মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৫৩
عن ابن الفراسي أن الفراسي قال: قلت لرسول الله ﷺ أسأل يا رسول الله؟ فقال النبي ﷺ: «لا وإن كنت لابد فسل الصالحين» . رواه أبو داود والنسائي
তিনি বলেন, (আমার পিতা) ফিরাসী(রাঃ) বলেছেন, আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট আরয করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি কি মানুষের কাছে হাত পাততে পারি? নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, না। (বরং সর্বাবস্থায়) আল্লাহর উপর ভরসা করবে। তবে (কোন কঠিন প্রয়োজনে) কিছু চাওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়লে নেক মানুষের কাছে চাইবে। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৫৪
وعن ابن الساعدي المالكيى أنه قال: استعملنى عمر بن الخطاب رضي الله عنهم على الصدقة فلما فرغت منها وأديتها إليه أمر لى بعمالة فقلت إنما عملت لله وأجرى على الله فقال خذ ما أعطيت فإني قد عملت على عهد رسول الله ﷺ فعملنى فقلت مثل قولك فقال لى رسول الله ﷺ: «إذا أعطيت شيئا من غير أن تسأل فكل وتصدق» . رواه مسلم وأبو داود
তিনি বলেন, উমার (রাঃ) আমাকে যাকাত আদায়কারী নিযুক্ত করলেন। আমি যাকাত আদায়ের কাজ শেষ করলাম। যাকাতের মাল ‘উমারের কাছে পৌঁছিয়ে দিলে তিনি আমাকে যাকাত আদায়ের বিনিময় গ্রহন করতে বললেন। (এ কথা শুনে ) আমি বললাম, এ কাজ শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য আমি করেছি। তাই এ কাজের বিনিময় আল্লাহর যিম্মায়। ‘উমার (রাঃ) বললেন, তোমাকে যা দেয়া হচ্ছে গ্রহন করো। কারণ আমিও রসূল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময় যাকাত আদায় করেছি। তিনি এর বিনিময় দিতে চাইলে আমিও এ কথাই বলেছিলাম, যা আজ তুমি বলছ। (তখন) রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলেছিলেন, যখন কোন জিনিস চাওয়া ছাড়া তোমাকে দেয়া হবে, তা গ্রহন করে খাবে। (আর খাবার পর যা তোমার নিকট বেঁচে থাকবে) তা আল্লাহর পথে খরচ করবে। (মুসলিম, আবূ দাঊদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৫৫
وعن علي أنه سمع يوم عرفة رجلا يسأل الناس فقال: أفي هذا اليوم: وفى هذا المكان تسأل من غير الله؟ فخفقه بالدرة. رواه رزين
তিনি ‘আরাফার দিন এক ব্যক্তিকে লোকজনের কাছে হাত পেতে কিছু চাইতে শুনলেন। তিনি তাকে বললেন, আজকের এই দিনে এই জায়গায় তুমি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে হাত পাতছো? তারপর তিনি তাকে চাবুক দিয়ে মারলেন। (রযীন)
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৫৬
وعن عمر قال: تعلمن أيها الناس أن الطمع فقر وأن الإياس غنى وأن المرء إذا يئس عن شيء استغنى عنه. رواه رزين
তিনি লোকদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হে লোকেরা! মনে রাখবে লোভ লালসা এক রকমের মুখাপেক্ষিতা । আর মানুষ থেকে অমুখাপেক্ষী থাকা, ধনী হবার লক্ষণ। মানুষ যখন অন্যের কাছে কিছু আশা করা ত্যাগ করে , তখন সে স্বনির্ভর হয়। (রযীন)
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৫৭
وعن ثوبان قال: قال رسول الله ﷺ: «من يكفل لي أن لا يسأل الناس شيئا فأتكفل له بالجنة؟» فقال ثوبان: أنا فكان لا يسأل أحدا شيئا. رواه أبو داود والنسائي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার বলেছেন, যে আমার সাথে এ ওয়া‘দা করবে যে, সে কারো কাছে ভিক্ষার হাত বাড়াবে না। আমি তার জন্য জান্নাতের ওয়া‘দা করতে পারি। সাওবান বলেন, আমি। ফলে তিনি কারো কাছে কোন কিছু চাইতেন না (বস্ততঃ সাওবান যত অভাবেই থাকুন, কারো কাছে আর কোনদিন হাত পাতেননি) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৫৮
وعن أبى ذر قال: دعانى رسول الله ﷺ وهو يشترط علي: «أن لا تسأل الناس شيئا» قلت: نعم. قال: «ولا سوطك إن سقط منك حتى تنزل إليه فتأخذه» . رواه أحمد
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (একদিন) ডেকে এনে আমার ওপর শর্তারোপ করে বললেন, তুমি কারো কাছে কোন কিছুর জন্য হাত পাতবে না। আমি বললাম, আচ্ছা। তারপর তিনি বললেন, এমনকি তোমার হাতের লাঠিটাও যদি পড়ে যায় কাউকে উঠিয়ে দিতে বলবে না। বরং তুমি নিজে নেমে তা উঠিয়ে নেবে।(আহমাদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৫৯
وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «لو كان لى مثل أحد ذهبا لسرنى أن لا يمر علي ثلاث ليال وعندى منه شيء إلا شيء أرصده لدين» . رواه البخاري
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার কাছে যদি উহুদ পাহাড় সমান সোনাও থাকে, ঋণের অংশ বাদে তা তিনদিন আমার কাছে জমা না থাকলেই আমি খুশি হব।(বুখারী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৬০
وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «ما من يوم يصبح العباد فيه إلا ملكان ينزلان فيقول أحدهما: اللهم أعط منفقا خلفا ويقول الاخر: اللهم أعط ممسكا تلفا». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রতিদিন ভোরে (আকাশ থেকে) দু’জন মালাক (ফেরেশতা) নেমে আসে। এদের একজন দু’আ করে ‘হে আল্লাহ! দানশীলকে তুমি বিনিময় দাও। আর দ্বিতীয় মালাক এ বদদু‘আ করে, হে আল্লাহ! কৃপণকে ক্ষতিগ্রস্ত করো। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৬১
وعن أسماء قالت: قال رسول الله ﷺ: «أنفقى ولا تحصى فيحصي الله عليك ولا توعى فيوعي الله عليك ارضخى ما استطعت». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (আল্লাহর রাস্তায়) খরচ করো। কিন্ত গুনে গুনে খরচ করো না। তাহলে আল্লাহ তোমাকে গুনে গুনে (নেকি) দিবেন। তোমরা জমা করে রেখ না। তাহলে আল্লাহ তা’আলা জমা করে রাখবেন। সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহর পথে খরচ করো। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৬২
وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: « قال الله تعالى: أنفق يا ابن ادم أنفق عليك». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, হে আদম সন্তান! ধন-সম্পদ দান করো, তোমাকেও দান করা হবে। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৬৩
وعن أبى أمامة قال: قال رسول الله ﷺ: «يا ابن ادم إن تبذل الفضل خير لك وإن تمسكه شر لك ولا تلام على كفاف وابدأ بمن تعول» . رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (মহান আল্লাহ বলেনঃ) হে আদম সন্তান! প্রয়োজনের অতিরিক্ত যে সম্পদ তোমার কাছে আছে তা খরচ করা তোমার জন্য (দুনিয়া ও আখিরাতে) কল্যাণকর। আর তা খরচ না করা হবে অকল্যাণকর। প্রয়োজন পরিমাণ ধন-সম্পদ (জমা করায়) দোষ নেই। তোমার প্রয়োজনের অতিরিক্ত ধন-সম্পদ ব্যয়ের কাজ নিজ পরিবার-পরিজন থেকে শুরু করো। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৬৪
وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «مثل البخيل والمتصدق كمثل رجلين عليهما جبتان من حديد قد اضطرت أيديهما إلى ثديهما وتراقيهما فجعل المتصدق كلما تصدق بصدقة انبسطت عنه حتى تغشى أنامله وتعفو أثره، وجعل البخيل كلما هم بصدقة قلصت وأخذت كل حلقة بمكانها». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কৃপণ ও দানশীল ব্যক্তির দৃষ্টান্ত এমন দু‘ব্যক্তির মতো যাদের শরীরে দু‘টি লোহার পোশাক রয়েছে। আর (এটার কারণে) এ দু‘জনের হাত তাদের সিনা হতে গর্দান পর্যন্ত লটকে আছে। এ অবস্থায় দানশীল ব্যক্তি যখন দান করতে চায় তখন তার বেড়ি সম্প্রসারিত হয়। এমনকি তাঁর হাতের আঙ্গুল পর্যন্ত আবৃত করে ফেলে এবং তার চিহ্ন মিটে যায়। কৃপণ ব্যক্তি দান করতে চাইলে তার বেড়ি সংকুচিত হয়ে এর প্রত্যেকটি কড়া নিজ নিজ স্থানে একটা আরেকটার সাথে আটকে যায়। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৬৫
وعن جابر قال: قال رسول الله ﷺ: «اتقوا الظلم فإن الظلم ظلمات يوم القيامة واتقوا الشح فإن الشح أهلك من كان قبلكم: حملهم على أن سفكوا دماءهم واستحلوا محارمهم». رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যুলম থেকে বেঁচে থাকবে, কারণ ক্বিয়ামাতের দিন যুলম অন্ধকারের ন্যায় গ্রাস করবে। আর কৃপণতা হতে বেঁচে থাকবে, কারণ কৃপণতা তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে ধ্বংস করেছে। এ কৃপণতাই তাদেরকে প্ররোচিত করেছে রক্তপাতের জন্য এবং হারাম কাজকে হালাল করার দিকে।(মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৬৬
وعن حارثة بن وهب قال: قال رسول الله ﷺ: «تصدقوا فإنه يأتى عليكم زمان يمشي الرجل بصدقته فلا يجد من يقبلها يقول الرجل: لو جئت بها بالأمس لقبلتها فأما اليوم فلا حاجة لى بها». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা সদাক্বাহ্ কর, কেননা এমন সময় আসবে যখন একলোক তার সদাক্বার মাল নিয়ে বের হবে কিন্ত তা গ্রহণ করার লোক পাওয়া যাবে না। বরং প্রত্যেক ব্যক্তিই বলবে, গতকাল তুমি যদি এ মাল নিয়ে আসতে, আমি গ্রহন করতাম। আজ এ সদাক্বার আমার কোনই প্রয়োজন নেই। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৬৭
وعن أبى هريرة قال: قال رجل: يا رسول الله أي الصدقة أعظم أجرا؟ قال: «أن تصدق وأنت صحيح شحيح تخشى الفقر وتأمل الغنى ولا تمهل حتى إذا بلغت الحلقوم قلت: لفلان كذا ولفلان كذا وقد كان لفلان». (متفق عليه)
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আরয করল, হে আল্লাহর রসূল! কোন দান মর্যাদার দিক দিয়ে সবচেয়ে বড়। তিনি বললেন, তুমি যখন সুস্থ-সবল থাকো এবং সম্পদের প্রতি আগ্রহ পোষণ করো, দারিদ্র্যের ভয় কর, ধন-সম্পদের মালিক হতে চাও, তখনকার দান সবচেয়ে বড়। তাই প্রাণ ওষ্ঠাগত হবার সময় পর্যন্ত দান করার অপেক্ষা করবে না। কারণ তখন তুমি বলতে থাকবে, এ মাল অমুকের, এ মাল অমুকের এবং এ মাল অমুকের। অথচ ততক্ষণে মালের মালিক অমুক হয়েই গেছে। (বুখারী মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৬৮
وعن أبى ذر قال: انتهيت إلى النبي ﷺ وهو جالس فى ظل الكعبة فلما رانى قال: «هم الأخسرون ورب الكعبة» فقلت: فداك أبى وأمى من هم؟ قال: «هم الأكثرون أموالا إلا من قال: هكذا وهكذا وهكذا من بين يديه ومن خلفه عن يمينه وعن شماله وقليل ما هم». (متفق عليه)
তিনি বলেন, একবার আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট গেলাম। এ সময় তিনি কা'বার ছায়ায় বসেছিলেন। আমাকে দেখে তিনি বললেন, খানায়ে কা'বার ‘রবের’ কসম! ঐসব লোক ক্ষতিগ্রস্থ। আমি আরয করলাম, আমার মাতা-পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক, এসব লোক কারা? তিনি বললেন, যাদের ধন-সম্পদ বেশী তারা। তবে তারা এর মধ্যে গণ্য নয়, যারা এরূপ করে, এরূপ করে, এরূপ করে-অর্থাৎ নিজের আগে পিছে, ডানে-বামে নিজের মাল খরচ করে। এমন লোকের সংখ্যা কম। (বুখারী,মুসলিম) [১]