মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮২৯
عن أبى رافع أن رسول الله ﷺ بعث رجلا من بنى مخزوم على الصدقة فقال لأبى رافع: اصحبنى كيما تصيب منها. فقال: لا حتى أتى رسول الله ﷺ فأسأله. فانطلق إلى النبي ﷺ فسأله فقال: «إن الصدقة لا تحل لنا وإن موالي القوم من أنفسهم» . رواه الترمذي وأبو داود والنسائي
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বানী মাখযুম-এর এক ব্যক্তিকে যাকাত আদায়কারী করে পাঠালেন। যাবার সময় সে ব্যক্তি আবূ রাফি’কে বলল, আপনিও আমার সাথে চলুন। এতে কিছু অংশ আপনিও পেয়ে যাবেন। আবূ রাফি’ বললেন, না, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস না করে আমি যেতে পারি না। তাই তিনি তাঁর কাছে গেলেন। তাঁকে তার সাথে যাবার অনুমতি চাইলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ সদাক্বাহ্ আমাদের (বানী হাশিমের) জন্য হালাল নয়। আর কোন গোত্রের দাস তাদের মধ্যেই গণ্য (তুমি তো আমাদেরই দাস)। (তিরমিযী,আবূ দাঊদ,নাসায়ী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৩০
وعن عبد الله بن عمرو قال: قال رسول الله ﷺ: «لا تحل الصدقة لغني ولا لذى مرة سوي» . رواه الترمذي وأبو داود والدارمي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যাকাতের মাল ধনীদের জন্য হালাল নয়, সুস্থ সবলদের (খেটে খেতে সক্ষম) জন্যও নয়। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, দারিমী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৩১
ورواه أحمد والنسائي وابن ماجه عن أبى هريرة
এ হাদীসটিকে আহ্মাদ, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ আবূ হুরায়রাহ্ হতে বর্ণনা করেছেন। ।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৩২
وعن عبيد الله بن عدي بن الخيار قال: أخبرنى رجلان أنهما أتيا النبي ﷺ وهو فى حجة الوداع وهو يقسم الصدقة فسألاه منها فرفع فينا النظر وخفضه فرانا جلدين فقال: «إن شئتما أعطيتكما ولا حظ فيها لغني ولا لقوي مكتسب» . رواه أبو داود والنسائي
তিনি বলেন, আমাদেরকে দু’ব্যক্তি জানিয়েছেন যে, বিদায় হাজ্জে মানুষের মধ্যে যাকাতের মাল বণ্টন করার সময় তারা উভয়ে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে উপস্থিত ছিলেন। তারা এ মালের কিছু অংশ নেবার জন্য আগ্রহ দেখান। দু’জন বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (যাকাত নেবার আগ্রহ দেখে) আমাদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত চোখ বুলালেন। আমাদেরকে সুস্থ সবল দেখে বললেন, তোমরা যাকাত নিতে চাইলে আমি দিতে পারি। (কিন্তু মনে রাখবে,) সদাক্বাহ্ ও যাকাতের সম্পদে ধনীদের কোন অংশ নেই। আর সুস্থ সবল এবং পরিশ্রম করতে সক্ষম লোকদের জন্য সদাক্বাহ্ ও যাকাত নয়। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৩৩
وعن عطاء بن يسار مرسلا قال: قال رسول الله ﷺ: «لا تحل الصدقة لغني إلا لخمسة: لغاز فى سبيل الله أو لعامل عليها أو لغارم أو لرجل اشتراها بماله أو لرجل كان له جار مسكين فتصدق على المسكين فأهدى المسكين للغني». رواه مالك وأبو داود
‘আত্বা ইবনু ইয়াসার মুরসাল পদ্ধতিতে বর্ননা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ধনী লোকের জন্য যাকাতের মাল হালাল নয়। তবে পাঁচ অবস্থায় (১) আল্লাহর পথে জিহাদকারী ধনী [যখন কাছে যুদ্ধ সরঞ্জাম নেই] (২) যাকাত আদায়ে নিযুক্ত ধনী, (৩) জরিমানার হুকুমপ্রাপ্ত ধনী [যা তাকে পরিশোধ করতে হবে। অথচ ঐ সময় এ পরিমাণ সম্পদ তার নেই], (৪) নিজ মালের পরিবর্তে যাকাতের মাল ক্রয়কারী ধনী, (৫) আর ওই ধনীর জন্যও হালাল, যার প্রতিবেশী যাকাতের মাল পেয়ে প্রতিবেশী ধনী ব্যক্তিকে কিছু তোহফা দিয়েছে। (মালিক,আবূ দাঊদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৩৪
وفى رواية لأبى داود عن أبى سعيد: أوابن السبيل
অথবা ইবনুস্ সাবীল অর্থাৎ বিপদগ্রস্ত মুসাফির ধনীও।।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৩৫
وعن زياد بن الحارث الصدائي قال: أتيت النبي ﷺ فبايعته فذكر حديثا طويلا فأتاه رجل فقال: أعطنى من الصدقة. فقال له رسول الله ﷺ: «إن الله لم يرض بحكم نبي ولا غيره فى الصدقات حتى حكم فيها هو فجزأها ثمانية أجزاء فإن كنت من تلك الأجزاء أعطيتك» . رواه أبو داود
তিনি বলেন,আমি একবার নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে গেলাম। তাঁর হাতে আমি বায়’আত গ্রহণ করলাম। এরপর যিয়াদ একটি বড় হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে বললেন,এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে তাঁকে বলতে লাগলেন,আমাকে যাকাতের মাল থেকে কিছু দান করুন। তিনি বললেন,আল্লাহ যাকাত (বণ্টন করার ব্যাপারে কাকে দেয়া যাবে) তা নাবীকে বা অন্য কাউকে কোন হুকুম দিতে রাজী হননি,বরং তিনি নিজে তা আটভাগে ভাগ করেছেন। তুমি যদি এ (আট) ভাগের কোন ভাগে পড়ো আমি তোমাকেও যাকাত দিব।(আবূ দাঊদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮৩৬
عن زيد بن أسلم قال: شرب عمر بن الخطاب لبنا فأعجبه فسأل الذي سقاه: من أين هذا اللبن؟ فأخبره أنه ورد على ماء قد سماه فإذا نعم من نعم الصدقة وهم يسقون فحلبوا من ألبانها فجعلته فى سقائي فهو هذا: فأدخل عمر يده فاستقاءه. رواه مالك والبيهقي فى شعب الإيمان
তিনি বলেন,(একদিন) আমীরুল মু’মিনীন ‘উমার ফারূক (রাঃ) দুধ পান করলেন। তা তার খুব ভাল লাগলো। দুধ পরিবেশণকারীকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন,এ দুধ তুমি কোত্থেকে এনেছ? সে একটি কুয়ার নাম উল্লেখ করে বলল,ওখানে গিয়ে দেখে যাকাতের অনেক উটকে পানি পান করানো হচ্ছে। উটের মালিকগণ দুধ দোহন করলে এর থেকে সামান্য দুধ নিয়ে আমি আমার মশকে ঢেলে নিয়েছি। এ সে দুধ। এ কথা শুনামাত্র ‘উমার (রাঃ) নিজের মুখে হাত ঢুকিয়ে বমি করে দিলেন। (মালিক,বায়হাক্বী) [১]