দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৯৯

عن علي قال: قال رسول الله ﷺ: «قد عفوت عن الخيل والرقيق فهاتوا صدقة الرقة: من كل أربعين درهما درهم وليس في تسعين ومائة شيء فإذا بلغت مائتين ففيها خمسة دراهم». رواه الترمذي وأبو داود . وفى رواية لأبى داود عن الحارث عن علي قال زهير أحسبه عن النبي ﷺ أنه قال: «هاتوا ربع العشر من كل أربعين درهما درهم وليس عليكم شيء حتى تتم مائتي درهم. فإذا كانت مائتى درهم ففيها خمسة دراهم. فما زاد فعلى حساب ذلك. وفي الغنم فى كل أربعين شاة شاة إلى عشرين ومائة فإن زادت واحدة فشاتان إلى مائتين. فإن زادت فثلاث شياه إلى ثلاثمائة فإذا زادت على ثلاث مائة ففي كل مائة شاة. فإن لم تكن إلا تسع وثلاثون فليس عليك فيها شيء. وفي البقر: في كل ثلاثين تبيع وفي الأربعين مسنة وليس على العوامل شيء

তিনি বলেন, রসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি ঘোড়া ও গোলামের যাকাত মাফ করে দিয়েছি। তোমরা ৪০ দিরহাম রূপায় ১ দিরহাম রূপা যাকাত আদায় কর (যদি রুপার নিসাবের পরিমান ২০০ দিরহাম হয়)। কারণ-১৯০ দিরহাম পর্যন্ত বা ২০০ দিরহামের কম রুপার যাকাত ফার্‌য হয়না। ২০০ দিরহাম রুপা হলে ৫ দিরহাম যাকাত দিতে হবে। তিরমিযী, আবু দাউদ; আবু দাউদ হারিসুল আ’ওয়ার হতে ‘আলীর এ বর্ণনাটি নকল করেছেন যে, যুহায়র বলেছেন, ‘আলী নাবি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বরাতে বলেছেন, ৪০ দিরহামে ১ দিরহাম (৪০ ভাগের ১ ভাগ) আদায় করো। আর ২০০ দিরহাম পূর্ণ না হলে কোন কিছু আদায় করা ওয়াজিব নয়। ২০০ দিরহাম পুরা হলে তার মধ্যে ৫ দিরহাম যাকাত ওয়াজিব হবে। আর বকরীর নিসাব প্রত্যেক ৪০ টিতে ১ টি বকরীর যাকাত ওয়াজিব। ১২০ টি বকরী পর্যন্ত চলবে। সংখ্যায় এর চেয়ে ১ টি বেড়ে গেলে ২০০ পর্যন্ত ২টি বকরী যাকাত হবে। আবার ২০০ হতে ১টি বেড়ে গেলে ৩০০ পর্যন্ত ৩টি বকরী যাকাত হবে। আর ৩০০ হতে বেশি হলে (অর্থাৎ ৪০০ হলে) প্রত্যেক ১০০ বকরীতে ১টি করে বকরী যাকাত দেয়া ওয়াজিব। যদি কারো নিকট নিসাব সংখ্যক বকরী না থাকে অর্থাৎ ৩৯ টি থাকে তাহলে যাকাত দিতে হবে না। আর গরুর যাকাতের নিসাব হল, প্রত্যেক ৩০ টি গরুতে ১ বছরের ১ টি গরু, আর ৪০ টি গরু হলে ২ বছর বয়সের ১ টি গরু যাকাত হিসেবে দেয়া ওয়াজিব। চাষাবাদ ও আরোহণের কাজে ব্যবহৃত গরুর কোন যাকাত নেই। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮০০

وعن معاذ: أن النبي ﷺ لما وجهه إلى اليمن أمره أن يأخذ من البقرة: من كل ثلاثين تبيعا أو تبيعة ومن كل أربعين مسنة. رواه أبو داود والترمذي والنسائي والدارمي

তিনি বলেন,নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে প্রশাসক বানিয়ে ইয়ামানে পাঠাবার সময় এ হুকুম দিয়েছিলেন,প্রত্যেক ৩০টি গরুতে ১ বছর বয়সী ১ টি গরু এবং প্রত্যেক ৪০ টি গরুতে দু’বছর বয়সী ১ টি গরু যাকাত হিসেবে উসুল করবে।(আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী, দারিমী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮০১

وعن أنس قال: قال رسول الله ﷺ: «المعتدى في الصدقة كمانعها» . رواه أبو داود والترمذي

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (নিসাবের চেয়ে) বেশী যাকাত গ্রহণকারী যাকাত অস্বীকারকারীর সমান (অর্থাৎ যাকাত না দেয়া যেমন গুনাহ তেমনি পরিমাণের চেয়ে বেশি যাকাত উসুল করাও গুনাহ।(আবু দাউদ, তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮০২

وعن أبي سعيد الخدري أن النبي ﷺ قال: «ليس في حب ولا تمر صدقة حتى يبلغ خمسة أوسق» . رواه النسائي

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ শস্য ও খেজুর ৫ ওয়াসাক পরিমাণ না হওয়া পর্যন্ত যাকাত ওয়াজিব হবে না। (নাসায়ী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮০৩

وعن موسى بن طلحة قال: عندنا كتاب معاذ بن جبل عن النبي ﷺ أنه قال: إنما أمره أن يأخذ الصدقة من الحنطة والشعير والزبيب والتمر. مرسل رواه فى شرح السنة

তিনি বলেন, আমাদের কাছে মু’আয এর ওই চিঠি বিদ্যমান আছে,যা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার কাছে পাঠিয়েছিলেন। বস্তুত মু’আয বর্ণনা করেছেন,নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে ‘গম’,‘যব,’ ‘আঙ্গুর’ ও ‘খেজুরের’ যাকাত উসুল করতে আদেশ করেছেন। (এ হাদীসটি মুরসাল, শারহে সুন্নাতে বর্ণনা করা হয়েছে)[ [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮০৪

وعن عتاب بن أسيد أن النبي ﷺ قال فى زكاة الكروم: «إنها تخرص كما تخرص النخل ثم تؤدى زكاته زبيبا كما تؤدى زكاة النخل تمرا» . رواه الترمذي وأبو داود

তিনি বলেন,নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আঙ্গুরের যাকাতের ব্যাপারে বলেছেন,আঙ্গুরের ব্যাপারে এভাবে আন্দাজ অনুমান করতে হবে যেভাবে খেজুরের ব্যাপারে শুকিয়ে গেলে করা হয়। তারপর আঙ্গুর শুকিয়ে গেলে তার যাকাত আদায় করতে হবে। যেভাবে খেজুরের যাকাত আদায় করা হয়।(তিরমিযী, আবু দাউদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮০৫

وعن سهل بن أبى حثمة حدث أن رسول الله ﷺ كان يقول: «إذا خرصتم فخذوا ودعوا الثلث فإن لم تدعوا الثلث فدعوا الربع» . رواه الترمذي وأبو داود والنسائي

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রায়ই বলতেন, তোমরা যখন (আঙ্গুর অথবা খেজুরের যাকাত আন্দাজ অনুমান করবে) তখন এর দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ে নিবে। আর এক-তৃতীয়াংশ ছেড়ে দিবে। যদি এক-তৃতীয়াংশ দিতে না পার তাহলে অন্ততঃ এক-চতুর্থাংশ দিবে। (তিরমিয), আবু দাউদ, নাসায়ী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮০৬

وعن عائشة قالت: كان النبي ﷺ يبعث عبد الله ابن رواحة إلى يهود فيخرص النخل حين يطيب قبل أن يؤكل منه. رواه أبو داود

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আব্দুল্লাহ ইবনু রওয়াহাকে (খায়বারের) ইয়াহুদীদের কাছে পাঠাতেন। তিনি সেখানে গিয়ে খেজুরের পরিমাণ অনুমান করতেন। তখন তা’ মিষ্টি হত,কিন্তু খাবার উপযুক্ত হত না। (আবু দাউদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮০৭

وعن ابن عمر قال: قال رسول الله ﷺ في العسل: «فى كل عشرة أزق زق» . رواه الترمذي وقال: فى إسناده مقال ولا يصح عن النبي ﷺ فى هذا الباب كثير شيء

তিনি বলেছেন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মধুর যাকাত সম্পর্কে বলেছেন,প্রত্যেক দশ মশকে এক মশক যাকাত দেয়া ওয়াজিব। (তিরমিযী; তিনি [ইমাম তিরমিযী] বলেন, এ হাদীসের সানাদের ব্যপারে কথাবার্তা আছে। রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে উদ্ধৃত এ সম্পর্কিত অধিকাংশ হাদীস সহীহ নয়।) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮০৮

وعن زينب امرأة عبد الله قالت: خطبنا رسول الله ﷺ فقال: «يا معشر النساء تصدقن ولو من حليكن فإنكن أكثر أهل جهنم يوم القيامة» . رواه الترمذي

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে বললেন,হে মেয়েরা! তোমাদের মালের যাকাত আদায় করো,অলংকার হলেও। কেননা ক্বিয়ামতের দিন তোমাদের বেশিরভাগই জাহান্নামী হবে। (তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮০৯

وعن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده: أن امرأتين أتتا رسول الله ﷺ وفى أيديهما سواران من ذهب فقال لهما: «تؤديان زكاته؟» قالتا: لا. فقال لهما رسول الله ﷺ: «أتحبان أن يسوركما الله بسوارين من نار؟» قالتا: لا. قال: «فأديا زكاته» رواه الترمذي وقال: هذا حديث قد رواه المثنى بن الصباح عن عمرو بن شعيب نحو هذا والمثنى بن الصباح وابن لهيعة يضعفان في الحديث ولا يصح في هذا الباب عن النبي ﷺ شيء

‘আম্‌র ইবনু শু’আয়ব তার পিতা হতে, তার পিতা তার দাদা হতে বর্ননা করেছেন। (একদিন) দু’জন মহিলা রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট উপস্থিত হলেন। উভয়ের হাতে সোনার চুড়ি পরেছিল। রসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন তোমরা কি এগুলোর যাকাত দিয়েছ? তারা বলল “জ্বী না”। তিনি বললেন তোমরা কি চাও আল্লাহ’তাআলা (ক্বিয়ামতের দিন) তোমাদেরকে দু’টি আগুনের বালা পরাবেন? তারা বলল “না”। তখন তিনি বললেন, তাহলে এ সোনার যাকাত দিয়ে দাও। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, এ হাদিসটি এভাবে মুসান্না ইবনু সব্বাহ (রহঃ) ’আম্র ইবনু শু’আয়ব থেকে বর্ননা করেছেন। আর মুসান্না ইবনু সব্বাহ এবং ইবনু লাহী’আহ-কে [যিনি এ হাদীসের একজন বর্ণনাকারীর ব্যপারে] দুর্বল মনে করা হয়। আর এ বিষয়ে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোন সহীহ হাদীস বর্ণিত হয় নি।) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮১০

وعن أم سلمة قالت: كنت ألبس أوضاحا من ذهب فقلت: يا رسول الله أكنز هو؟ فقال: «ما بلغ أن يؤدى زكاته فزكي فليس بكنز» . رواه مالك وأبو داود

তিনি বলেন,আমি সোনার আওযাহ (এক রকম অলংকারের নাম) পরতাম। আমি একদিন বললাম,হে আল্লাহর রসুল! এ সোনার অলংকার ও কি সঞ্চিত মাল হিসাবে গন্য হবে? (যে ব্যাপারে কুরআনে ভয় দেখানো হয়েছে?) তিনি বললেন,যে জিনিসে নিসাব পুর্ণ হয় এবং এর যাকাত দিয়ে দেয়া হয়,তা পবিত্র হয়ে যায়। তখন তা সঞ্চিত ধন সম্পদের মধ্যে গণ্য নয়। (মালিক,আবু দাউদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮১১

وعن سمرة بن جندب: أن رسول الله ﷺ كان يأمرنا أن نخرج الصدقة من الذى نعد للبيع. رواه أبو داود

তিনি বলেন,রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে ব্যবসায়ের জন্য তৈরী করা মালপত্রের যাকাত আদায়ের হুকুম দিতেন। (আবু দাউদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮১২

وعن ربيعة بن أبي عبد الرحمن عن غير واحد: أن رسول الله ﷺ أقطع لبلال بن الحارث المزني معادن القبلية وهي من ناحية الفرع فتلك المعادن لا تؤخذ منها إلا الزكاة إلى اليوم. رواه أبو داود

রবী’আহ ইবনু আবু ‘আবদুর রহ্মান (রাঃ) একাধিক সাহাবী হতে বর্ননা করেছেন যে, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিল্লাল ইবনু হারিস আল মুযানীকে ‘ফারা’-তে অবস্থিত ক্বাবালিয়াহ্ নামক স্থানের খনি জায়গীর দিয়েছিলেন। সেসব খনি হতে এখন পর্যন্ত কেবল যাকাতই উসূল করা হয়। (আবু দাউদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮১৩

عن علي أن النبي ﷺ قال: «ليس في الخضراوات صدقة ولا في العرايا صدقة ولا فى أقل من خمسة أوسق صدقة ولا في العوامل صدقة ولا في الجبهة صدقة» . قال الصقر: الجبهة الخيل والبغال والعبيد. رواه الدارقطني

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তরি-তরকারি ও দান করে দেয়া গাছপালার কোন যাকাত নেই। পাঁচ ওয়াসাকের চেয়ে কম পরিমাণ শস্যে যাকাত নেই, কাজে-কর্মে ব্যবহার্য জানোয়ারের যাকাত নেই, ‘জাব্হাহ্’তেও যাকাত নেই। সাক্র (রহঃ) বলেন ‘জাব্হাহ্’ হচ্ছে ঘোড়া,খচ্চর ও গোলাম। (দারাকুত্বনি) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮১৪

وعن طاوس أن معاذ بن جبل أتى بوقص البقر فقال: لم يأمرنى فيه النبي ﷺ بشيء. رواه الدارقطني والشافعي وقال: الوقص ما لم يبلغ الفريضة

তিনি বলেন, একবার ইয়ামেন এর শাসক মু’য়ায ইবনু জাবাল (রাঃ) এর নিকট (যাকাত উশুল করার জন্য) ওয়াক্বাস গাভী আনা হয়েছিলো তিনি (তা দেখে) বললেন,এসব থেকে (যাকাত উসুলের জন্য) আমাকে আদেশ দেয়া হয়নি। (দারাকুত্বনী শাফী’ঈ; ইমাম শাফী’ঈ বলেন, ‘ওয়াক্বাস’ এসব জানোয়ার কে বলা হয়, যা প্রথমিকভাবে যাকাতের নিসাবের সীমায় পৌছায় নি।) [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية