মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৬৫
عن ابن عباس قال: مر النبي ﷺ بقبور بالمدينة فأقبل عليهم بوجهه فقال: «السلام عليكم يا أهل القبور يغفر الله لنا ولكم أنتم سلفنا ونحن بالأثر» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث حسن غريب
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (একবার) মাদীনার ক্ববরস্থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি ক্ববরস্থানের দিকে মুখ ফিরালেন এবং বললেন, “আসসালা-মু ‘আলায়কুম ইয়া-আহলাল কুবূরি, ইয়াগ্ফিরুল্ল-হু লানা-ওয়ালাকুম, আন্তুম সালাফুনা- ওয়ানাহ্নু বিল আসার” (অর্থাৎ হে ক্ববরবাসী! তোমাদের ওপর সালাম পেশ করছি। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের ও তোমাদেরকে মাফ করুন। তোমরা আমাদের পূর্ববর্তী আর আমরা তোমাদের পশ্চাৎগামী)। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, এ হাদীসটি হাসান গরীব) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৬৬
وعن عائشة رضي الله عنها قالت: كان رسول الله ﷺ كلما كان ليلتها من رسول الله ﷺ يخرج من اخر الليل إلى البقيع فيقول: «السلام عليكم دار قوم مؤمنين وأتاكم ما توعدون غدا مؤجلون وإنا إن شاء الله بكم لاحقون اللهم اغفر لأهل بقيع الغرقد» . رواه مسلم
তিনি বলেন, যে দিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার ঘরে আসতেন, সেদিন শেষ রাতে উঠে তিনি বাক্বী’তে (মাদীনার ক্ববরস্থান) চলে যেতেন। (ও স্থানে) তিনি বলতেন, “আসসালা-মু ‘আলায়কুম দা-রা ক্বওমিন মু‘মিনীন, ওয়া আতা-কুম মা-তূ‘ইদূনা গাদান মুআজ্জালূনা, ওয়া ইন্না- ইনশা-অল্ল-হু বিকুম লা-হিকূন, আল্ল-হুম্মাগ্ফির লিআহ্লি বাক্বী‘ইল গার্ক্বদ” (অর্থাৎ হে মু‘মিনের দল! তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। তোমাদেরকে আগামীকালের (ক্বিয়ামতের) যে প্রতিশ্রুতি (সাওয়াব অথবা শাস্তি) দেয়া হয়েছিল তা তোমরা কি পেয়ে গেছ? যে ব্যাপারে তোমাদেরকে সুযোগ দেয়া হয়েছিল (ক্বিয়ামাত পর্যন্ত)। আর নিশ্চয়ই আমরাও আল্লাহ চাইলে তোমাদের সাথে মিলিত হবই। হে আল্লাহ! বাক্বী‘ গারক্বদ্বাসীদেরকে মাফ করে দিন!)। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৬৭
وعن عائشة رضي الله عنها قالت: كيف أقول يا رسول الله؟ تعنى فى زيارة القبور قال: «قولي: السلام على أهل الديار من المؤمنين والمسلمين ويرحم الله المستقدمين منا والمستأخرين وإنا إن شاء الله بكم للاحقون». رواه مسلم
তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! ক্ববর যিয়ারতে আমি কি বলব? তিনি বললেন, "আসসালা-মু 'আলা- আহলিদ দিয়া-রি মিনাল মু'মিনীনা ওয়াল মুসলিমীনা, ওয়া ইয়ার্হামুল্ল-হুল মুসতাক্বদিমীনা মিন্না- ওয়াল মুস্তা'খিরীনা, ওয়া ইন্না-ইন্শা-আল্ল-হু বিকুম লালা-হিকূন" (অর্থাৎ সালাম বর্ষিত হোক মু'মিন মুসলিমের বাসস্থানের অধিবাসীদের প্রতি! আর আল্লাহ আমাদের রহম করুন যারা প্রথমে চলে গেছে আর যারা পরে আসবে তাদের উপর, ইনশাআল্লাহ আমরাও শীঘ্রই তোমাদের সাথে মিলিত হব।)। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৬৮
وعن محمد بن النعمان يرفع الحديث إلى النبي ﷺ قال: «من زار قبر أبويه أو أحدهما فى كل جمعة غفر له وكتب برا» . رواه البيهقي فى شعب الإيمان مرسلا
তিনি এ হাদীসের সানাদ নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত পৌছিয়েছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যেক জুমু'আতে নিজ মাতা-পিতা অথবা তাদের দু'জনের বা একজনের ক্ববর যিয়ারত করবে (সেখানে দু'আয়ে মাগফিরাত করবে) তাদের মাফ করে দেওয়া হবে। (যিয়ারতকারী মাতা-পিতার সাথে) সদাচরণকারী হিসাবে গণ্য করা হবে। (বায়হক্বী মুরসাল হাদীস হিসেবে শু'আবুল ঈমানে বর্ণনা করেন।) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৬৯
وعن ابن مسعود أن رسول الله ﷺ قال: «كنت نهيتكم عن زيارة القبور فزوروها فإنها تزهد في الدنيا وتذكر الاخرة» . رواه ابن ماجه
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে ক্ববর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। (এখন) তোমরা ক্ববর যিয়ারত করবে। কারন ক্ববর যিয়ারত দুনিয়ার আকর্ষণ কমিয়ে দেয় ও পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। (ইবনু মাজাহ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৭০
وعن أبى هريرة: أن رسول الله ﷺ لعن زوارات القبور. رواه أحمد والترمذي وابن ماجه وقال الترمذي هذا حديث حسن صحيح. وقال: قد رأى بعض أهل العلم أن هذا كان قبل أن يرخص النبي فى زيارة القبور فلما رخص دخل في رخصته الرجال والنساء. وقال بعضهم: إنما كره زيارة القبور للنساء لقلة صبرهن وكثرة جزعهن. تم كلامه
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বেশী বেশী ক্ববর যিয়ারতকারী মহিলাদের উপর অভিসম্পাত করেছেন। (আহ্মাদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি হাসান ও সহীহ। তিরমিযি আরো বলেছেন, কোন কোন 'আলিমের ধারণা এ হাদীসটি ক্ববর যিয়ারত নিষিদ্ধ সময়ের। কিন্তু ক্ববর যিয়ারতের অনুমতি দেবার পর পুরুষ মহিলা সকলেই এর মধ্যে গণ্য হয়ে গেছে। পক্ষান্তরে কোন কোন 'আলিমের মতে, মহিলারা অপেক্ষাকৃত অধৈর্য, অসহিষ্ণু ও কোমলমতি বলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের সেখানে যাওয়া অপছন্দ করেছেন। তাই ক্ববর যিয়ারতে যাওয়া মহিলাদের জন্য এখনো নিষিদ্ধ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৭১
وعن عائشة قالت: كنت أدخل بيتي الذى فيه رسول الله ﷺ وإنى واضع ثوبى وأقول: إنما هو زوجى وأبي فلما دفن عمر معهم فوالله ما دخلته إلا وأنا مشدودة علي ثيابى حياء من عمر. رواه أحمد
তিনি বলেন, আমি যখন সেই ঘরে প্রবেশ করতাম যেখানে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শুয়ে আছেন তখন আমি আমার চাদর খুলে রাখতাম। আমি মনে মনে বলতাম, তিনি তো আমার স্বামী, আর অপরজনও আমার পিতা। কিন্তু যখন 'উমারকে এখানে তাঁদের সাথে দাফন করা হলো, আল্লাহর কসম, তখন থেকে আমি যখনই ঐ ঘরে প্রবেশ করেছি, 'উমারের কারণে লজ্জায় শরীরে চাদর পেঁচিয়ে রেখেছি । (আহ্মাদ) [১]