে তাকে বলা হলো। সদাক্বার যে মাল তুমি চোরকে দিয়েছো, তা দিয়ে সম্ভবতঃ সে চুরি করা হতে বিরত থাকবে। তুমি ব্যভিচারিণীকে যা দিয়েছো তা দিয়ে সম্ভবত সে ব্যভিচার হতে ফিরবে। যে মাল তুমি ধনীকে দিয়েছ, সম্ভবত সে এ দান হতে শিক্ষাগ্রহণ করবে এবং আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তা থেকে খরচ করবে। (বুখারী, মুসলিম; এ হাদিসের ভাষা হলো বুখারীর) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৭৭
وعن أبى هريرة عن النبي ﷺ قال: «بينا رجل بفلاة من الأرض فسمع صوتا فى سحابة اسق حديقة فلان فتنحى ذلك السحاب فأفرغ ماءه فى حرة فإذا شرجة من تلك الشراج قد استوعبت ذلك الماء كله فتتبع الماء فإذا رجل قائم فى حديقته يحول الماء بمسحاته فقال له يا عبد الله ما اسمك قال فلان، للإسم الذى سمع فى السحابة فقال له يا عبد الله لم تسألنى عن اسمى فقال إنى سمعت صوتا في السحاب الذى هذا ماؤه يقول اسق حديقة فلان لاسمك فما تصنع فيها قال أما إذ قلت هذا فإني أنظر إلى ما يخرج منها فأتصدق بثلثه واكل أنا وعيالى ثلثا وأرد فيها ثلثه» . رواه مسلم
তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেছেন। রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এক ব্যক্তি এক বিরাণ মাঠে দাঁড়িয়ে ছিল। এমন সময় মেঘমালার মধ্যে সে একটি আওয়াজ শুনতে পেলো। কেউ মেঘমালাকে বলছে, ‘অমুক ব্যক্তির বাগানে পানি বর্ষণ করো।’ মেঘমালাটি সেদিকে সরে গিয়ে কংকরময় ভূমিতে পানি বর্ষণ করতে লাগলো। তখন দেখা গেল, ওখানকার নালাগুলোর একটি সব পানি নিজের মধ্যে পুরে নিচ্ছে। তারপর ও ব্যক্তি ওই পানির পিছনে চলতে লাগলো (যেন দেখতে পায় এসব পানি জার বাগানে গিয়ে পৌঁছে সেই ব্যক্তি কে?)। হঠাৎ করে সে এক লোককে দেখতে পেলো, যে নিজের ক্ষেতে দাঁড়িয়ে ব্যক্তি সেচনী দিয়ে (বাগানে) পানি দিচ্ছে। সে লোকটিকে জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর বান্দা! তোমার নাম কি? সে ব্যক্তি বলল, আমার নাম অমুক। এ ব্যক্তি ওই নামই বলল যে নাম সে মেঘমালা থেকে শুনেছিলো। তারপর বাগানের লোকটি জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহ্র বান্দা! তুমি আমাকে নাম জিজ্ঞেস করছ কেন? এ জন্য জিজ্ঞেস করছি যে, এ পানি যে মেঘমালার সে মেঘমালা থেকে আমি একটি আওয়াজ শুনেছি। কেউ বলছিল, অমুকের বাগানে পানি বর্ষণ করো। আর সেটি তোমার নাম। (এখন বল), তুমি এ বাগানে দিয়ে কি করেছ (যার দরুন তুমি এতো বড় মর্যাদায় অভিসিক্ত হয়েছ)। বাগানওয়ালা লোকটি বলল, “ যেহেতু তুমি জিজ্ঞেস করেছ, তাই আমি বলছি, এ বাগানে যা উৎপাদিত হয় আমি তার প্রতি লক্ষ্য রাখি। তারপর তা হতে এক-তৃতীয়াংশ আল্লাহ্র পথে খরচ করি, এক তৃতীয়াংশ আমি ও আমার পরিবার খাই, অবশিষ্ট এক তৃতীয়াংশ এ বাগানে লাগাই।” (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৭৮
وعن أبى هريرة أنه سمع النبي ﷺ يقول: «إن ثلاثة فى بنى إسرائيل أبرص وأقرع وأعمى فأراد الله أن يبتليهم فبعث إليهم ملكا فأتى الأبرص فقال أي شيء أحب إليك قال لون حسن وجلد حسن ويذهب عني الذى قد قذرني الناس» قال: «فمسحه فذهب عنه قذره وأعطي لونا حسنا وجلدا حسنا قال فأي المال أحب إليك قال الإبل - أو قال البقر شك إسحق - إلا أن الأبرص أو الأقرع قال أحدهما الإبل وقال الاخر البقر قال فأعطي ناقة عشراء فقال بارك الله لك فيها» قال: «فأتى الأقرع فقال أي شيء أحب إليك قال شعر حسن ويذهب عنى هذا الذى قد قذرني الناس» . قال: فمسحه فذهب عنه وأعطي شعرا حسنا قال فأي المال أحب إليك؟ قال البقر فأعطي بقرة حاملا قال: «بارك الله لك فيها» قال: «فأتى الأعمى فقال أي شيء أحب إليك قال أن يرد الله إلي بصرى فأبصر به الناس» . قال: «فمسحه فرد الله إليه بصره قال فأي المال أحب إليك قال الغنم فأعطي شاة والدا فأنتج هذان وولد هذا قال فكان لهذا واد من الإبل ولهذا واد من البقر ولهذا واد من الغنم» . قال: «ثم إنه أتى الأبرص في صورته وهيئته فقال رجل مسكين قد انقطعت بي الحبال فى سفرى فلا بلاغ لي اليوم إلا بالله ثم بك أسألك بالذى أعطاك اللون الحسن والجلد الحسن والمال بعيرا أتبلغ عليه فى سفرى فقال الحقوق كثيرة فقال له كأني أعرفك ألم تكن أبرص يقذرك الناس فقيرا فأعطاك الله مالا فقال إنما ورثت هذا المال كابرا عن كابر فقال إن كنت كاذبا فصيرك الله إلى ما كنت» . قال: «وأتى الأقرع في صورته فقال له مثل ما قال لهذا ورد عليه مثل ما رد على هذا فقال إن كنت كاذبا فصيرك الله إلى ما كنت» . قال: «وأتى الأعمى فى صورته وهيئته فقال رجل مسكين وابن سبيل انقطعت بي الحبال فى سفرى فلا بلاغ لي اليوم إلا بالله ثم بك أسألك بالذى رد عليك بصرك شاة أتبلغ بها فى سفرى فقال قد كنت أعمى فرد الله إلي بصرى فخذ ما شئت ودع ما شئت فوالله لا أجهدك اليوم شيئا أخذته لله فقال أمسك مالك فإنما ابتليتم فقد رضي عنك وسخط على صاحبيك». (متفق عليه)
তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেছেন। বানী ইসরাঈলের তিন ব্যক্তির একজন কুষ্ঠরোগী, একজন টাকমাথা ও তৃতীয়জন অন্ধ ছিল। আল্লাহ তা‘আলা এ তিন ব্যক্তিকে পরীক্ষা করতে চাইলেন। তিনি তাদের কাছে একজন মালাক (ফেরেশতা) পাঠালেন। মালাক (প্রথমে) কুষ্ঠ রোগীর কাছে এলেন। তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কোন জিনিস তোমার কাছে বেশি প্রিয়? সে বলল, সুন্দর রং ও সুন্দর ত্বক। আর এ কুষ্ঠ রোগ থেকে আরোগ্য যার জন্য লোকেরা আমাকে ঘৃণা করে। (এ কথা শুনে) তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেন, ফেরেশতা কুষ্ঠ রোগীর গায়ে হাত বুলালেন। তার রোগ ভালো হয়ে গেলো। তাকে উত্তম রং ও উত্তম ত্বক দান করা হলো। তারপর মালাক তাকে জিজ্ঞেস করলেন, এখন কোন সম্পদ তোমার কাছে বেশি প্রিয়? সে ব্যক্তি জবাবে উট অথবা গরুর কথা বলল। (হাদীস বর্ণনাকারী এক ব্যক্তি) ইসহাক্বের সন্দেহ করেছেন ‘গরুর’ কথা কুষ্ঠ রোগী বলেছিল অথবা টাকমাথাওয়ালা। (মোটকথা) এদের একজন উট চেয়েছিল। আর দ্বিতীয়জন চেয়েছিল গরু। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ লোকটিকে একটি দশ মাসের গর্ভবতী উট দান করা হলো। তারপর মালাক দু‘আ করলেন, ‘আল্লাহ্ তোমার ধন-সম্পদে প্রবৃদ্ধি দিন’। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, এরপর মালাক গেলেন টাকওয়ালার কাছে। জিজ্ঞেস করলেন, কোন জিনিস তোমার কাছে প্রিয়তর? সে বলল, সুন্দর চুল। সেই সাথে এই টাক থেকে মুক্তি, যার জন্য লোকেরা আমায় ঘৃণা করে। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, মালাক তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলে তার টাক ভালো হয়ে গেলো । তাকে সুন্দর চুল দান করা হলো। তারপর মালাক তাকে জিজ্ঞেস করলেন, এখন তোমার কাছে কোন ধনসম্পদ অধিক প্রিয়? সে বলল, ‘গরু’। তাকে একটি গর্ভবতী গাভী দেয়া হলো। মালাক বললেন, আল্লাহ্ তোমার ধন-সম্পদে বারাকাত দিন। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেন, এরপর মালাক অন্ধের কাছে এলেন। জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কাছে কোন জিনিস খুব প্রিয়? আল্লাহ্ তা‘আলা আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলে আমি তা দিয়ে লোকজনকে দেখতে পাব। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, (তখন) মালাক তার চোখের উপর হাত বুলিয়ে দিলে আল্লাহ্ তাকে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন। তারপর মালাক জানতে চাইলেন, এখন তার কাছে কোন্ ধন-সম্পদ অত্যন্ত প্রিয়? সে বলল, ভেড়া-ছাগল। তাকে গর্ভবতী বকরী দান করা হল। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বললেন কিছুদিন পর কুষ্ঠ রোগী ও টাক ওয়ালা অনেক উট ও গাভী আর অন্ধ লোকটি অনেক ছাগলের মালিক হয়ে গেলো ।এমনকি উটে একটি ময়দান,গরুতে একটি ময়দান ও ছাগলে একটি ময়দান ভরে গেলো । রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, (এরপর ওই) মালাক আবার ওই কুষ্ঠ রোগীকে পরীক্ষা করার জন্য আগের রূপ ধরে এলেন। বললেন, আমি একজন মিসকীন লোক। সফরে আমার সব সম্পদ শেষ হয়ে গেছে। তাই আজ (আমার গন্তব্যে) পৌঁছা সম্ভব হচ্ছে না। আলাহর রহমাতে আমি তোমার কাছে সে আল্লাহর কসম দিয়ে একটি উট চাইছি, যিনি তোমার গায়ের রং ও চামড়া সুন্দর করে দিয়েছেন। তুমি আমাকে একটি উট দিলে আমি সফর শেষে গন্তব্যে পৌঁছতে পারি । কুষ্ঠ রোগীটি বলল, আমার অনেক দায়-দায়িত্ব মিসকীনরূপী, অর্থাৎ সে বাহানা করে মিসকিনকে (ফেরেশতাকে) এড়িয়ে যেতে চাইল। বলল, তুমি কোন উট পাবে না। মালাক বললেন, আমি তোমাকে যেন চিনেছি, তুমি কি সেই কুষ্ঠ রোগী নও, যাকে মানুষ ঘৃণা করত? তুমি মুখাপেক্ষী ও গরীব ছিলে। আল্লাহ তোমাকে (উত্তম রং ও রূপ দিয়ে) সুস্থতা দান করেছেন, মাল দিয়েছেন। কুষ্ঠরোগী বলল, তোমার কথা ঠিক নয়। এসব অর্থ-সম্পদ আমি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। মালাক বলেলন, যদি তুমি মিথ্যা বলে থাক তাহলে আল্লাহ তোমাকে তোমার সে অবস্থায় ফিরিয়ে দিন যে অবস্থায় তুমি প্রথমে ছিলে। রাসূলল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তারপর মালাক টাকওয়ালার কাছে স্বরূপে আবির্ভূত হলেন। আগের লোকটিকে যা বলেছিলেন তাকে তেমনটি বললেন। টাকওয়ালাও ওই জবাবই দিল যে জবাব কুষ্ঠ রোগীটি দিয়েছিল। তারপর মালাক বললেন, তুমি মিথ্যা বলে থাকলে আল্লাহ তোমাকে যেন পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে দেন। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, (এরপর) মালাক অন্ধ লোকটির কাছে আবির্ভূত হলেন। তাকে বললেন, আমি একজন মিসকিন ও পথিক। আমার সফরের সব মালসামান শেষ। গন্তব্যে পৌঁছার জন্য আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কিছুই নেই। আমি তোমার কাছে ওই আল্লাহর দোহাই দিয়ে একটি বকরী চাই যিনি তোমাকে দৃষ্টি শক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং অনেক বকরীর মালিক করেছেন। তাহলে আমি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারি। মালাকের কথা শুনেই লোকটি বলল, আমি অন্ধ ছিলাম, আল্লাহ আমাকে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। তুমি যত চাও নিয়ে যাও, আর যা ইচ্ছা রেখে যাও। আল্লাহ্র কসম!(তুমি যা নিবে) তা ফেরত দেয়ার মত কষ্ট আমি তোমাকে দেব না। (অন্ধের এ জবাব শুনে) মালাক বললেন, তোমার মাল তোমার কাছে থাকুক। তাতে আমার কোন প্রয়োজন নেই। তোমাকে শুধু পরীক্ষা করা হচ্ছিল (তুমি কামিয়াব হয়েছ)। আল্লাহ্ তোমার উপর সন্তুষ্ট। আর তোমার অপর দু‘ সাথীর উপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন।(বুখারি) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৭৯
وعن أم بجيد قالت: قلت يا رسول الله إن المسكين ليقف على بابى حتى أستحيي فلا أجد في بيتى ما أدفع فى يده. فقال رسول الله ﷺ: «ادفعى فى يده ولو ظلفا محرقا» . رواه أحمد وأبو داود والترمذي
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট নিবেদন করলাম, হে আল্লাহ্র রসূল! মিসকীন আমার দরজায় এসে দাঁড়ালে (এবং আমার কাছে কিছু চায়) তখন আমি খুবই লজ্জা পাই, কারণ তাকে দেবার মত আমার ঘরে কিছু পাই না। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তার হাতে কিছু দিও, যদি তা আগুনে ঝলসানো একটি খুরও হয়। (আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিজী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৮০
وعن مولى لعثمان قال: أهدي لأم سلمة بضعة من لحم وكان النبي ﷺ يعجبه اللحم فقالت للخادم: ضعيه في البيت لعل النبي ﷺ يأكله فوضعته فى كوة البيت. وجاء سائل فقام على الباب فقال: تصدقوا بارك الله فيكم. فقالوا: بارك الله فيك. فذهب السائل فدخل النبي ﷺ فقال: «يا أم سلمة هل عندكم شيء أطعمه؟» . فقالت: نعم. قالت للخادم: اذهبى فأتى رسول الله ﷺ بذلك اللحم. فذهبت فلم تجد في الكوة إلا قطعة مروة فقال النبي ﷺ: «فإن ذلك اللحم عاد مروة لما لم تعطوه السائل» . رواه البيهقي في دلائل النبوة
তিনি বলেন, (একবার) উম্মুল মু‘মিনীন উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) এর কাছে (রান্না করা) কিছু গোশতের টুকরা তুহফা হিসেবে এলো। এর গোশত নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর খুব প্রিয় (খাবার) ছিল ।উম্মু সালামাহ্ তাঁর সেবিকাকে বললেন, এ গোশত ঘরে রেখে দাও। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা হয়ত খাবেন। সেবিকা তা রেখে দিল। এ সময়ে একজন ভিক্ষুক দরজায় দাঁড়িয়ে উচ্চঃস্বরে বলল, হে অন্তঃপুরবাসিনী! আল্লাহ্র পথে কিছু খরচ করো, আল্লাহ তোমাদের ধন-সম্পদে বারাকাত দেবেন। ঘরের লোকেরা বলল, আল্লাহ্ তোমাকে বারাকাত দান করুন (অর্থাৎ মাফ করো)। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘরে এসে বললেন, হে উম্মু সালামাহ্! তোমার কাছে খাবার আছে? উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) জবাব দিলেন, হ্যাঁ আছে। (এরপর) তিনি সেবিকাকে বললেন, যাও রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য গোশত নিয়ে এসো। সেবিকা আনতে গেল। কিন্তু সে তাদের কাছে গিয়ে হতবাক। (সে দেখল), তাদের মধ্য একটি সাদা হাড় ছাড়া কিছু নেই। (এ অবস্থা দেখে) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা ভিক্ষুককে কিছুই দাওনি। তাই এ গোশত খণ্ডই সাদা হাড় হয়ে গেছে। (বায়হাক্বী; এ বর্ণনাটি দালায়িলুন নুবূওয়্যাত গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন।)
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৮১
وعن ابن عباس رضي الله عنهما قالت: قال النبي ﷺ: «ألا أخبركم بشر الناس منزلا؟ قيل: نعم قال: الذى يسأل بالله ولا يعطى به». رواه أحمد
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মর্যাদার দিক দিয়ে নিকৃষ্টতম ব্যক্তিকে আমি কি তোমাদের চিনাব? সাহাবীগণ নিবেদন করলেন, জি হ্যাঁ, আল্লাহ্র রসূল! অবশ্যই। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যে ব্যক্তির কাছে আল্লাহর কসম দিয়ে কেউ কিছু চায়, আর সে তাকে কিছু দেয় না। (সে সবচেয়ে নিকৃষ্ট)। (আহমাদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৮২
وعن أبى ذر أنه استأذن على عثمان فأذن له وبيده عصاه فقال عثمان: يا كعب إن عبد الرحمن توفي وترك مالا فما ترى فيه؟ فقال: إن كان يصل فيه حق الله فلا بأس عليه. فرفع أبو ذر عصاه فضرب كعبا وقال: سمعت رسول الله ﷺ يقول: «ما أحب لو أن لى هذا الجبل ذهبا أنفقه ويتقبل منى أذر خلفى منه ست أواقي» . أنشدك بالله يا عثمان أسمعته؟ ثلاث مرات. قال: نعم. رواه أحمد
(একবার) তিনি ‘উসমানের কাছে আসার অনুমতি চাইলেন। তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন। তাঁর হাতে ছিল একটি লাঠি। উসমান (রাঃ) (ওখানে উপস্থিত) কা‘বকে বললেন, কা‘ব! ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) অনেক ধন-সম্পদ রেখে ইন্তিকাল করেছেন। এ ব্যাপারে তোমার কী অভিমত? কা‘ব (রাঃ) বললেন, তিনি যদি এসবে আল্লাহর হক্ব (যাকাত) আদায় করে থাকেন তাহলে অসুবিধা নেই। (এ কথা শুনেই) আবূ যার (রাঃ) হাতের লাঠি কা‘ব-এর দিকে উঠিয়ে মারলেন এবং বললেন, আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, (উহুদের) পাহাড় পরিমাণ সোনাও যদি আমার কাছে থাকে, আর আমি তা আল্লাহর পথে খরচ করি এবং তা কবূলও হয়, তারপর আমি পছন্দ করব না আমার পরে ছয় উক্বিয়্যাহ্ (অর্থাৎ দু‘শত চল্লিশ দিরহাম) আমার ঘরে সঞ্চিত থাকুক। এবার আবূ যার (‘উসমানকে উদ্দেশ্য করে বললেন,) আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, হে ‘উসমান! আপনি কী রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এ কথা শুনেননি? এ কথা তিনি তিনবার বললেন। ‘উসমান (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ শুনেছি। (আহমদ ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৮৩
وعن عقبة بن الحارث قال: صليت وراء النبي ﷺ بالمدينة العصر فسلم ثم قام مسرعا فتخطى رقاب الناس إلى بعض حجر نسائه ففزع الناس من سرعته فخرج عليهم فرأى أنهم قد عجبوا من سرعته قال: «ذكرت شيئا من تبر عندنا فكرهت أن يحبسنى فأمرت بقسمته» . رواه البخاري. وفي رواية له قال: «كنت خلفت في البيت تبرا من الصدقة فكرهت أن أبيته
তিনি বলেন, (একদিন) আমরা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিছনে ‘আসরের সালাত আদায় করলাম। সালাম ফিরার মাত্রই তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং মানুষের ঘাড় টপকিয়ে নিজের কোন স্ত্রীর হুজরার দিকে চলে গেলেন। তাঁর এ ব্যস্ততা দেখে সাহাবীগণ ঘাবড়ে গেলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হুজরা হতে বেরিয়ে এলেন এবং সাহাবীগণকে তাঁর এ তারাহুড়ার জন্য বিস্মিত দেখে বললেন, আমার মনে পড়ল ঘরে কিছু সোনা রয়ে গেছে। এগুলো আমাকে (আল্লাহর নৈকট্য থেকে) দূরে রাখুক আমি পছন্দ করিনি। তাই তা বিলি-বণ্টন করে দিতে আমি বলে এসেছি। (বুখারী; বুখারীর অপর বর্ণনায় এসেছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি যাকাত হিসেবে পাওয়া একটি সোনার পোটলা ঘরে রেখে এসেছি। আমি চাইনি তা একরাত আমার কাছে থাকুক।) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৮৪
وعن عائشة رضي الله عنها قالت: كان لرسول الله ﷺ عندى فى مرضه ستة دنانير أو سبعة فأمرنى رسول الله ﷺ أن أفرقها فشغلنى وجع نبي الله ﷺ ثم سألنى عنها: «ما فعلت الستة أو السبعة؟» قلت: لا والله لقد كان شغلنى وجعك فدعا بها ثم وضعها فى كفه فقال: «ما ظن نبي الله لو لقي الله عز وجل وهذه عنده؟» . رواه أحمد
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে আমার কাছে (‘আরবে তখনকার প্রচলিত) ছয় কি সাতটি দীনার রক্ষিত ছিল।(মৃত্যু শয্যায় থাকাকালে) তিনি আমাকে তা বণ্টন করে দেবার নির্দেশ দিলেন। কিন্তু তাঁর রোগের তীব্রতা কারণে আমি ব্যস্ত থাকাতে ভুলে গিয়েছিলাম। তিনি আমাকে পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, ঐ ছয় কি সাতটি দীনার তুমি কি করেছ? আমি বললাম, এখনো বণ্টন করা হয়নি। আল্লাহ্র কসম! আপনার রোগযন্ত্রণা আমাকে ব্যস্ত রেখেছে। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন দীনারগুলো চেয়ে নিজের হাতে রেখে বললেন, এ কথা কি ভাবা যায় যে, আল্লাহর নাবী আল্লাহর সাথে মিলিত হবেন অথচ সে সময় তাঁর হাতে এ দীনারগুলো থেকে যাবে! (আহমদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৮৫
وعن أبى هريرة أن النبي ﷺ دخل على بلال وعنده صبرة من تمر فقال: «ما هذا يا بلال؟» قال: شيء ادخرته لغد. فقال: «أما تخشى أن ترى له غدا بخارا فى نار جهنم يوم القيامة أنفق بلال ولا تخش من ذي العرش إقلالا
তিনি বলেন, একদিন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলাল-এর নিকট এলেন। তখন তাঁর কাছে খেজুরের বড় স্তুপ। তিনি বিলালকে জিজ্ঞেস করলেন, বিলাল এসব কী? তিনি বললেন, এসব আমি (ভবিষ্যতের জন্য) জমা করে রেখেছি। (এ কথা শুনে) তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ কাল ক্বিয়ামাতের দিন এতে তুমি জাহান্নামের তাপ অনুভবকে কী ভয় করছ না? বিলাল! এসব তুমি দান করে দাও। ‘আরশের মালিকের-এর কাছে ভূখা নাঙা থাকার ভয় করো না। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৮৬
وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «السخاء شجرة في الجنة فمن كان سخيا أخذ بغصن منها فلم يتركه الغصن حتى يدخله الجنة. والشح شجرة في النار فمن كان شحيحا أخذ بغصن منها فلم يتركه الغصن حتى يدخله النار» . رواهما البيهقي في شعب الإيمان
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জান্নাতে ‘সাখাওয়াত’ (দানশীলতা নামে) একটি বৃক্ষ আছে। (দুনিয়াতে) যে ব্যক্তি দানশীল হবে, সে (আখিরাতে) এ বৃক্ষের ডাল আঁকড়ে ধরবে। আর সে ডাল তাকে জান্নাতে প্রবেশ না করানো পর্যন্ত ছাড়বে না। জাহান্নামেও ‘বুখালাত’ (কৃপণতা নামে) একটি গাছ আছে। যে ব্যক্তি (দুনিয়াতে) কৃপণ হবে, সে (আখিরাতে) সে গাছের ডাল আঁকড়ে ধরবে। এ ডাল তাকে জাহান্নামে পৌঁছানো না পর্যন্ত ছেড়ে দেবে না। (এ দু‘টি বর্ণনা ইমাম বায়হাক্বী শু‘আবুল ঈমানে উদ্ধৃত করেছেন) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৮৭
وعن علي قال: قال رسول الله ﷺ: «بادروا بالصدقة فإن البلاء لا يتخطاها» . رواه رزين
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহর পথে খরচ করার ব্যাপারে তাড়াতাড়ি করবে (অর্থাৎ মৃত্যু অথবা রোগ-শোক হবার আগে)। কারন দান সদাক্বাহ্ করলে বালা-মুসীবাত বৃদ্ধি পায় না (অর্থাৎ দান সদাক্বায় বালা-মুসীবাদ দূর হয়)। (রযীন) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৮৮
وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «من تصدق بعدل تمرة من كسب طيب ولا يقبل الله إلا الطيب فإن الله يتقبلها بيمينه ثم يربيها لصاحبها كما يربى أحدكم فلوه حتى تكون مثل الجبل». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বৈধভাবে অর্জিত সম্পদ থেকে একটি খেজুর সমান সদাক্বাহ্ করে এবং আল্লাহর তা‘আলা বৈধ ব্যতীত কোন কিছু কবূল করেন না। তাই বৈধ সম্পদ থেকে সদাক্বাহ্ করলে আল্লাহর তা‘আলা তা’ ডান হাতে কবূল করেন। অতঃপর এ সদাক্বাহ্ দানকারীর জন্য এভাবে লালন-পালন করেন যেভাবে তোমরা ঘোড়ার বাছুর লালন-পালন করে থাকো। এমনকি এ সদাক্বাহ্ অথবা এর সওয়াব একসময় পাহাড়ের মতো হয়ে যায়। (বুখারী, মুসলীম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৮৯
وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «ما نقصت صدقة من مال شيئا وما زاد الله عبدا بعفو إلا عزا وما تواضع أحد لله إلا رفعه الله» . رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ দান সদাক্বাহ্ ধন-সম্পদ কমায় না। যে ব্যক্তি কারো অপরাধ ক্ষমা করে, আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। আর যে শুধু আল্লাহরই জন্য বিনয় প্রকাশ করে আল্লাহর তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৯০
وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «من أنفق زوجين من شيء من الأشياء في سبيل الله دعي من أبواب الجنة وللجنة أبواب فمن كان من أهل الصلاة دعي من باب الصلاة ومن كان من أهل الجهاد دعي من باب الجهاد ومن كان من أهل الصدقة دعي من باب الصدقة ومن كان من أهل الصيام دعي من باب الريان» . فقال أبو بكر: ما على من دعي من تلك الأبواب من ضرورة فهل يدعى أحد من تلك الأبواب كلها؟ قال: «نعم وأرجو أن تكون منهم». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিজের ধন-সম্পদ হতে কোন জিনিস এক জোড়া (দু’ গুণ) আল্লাহর পথে সন্তষ্টির জন্য সদাক্বাহ্ করবে, জান্নাতের সবগুলো দরজা দিয়ে তাকে সাদর সম্ভাষণ জানানো হবে। আর জান্নাতের অনেক (আটটি) দরজা আছে। যে ব্যক্তি সলাত আদায়কারী হবে, তাকে ‘বাবুস্ সলাত’ হতে ডাকা হবে। যে আল্লাহর পথে জিহাদ করবে, তাকে ডাকা হবে ‘বাবুল জিহাদ’ হতে। দান সদাক্বাকারীকে ডাকা হবে ‘বাবুস্ সদাক্বাহ’ দিয়ে। যে ব্যক্তি সায়িম (রোযাদার) হবে, তাকে ‘বাবুর রাইয়্যান’ দিয়ে ডাকা হবে। এ কথা শুনে আবু বাকর (রাঃ) জানতে চাইলেন, যে ব্যক্তিকে এসব দরজার কোন একটি দিয়ে ডাকা হবে তাকে কি অন্য সকল দরজা দিয়ে ডাকার প্রয়োজন হবে? রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হ্যাঁ (হবে) আর আমি আশা করি তুমিই তাদেরই একজন হবে। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৯১
وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «من أصبح منكم اليوم صائما؟» قال أبو بكر: أنا قال: «فمن تبع منكم اليوم جنازة؟» قال أبو بكر: أنا. قال: «فمن أطعم منكم اليوم مسكينا؟» قال أبو بكر: أنا. قال: «فمن عاد منكم اليوم مريضا؟» . قال أبو بكر: أنا. فقال رسول الله ﷺ: «ما اجتمعن في امرئ إلا دخل الجنة» . رواه مسلم
একদিন সহাবীগণকে উদ্দেশ্য করে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেলেন, তোমাদের কে আজ সওম রেখেছ? আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আমি। তিনি বললেন আজ কে জানাযার সাথে গিয়েছ? আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আমি। তিনি বললেন তোমাদের কে আজ কে মিসকিনকে খাবার দিয়েছ? আবূ বাকর (রাঃ) জবাবে বললেন, আমি। তিনি বললেন, তোমাদের কে অসুস্থকে দেখতে গিয়েছ? আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আমি। একথা শুনে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেলেনঃ (শুনে রাখো) যে ব্যক্তির মধ্যে এতা গুনের সমাহার, সে জান্নাতে প্রবেশ করবেই। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৯২
وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «يا نساء المسلمات لا تحقرن جارة لجارتها ولو فرسن شاة». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ হে মুসলিম মহিলারা! তোমরা এক প্রতিবেশী আর এক প্রতিবেশীকে তুহফা দেয়া ছোট করে দেখো না। তা বকরীর খুর হলেও। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৯৩
وعن جابر وحذيفة قالا: قال رسول الله ﷺ: «كل معروف صدقة». (متفق عليه)
জাবির ও হুযায়ফাহ্ (রাঃ) একত্রে বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রত্যেক নেক কাজই সদাক্বাহ্। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৯৪
وعن أبى ذر قال: قال رسول الله ﷺ: «لا تحقرن من المعروف شيئا ولو أن تلقى أخاك بوجه طليق» . رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা কোন নেক কাজকে ছোট ভেবো না, যদিও তা তোমার ভাইয়ের সাথে হাসিখুশী মুখে সাক্ষাৎ করা হয়। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৯৫
وعن أبي موسى الأشعري قال: قال رسول الله ﷺ: «على كل مسلم صدقة» . قالوا: فإن لم يجد؟ قال: «فليعمل بيديه فينفع نفسه ويتصدق» . قالوا: فإن لم يستطع؟ أو لم يفعل؟ قال: «فيعين ذا الحاجة الملهوف» . قالوا: فإن لم يفعله؟ قال: «فيأمر بالخير» . قالوا: فإن لم يفعل؟ قال: «فيمسك عن الشر فإنه له صدقة». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (আল্লাহর নি‘আমাতের শুকরিয়া হিসাবে) প্রত্যেক মুসলিমেরই সদাক্বাহ্ দেয়া উচিৎ। সাহাবীগণ আরয করলেন, যদি কারো কাছে সদাক্বাহ্ করার মতো কিছু না থাকে? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ উচিত হবে কাজ করে নিজ হাতে উপার্জন করা। তাহলে নিজেও উপকৃত হতে পারবে, আবার দান সদাক্বাও করতে পারবে। সাহাবীগণ বললেন, যদি সে ব্যক্তি সামর্থ্যবান না হয়; অথবা বলেছেন, নিজ হাতে কাজকর্ম করতে না পারে? তিনি বললেন, সে যেন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত পরমুখাপেক্ষী লোকে সাহায্য করে। সাহাবীগণ আরয করলেন, যদি এটিও সে না করতে পারে? রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাহলে সে যেন ভাল কাজের নির্দেশ দেয়। সাহাবীগণ পুনঃ জানতে চাইলেন, যদি এটিও সে না পারে? তাহলে সে মন্দ কাজ হতে ফিরে থাকবে। এটাই তার জন্য সদাক্বাহ্। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৯৬
وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: « كل سلامى من الناس عليه صدقة: كل يوم تطلع فيه الشمس يعدل بين الاثنين صدقة ويعين الرجل على دابته فيحمل عليها أو يرفع عليها متاعه صدقة والكلمة الطيبة صدقة وكل خطوة تخطوها إلى الصلاة صدقة ويميط الأذى عن الطريق صدقة». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মানুষের উচিত শরীরের প্রতি জোড়ার জন্য প্রতিদিন সদাক্বাহ্ দেয়া। দু‘ ব্যক্তির মধ্যে ন্যায়বিচার করাও সদাক্বাহ্, কোন ব্যক্তিকে অথবা তার আসবাবপত্র নিজের বাহনে উঠিয়ে নেয়াও সদাক্বাহ্, কারো সাথে ভালো কথা বলা, সলাতের দিকে যাবার প্রতিটি কদম, এসবই এমনকি চলাচলের পথ থেকে কষ্টদায়ক কিছু সরিয়ে দেয়াও সদাক্বাহ্। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৯৭
وعن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله ﷺ: «خلق كل إنسان من بنى ادم على ستين وثلاثمائة مفصل فمن كبر الله وحمد الله وهلل الله وسبح الله واستغفر الله وعزل حجرا عن طريق الناس أو شوكة أو عظما أو أمر بمعروف أو نهى عن منكر عدد تلك الستين والثلاثمائة فإنه يمشى يومئذ وقد زحزح نفسه عن النار» . رواه مسلم
তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আদম সন্তানের প্রত্যেককে তিনশ’ ষাটটি জোড়া দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ অবস্থায় যে ব্যক্তি ‘আল্ল-হু আকবার’, ‘আলহামদুলিল্লা-হ’, ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’, ‘সুবহা-নাল্ল-হ’ বলবে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, মানুষের পথ হতে পাথর, কাঁটা কিংবা হাড্ডি সরিয়ে দেবে অথবা ভাল কাজের হুকুম করবে, খারাপ কাজে বাধা দেবে, আর এসব কাজ তিনশ’ ষাটটি জোড়ার সংখ্যা অনুসারে করবে, সে ব্যক্তি নিজকে সেদিন থেকে জাহান্নাম হতে বাঁচিয়ে চলতে থাকল। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৯৮
وعن أبي ذر قال: قال رسول الله ﷺ: «إن بكل تسبيحة صدقة وكل تكبيرة صدقة وكل تحميدة صدقة وكل تهليلة صدقة وأمر بالمعروف صدقة ونهي عن المنكر صدقة وفى بضع أحدكم صدقة» قالوا: يا رسول الله أيأتى أحدنا شهوته ويكون له فيها أجر؟ قال: «أرأيتم لو وضعها فى حرام أكان عليه فيه وزر؟ فكذلك إذا وضعها في الحلال كان له أجر» . رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রত্যেক ‘তাসবীহ’ অর্থাৎ সুবহা-নাল্ল-হ বলা সদাক্বাহ্, প্রত্যেক ‘তাকবীর’ অর্থাৎ আল্ল-হু আকবার বলা সদাক্বাহ্, প্রত্যেক ‘তাহমীদ’ বা আলহামদুলিল্ল-হ বলা সদাক্বাহ্। প্রত্যেক ‘তাহলীল’ বা ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ বলা সদাক্বাহ্। নেককাজের নির্দেশ দেয়া, খারাপ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখা সদাক্বাহ্। নিজের স্ত্রী অথবা দাসীর সাথে সহবাস করাও সদাক্বাহ্। সাহাবীগন আরয করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কেউ যদি নিজের কামভাব চরিতার্থ কতে তাতেও কি সে সাওয়াব পাবে? উত্তরে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমাকে বলো, কোন ব্যক্তি যদি হারাম উপায়ে কামভাব চরিতার্থ করে তাহলে সেকি গুনাহগার হবে না? ঠিক এভাবেই হালাল উপায়ে (স্ত্রী অথবা দাসীর সাথে) কামভাব চরিতার্থকারী সাওয়াব পাবে। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৯৯
وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «نعم الصدقة اللقحة الصفي منحة والشاة الصفي منحة تغدو بإناء وتروح باخر». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রচুর দুধ দানকারী উট, প্রচুর দুধ দানকারী বকরী কাউকে দুধ পান করার জন্য ধার দেয়াও উত্তম সদাক্বাহ্। যা সকাল এবং বিকালে পাত্র ভরে দুধ দেয়। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯০০
وعن أنس قال: قال رسول الله ﷺ: «ما من مسلم يغرس غرسا أو يزرع زرعا فيأكل منه إنسان أو طير أو بهيمة إلا كانت له صدقة». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন মুসলিম যে গাছ লাগায় অথবা ফসল ফলায় অতঃপর কোন মানুষ অথবা পশু, পাখী (মালিক-এর বিনানুমতিতে) এর থেকে কিছু খেয়ে ফেলে, তাহলে (এ ক্ষতি) মালিক-এর জন্য সদাক্বাহ্ গন্য হবে। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯০১
وفي رواية لمسلم عن جابر: «وما سرق منه له صدقة
মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, যা চুরি হয়ে যায় তাও তার জন্য সদাক্বাহ্। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯০২
وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «غفر لامرأة مومسة مرت بكلب على رأس ركي يلهث كاد يقتله العطش فنزعت خفها فأوثقته بخمارها فنزعت له من الماء فغفر لها بذلك» . قيل: إن لنا في البهائم أجرا؟ قال: «فى كل ذات كبد رطبة أجر». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (একবার) একটি পতিতা মহিলাকে মাফ করে দেয়া হলো। (কারণ) মহিলাটি একবার একটি কুকুরের কাছ দিয়ে যাবার সময় দেখলো সে পিপাসায় কাতর হয়ে একটি কূপের পাশে দাঁড়িয়ে জিহ্বা বের করে হাঁপাচ্ছে। পিপাসায় সে মরার উপক্রম। মহিলাটি (এ করুন অবস্থা দেখে) নিজের মোজা খুলে ওড়নার সাথে বেঁধে (কূপ হতে) পানি উঠিয়ে কুকুরটিকে পান করাল। এ কাজের জন্য তাকে মাফ করে দেয়া হলো। (এ কথা শুনে) সাহাবীগণ আরয করলেন, পশু-পাখির সাথে ভালো ব্যবহার করার মধ্যেও কি আমাদের জন্য সাওয়াব আছে? রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হ্যাঁ। প্রত্যেকটা প্রাণীর সাথে ভাল ব্যবহার করার মধ্যেও সাওয়াব আছে। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯০৩
وعن ابن عمر وأبى هريرة قالا: قال رسول الله ﷺ: «عذبت امرأة في هرة أمسكتها حتى ماتت من الجوع فلم تكن تطعمها ولا ترسلها فتأكل من خشاش الأرض». (متفق عليه)
তাঁরা উভয়ে বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ শুধু একটি বিড়ালকে বেঁধে রেখে ক্ষুধায় কষ্ট দিয়ে হত্যা করার কারণে একজন মহিলেকে শাস্তি দেয়া হয়েছিল। মহিলাটি বিড়ালটিকে না খাবার দিত, না ছেড়ে দিত। বিড়ালটি মাটির নীচের কিছু (ইঁদুর ইত্যাদি) খেত। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯০৪
وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «مر رجل بغصن شجرة على ظهر طريق فقال: لأنحين هذا عن طريق المسلمين لا يؤذيهم فأدخل الجنة». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (একদিন) এক ব্যক্তি পথচলা অবস্থায় সামনে দেখে একটি গাছের ডাল পথের উপর পড়ে আছে। সে ভাবলো, আমি মুসলিমদের চলার পথ থেকে ডালটিকে সরিয়ে দেব, যাতে তাদের কষ্ট না হয়। এ কারণে এ লোকটিকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হলো। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯০৫
وعن أبي هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «لقد رأيت رجلا يتقلب في الجنة فى شجرة قطعها من ظهر الطريق كانت تؤذي الناس» . رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি এক ব্যক্তিকে দেখলাম জান্নাতে একটি গাছের নীচে স্বাচ্ছন্দে হাঁটছে। সে এমন একটি গাছ রাস্তার মধ্য থেকে কেটে ফেলে দিয়েছিল যা মানুষকে কষ্ট দিত। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯০৬
وعن أبى برزة قال: قلت: يا نبي الله علمنى شيئا أنتفع به قال: «اعزل الأذى عن طريق المسلمين» . رواه مسلم وسنذكر حديث عدي ابن حاتم: «اتقوا النار» فى «باب علامات النبوة» إن شاء الله تعالى
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর নাবী! আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দান করুন, যাতে আমি (পরকালে) উপকৃত হই। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ মুসলিমদের চলাচলের পথে কষ্টদায়ক কোন কিছু পেলে তা ফেলে দিবে। (মুসলিম)[১] ইমাম মুসলিম বলেন, ‘আদী ইবনু হাতিম-এর বর্ণনা (জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচ) ইনশাআল্লাহ আমি “আলা-মা-তুন্ নুবুওয়্যাহ্” অধ্যায়ে উল্লেখ করব।