প্রথম অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৯৪

وعن أبي سعيد الخدري قال: قال رسول الله ﷺ: «ليس فيما دون خمسة أوسق من التمر صدقة وليس فيما دون خمس أواق من الورق صدقة وليس فيما دون خمس ذود من الإبل صدقة». (متفق عليه)

তিনি বলেন,রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পাঁচ ওয়াসাকের কম খেজুর থাকলে যাকাত ওয়াজিব হয়না। পাঁচ উকিয়ার কম রূপায় যাকাত বাধ্যতামূলক নয়। কিংবা পাঁচটির কম উট থাকলেও যাকাত ওয়াজিব হয় না। (বুখারী,মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৯৫

وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «ليس على المسلم صدقة فى عبده ولا فى فرسه» . وفى رواية قال: «ليس فى عبده صدقة إلا صدقة الفطر». (متفق عليه)

তিনি বলেন,রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ গোলাম ও ঘোড়ার জন্য মালিক মুসলিমকে যাকাত দিতে হবে না। আর এক বর্ণনায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ গোলামের যাকাত দেয়া কোন মুসলিমের জন্য ওয়াজিব নয়। তবে সদাক্বায়ে ফিত্‌র দেওয়া ওয়াজিব। (বুখারী,মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৯৬

وعن أنس بن مالك: أن أبا بكر كتب له هذا الكتاب لما وجهه إلى البحرين: بسم الله الرحمن الرحيم هذه فريضة الصدقة التى فرض رسول الله ﷺ على المسلمين والتى أمر الله عز وجل بها رسوله فمن سألها من المسلمين على وجهها فليعطها ومن سئل فوقها فلا يعط: فى أربع وعشرين من الإبل فما دونها من الغنم من كل خمس شاة. فإذا بلغت خمسا وعشرين إلى خمس وثلاثين ففيها بنت مخاض أنثى فإذا بلغت ستا وثلاثين ففيها بنت لبون أنثى. فإذا بلغت ستة وأربعين إلى ستين ففيها حقة طروقة الجمل فإذا بلغت واحدة وستين ففيها جذعة. فإذا بلغت ستا وسبعين ففيها بنتا لبون. فإذا بلغت إحدى وتسعين إلى عشرين ومائة ففيها حقتان طروقتا الجمل. فإذا زادت على عشرين ومائة ففى كل أربعين بنت لبون وفى كل خمسين حقة. ومن لم يكن معه إلا أربع من الإبل فليس فيها صدقة إلا أن يشاء ربها. فإذا بلغت خمسا ففيها شاة ومن بلغت عنده من الإبل صدقة الجذعة وليست عنده جذعة وعنده حقة فإنها تقبل منه الحقة ويجعل معها شاتين إن استيسرتا له أو عشرين درهما. ومن بلغت عنده صدقة الحقة وليست عنده الحقة وعنده الجذعة فإنها تقبل منه الجذعة ويعطيه المصدق عشرين درهما أو شاتين. ومن بلغت عنده صدقة الحقة وليست إلا عنده بنت لبون فإنها تقبل منه بنت لبون ويعطى معها شاتين أو عشرين درهما. ومن بلغت صدقته بنت لبون وعنده حقة فإنها تقبل منه الحقة ويعطيه المصدق عشرين درهما أو شاتين. ومن بلغت صدقته بنت لبون وليست عنده وعنده بنت مخاض فإنها تقبل منه بنت مخاض ويعطى معها عشرين درهما أو شاتين. ومن بلغت صدقته بنت مخاض وليست عنده وعنده بنت لبون فإنها تقبل منه ويعطيه المصدق عشرين درهما أو شاتين. فإن لم تكن عنده بنت مخاض على وجهها وعنده ابن لبون فإنه يقبل منه وليس معه شيء. وفى صدقة الغنم فى سائمتها إذا كانت أربعين ففيها شاة إلى عشرين ومائة شاة فإن زادت على عشرين ومائة إلى مائتين ففيها شاتان. فإن زادت على مائتين إلى ثلاثمائة ففيها ثلاث شياه. فإذا زادت على ثلاثمائة ففى كل مائة شاة. فإذا كانت سائمة الرجل ناقصة من أربعين شاة واحدة فليس فيها صدقة إلا أن يشاء ربها. ولا تخرج في الصدقة هرمة ولا ذات عور ولا تيس إلا ما شاء المصدق. ولا يجمع بين متفرق ولا يفرق بين مجتمع خشية الصدقة وما كان من خليطين فإنهما يتراجعان بينهما بالسوية. وفي الرقة ربع العشر فإن لم تكن إلا تسعين ومائة فليس فيها شيء إلا أن يشاء ربها. رواه البخاري

তিনি বলেন,আবূ বাক্‌র সিদ্দীক্ব (রাঃ) যখন তাঁকে বাহরাইনের শাসনকর্তা নিয়োগ দিয়ে পাঠান তখন এ নির্দেশনামাটি লিখে দিয়েছিলেন,বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম। এ চিঠি ফরজ সদাক্বাহ অর্থাৎ যাকাত সম্পর্কে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এটি মুসলিমদের ওপর ফার্‌য করেছেন এবং এটিকে জারী করার জন্য আল্লাহ তা’আলা তাঁর রসূলকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রেক্ষিতে মুসলিম কোন ব্যক্তির কাছে নিয়মানুযায়ী যাকাত চাওয়া হলে সে যেন তা আদায় করে। আর কোন ব্যক্তির নিকট নিয়ম ভেঙ্গে যাকাত চাওয়া হলে সে যেন (বেশী যাকাত) না দেয়। চব্বিশ ও চব্বিশের কম উটের যাকাত হবে বকরী। প্রতি পাঁচ উটে একটি বকরী দিতে হবে। (পাঁচটি উটের কম হলে যাকাত দিতে হবে না। পাঁচ থেকে নয় উটে এক বকরী। দশ থেকে চৌদ্দটি হলে দু’টি বকরী। পনের হতে ঊনিশে তিনটা বকরী। আর বিশ থেকে চব্বিশ পর্যন্ত চারটি বকরী। উটের সংখ্যা পঁচিশ থেকে পয়ত্রিশ পর্যন্ত এক বছরের মাদি উট (বিনতে মাখায) যাকাত দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছত্রিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ হলে একটু দু’বছরের মাদী উট (বিনতে লাবুন) যাকাত দিতে হবে। ছেচল্লিশ থেকে ষাট পর্যন্ত উটে নরের সাথে মিলনের যোগ্য একটি তিন বছরের মাদী উট (হিক্কাহ) দিতে হবে। উটের সংখ্যা একষট্টি থেকে পঁচাত্তর পর্যন্ত পৌঁছালে চার পেরিয়ে পাঁচ বছরে পা দিয়েছে এমন একটি মাদী উট (জাযা’আহ) দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছিয়াত্তর থেকে নব্বই পৌঁছে গেলে দু’টি দু’বছরের উটনী (বিনতু লাবুন) যাকাত লাগবে। একানব্বই হতে একশত বিশ পর্যন্ত উটে তিন বছর বয়সী নরের সাথে মিলনের যোগ্য দু’টি উট (হিক্কাতানে)। একশ’বিশ ছাড়ালে প্রতি চল্লিশ উটে দু’বছরের একটি মাদি উট (বিনতু লাবুন) ও পঞ্চাশটি করে বাড়লে পুরা তিন বছর বয়সী উট যাকাত দিতে হবে। যার নিকট শুধু চারটি উট আছে তার যাকাত লাগবে না। অবশ্য মালিক চাইলে,নাফল সদাকাহ কিছু দিতে পারে। উটের সংখ্যা পাঁচ হলে একটি বকরী যাকাত দিতে হবে। আর চার বছরের মাদী উট নিসাবে পৌঁছে গেলে (৬১-৭৫) এবং তা তাঁর নিকট না থাকলে,তিন বছর বয়সী উট (অর্থাৎ একষট্টি থেকে পঁচাত্তর পর্যন্ত উটের সংখ্যার যাকাত) দিতে হবে। এর সাথে বাড়তি দু’টি বকরী দিবে যদি সহজসাধ্য হয়। অথবা বিশ দিরহাম দিয়ে দিবে। চার বছর পার হয়ে ও পাঁচ বছরে পদার্পণ করা উটের যাকাত দিতে হবে। কিন্তু তাঁর তিন বছর বয়সী মাদী উট থাকলে সেটাই যাকাত হিসেবে গ্রহণ করা হবে। কিন্তু যাকাত গ্রহণকারী প্রদানকারীকে বিশ দিরহাম অথবা দু’টি বকরী ফেরত দিবে। কোন ব্যক্তির নিকট দু’বছরের উট থাকলে তার যাকাত দিতে হবে। যদি তার কাছে না থেকে এক বছরের উট থাকে। তবে থেকে এক বছরের উটই যাকাত হিসেবে গ্রহণ করা হবে। যাকাত আদায়কারী এর সাথে আরো বিশ দিরহাম অথবা দু’টি বকরী আদায় করবে। যে ব্যক্তির যাকাত হিসেবে একটি এক বছরের উট ওয়াজিব আছে কিন্তু তার কাছে তা’ নেই। বরং দু’বছরের উট (ইবনু লাবুন) থাকে,তার থেকে তাই গ্রহণ করতে হবে। তবে এ অবস্থায় অন্যকিছু ওয়াজিব হবে না। আর পালিত বকরীর ক্ষেত্রে বকরীর সংখ্যা চল্লিশ হতে শুরু করে একশত বিশ পর্যন্ত হলে একটি বকরী যাকাত দিতে হবে। একশ’ বিশ হতে দু’শ পর্যন্ত দু’টি বকরী। আর দু’শ হতে তিন’শ বকরীর জন্য তিনটি বকরী। তিনশ’র বেশী হলে,প্রত্যেক একশ’টি বকরীর জন্য একটি বকরী যাকাত দিতে হবে। যার নিকট পালিত বকরী চল্লিশ থেকে একটিও কম হবে তার উপর যাকাত ওয়াজিব নয়। তবে মালিক ইচ্ছা করলে নাফল সদাকাহ হিসেবে কিছু দিতে পারে। যাকাতের মাল যেন (উট,গরু,ছাগল) অতিবৃদ্ধ,ত্রুটিযুক্তি না হয়। যাকাত উসূলকারী গ্রহণ করতে চাইলে জায়িয। বিভিন্ন পশুকে এক জায়গায় একত্র না করা উচিত। যাকাত দেবার ভয়ে পশুকে পৃথক পৃথক রাখাও ঠিক না। যদি যাকাতের নিসাবে দু’ব্যক্তি যৌথভাবে শরীক হয়,তাহলে সমানভাবে ভাগ করে নেয়া উচিত। আর রূপার ক্ষেত্রে চল্লিশ ভাগের একভাগ যাকাত ওয়াজিব। কোন ব্যক্তি একশত নব্বই দিরহামের মালিক হলে (যা নিসাব হিসেবে গণ্য নয়) তার উপর কিছু ফারয হবে না। তবে নফল সদাকাহ হিসেবে কিছু দিতে পারে। (বুখারী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৯৭

وعن عبد الله بن عمر عن النبي ﷺ قال: «فيما سقت السماء والعيون أو كان عثريا العشر. وما سقى بالنضح نصف العشر» . رواه البخاري

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে স্থান আকাশের অথবা প্রবাহিত কূপের পানিতে সিক্ত হয় অথবা যা নালার পানিতে তরতাজা হয়,তাতে ‘উশর (১০ভাগের ১ভাগ) আদায় করতে হবে। আর যে সব ফসল সেঁচের মাধ্যমে উৎপাদিত হয় তাতে নিস্ফে ‘উশর (২০ভাগের ১ভাগ) আদায় করতে হবে।(বুখারী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৯৮

وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «العجماء جرحها جبار والبئر جبار والمعدن جبار وفي الركاز الخمس». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোনও জানোয়ার (যেমন-ঘোড়া,গরু,মহিষ ইত্যাদি) কাউকে আহত করলে তা মাফ। কূপ খনন করতে কেউ মারা গেলে তাতে মালিকের ওপর ক্ষতিপূরণ মাফ। তেমনি খনি খনন করতে কেউ মারা গেলেও মালিকের দোষ মাফ। আর রিকাযে এক-পঞ্চমাংশ অংশ দেয়া ওয়াজিব।(বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৯৯

عن علي قال: قال رسول الله ﷺ: «قد عفوت عن الخيل والرقيق فهاتوا صدقة الرقة: من كل أربعين درهما درهم وليس في تسعين ومائة شيء فإذا بلغت مائتين ففيها خمسة دراهم». رواه الترمذي وأبو داود . وفى رواية لأبى داود عن الحارث عن علي قال زهير أحسبه عن النبي ﷺ أنه قال: «هاتوا ربع العشر من كل أربعين درهما درهم وليس عليكم شيء حتى تتم مائتي درهم. فإذا كانت مائتى درهم ففيها خمسة دراهم. فما زاد فعلى حساب ذلك. وفي الغنم فى كل أربعين شاة شاة إلى عشرين ومائة فإن زادت واحدة فشاتان إلى مائتين. فإن زادت فثلاث شياه إلى ثلاثمائة فإذا زادت على ثلاث مائة ففي كل مائة شاة. فإن لم تكن إلا تسع وثلاثون فليس عليك فيها شيء. وفي البقر: في كل ثلاثين تبيع وفي الأربعين مسنة وليس على العوامل شيء

তিনি বলেন, রসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি ঘোড়া ও গোলামের যাকাত মাফ করে দিয়েছি। তোমরা ৪০ দিরহাম রূপায় ১ দিরহাম রূপা যাকাত আদায় কর (যদি রুপার নিসাবের পরিমান ২০০ দিরহাম হয়)। কারণ-১৯০ দিরহাম পর্যন্ত বা ২০০ দিরহামের কম রুপার যাকাত ফার্‌য হয়না। ২০০ দিরহাম রুপা হলে ৫ দিরহাম যাকাত দিতে হবে। তিরমিযী, আবু দাউদ; আবু দাউদ হারিসুল আ’ওয়ার হতে ‘আলীর এ বর্ণনাটি নকল করেছেন যে, যুহায়র বলেছেন, ‘আলী নাবি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বরাতে বলেছেন, ৪০ দিরহামে ১ দিরহাম (৪০ ভাগের ১ ভাগ) আদায় করো। আর ২০০ দিরহাম পূর্ণ না হলে কোন কিছু আদায় করা ওয়াজিব নয়। ২০০ দিরহাম পুরা হলে তার মধ্যে ৫ দিরহাম যাকাত ওয়াজিব হবে। আর বকরীর নিসাব প্রত্যেক ৪০ টিতে ১ টি বকরীর যাকাত ওয়াজিব। ১২০ টি বকরী পর্যন্ত চলবে। সংখ্যায় এর চেয়ে ১ টি বেড়ে গেলে ২০০ পর্যন্ত ২টি বকরী যাকাত হবে। আবার ২০০ হতে ১টি বেড়ে গেলে ৩০০ পর্যন্ত ৩টি বকরী যাকাত হবে। আর ৩০০ হতে বেশি হলে (অর্থাৎ ৪০০ হলে) প্রত্যেক ১০০ বকরীতে ১টি করে বকরী যাকাত দেয়া ওয়াজিব। যদি কারো নিকট নিসাব সংখ্যক বকরী না থাকে অর্থাৎ ৩৯ টি থাকে তাহলে যাকাত দিতে হবে না। আর গরুর যাকাতের নিসাব হল, প্রত্যেক ৩০ টি গরুতে ১ বছরের ১ টি গরু, আর ৪০ টি গরু হলে ২ বছর বয়সের ১ টি গরু যাকাত হিসেবে দেয়া ওয়াজিব। চাষাবাদ ও আরোহণের কাজে ব্যবহৃত গরুর কোন যাকাত নেই। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮০০

وعن معاذ: أن النبي ﷺ لما وجهه إلى اليمن أمره أن يأخذ من البقرة: من كل ثلاثين تبيعا أو تبيعة ومن كل أربعين مسنة. رواه أبو داود والترمذي والنسائي والدارمي

তিনি বলেন,নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে প্রশাসক বানিয়ে ইয়ামানে পাঠাবার সময় এ হুকুম দিয়েছিলেন,প্রত্যেক ৩০টি গরুতে ১ বছর বয়সী ১ টি গরু এবং প্রত্যেক ৪০ টি গরুতে দু’বছর বয়সী ১ টি গরু যাকাত হিসেবে উসুল করবে।(আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী, দারিমী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮০১

وعن أنس قال: قال رسول الله ﷺ: «المعتدى في الصدقة كمانعها» . رواه أبو داود والترمذي

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (নিসাবের চেয়ে) বেশী যাকাত গ্রহণকারী যাকাত অস্বীকারকারীর সমান (অর্থাৎ যাকাত না দেয়া যেমন গুনাহ তেমনি পরিমাণের চেয়ে বেশি যাকাত উসুল করাও গুনাহ।(আবু দাউদ, তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮০২

وعن أبي سعيد الخدري أن النبي ﷺ قال: «ليس في حب ولا تمر صدقة حتى يبلغ خمسة أوسق» . رواه النسائي

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ শস্য ও খেজুর ৫ ওয়াসাক পরিমাণ না হওয়া পর্যন্ত যাকাত ওয়াজিব হবে না। (নাসায়ী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮০৩

وعن موسى بن طلحة قال: عندنا كتاب معاذ بن جبل عن النبي ﷺ أنه قال: إنما أمره أن يأخذ الصدقة من الحنطة والشعير والزبيب والتمر. مرسل رواه فى شرح السنة

তিনি বলেন, আমাদের কাছে মু’আয এর ওই চিঠি বিদ্যমান আছে,যা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার কাছে পাঠিয়েছিলেন। বস্তুত মু’আয বর্ণনা করেছেন,নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে ‘গম’,‘যব,’ ‘আঙ্গুর’ ও ‘খেজুরের’ যাকাত উসুল করতে আদেশ করেছেন। (এ হাদীসটি মুরসাল, শারহে সুন্নাতে বর্ণনা করা হয়েছে)[ [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮০৪

وعن عتاب بن أسيد أن النبي ﷺ قال فى زكاة الكروم: «إنها تخرص كما تخرص النخل ثم تؤدى زكاته زبيبا كما تؤدى زكاة النخل تمرا» . رواه الترمذي وأبو داود

তিনি বলেন,নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আঙ্গুরের যাকাতের ব্যাপারে বলেছেন,আঙ্গুরের ব্যাপারে এভাবে আন্দাজ অনুমান করতে হবে যেভাবে খেজুরের ব্যাপারে শুকিয়ে গেলে করা হয়। তারপর আঙ্গুর শুকিয়ে গেলে তার যাকাত আদায় করতে হবে। যেভাবে খেজুরের যাকাত আদায় করা হয়।(তিরমিযী, আবু দাউদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮০৫

وعن سهل بن أبى حثمة حدث أن رسول الله ﷺ كان يقول: «إذا خرصتم فخذوا ودعوا الثلث فإن لم تدعوا الثلث فدعوا الربع» . رواه الترمذي وأبو داود والنسائي

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রায়ই বলতেন, তোমরা যখন (আঙ্গুর অথবা খেজুরের যাকাত আন্দাজ অনুমান করবে) তখন এর দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ে নিবে। আর এক-তৃতীয়াংশ ছেড়ে দিবে। যদি এক-তৃতীয়াংশ দিতে না পার তাহলে অন্ততঃ এক-চতুর্থাংশ দিবে। (তিরমিয), আবু দাউদ, নাসায়ী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮০৬

وعن عائشة قالت: كان النبي ﷺ يبعث عبد الله ابن رواحة إلى يهود فيخرص النخل حين يطيب قبل أن يؤكل منه. رواه أبو داود

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আব্দুল্লাহ ইবনু রওয়াহাকে (খায়বারের) ইয়াহুদীদের কাছে পাঠাতেন। তিনি সেখানে গিয়ে খেজুরের পরিমাণ অনুমান করতেন। তখন তা’ মিষ্টি হত,কিন্তু খাবার উপযুক্ত হত না। (আবু দাউদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮০৭

وعن ابن عمر قال: قال رسول الله ﷺ في العسل: «فى كل عشرة أزق زق» . رواه الترمذي وقال: فى إسناده مقال ولا يصح عن النبي ﷺ فى هذا الباب كثير شيء

তিনি বলেছেন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মধুর যাকাত সম্পর্কে বলেছেন,প্রত্যেক দশ মশকে এক মশক যাকাত দেয়া ওয়াজিব। (তিরমিযী; তিনি [ইমাম তিরমিযী] বলেন, এ হাদীসের সানাদের ব্যপারে কথাবার্তা আছে। রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে উদ্ধৃত এ সম্পর্কিত অধিকাংশ হাদীস সহীহ নয়।) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮০৮

وعن زينب امرأة عبد الله قالت: خطبنا رسول الله ﷺ فقال: «يا معشر النساء تصدقن ولو من حليكن فإنكن أكثر أهل جهنم يوم القيامة» . رواه الترمذي

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে বললেন,হে মেয়েরা! তোমাদের মালের যাকাত আদায় করো,অলংকার হলেও। কেননা ক্বিয়ামতের দিন তোমাদের বেশিরভাগই জাহান্নামী হবে। (তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮০৯

وعن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده: أن امرأتين أتتا رسول الله ﷺ وفى أيديهما سواران من ذهب فقال لهما: «تؤديان زكاته؟» قالتا: لا. فقال لهما رسول الله ﷺ: «أتحبان أن يسوركما الله بسوارين من نار؟» قالتا: لا. قال: «فأديا زكاته» رواه الترمذي وقال: هذا حديث قد رواه المثنى بن الصباح عن عمرو بن شعيب نحو هذا والمثنى بن الصباح وابن لهيعة يضعفان في الحديث ولا يصح في هذا الباب عن النبي ﷺ شيء

‘আম্‌র ইবনু শু’আয়ব তার পিতা হতে, তার পিতা তার দাদা হতে বর্ননা করেছেন। (একদিন) দু’জন মহিলা রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট উপস্থিত হলেন। উভয়ের হাতে সোনার চুড়ি পরেছিল। রসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন তোমরা কি এগুলোর যাকাত দিয়েছ? তারা বলল “জ্বী না”। তিনি বললেন তোমরা কি চাও আল্লাহ’তাআলা (ক্বিয়ামতের দিন) তোমাদেরকে দু’টি আগুনের বালা পরাবেন? তারা বলল “না”। তখন তিনি বললেন, তাহলে এ সোনার যাকাত দিয়ে দাও। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, এ হাদিসটি এভাবে মুসান্না ইবনু সব্বাহ (রহঃ) ’আম্র ইবনু শু’আয়ব থেকে বর্ননা করেছেন। আর মুসান্না ইবনু সব্বাহ এবং ইবনু লাহী’আহ-কে [যিনি এ হাদীসের একজন বর্ণনাকারীর ব্যপারে] দুর্বল মনে করা হয়। আর এ বিষয়ে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোন সহীহ হাদীস বর্ণিত হয় নি।) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮১০

وعن أم سلمة قالت: كنت ألبس أوضاحا من ذهب فقلت: يا رسول الله أكنز هو؟ فقال: «ما بلغ أن يؤدى زكاته فزكي فليس بكنز» . رواه مالك وأبو داود

তিনি বলেন,আমি সোনার আওযাহ (এক রকম অলংকারের নাম) পরতাম। আমি একদিন বললাম,হে আল্লাহর রসুল! এ সোনার অলংকার ও কি সঞ্চিত মাল হিসাবে গন্য হবে? (যে ব্যাপারে কুরআনে ভয় দেখানো হয়েছে?) তিনি বললেন,যে জিনিসে নিসাব পুর্ণ হয় এবং এর যাকাত দিয়ে দেয়া হয়,তা পবিত্র হয়ে যায়। তখন তা সঞ্চিত ধন সম্পদের মধ্যে গণ্য নয়। (মালিক,আবু দাউদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮১১

وعن سمرة بن جندب: أن رسول الله ﷺ كان يأمرنا أن نخرج الصدقة من الذى نعد للبيع. رواه أبو داود

তিনি বলেন,রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে ব্যবসায়ের জন্য তৈরী করা মালপত্রের যাকাত আদায়ের হুকুম দিতেন। (আবু দাউদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮১২

وعن ربيعة بن أبي عبد الرحمن عن غير واحد: أن رسول الله ﷺ أقطع لبلال بن الحارث المزني معادن القبلية وهي من ناحية الفرع فتلك المعادن لا تؤخذ منها إلا الزكاة إلى اليوم. رواه أبو داود

রবী’আহ ইবনু আবু ‘আবদুর রহ্মান (রাঃ) একাধিক সাহাবী হতে বর্ননা করেছেন যে, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিল্লাল ইবনু হারিস আল মুযানীকে ‘ফারা’-তে অবস্থিত ক্বাবালিয়াহ্ নামক স্থানের খনি জায়গীর দিয়েছিলেন। সেসব খনি হতে এখন পর্যন্ত কেবল যাকাতই উসূল করা হয়। (আবু দাউদ) [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية