মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮১৯
عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده أن النبي ﷺ بعث مناديا فى فجاج مكة: «ألا إن صدقة الفطر واجبة على كل مسلم ذكر أو أنثى حر أو عبد صغير أو كبير مدان من قمح أو سواه أو صاع من طعام» . رواه الترمذي
‘আম্র ইবনু শু’আয়ব তার পিতা ও তার দাদা পরম্পরায় বর্ণিত। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (একবার) মাক্কায় অলি-গলিতে ঘোষণা করিয়ে দিলেন, জেনে রেখ, প্রত্যেক মুসলিম নারী-পুরুষ, আযাদ-গোলাম, ছোট-বড়, সকলের ওপর দু’ ‘মুদ’ গম বা এছাড়া অন্য কিছু বা এক সা’ খাবার সদাক্বায়ে ফিত্র দেয়া বাধ্যতামূলক। (তিরমিযী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮২০
وعن عبد الله بن ثعلبة أو ثعلبة بن عبد الله بن أبى صعير عن أبيه قال: قال رسول الله ﷺ: «صاع من بر أو قمح عن كل اثنين صغير أو كبير حر أو عبد ذكر أو أنثى. أما غنيكم فيزكيه الله. وأما فقيركم فيرد عليه أكثر ما أعطاه» . رواه أبو داود
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এক সা’গম প্রত্যেক দু’ ব্যক্তির পক্ষ হতে। ছোট কিংবা বড়, আযাদ গোলাম, পুরুষ অথবা নারী। তোমাদের মধ্যে যে ধনী তাকে আল্লাহ এর দ্বারা পবিত্র করবেন। কিন্তু যে গরীব তাকে আল্লাহ ফেরত দেবেন, যা সে দিয়েছিল তার চেয়ে অধিক। (আবু দাউদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮২১
عن أنس قال: مر النبي ﷺ الله عليه وسلم بتمرة في الطريق فقال: «لولا أنى أخاف أن تكون من الصدقة لأكلتها. (متفق عليه)
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন পথে পড়ে থাকা একটি খেজুরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ খেজুর যাকাত বা সদাক্বাহ্ হবার সন্দেহ না থাকলে আমি উঠিয়ে খেয়ে নিতাম। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮২২
وعن أبى هريرة قال: أخذ الحسن بن علي تمرة من تمر الصدقة فجعلها فى فيه فقال النبي ﷺ: «كخ كخ» ليطرحها ثم قال: «أما شعرت أنا لا نأكل الصدقة؟». (متفق عليه)
একবার নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নাতি হাসান ইবনু ‘আলী সদাক্বার খেজুর হতে একটি খেজুর উঠিয়ে মুখে পুরলেন। (তা দেখে) নাবী বললেন, খেজুরটি মুখ থেকে বের করে ফেলো। (তিনি এ কথাটি এভাবে বললেন যেন হাসান তা মুখ থেকে বের করে ফেলে দেয়)। তারপর তিনি তাঁকে বললেন, তুমি কি জান যে, আমরা (বানী হাশিম) সদাক্বার মাল খেতে পারি না। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮২৩
وعن عبد المطلب بن ربيعة قال: قال رسول الله ﷺ: «إن هذه الصدقات إنما هي أوساخ الناس وإنها لا تحل لمحمد ولا لال محمد» . رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এ সদাক্বাহ্ অর্থাৎ যাকাত মানুষের সম্পদের ময়লা ব্যতীত কিছু নয়। তাই এটা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য এবং তাঁর বংশধরদের জন্যও হালাল নয়। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮২৪
وعن أبى هريرة قال: كان رسول الله ﷺ إذا أتي بطعام سأل عنه: «أهدية أم صدقة؟» فإن قيل: صدقة: قال لأصحابه: «كلوا» ولم يأكل وإن قيل: هدية ضرب بيده فأكل معهم. (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট কোন খাবার এলে তিনি জিজ্ঞেস করতেন, এটা হাদিয়্যাহ্ না সদাক্বাহ্? ‘সদাক্বাহ্’ বলা হলে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাথীদেরকে বলতেন, তোমরা খাও। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজে খেতেন না। আর ‘হাদিয়্যাহ্’ বলা হলে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর হাত বাড়াতেন ও সাহাবীদেরকে সাথে নিয়ে খেতেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮২৫
وعن عائشة رضي الله عنها قالت: كان في بريرة ثلاث سنن: إحدى السنن أنها عتقت فخيرت في زوجها وقال رسول الله ﷺ: «الولاء لمن أعتق» . ودخل رسول الله ﷺ والبرمة تفور بلحم فقرب إليه خبز وأدم من أدم البيت فقال: «ألم أر برمة فيها لحم؟» قالوا: بلى ولكن ذلك لحم تصدق به على بريرة وأنت لا تأكل الصدقة قال: «هو عليها صدقة ولنا هدية». (متفق عليه)
তিনি বলেন, বারীরাহ্ (ক্রীতদাসীর) ব্যাপারে তিনটি নির্দেশনা দেয়া হয়।(প্রথম) সে স্বাধীন হবে, তার স্বামীর সাথে বিবাহ সম্পর্ক বহাল রাখা বা না রাখার ক্ষেত্রে তার স্বাধীনতা থাকবে। (দ্বিতীয়) রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ মীরাসের অধিকার তারই থাকবে, যে তাকে আযাদ করেছে। (তৃতীয়) [একদিন] রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘরে এলেন। তখন গোশ্ত রান্না করা হচ্ছিল। ঘরে বানানো রুটি ও তরকারী তাঁর সামনে আনা হলে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি একটি পাতিলে গোশ্ত দেখলাম। বলা হলো, জি হ্যাঁ। তবে এ গোশ্ত বারীরাকে সদাক্বাহ দেয়া হয়েছে, আপনি তো সদাক্বাহ খান না। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এ গোশ্ত বারীরার জন্য সদাক্বাহ্ হলে আমাদের জন্য হাদিয়্যাহ্। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮২৬
وعن عائشة رضي الله عنها قالت: كان رسول الله ﷺ يقبل الهدية ويثيب عليها. رواه البخاري
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদিয়্যাহ্ গ্রহণ করতেন এবং বিনিময়ে তিনি তাকেও (হাদিয়্যাহ্) দিতেন। (বুখারী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮২৭
وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «لو دعيت إلى كراع لأجبت ولو أهدي إلي ذراع لقبلت» . رواه البخاري
তিনি বলেন,রসূলুললাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমাকে যদি বকরীর একটি খুরের জন্যও দা’ওয়াত দেয়া হয় আমি তা গ্রহণ করব। আর আমার কাছে যদি হাদিয়্যাহ্ হিসেবে ছাগলের একটি বাহুও আসে তাও গ্রহণ করব। (বাখারী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮২৮
وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «ليس المسكين الذى يطوف على الناس ترده اللقمة واللقمتان والتمرة والتمرتان ولكن المسكين الذى لا يجد غنى يغنيه ولا يفطن به فيتصدق عليه ولا يقوم فيسأل الناس». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সে ব্যক্তি মিসকীন নয়,যে লোকের কাছে হাত পাতে। আর তারা তাকে এক বা দু’মুষ্টি অথবা একটি কি দু’টি খেজুর দান করে। বরং মিসকীন ওই ব্যক্তি যে কদর্পকহীন। কিন্তু তার বাহ্যিক বেশভূষার কারণে মানুষেরা বুঝতে পারে না সে মুখাপেক্ষী। তাকে সদাক্বাহ্ দেয়া যায়। আর সেও কোন কিছুর জন্য লোকদের কাছে হাত বাড়াতে পারে না। (বুখারী, মুসলিম) [১]