প্রথম অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৫৯

وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «لو كان لى مثل أحد ذهبا لسرنى أن لا يمر علي ثلاث ليال وعندى منه شيء إلا شيء أرصده لدين» . رواه البخاري

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার কাছে যদি উহুদ পাহাড় সমান সোনাও থাকে, ঋণের অংশ বাদে তা তিনদিন আমার কাছে জমা না থাকলেই আমি খুশি হব।(বুখারী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৬০

وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «ما من يوم يصبح العباد فيه إلا ملكان ينزلان فيقول أحدهما: اللهم أعط منفقا خلفا ويقول الاخر: اللهم أعط ممسكا تلفا». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রতিদিন ভোরে (আকাশ থেকে) দু’জন মালাক (ফেরেশতা) নেমে আসে। এদের একজন দু’আ করে ‘হে আল্লাহ! দানশীলকে তুমি বিনিময় দাও। আর দ্বিতীয় মালাক এ বদদু‘আ করে, হে আল্লাহ! কৃপণকে ক্ষতিগ্রস্ত করো। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৬১

وعن أسماء قالت: قال رسول الله ﷺ: «أنفقى ولا تحصى فيحصي الله عليك ولا توعى فيوعي الله عليك ارضخى ما استطعت». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (আল্লাহর রাস্তায়) খরচ করো। কিন্ত গুনে গুনে খরচ করো না। তাহলে আল্লাহ তোমাকে গুনে গুনে (নেকি) দিবেন। তোমরা জমা করে রেখ না। তাহলে আল্লাহ তা’আলা জমা করে রাখবেন। সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহর পথে খরচ করো। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৬২

وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: « قال الله تعالى: أنفق يا ابن ادم أنفق عليك». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, হে আদম সন্তান! ধন-সম্পদ দান করো, তোমাকেও দান করা হবে। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৬৩

وعن أبى أمامة قال: قال رسول الله ﷺ: «يا ابن ادم إن تبذل الفضل خير لك وإن تمسكه شر لك ولا تلام على كفاف وابدأ بمن تعول» . رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (মহান আল্লাহ বলেনঃ) হে আদম সন্তান! প্রয়োজনের অতিরিক্ত যে সম্পদ তোমার কাছে আছে তা খরচ করা তোমার জন্য (দুনিয়া ও আখিরাতে) কল্যাণকর। আর তা খরচ না করা হবে অকল্যাণকর। প্রয়োজন পরিমাণ ধন-সম্পদ (জমা করায়) দোষ নেই। তোমার প্রয়োজনের অতিরিক্ত ধন-সম্পদ ব্যয়ের কাজ নিজ পরিবার-পরিজন থেকে শুরু করো। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৬৪

وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «مثل البخيل والمتصدق كمثل رجلين عليهما جبتان من حديد قد اضطرت أيديهما إلى ثديهما وتراقيهما فجعل المتصدق كلما تصدق بصدقة انبسطت عنه حتى تغشى أنامله وتعفو أثره، وجعل البخيل كلما هم بصدقة قلصت وأخذت كل حلقة بمكانها». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কৃপণ ও দানশীল ব্যক্তির দৃষ্টান্ত এমন দু‘ব্যক্তির মতো যাদের শরীরে দু‘টি লোহার পোশাক রয়েছে। আর (এটার কারণে) এ দু‘জনের হাত তাদের সিনা হতে গর্দান পর্যন্ত লটকে আছে। এ অবস্থায় দানশীল ব্যক্তি যখন দান করতে চায় তখন তার বেড়ি সম্প্রসারিত হয়। এমনকি তাঁর হাতের আঙ্গুল পর্যন্ত আবৃত করে ফেলে এবং তার চিহ্ন মিটে যায়। কৃপণ ব্যক্তি দান করতে চাইলে তার বেড়ি সংকুচিত হয়ে এর প্রত্যেকটি কড়া নিজ নিজ স্থানে একটা আরেকটার সাথে আটকে যায়। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৬৫

وعن جابر قال: قال رسول الله ﷺ: «اتقوا الظلم فإن الظلم ظلمات يوم القيامة واتقوا الشح فإن الشح أهلك من كان قبلكم: حملهم على أن سفكوا دماءهم واستحلوا محارمهم». رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যুলম থেকে বেঁচে থাকবে, কারণ ক্বিয়ামাতের দিন যুলম অন্ধকারের ন্যায় গ্রাস করবে। আর কৃপণতা হতে বেঁচে থাকবে, কারণ কৃপণতা তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে ধ্বংস করেছে। এ কৃপণতাই তাদেরকে প্ররোচিত করেছে রক্তপাতের জন্য এবং হারাম কাজকে হালাল করার দিকে।(মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৬৬

وعن حارثة بن وهب قال: قال رسول الله ﷺ: «تصدقوا فإنه يأتى عليكم زمان يمشي الرجل بصدقته فلا يجد من يقبلها يقول الرجل: لو جئت بها بالأمس لقبلتها فأما اليوم فلا حاجة لى بها». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা সদাক্বাহ্ কর, কেননা এমন সময় আসবে যখন একলোক তার সদাক্বার মাল নিয়ে বের হবে কিন্ত তা গ্রহণ করার লোক পাওয়া যাবে না। বরং প্রত্যেক ব্যক্তিই বলবে, গতকাল তুমি যদি এ মাল নিয়ে আসতে, আমি গ্রহন করতাম। আজ এ সদাক্বার আমার কোনই প্রয়োজন নেই। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৬৭

وعن أبى هريرة قال: قال رجل: يا رسول الله أي الصدقة أعظم أجرا؟ قال: «أن تصدق وأنت صحيح شحيح تخشى الفقر وتأمل الغنى ولا تمهل حتى إذا بلغت الحلقوم قلت: لفلان كذا ولفلان كذا وقد كان لفلان». (متفق عليه)

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আরয করল, হে আল্লাহর রসূল! কোন দান মর্যাদার দিক দিয়ে সবচেয়ে বড়। তিনি বললেন, তুমি যখন সুস্থ-সবল থাকো এবং সম্পদের প্রতি আগ্রহ পোষণ করো, দারিদ্র্যের ভয় কর, ধন-সম্পদের মালিক হতে চাও, তখনকার দান সবচেয়ে বড়। তাই প্রাণ ওষ্ঠাগত হবার সময় পর্যন্ত দান করার অপেক্ষা করবে না। কারণ তখন তুমি বলতে থাকবে, এ মাল অমুকের, এ মাল অমুকের এবং এ মাল অমুকের। অথচ ততক্ষণে মালের মালিক অমুক হয়েই গেছে। (বুখারী মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৬৮

وعن أبى ذر قال: انتهيت إلى النبي ﷺ وهو جالس فى ظل الكعبة فلما رانى قال: «هم الأخسرون ورب الكعبة» فقلت: فداك أبى وأمى من هم؟ قال: «هم الأكثرون أموالا إلا من قال: هكذا وهكذا وهكذا من بين يديه ومن خلفه عن يمينه وعن شماله وقليل ما هم». (متفق عليه)

তিনি বলেন, একবার আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট গেলাম। এ সময় তিনি কা'বার ছায়ায় বসেছিলেন। আমাকে দেখে তিনি বললেন, খানায়ে কা'বার ‘রবের’ কসম! ঐসব লোক ক্ষতিগ্রস্থ। আমি আরয করলাম, আমার মাতা-পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক, এসব লোক কারা? তিনি বললেন, যাদের ধন-সম্পদ বেশী তারা। তবে তারা এর মধ্যে গণ্য নয়, যারা এরূপ করে, এরূপ করে, এরূপ করে-অর্থাৎ নিজের আগে পিছে, ডানে-বামে নিজের মাল খরচ করে। এমন লোকের সংখ্যা কম। (বুখারী,মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৬৯

وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «السخي قريب من الله قريب من الجنة قريب من الناس بعيد من النار. والبخيل بعيد من الله بعيد من الجنة بعيد من الناس قريب من النار. ولجاهل سخي أحب إلى الله من عابد بخيل» . رواه الترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ দানশীল ব্যক্তি আল্লাহর নিকটবর্তী, জান্নাতের নিকটবর্তী, জনগনের নিকটবর্তী (সকলের কাছেই দানশীল ব্যক্তি প্রিয়) এবং জাহান্নাম থেকে দূরবর্তী। কিন্ত কৃপণ ব্যক্তি (যে অর্জিত ধনের হাক্ব আদায় করে না) সে আল্লাহর থেকে দূরে, জান্নাত থেকে দূরে, জনগণ থেকে দূরে এবং জাহান্নামের নিকটবর্তী। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলার নিকট আবিদ কৃপণ অপেক্ষা জাহিল দাতা অধিক প্রিয়। (তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৭০

وعن أبى سعيد الخدري قال: قال رسول الله ﷺ: «لأن يتصدق المرء فى حياته بدرهم خير له من أن يتصدق بمائة عند موته» . رواه أبو داود

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সুস্থ অবস্থায় আল্লাহর পথে কোন ব্যক্তির এক দিরহাম ব্যয় মৃত্যুর সময়ে একশত দিরহাম ব্যয় অপেক্ষা উত্তম। (আবূ দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৭১

وعن أبي الدرداء قال: قال رسول الله ﷺ: «مثل الذى يتصدق عند موته أو يعتق كالذي يهدى إذا شبع» . رواه أحمد والنسائي والدارمي والترمذي وصحح

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মৃত্যুর দুয়ারে এসে দান সদাক্বাহ্‌ অথবা গোলাম আযাদ করে তার দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির মতো, যে কাউকে পেট ভরা অবস্থায় (তুহফা, হাদিয়্যাহ্‌, খাবার) দান করে। (তিরমিযী, নাসায়ী, দারিমী; ইমাম তিরমিযী এ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৭২

وعن أبى سعيد قال: قال رسول الله ﷺ: خصلتان لا تجتمعان فى مؤمن: البخل وسوء الخلق. رواه الترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মু'মিনের মধ্যে দু'টি স্বভাব একত্রে জমা হতে পারে না, কৃপণতা এবং অসদাচরণ। (তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৭৩

وعن أبى بكر الصديق قال: قال رسول الله ﷺ: «لا يدخل الجنة خب ولا بخيل ولا منان» . رواه الترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ধোঁকাবাজ, কৃপণ এবং দান করে খোঁটা দানকারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। (তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৭৪

وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «شر ما في الرجل شح هالع وجبن خالع» . رواه أبو داود وسنذكر حديث أبى هريرة: «لا يجتمع الشح والإيمان» فى «كتاب الجهاد» إن شاء الله تعالى

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মানুষের মধ্যে যেসব স্বভাব পাওয়া যায় তার মধ্যে দু'টো স্বভাব সবচেয়ে গর্হিত। একটি হলো চিত্ত অস্থিরকারী কৃপণতা, আর দ্বিতীয়টা হলো ভীতিকর কাপুরুষতা। (আবূ দাঊদ) [১] আর আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি [আরবী] জিহাদ অধ্যায়ে আমরা বর্ণনা করব।


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية