প্রথম অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৩৭

عن قبيصة بن مخارق الهلالى قال: تحملت حمالة فأتيت رسول الله ﷺ أسأله فيها. فقال: «أقم حتى تأتينا الصدقة فنأمر لك بها» . قال ثم قال: «يا قبيصة إن المسألة لا تحل إلا لأحد ثلاثة رجل تحمل حمالة فحلت له المسألة حتى يصيبها ثم يمسك ورجل أصابته جائحة اجتاحت ماله فحلت له المسألة حتى يصيب قواما من عيش أو قال سدادا من عيش ورجل أصابته فاقة حتى يقوم ثلاثة من ذوي الحجى من قومه. لقد أصابت فلانا فاقة فحلت له المسألة حتى يصيب قواما من عيش أو قال سدادا من عيش فما سواهن من المسألة يا قبيصة سحتا يأكلها صاحبها سحتا» . رواه مسلم

তিনি বলেন,আমি ঋণগ্রস্ত হয়ে আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে এলাম। তার কাছে ঋণ আদায়ের জন্য কিছু চাইলাম। তিনি বললেন,অপেক্ষা করো। আমার কাছ যাকাতের মাল আসা পর্যন্ত আসলে তোমাকে কিছু দেবার জন্য বলে দেব। তারপর তিনি বললেন,ক্বাবীসাহ্! শুধু তিন ধরণের ব্যক্তির জন্য কিছু চাওয়া জায়িয। প্রথমতঃ যে ব্যক্তি অপরের ঋণের যামিনদার। তবে বেশী চাইতে পারবে না। বরং যতটুকুক ঋণ পরিশোধের জন্য প্রয়োজন শুধু ততটুকু চাইবে। এরপর আর চাইবে না। দ্বিতীয়তঃ ওই ব্যক্তি যে বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে (দুর্ভিক্ষ প্লাবন ইত্যাদিতে)। তার সব ধন-সম্পদ ধ্বংস হয়েছে। তারও (শুধু খাবার ও পোশাকের জন্য) ততটুকু যাতে প্রয়োজন মিটে যায়। তার জীবনের জন্য অবলম্বন হয়ে যায়। তৃতীয়তঃ ওই ব্যক্তি (যে ধনী,কিন্তু তার এমন কোন কঠিন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে যা মহল্লাবাসী জানে। যেমন ঘরের সব মালপত্র চুরি হয়ে গেছে অথবা অন্য কোন দুর্ঘটনার কারণে মুখাপেক্ষী হয়ে পড়েছে)। (মহল্লার) তিনজন বুদ্ধিমান সচেতন লোক এ ব্যাপারে সাক্ষ্য দিবে যে, সত্যিই এ ব্যক্তি মুখাপেক্ষী। তার জন্যও সেই পরিমাণ (সাহায্য) চাওয়া জায়িয, যাতে তার প্রয়োজন মিটে। অথবা তিনি বলেছেন এর দ্বারা তার মুখাপেক্ষিতা ও প্রয়োজন দূর হয়, তার জীবনে একটি অবলম্বন আসে। হে ক্ববীসাহ্! এ তিন প্রকারের ‘চাওয়া’ ছাড়া হালাল নয়। আর হারাম পন্থায় প্রাপ্ত মাল খাওয়া তার জন্য হারাম।(মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৩৮

وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «من سأل الناس أموالهم تكثرا فإنما يسأل جمرا. فليستقل أو ليستكثر» . رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে নিজের সম্পদ বৃদ্ধি করার উদ্দেশে মানুষের কাছে চেয়ে বেড়ায়, সে নিশ্চয় (জাহান্নামের) আগুন কামনা করে। (এটা জানার পর) সে কম বা অধিক চাইতে থাকুক। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৩৯

وعن عبد الله بن عمر قال: قال رسول الله ﷺ: «ما يزال الرجل يسأل الناس حتى يأتي يوم القيامة ليس في وجهه مزعة لحم». (متفق عليه)

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি সর্বদা মানুষের কাছে হাত পাততে থাকে ক্বিয়ামাতের দিন সে এমনভাবে উঠবে যে, তখন তার মুখমণ্ডলে গোশ্‌ত থাকবে না। (বুখারী, মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৪০

وعن معاوية قال: قال رسول الله ﷺ: «لا تلحفوا في المسألة فوالله لا يسألنى أحد منكم شيئا فتخرج له مسألته مني شيئا وأنا له كاره فيبارك له فيما أعطيته» . رواه مسلم

তিনি বলেন,রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কিছু চাইতে গিয়ে বাড়াবাড়ি করো না। আল্লাহর কসম! তোমাদের যে ব্যক্তিই আমার কাছে (অতিরঞ্জিত করে) কিছু চায় (তখন) আমি তাকে কিছু দিয়ে দেই। (তবে) আমি তা দেয়া খারাপ মনে করি। ফলে এটা কি করে সম্ভব যে, আমি তাকে যা কিছুই দিয়ে দেই তাতে বারাকাত হবে? (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৪১

وعن الزبير بن العوام قال: قال رسول الله ﷺ: «لأن يأخذ أحدكم حبله فيأتي بحزمة حطب على ظهره فيبيعها فيكف الله بها وجهه خير له من أن يسأل الناس أعطوه أو منعوه» . رواه البخاري

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ এক আঁটি লাকড়ি রশি দিয়ে বেঁধে পিঠে বহন করে এবং তা বিক্রি করে। আল্লাহ তা’আলা এ কাজের দ্বারা তার ইয্‌যত সম্মান বহাল রাখেন (যা ভিক্ষা করার মাধ্যমে চলে যায়)। এ কাজ মানুষের কাছে হাত পাতা অপেক্ষা তার জন্য অনেক উত্তম। মানুষ তাকে কিছু দিতে পারে আবার নাও দিতে পারে। (বুখারী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৪২

وعن حكيم بن حزام قال: سألت رسول الله ﷺ فأعطانى ثم سألته فأعطانى ثم قال لى: «يا حكيم إن هذا المال خضر حلو فمن أخذه بسخاوة نفس بورك له فيه ومن أخذه بإشراف نفس لم يبارك له فيه. وكان كالذى يأكل ولا يشبع واليد العليا خير من اليد السفلى» . قال حكيم: فقلت: يا رسول الله والذى بعثك بالحق لا أرزأ أحدا بعدك شيئا حتى أفارق الدنيا. (متفق عليه)

তিনি বলেন, একবার আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে চাইলাম। তিনি আমাকে কিচু দিলেন। আমি পুনরায় চাইলে তিনি আবার দিলেন। তারপর তিনি আমাকে বললেন, হে হাকীম! এ মাল সবুজ সতেজ ও মিষ্ট (অর্থাৎ দেখতে সুন্দর, হৃদয়কে তৃপ্তি দেয়)। তাই যে ব্যক্তি এ মাল হাত না পেতে ও লোভ-লালসা ছাড়া পায় তাতে বারাকাত দান করা হয়। আর যে ব্যক্তি তা হাত পেতে লোভ লালসা দিয়ে অর্জন করে তাতে বারাকাত দেয়া হয় না। তার অবস্থা ওই ব্যক্তির মতো, যে খাবার খায় কিন্তু পেট ভরে না। (মনে রাখবে) উপরের হাত অর্থাৎ দানকারীর হাত নীচের হাত (দান গ্রহণকারীর হাত) হতে অনেক উত্তম। হাকীম (রাঃ) বলেন, আমি (তখন) বললাম, হে আল্লাহর রসূল! ওই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যের বাণী দিয়ে পাঠিয়েছেন। আজ থেকে আমি মৃত্যু পর্যন্ত কারো মাল থেকে কিছু কামনা করব না। মৃত্যু পর্যন্ত কখনো কারো কাছে কিছু চাইব না। (বুখারী,মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৪৩

وعن ابن عمر أن رسول الله ﷺ قال وهو على المنبر وهو يذكر الصدقة والتعفف عن المسألة: «اليد العليا خير من اليد السفلى واليد العليا هي المنفقة واليد السفلى هي السائلة». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে সদাক্বাহ্ এবং (মানুষের কাছে) হাত পাতা হতে বিরত থাকার বিষয়ে উল্লেখ করে। তিনি বলেন, উপরের হাত নীচের হাত অপেক্ষা উত্তম। উপরের হাত দাতা আর নীচের হাত গ্রহীতা (ভিক্ষুক)। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৪৪

وعن أبى سعيد الخدري قال: إن أناسا من الأنصار سألوا رسول الله ﷺ فأعطاهم ثم سألوه فأعطاهم حتى نفد ما عنده. فقال: «ما يكون عندى من خير فلن أدخره عنكم ومن يستعف يعفه الله ومن يستغن يغنه الله ومن يتصبر يصبره الله وما أعطي أحد عطاء هو خير وأوسع من الصبر». (متفق عليه)

তিনি বলেন, (একদিন) কিছু আনসার ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট কিছু চাইলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে কিছু দিলেন তারা আবার চাইলে তিনি আবারো দিলেন। এমনকি তাঁর কাছে যা ছিল তা শেষ হয়ে গেল। তারপর তিনি বললেন, আমার কাছে যে সম্পদ আসবে তা আমি তোমাদেরকে না দিয়ে বাঁচিয়ে রেখে ধনের স্তুপ বানিয়ে রাখব না। মনে রাখবে, যে ব্যক্তি মানুষের কাছে চাওয়া হতে বিরত থাকে, আল্লাহ তা’আলা তাঁকে মানুষের মুখাপেক্ষী হওযা থেকে বাঁচিয়ে রাখেন, তাকে মানুষের মুখাপেক্ষী করেন না। আর যে ব্যক্তি অপরের সম্পদের অমুখাপেক্ষী হয়, আল্লাহ তাকে অমুখাপেক্ষী করেন। যে ব্যক্তি সবরের প্রত্যাশী হয়; আল্লাহ তাকে ধৈর্য্যধারণের শক্তি দান করেন। মনে রাখবে, সবরের চেয়ে বেশী উত্তম ও প্রশস্ত আর কোন কিছু দান করা হয়নি। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৪৫

وعن عمر بن الخطاب قال: كان النبي ﷺ يعطيني العطاء فأقول: أعطه أفقر إليه منى. فقال: «خذه فتموله وتصدق به فما جاءك من هذا المال وأنت غير مشرف ولا سائل فخذه. ومالا فلا تتبعه نفسك». (متفق عليه)

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে (যাকাত উসূল করার বিনিময়ে) কিছু দিতে চাইলে আমি নিবেদন করতাম, এটা যে, আমার চেয়ে বেশী অভাবী তাকে দিন। (এ কথার জবাবে) তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন, (প্রয়োজন থাকলে) এটাকে তোমার মালের সাথে শামিল করে নাও। (আর যদি প্রয়োজনের বেশী হয়) তাহলে তুমি নিজে তা আল্লাহর পথে দান করে দাও। তিনি (আরো বলেন, লোভ লালসা ও হাত না পেতে) যে জিনিস তুমি লাভ করবে, তা গ্রহণ করবে। আর যা এভাবে আসবে না তার পিছে লেগে থেক না। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৪৬

عن سمرة بن جندب قال: قال رسول الله ﷺ: «المسائل كدوح يكدح بها الرجل وجهه فمن شاء أبقى على وجهه ومن شاء تركه إلا أن يسأل الرجل ذا سلطان أو فى أمر لا يجد منه بدا» . رواه أبو داود والترمذي والنسائي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: পরের কাছে হাত পাতা একটি রোগ, যার দ্বারা মানুষ নিজের মুখকে রোগাক্রান্ত করে। যে ব্যক্তি (নিজের মান সম্মান) অক্ষুণ্ন রাখতে চায় সে যেন (হাত পাততে) লজ্জা অনুভব করে, মান ইয্‌যত রক্ষা করে। আর যে ব্যক্তি (মান ইয্‌যত) অক্ষুণ্ন রাখতে চায় না সে মানুষের কাছে হাত পেতে নিজের মান সম্মানকে ভূলুণ্ঠিত করতে পারে। তবে মানুষ রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হাত পাততে পারে। অথবা এমন সময়ে (কারো কাছে) কিছু চাইবে যা চাওয়া খুবই প্রয়োজন। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৪৭

وعن عبد الله بن مسعود قال: قال رسول الله ﷺ: من سأل الناس وله ما يغنيه جاء يوم القيامة ومسألته في وجهه خموش أو خدوش أو كدوح» . قيل يا رسول الله وما يغنيه؟ قال: «خمسون درهما أو قيمتها من الذهب . رواه أبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه والدارمي

তিনি বলেন, রাসুলুললাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি স্বাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও মানুষের নিকট হাত পাতে , তাকে ক্বিয়ামাতের দিন এ অবস্থায় উঠানো হবে যে, এ অভ্যাস তার মুখের উপর ‘খুমূশ’ ‘খুদূশ’ অথবা ‘কুদূহ’ রূপে প্রকাশ পাবে। নিবেদন করা হলো , হে আল্লাহর রসূল ! কি পরিমান সম্পদ তাকে অমুখাপেক্ষী করবে? তিনি বললেন, পঞ্চাশ দিরহাম অথবা এ মূল্যের সোনা। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ, দারিমী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৪৮

وعن سهل بن الحنظلية قال: قال رسول الله ﷺ: «من سأل وعنده ما يغنيه فإنما يستكثر من النار» . قال النفيلي. وهو أحد رواته في موضع اخر: وما الغنى الذى لا ينبغى معه المسألة؟ قال: «قدر ما يغديه ويعشيه» . وقال فى موضع اخر: «أن يكون له شبع يوم أو ليلة ويوم» . رواه أبو داود

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ অমুখাপেক্ষী থাকার মত সম্পদের মালিক হয়েও যে ব্যক্তি মানুষের কাছে হাত পাতে, সে মূলত বেশী আগুন চায়। এ হাদিসের এক বর্ণনাকারী নুফায়লী অন্য এক স্থানে বর্ণনা করেছেন যে, রসূলের কাছে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কি পরিমান সম্পদ থাকলে অন্য কারো কাছে কিছু চাওয়া সমীচীন হবে না। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, সকাল সন্ধ্যার পরিমান খাদ্য মজুদ থাকলে। নুফায়লী অন্য এক স্থানে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বরাতে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, তার কাছে একদিন অথবা একদিন এক রাতের পরিমান খাদ্য মওজুদ থাকলে। অথবা বর্ণনাকারীর সন্দেহ, তিনি শুধু একদিনের কথা বলেছেন। (আবূ দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৪৯

وعن عطاء بن يسار عن رجل من بنى أسد قال: قال رسول الله ﷺ: «من سأل منكم وله أوقية أو عدلها فقد سأل إلحافا» . رواه مالك وأبو داود والنسائي

যে, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এক উক্বিয়্যাহ্ পরিমাণ (অর্থাৎ চল্লিশ দিরহাম) অথবা এর সমমূল্যের (সোনা ইত্যাদি ) মালিক হওয়ার পরও মানুষের কাছে হাত পাতে, সে যেন বিনা প্রয়োজনে (মানুষের কাছে) হাত পাতল। (মালিক, আবূ দাঊদ ও নাসায়ী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৫০

وعن حبشي بن جنادة قال : قال رسول الله ﷺ: «إن المسألة لا تحل لغني ولا لذى مرة سوي إلا لذى فقر مدقع أو غرم مفظع ومن سأل الناس ليثري به ماله: كان خموشا في وجهه يوم القيامة ورضفا يأكله من جهنم فمن شاء فليقل ومن شاء فليكثر». رواه الترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কারো কাছে কিছু চাওয়া ধনী, সুস্থ সবল ও সুস্থ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সম্পন্ন লোকের জন্য হালাল নয়। তবে ঐ ফকিরের জন্য তা হালাল, যে ক্ষুধা পিপাসার কারনে মাটিতে পড়ে গেছে। এভাবে ওই ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জন্যও হাত পাতা হালাল যে ভারী ঋণের বোঝায় জর্জরিত। মনে রাখবে যে ব্যক্তি শূধু সম্পত্তি বাড়াবার জন্য মানুষের কাছে ঋণ চায়, তার এ চাওয়া ক্বিয়ামতের দিন আহতের চিহ্নরূপে তার মুখে ভেসে উঠবে। তাছাড়াও জাহান্নামে তার খাদ্য হিসেবে গরম পাথর দেয়া হবে। অতএব যার ইচ্ছা সে কম হাত পাতুক অথবা বেশী হাত পাতুক। (তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৫১

وعن أنس بن مالك: أن رجلا من الأنصار أتى النبي ﷺ يسأله فقال: «أما فى بيتك شيء؟» قال بلى حلس نلبس بعضه ونبسط بعضه وقعب نشرب فيه من الماء. قال: «ائتنى بهما» قال فأتاه بهما فأخذهما رسول الله ﷺ بيده وقال: «من يشترى هذين؟» قال رجل أنا اخذهما بدرهم قال: «من يزيد على درهم؟» مرتين أو ثلاثا قال رجل أنا اخذهما بدرهمين فأعطاهما إياه وأخذ الدرهمين فأعطاهما الأنصاري وقال: «اشتر بأحدهما طعاما فانبذه إلى أهلك واشتر بالاخر قدوما فأتنى به» . فأتاه به فشد فيه رسول الله ﷺ عودا بيده ثم قال له «اذهب فاحتطب وبع ولا أرينك خمسة عشر يوما». فذهب الرجل يحتطب ويبيع فجاء وقد أصاب عشرة دراهم فاشترى ببعضها ثوبا وببعضها طعاما فقال رسول الله ﷺ: «هذا خير لك من أن تجيء المسألة نكتة فى وجهك يوم القيامة إن المسألة لا تصلح إلا لثلاثة لذى فقر مدقع أو لذى غرم مفظع أو لذى دم موجع» . رواه أبو داود وروى ابن ماجه إلى قوله: «يوم القيامة

তিনি বলেন, একদিন আনসারের এক ব্যক্তি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে এসে তাঁর কাছে কিছু চাইলেন। তিনি বললেন, ‘তোমার ঘরে কি কোন জিনিস নেই?’ লোকটি বলল, একটি কমদামী কম্বল আছে। এটার একাংশ আমি গায়ে দেই, আর অপর অংশ বিছিয়ে নিই। এছাড়া কাঠের একটি পেয়ালা আছে। এ দিয়ে আমি পানি পান করি।’ রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ দু’টো জিনিস আমার কাছে নিয়ে এসো। লোকটি এ জিনিস দু‘টি নাবীর কাছে নিয়ে এলো। জিনিসটি নিজের হাতে নিয়ে নাবীজী বললেন এ দু’টি কে কিনবে? এক ব্যক্তি বলল, আমি এক দিরহামের বিনিময়ে কিনতে প্রস্তুত। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বললেনঃ এক দিরহামের বেশী দিয়ে কে কিনতে চাও? এ কথাটি তিনি ‘দু’ কি তিনবার’ বললেন। (এ সময়) এক ব্যক্তি দু’ দিরহাম বললে তিনি দু’ দিরহাম নিয়ে আনসারীকে দিয়ে দিলেন। অতঃপর তাকে বললেন, এ এক দিরহাম দিয়ে খাদ্য কিনে পরিবারের লোকজন কে দিবে। দ্বিতীয় দিরহামটি দিয়ে একটি কুঠার কিনে আমার কাছে আসবে। সে ব্যক্তি কুঠার কিনে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এলো। তিনি নিজ হাতে কুঠারের একটি মজবুত হাতল লাগিয়ে দিয়ে তাকে বললেন, এটা দিয়ে লাকড়ী কেটে বিক্রি করবে। এরপর আমি এখানে তোমাকে পনের দিন যেন দেখতে না পাই। লোকটি চলে গেল। বন থেকে লাকড়ী কেটে জমা করে (বাজারে) এনে বিক্রি করতে লাগল। (কিছু দিন পর) সে যখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ফিরে এলো তখন সে দশ দিরহামের মালিক। এ দিরহামের কিছু দিয়ে সে কিছু কাপড়-চোপড় কিনল আর কিছু দিয়ে খাদ্যশস্য কিনল। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (তার অবস্থার এ পরিবর্তন দেখে)বললেন, ক্বিয়ামতের দিন ভিক্ষাবৃত্তি তোমার চেহারায় ক্ষত চিহ্ন হয়ে ওঠার চেয়ে এ অবস্থা কি উত্তম নয়?(মনে রাখবে), শুধু তিন ধরনের লোক হাত পাততে পারে, ভিক্ষা করতে পারে। প্রথমতঃ ফকীর যাকে কপর্দকহীনতা মাটিতে শুইয়ে দিয়েছে। দ্বিতীয়তঃ ঋণগ্রস্থ ব্যক্তি যে ভারী ঋণে লাঞ্ছিত হবার পর্য়ায়ে। তৃতীয়তঃ রক্তপন আদায়কারী, যা তার যিম্মায় আছে (অথচ তার সামর্থ্য নেই)। (আবূ দাঊদ; ইবনু মাজাহ এ হাদিসটি ‘ইলা-ইয়াওমিল ক্বিয়া-মাহ্’ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৫২

وعن ابن مسعود قال: قال رسول الله ﷺ: «من أصابته فاقة فأنزلها بالناس لم تسد فاقته. ومن أنزلها بالله أوشك الله له بالغنى إما بموت عاجل أو غنى اجل». رواه أبو داود والترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কঠিন অভাবে জর্জরিত, সে মানুষের সামনে প্রয়োজন পূরনের ইচ্ছা প্রকাশ করলে এ অভাব দূর হবেনা। আর যে ব্যক্তি তার অভাবের কথা শুধু আল্লাহর কাছে বলে, আল্লাহই তার জন্য যথেস্ট। হয় তাকে তাড়াতাড়ি মৃত্যু দিয়ে অভাব থেকে মুক্তি দিবেন অথবা তাকে কিছুদিনের মধ্যে ধনী বানিয়ে দিবেন। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী) [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية