দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৩২

عن أبى سعيد الخدري قال: لعن رسول الله ﷺ النائحة والمستمعة. رواه أبو داود

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শোকে মাতমকারিণী ও তা শ্রবণকারিণীদের অভিসম্পাত করেছেন। (আবূ দাউদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৩৩

وعن سعد بن أبى وقاص قال: قال رسول الله ﷺ: «عجب للمؤمن: إن أصابه خير حمد الله وشكر وإن أصابته مصيبة حمد الله وصبر فالمؤمن يؤجر فى كل أمره حتى في اللقمة يرفعها إلى في امرأته». رواه البيهقي في شعب الإيمان

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মু'মিনের কাজ বড় বিস্ময়কর। সে সুখের সময় যেমন আল্লাহর প্রশংসা ও শুকর করে, আবার বিপদেরও তেমনি আল্লাহর প্রশংসা ও ধৈর্যধারণ করে। মু'মিনকে প্রতিটি কাজের জন্যই প্রতিদান দেয়া হয়। এমনকি তার স্ত্রীর মুখে খাবারের লোকমা তুলে দেয়ার সময়ও। (বায়হাক্বী'র শু'আবুল ঈমান) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৩৪

وعن أنس قال: قال رسول الله ﷺ: «ما من مؤمن إلا وله بابان: باب يصعد منه عمله وباب ينزل منه رزقه. فإذا مات بكيا عليه فذلك قوله تعالى: ﴿فما بكت عليهم السماء والأرض﴾.[الدخان 44 : 29]. رواه الترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রত্যেক মু'মিনের জন্য দু'টি দরজা রয়েছে। একটি দরজা দিয়ে তার নেক 'আমাল উপরের দিকে উঠে। আর দ্বিতীয়টি দিয়ে তার রিয্‌ক্ব নীচে নেমে আসে। যখন সে মৃত্যুবরণ করে, এ দু'টি দরজা তার জন্য কাঁদে। এ বিষয়ে আল্লাহ তা'আলার এ বাণীটি। তিনি বলেছেন, "এ কাফিদের জন্য না আকাশ কাঁদে আর না জমিন"-(সূরাহ আদ দুখান ৪৪ :২৯)। (তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৩৫

وعن ابن عباس قال: قال رسول الله ﷺ: «من كان له فرطان من أمتى أدخله الله بهما الجنة». فقالت عائشة: فمن كان له فرط من أمتك؟ قال: «ومن كان له فرط يا موفقة» . فقالت: فمن لم يكن له فرط من أمتك؟ قال: «فأنا فرط أمتى لن يصابوا بمثلى» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যে যে ব্যক্তির দু'টি সন্তান শৈশবে মারা যাবে, আল্লাহ তা'আলা এ কারণে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (এ কথা শুনে) 'আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, আপনার উম্মাতের যে ব্যক্তির একটি মারা যাবে? তিনি বললেন, যার একটি শিশু সন্তান মারা যাবে তার জন্যও, হে যথাযোগ্য প্রশ্নকারিণী! 'আয়িশাহ্‌ (রাঃ) এবার বললেন, যার একটি বাচ্চাও মরেনি, তার জন্য কি শুভ সংবাদ? তিনি বললেন, আমিই আমার উম্মাতের জন্য এ অবস্থানে। কারণ আমার মুসীবাত বা মৃত্যুর চেয়ে আর বড় কোন সুসীবত তাদের স্পর্শ করতে পারে না। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, এ হাদিস গরীব) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৩৬

وعن أبى موسى أشعري قال: قال رسول الله ﷺ: «إذا مات ولد العبد قال الله تعالى لملائكته: قبضتم ولد عبدى؟ فيقولون: نعم. فيقول: قبضتم ثمرة فؤاده؟ فيقولون: نعم. فيقول: ماذا قال عبدى؟ فيقولون: حمدك واسترجع. فيقول الله: ابنوا لعبدى بيتا في الجنة وسموه بيت الحمد». رواه أحمد والترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন বান্দার সন্তান মারা গেলে আল্লাহ তা'আলা মালাকগণকে (ফেরেশ্‌তাদেরকে) বলেন, তোমরা আমার বান্দার রূহ কবয করেছ? তারা বলেন, জ্বি হ্যাঁ, করেছি। তারপর তিনি বলেন, তোমরা আমার বান্দার হৃদয়ের ফলকে কবয করেছ? তারা বলেন, জ্বি হ্যাঁ, করেছি। তারপর আল্লাহ বলেন, (এ ঘটনায়) আমার বান্দা কি বলেছে? তারা বলেন, সে তোমার প্রশংসা করেছে এবং ইস্‌তিরজা' (ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহি রা-জিউন) পড়েছে। এবার আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমার বান্দার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করো এবং এ ঘরটির নাম রাখো 'বায়তুল হাম্‌দ'। (আহ্‌মাদ ও তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৩৭

وعن عبد الله بن مسعود قال: قال رسول الله ﷺ: «من عزى مصابا فله مثل أجره» . رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي: هذا حديث غريب لا نعرفه مرفوعا إلا من حديث علي بن عاصم الراوي وقال: ورواه بعضهم عن محمد بن سوقة بهذا الإسناد موقوفا

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন বিপদাপন্নকে সান্ত্বনা দেবে, তাকেও বিপদগ্রস্তের সমান সওয়াব দেয়া হবে। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি গরীব। আমি এ হাদীসটিকে ‘আলি ইবনু ‘আসিম ছাড়া আর কোন ব্যক্তি হতে মারফু’ হিসেবে পাইনি। ইমাম তিরমিযী এ কথাও বলেন যে, কোন কোন মুহাদ্দিস এ বর্ণনাটিকে মুহাম্মদ ইবনু সূকা হতে এ সানাদে ‘মাওকুফ” হিসেবে উদ্ধৃত করেছেন।) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৩৮

وعن أبي برزة قال: قال رسول الله ﷺ: «من عزى ثكلى كسي بردا في الجنة» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন সন্তানহারা নারীকে সান্ত্বনা যোগাবে তাকে জান্নাতে খুবই উত্তম পোশাক পরানো হবে। (তিরমিযী, তিনি এ হাদীসটিকে গরীব বলেছেন) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৩৯

وعن عبد الله بن جعفر قال: لما جاء نعي جعفر قال النبي ﷺ: «صانعوا لآل جعفر طعاما فقد أتاهم ما يشغلهم». رواه الترمذي وأبو داود وابن ماجه

তিনি বলেন, জা’ফার-এর ইন্তিকালের খবর আসার পর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (আহলে বায়াতকে) বললেন, তোমরা জা’ফারের পরিবার-পরিজনের জন্য খাবার তৈরি করো। কেননা তাদের ওপর এমন এক বিপদ এসে পড়েছে, যা তাদেরকে রান্নাবান্না করে খেতে বাধা সৃষ্টি করবে। (তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৪০

عن المغيرة بن شعبة قال: سمعت رسول الله ﷺ يقول: «من نيح عليه فإنه يعذب بما نيح عليه يوم القيامة». (متفق عليه)

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, মৃত ব্যক্তির জন্য মাতম করা হয় ক্বিয়ামতের দিন সে মৃতকে এ মাতমের জন্য শাস্তি দেয়া হবে (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৪১

وعن عمرة بنت عبد الرحمن أنها قالت: سمعت عائشة وذكر لها أن عبد الله بن عمر يقول: إن الميت ليعذب ببكاء الحي عليه تقول: يغفر الله لأبى عبد الرحمن أما إنه لم يكذب ولكنه نسي أو أخطأ إنما مر رسول الله ﷺ على يهودية يبكى عليها فقال: «إنهم ليبكون عليها وإنها لتعذب فى قبرها». (متفق عليه)

তিনি বলেন, আমি উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, তাকে বলা হল যে, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেছেন, জীবিতদের কান্নাকাটির কারণে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হয়। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন, আল্লাহ আবু ‘আব্দুর রাহমানকে (ইবনু ‘উমারের উপনাম) মাফ করুন। তিনি মিথ্যা কথা বলেননি। কিন্তু তিনি ভুলে গেছেন অথবা ইজতিহাদী ভুল করেছেন (ব্যাপার হলো) একবার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একজন ইয়াহুদী মহিলার ক্ববরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, দেখলেন তাঁর কবরের পাশে লোকজন কাঁদছে। এ দৃশ্য দেখে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এর আত্মীয়-স্বজনরা তার জন্য কাঁদছে, আর এ মহিলাকে তার কবরে ‘আযাব দেয়া হচ্ছে। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৪২

وعن عبد الله بن أبى مليكة قال: توفيت بنت لعثمان بن عفان بمكة فجئنا لنشهدها وحضرها ابن عمر وابن عباس فإنى لجالس بينهما فقال عبد الله بن عمر لعمرو بن عثمان وهو مواجهه: ألا تنهى عن البكاء؟ فإن رسول الله ﷺ قال: «إن الميت ليعذب ببكاء أهله عليه» . فقال ابن عباس: قد كان عمر يقول بعض ذلك. ثم حدث فقال: صدرت مع عمر من مكة حتى إذا كنا بالبيداء فإذا هو بركب تحت ظل سمرة فقال: اذهب فانظر من هؤلاء الركب؟ فنظرت فإذا هو صهيب. قال: فأخبرته فقال: ادعه فرجعت إلى صهيب فقلت: ارتحل فالحق أمير المؤمنين فلما أن أصيب عمر دخل صهيب يبكى يقول: وا أخاه واصاحباه. فقال عمر: يا صهيب أتبكى علي وقد قال رسول الله ﷺ: «إن الميت ليعذب ببعض بكاء أهله عليه؟» فقال ابن عباس: فلما مات عمر ذكرت ذلك لعائشة فقالت: يرحم الله عمر لا والله ما حدث رسول الله ﷺ : أن الميت ليعذب ببكاء أهله عليه ولكن: إن الله يزيد الكافر عذابا ببكاء أهله عليه. وقالت عائشة: حسبكم القران: ﴿ولا تزر وازرة وزر أخرى﴾ [الإسراء 17 : 15]. قال ابن عباس عند ذلك: والله أضح وأبكى. قال ابن أبى مليكة: فما قال ابن عمر شيئا. (متفق عليه)

তিনি বলেন, ‘উসমান ইবনু ‘আফফান–এর কন্যা মাক্কায় মৃত্যুবরণ করলেন। আমরা তাঁর জানাযাহ্‌ ও দাফনের কাজে যোগ দিতে মাক্কায় এলাম। ইবনু ‘উমার ও ইবনু ‘আব্বাসও এখানে আসলেন। আমি এ দু’জনের মধ্যে বসেছিলাম। এমন সময় ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার, ‘আম্‌র ইবনু ‘উসমানকে বললেন, আর তিনি তখন তাঁর মুখোমুখি বসেছিলেন। তুমি (পরিবারের লোকজনকে আওয়াজ করে) কান্নাকাটি করতে কেন নিষেধ করছ না? অথচ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবার-পরিজনের কান্নাকাটির জন্য ‘আযাব দেয়া হয়। তখন ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, ‘উমার (রাঃ) এ ধরনের কথা বলতেন। তারপর তিনি ঘটনা বর্ণনা করলেন, “আমি যখন ‘উমার (রাঃ)-এর সাথে মাক্কাহ্‌ হতে ফেরার পথে ‘বায়দা’ নামক স্থানে পৌছালাম, হঠাৎ করে ‘উমার একটি কাঁকর গাছের ছায়ার নিচে এক কাফেলা দেখতে পেলেন। তিনি আমাকে বললেন, তুমি ওখানে গিয়ে দেখো কাফেলায় কে কে আছে। আমি সুহায়বকে দেখতে পাই। ইবনু ‘আব্বাস বলেন, আমি ফিরে এসে ‘উমারকে জানালাম। তিনি বললেন, তাকে ডেকে আনো। আমি আবার সুহায়াব-এর নিকট গেলাম। তাকে বললাম, ‘চলুন, আমীরুল মু’মিনীন ‘উমারের সাথে দেখা করুন’। এরপর যখন মাদীনায় ‘উমারকে আহত করা হলো সুহায়াব কাঁদতে কাঁদতে তাঁর কাছে এলেন এবং বলতে থাকলেন, হায় আমার ভাই, হায় আমার বন্ধু! (এটা কি হলো!) সে অবস্থায়ই ‘উমার বললেন, সুহায়ব! তুমি আমার জন্য কাঁদছ অথচ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবার-পরিজনের কান্নাকাটির দরুন ‘আযাব দেয়া হয়। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, যখন ‘উমার (রাঃ) ইন্তিকাল করলেন, আমি এ কথা ‘আয়িশাহ (রাঃ) এর কাছে বললাম। তিনি শুনে বলতে লাগলেন, আল্লাহ তা’আলা ‘উমারের উপর দয়া করুন। কথা এটা নয়। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ কথা বলেননি যে, পরিবার-পরিজনের কান্নাকাটির জন্য মৃত ব্যক্তিকে ‘আযাব দেয়া হয়। বরং আল্লাহ তা’আলা পরিবার-পরিজনের কান্নাকাটির জন্য কাফিরের ‘আযাব বাড়িয়ে দেন। তারপর ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, কুরআনের এ আয়াতই দলীল হিসেবে তোমাদের জন্য যথেষ্ট, অর্থাৎ “কোন ব্যক্তি অন্য কারো বোঝা বহন করবে না”- (সুরা ইসরা ১৭:১৫) ইবনু ‘আব্বাস বলেন, এ আয়াতের মর্মবাণীও প্রায় এ রকমই, অর্থাৎ আল্লাহ তা’আলাই হাসান ও কাঁদান। ইবনু আবূ মুলায়কাহ্‌ বলেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার এসব কথা শুনার পর কিছুই বললেন না। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৪৩

وعن عائشة قالت: لما جاء النبي ﷺ قتل ابن حارثة وجعفر وابن رواحة جلس يعرف فيه الحزن وأنا أنظر من صائر الباب تعنى شق الباب فأتاه رجل فقال: إن نساء جعفر وذكر بكاءهن فأمره أن ينهاهن فذهب ثم أتاه الثانية لم يطعنه فقال: انههن فأتاه الثالثة قال: والله غلبننا يا رسول الله فزعمت أنه قال: «فاحث فى أفواههن التراب» . فقلت: أرغم الله أنفك لم تفعل ما أمرك رسول الله ﷺ ولم تترك رسول الله ﷺ من العناء. (متفق عليه)

তিনি বলেন, (মূতার যুদ্ধে) ইবনু হারিসাহ্‌, ও জা’ফার ও ইবনু রাওয়াহার শাহাদাতের খবর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে পৌছালে তিনি (মাসজিদে নাবাবীতে) বসে পড়লেন। তাঁর চেহারায় শোক-দুঃখের ছায়া পরিস্ফুট হয়ে উঠল। আমি দরজার ফোকর দিয়ে তাঁর অবস্থা দেখছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তি তাঁর খিদমাতে বলতে লাগল, জা’ফারের পরিবারের মেয়েরা এরূপ এরূপ করছে (অর্থাৎ তাদের কান্নাকাটির কথা উল্লেখ করল)। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ওদের কাছে গিয়ে কাঁদতে নিষেধ করার হুকুম দিলেন। লোকটি চলে গেল। (কিছুক্ষন পর) দ্বিতীয়বার এসে বলল, মহিলারা কোন কথা মানছে না। আবারও তিনি তাদেরকে কাঁদতে নিষেধ করে তাকে পাঠালেন। লোকটি চলে গেল। তাদেরকে নিষেধ করল। (কিছুক্ষণ পর) সে তৃতীয়বার ফিরে এসে বলল, হে রসূল! তারা আমার উপর বিজয়ী হয়ে গেছে। অর্থাৎ আমার কথা মানছে না। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমার ধারনা হলো, এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলবেনঃ তাদের মুখে মাটি ঢেলে দাও। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি মনে মনে (ঐ ব্যক্তিকে) বললাম, তোমার মুখে ছাই পড়ুক, তুমি কেন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে হুকুম দিচ্ছেন তা পালন করলে না? আর তুমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে দুঃখ দেয়া হতে বিরত হচ্ছ না। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৪৪

وعن أم سلمة قالت: لما مات أبو سلمة قلت غريب وفى أرض غربة لأبكينه بكاء يتحدث عنه فكنت قد تهيأت للبكاء عليه إذ أقبلت امرأة تريد أن تسعدنى فاستقبلها رسول الله ﷺ فقال: «أتريدين أن تدخلي الشيطان بيتا أخرجه الله منه؟» مرتين وكففت عن البكاء فلم أبك. رواه مسلم

তিনি বলেন, (আমার প্রথম স্বামী) আবূ সালামাহ্‌ মৃত্যুবরণ করলে আমি বললাম, আবূ সালামাহ্‌ মুসাফির ছিলেন, মুসাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলেন। অর্থাৎ মাক্কার লোক মাদীনায় মৃত্যুবরণ করলেন। আমি তাঁর জন্য এমনভাবে কাঁদব যে, আমার কান্নাকাটি সম্পর্কে লোকেরা আলোচনা করবে। আমি কান্নাকাটি করার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলাম। হঠাৎ একজন মহিলা এসে আমার সাথে কাঁদতে চাইল। এমন সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আগমন। তিনি বললেন, এই ঘর হতে আল্লাহ দু’বার শয়তানকে বহিষ্কার করেছেন। তোমরা তাকে পুনরায় এখানে আনতে চাও? উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ) বলেন, তাঁর এ হুশিয়ারী শুনে আমি (কান্নাকাটি) করা হতে চুপ হয়ে গেলাম। অতঃপর আমি আর কাঁদিনি। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৪৫

وعن النعمان بن بشير قال: أغمي على عبد الله بن رواحة فجعلت أخته عمرة تبكي: واجبلاه واكذا واكذا تعدد عليه فقال حين أفاق: ما قلت شيئا إلا قيل لى: أنت كذلك؟ زاد فى رواية فلما مات لم تبك عليه. رواه البخاري

তিনি বলেন, একবার ‘আবদুল্লাহ ইবনু রওয়াহাহ্‌ (কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে) জ্ঞান হারালেন। তাঁর বোন ‘আমরাহ্‌ কেঁদে কেটে বলতে লাগলেন হে আমার পর্বতসম ভাই! হে আমার এমন ভাই! তেমন ভাই! অর্থাৎ এভাবে তাঁর ভাইয়ের খ্যাতির বর্ণনা করতে লাগল। ‘আবদুল্লাহ ইবনু রওয়াহার জ্ঞান ফিরলে বোনকে বললেন, তুমি আমাকে নিয়ে যখন যা বলেছ, আমাকে তখনই জিজ্ঞেস করা হয়েছে, এসব গুনে গুণী আমি কিনা? অন্য এক বর্ণনায় অতিরিক্ত বর্ণনা এসেছে, যখন আবদুল্লাহ (মূতার যুদ্ধে) তখন তাঁর বোন ‘আম্‌রাহ্‌ আর তাঁর জন্য কাঁদেননি। (বুখারী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৪৬

وعن أبى موسى قال: سمعت رسول الله ﷺ يقول: «ما من ميت يموت فيقوم باكيهم فيقول: واجبلاه واسيداه ونحو ذلك إلا وكل الله به ملكين يلهزانه ويقولان: أهكذا كنت؟». رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب حسن

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, যখন কোন ব্যক্তি মারা যায় এবং তার আপন ক্রন্দনকারীরা এ কথা বলে কাঁদে, হে আমার পাহাড়তুল্য অমুক। হে সরদার! ইত্যাদি ইত্যাদি, তখন আল্লাহ তা’আলা ঐ মৃত ব্যক্তির নিকট দু’জন মালাক (ফেরেশ্‌তা) প্রেরণ করেন, যারা তার বুকে হাত দিয়ে ধাক্কা মারে আর জিজ্ঞেস করে, তুমি কি এমনই ছিলে? (তিরমিযী; এবং তিনি বলেন, এ হাদিসটি গরীব ও হাসান) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৪৭

وعن أبى هريرة قال: مات ميت من آل رسول الله ﷺ فاجتمع النساء يبكين عليه فقام عمر ينهاهن ويطردهن. فقال رسول الله ﷺ: «دعهن فإن العين دامعة والقلب مصاب والعهد قريب» . رواه أحمد والنسائي

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরিবারের কোন একজন (যায়নাব) মারা গেলেন। তখন কয়েকজন মহিলা একত্রিত হয়ে তাঁর জন্য কাঁদতে লাগল। এ অবস্থায় ‘উমার (রাঃ) দাঁড়িয়ে গেলেন। তিনি তাদেরকে কাঁদতে নিষেধ করলেন, আর ভাগিয়ে দিতে লাগলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ অবস্থা দেখে বললেন, ‘উমার! এদেরকে নিজ অবস্থায় ছেড়ে দাও। কারণ এদের চোখ কাঁদছে, হৃদয় ক্ষত-বিক্ষত, আর মৃত্যুর সময়ও নিকটবর্তী! (আহ্‌মাদ, নাসায়ী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৪৮

وعن ابن عباس قال: ماتت زينب بنت رسول الله ﷺ فبكت النساء فجعل عمر يضربهن بسوطه فأخره رسول الله ﷺ بيده وقال: «مهلا يا عمر» ثم قال: «إياكن ونعيق الشيطان» ثم قال: «إنه مهما كان من العين ومن القلب فمن الله عز وجل ومن الرحمة وما كان من اليد ومن اللسان فمن الشيطان» . رواه أحمد

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর কন্যা যায়নাব (রাঃ) মারা গেলে মহিলারা কাঁদতে লাগল। ‘উমার (রাঃ) হাতের কোড়া দিয়ে তাদেরকে আঘাত করলেন। এ অবস্থায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘উমারকে সরিয়ে দিলেন এবং বললেন, ‘উমার! কোমল হও। আর মহিলাদের বললেন, তোমরা তোমাদের গলার আওয়াজ শয়তান থেকে দূরে রাখো (অর্থাৎ চিৎকার করে ইনিয়ে বিনিয়ে কেঁদ না)। তারপর বললেন, যা কিছু চোখ (অশ্রু) ও হৃদয় (দুঃখ বেদনা ও শোক-তাপ) বের হয় তা আল্লাহর তরফ থেকেই বের হয়। এটা হয় রহ্‌মাতের কারণে। আর যা কিছু হাত ও মুখ হতে বের হয় তা হয় শায়ত্বনের তরফ থেকে। (আহ্‌মাদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৪৯

وعن البخاري تعليقا قال: لما مات الحسن بن الحسن بن علي ضربت امرأته القبة على قبره سنة ثم رفعت فسمعت صائحا يقول: ألا هل وجدوا ما فقدوا؟ فأجابه اخر: بل يئسوا فانقلبوا

ইমাম বুখারী সানাদবিহীন তা‘লীক্ব পদ্ধতিতে উল্লেখ করেন যে, যখন হাসান ইবনু ‘আলী (রাঃ)-এর ছেলে (ইমাম) হাসান মারা যান, তখন তাঁর স্ত্রী তাঁর ক্ববরের উপর এক বছর পর্যন্ত তাঁবু খাটিয়ে রেখেছিলেন। তাঁবু ভাঙ্গার পর অদৃশ্য হতে শুনতে পেলেন, “এ তাঁবু খাটিয়ে কি তারা হারানো ধন ফিরে পেলো?” এ কথার জবাবে আবার (অদৃশ্য হতেই) অন্য একজন বলল, না! বরং নিরাশ হয়ে ফিরে গিয়েছে। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৫০

وعن عمران بن حصين وأبى برزة قالا: خرجنا مع رسول الله ﷺ فى جنازة فرأى قوما قد طرحوا أرديتهم يمشون في قمص فقال رسول الله ﷺ: «أبفعل الجاهلية تأخذون؟ أو بصنيع الجاهلية تشبهون؟ لقد هممت أن أدعو عليكم دعوة ترجعون فى غير صوركم» قال: فأخذوا أرديتهم ولم يعودوا لذلك. رواه ابن ماجه

তাঁরা বলেন, আমরা একবার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে এক জানাযায় গিয়েছিলাম। ওখানে এমন কিছু লোককে দেখা গেল, যারা শোকের চিহ্নের জন্য তাদের গায়ের চাদর খুলে রেখে শুধু জামা পরে হাঁটছে। (এ অবস্থা দেখে) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা কি জাহিলিয়্যাতের কার্যক্রমের (মূর্খতা ও অজ্ঞতার) উপর ‘আমাল করছ অথবা জাহিলিয়্যাতের কার্যক্রমের মত কার্যক্রম অবলম্বন করছ? তারপর তিনি বললেন, আমার ইচ্ছা হচ্ছে এমন বদ্‌দু‘আ করতে যাতে তোমরা ভিন্ন আকৃতি নিয়ে (অর্থাৎ বানর বা শুয়োরের আকৃতিতে ) ঘরে ফিরে যাও। বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা শুনে তারা চাদরগুলো গায়ে পড়ল। এরপর কখনো তারা এমনটি করেনি। (ইবনু মাজাহ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৫১

وعن ابن عمر قال: نهى رسول الله ﷺ أن تتبع جنازة معها رانة. رواه أحمد وابن ماجه

তিনি বলেন, সে জানাযায় শারীক হতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ করেছেন যে জানাযার সাথে মাতমকারী মহিলা থাকে। (আহ্‌মাদ ও ইবনু মাজাহ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৫২

وعن أبى هريرة أن رجلا قال له: مات ابن لى فوجدت عليه هل سمعت من خليلك صلوات الله عليه شيئا يطيب بأنفسنا عن موتانا؟ قال: نعم سمعته ﷺ قال: «صغارهم دعاميص الجنة يلقى أحدهم أباه فيأخذ بناحية ثوبه فلا يفارقه حتى يدخله الجنة» . رواه مسلم وأحمد واللفظ له

তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি তাঁকে বলল, আমার একটি পুত্র সন্তান মারা গেছে, যার জন্য আমি শোকাহত। আপনি কি আপনার বন্ধু [মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] থেকে এমন কোন কথা শুনেছেন যা আমাদের হৃদয়কে খুশী করতে পারে? আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ) বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, মুসলিমদের শিশুরা জান্নাতে সাগরের মাছের মতো সাঁতার কাটতে থাকবে। যখন তারা তাদের পিতাকে পাবে তখন পিতার কাপড়ের কোণা টেনে ধরবে। পিতাকে জান্নাতে না পৌছানো পর্যন্ত ছাড়বে না। (মুসলিম, আহ্‌মাদ; ভাষা ইমাম আহ্‌মাদের) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৫৩

وعن أبى سعيد قال: جاءت امرأة إلى رسول الله ﷺ فقالت: يا رسول الله ذهب الرجال بحديثك فاجعل لنا من نفسك يوما نأتيك فيه تعلمنا مما علمك الله. فقال: «اجتمعن فى يوم كذا وكذا فى مكان كذا وكذا» فاجتمعن فأتاهن رسول الله ﷺ فعلمهن مما علمه الله ثم قال: «ما منكن امرأة تقدم بين يديها من ولدها ثلاثة إلا كان لها حجابا من النار» فقالت امرأة منهن: يا رسول الله أو اثنين؟ فأعادتها مرتين. ثم قال: «واثنين واثنين واثنين» . رواه البخاري

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে একজন মহিলা এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! পুরুষ আপনার বানী শুনে উপকৃত হচ্ছে, (এ অবস্থায়) আপনি আমাদের জন্য একটি দিন নির্দিষ্ট করে দিন, যেদিন আমরা আপনার খিদমাতে উপস্থিত হব। আপনি আমাদেরকে ওসব কথা শুনাবেন, যা আল্লাহ্‌ আপনাকে বলেছেন। (এ কথা শুনে) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে দিন ও স্থান নির্ধারণ করে উপস্থিত থাকতে বললেন। সে মতে মহিলাগণ সেখানে একত্রিত হলো। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে ওসব কথাই শিক্ষা দিলেন, যা আল্লাহ্‌ তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন। অতঃপর তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে যার তিনটি সন্তান তার আগে মৃত্যুবরণ করেছে, সে তার ও জাহান্নামের মধ্যে আড়াল হবে। এ কথা শুনে তাদের একজন জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল! যদি আগে দু’ সন্তান মৃত্যুবরণ করে এবং সে কথাটি দু’বার পুনরাবৃত্তি করল। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলিইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন- যদি দু’জনও হয়, দু’জন হয়, দু’জন হয়। (বুখারী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৫৪

وعن معاذ بن جبل قال: قال رسول الله ﷺ: «ما من مسلمين يتوفى لهما ثلاثة إلا أدخلهما الله الجنة بفضل رحمته إياهما» . فقالوا: يا رسول الله أو اثنان؟ قال: «أواثنان» . قالوا: أو واحد؟ قال: «أو واحد». ثم قال: «والذى نفسى بيده إن السقط ليجر أمه بسرره إلى الجنة إذا احتسبته» . رواه أحمد وروى ابن ماجه من قوله: «والذى نفسى بيده

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে দু’জন মুসলিম ব্যক্তির অর্থাৎ মাতা-পিতার তিনটি সন্তান (তাদের আগে) মারা যাবে, আল্লাহ্‌ তাদেরকে তাঁর বিশেষ রহ্‌মাতে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। সাহাবীগণ আরয করলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! দু’জন মারা গেলেও কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ দু’জন মারা গেলেও। সাহাবীগণ আবারো বললেন, একজন মারা গেলেও? তিনি বললেন, হ্যাঁ, একজন মারা গেলেও। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যাঁর হাতের মুঠোয় আমার জীবন তাঁর শপথ করে বলছি, যদি কোন মহিলার গর্ভপাত হয়ে যায় সেই মা ধৈর্য ধরে সাওয়াবের আশা করে, তাহলে সে সন্তানও তাঁর নাড়ী ধরে টেনে তাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। (আহ্‌মাদ, আর ইবনু মাজাহ এ বর্ণনা “আল্লাহর কসম” থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত উদ্ধৃত করেছেন।) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৫৫

وعن عبد الله بن مسعود قال: قال رسول الله ﷺ: «من قدم ثلاثة من الولد لم يبلغوا الحنث: كانوا له حصنا حصينا من النار» فقال أبو ذر: قدمت اثنين. قال: «واثنين» . قال أبي بن كعب أبو المنذر سيد القراء: قدمت واحد. قال: «وواحدا» . رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي: هذا حديث غريب

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তির জীবদ্দশায় তার তিনটি অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান মারা যাবে, তারা তাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাবার জন্য অত্যন্ত মজবুত আশ্রয়স্থল হয়ে যাবে। (এ কথা শুনে) আবূ যার (রাঃ) বললেন, আমি তো দু’টি শিশু সন্তান হারিয়েছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম) বললেনঃ দু’টি হলেও হবে। কারীদের ইমাম উবাই ইবনু কা’ব, যার ডাকনাম ছিল ‘আবুল মুনযির, তিনি বললেন। আমিও তো একজন পাঠিয়েছি। অর্থাৎ আমার একটি সন্তান মারা গেছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম) বললেনঃ একটি হলেও এমন অবস্থা। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদিসটি গরীব) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৫৬

وعن قرة المزني: أن رجلا كان يأتي النبي ﷺ ومعه ابن له. فقال له النبي ﷺ: «أتحبه؟» فقال: يا رسول الله ﷺ أحبك الله كما أحبه. ففقده النبي ﷺ فقال: «ما فعل ابن فلان؟» قالوا: يا رسول الله مات. فقال رسول الله ﷺ: «أما تحب ألا تأتي بابا من أبواب الجنة إلا وجدته ينتظرك؟» فقال رجل: يا رسول الله له خاصة أم لكلنا؟ قال: «بل لكلكم» . رواه أحمد

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি তার ছেলেকে সঙ্গে করে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসতেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, তুমি কি তোমার ছেলেকে বেশী ভালবাসো? সে ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ্‌ তা‘আলা আপনাকে ভালবাসেন যেমনভাবে আমি তাকে ভালবাসি। (কিছুদিন পর একদিন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছেলেটিকে তার পিতার সাথে দেখতে পেলেন না।) তিনি জিজ্ঞেস করলেন, অমুক ব্যক্তির সন্তানের কি হলো? সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল? তার ছেলেটি মারা গেছে। (এরপর ঐ ব্যক্তি উপস্থিত হলে) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি কি এ কথা পছন্দ করো না যে, তুমি (ক্বিয়ামাতের দিন) জান্নাতের যে দরজাতেই যাবে, সেখানেই তোমার সন্তানকে তোমার জন্য অপেক্ষারত দেখবে? এক ব্যক্তি আরয করল, হে আল্লাহর রসূল! এ শুভসংবাদ কি শুধু এ ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট, না সকলের জন্য? তিনি বললেন, সকলের জন্য। (আহ্‌মাদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৫৭

وعن علي قال: قال رسول الله ﷺ: «إن السقط ليراغم ربه إذا أدخل أبويه النار فيقال: أيها السقط المراغم ربه أدخل أبويك الجنة فيجرهما بسرره حتى يدخلهما الجنة». رواه ابن ماجه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ গর্ভপাতে নষ্ট হওয়া সন্তানও তার পিতা-মাতাকে জাহান্নামে প্রবেশ করানোর সময় তার ‘রবের’ সাথে বিতর্ক করবে। এর ফলে তখন বলা হবে, হে গর্ভপাতে নষ্ট হওয়া সন্তান! তোমার পিতা-মাতাকে জান্নাতে নিয়ে যাও। তখন সে অপূর্ণাজ্ঞ সন্তান তার পিতা-মাতাকে নিজের নাড়ী দিয়ে টেনে জান্নাতে নিয়ে যাবে। (ইবনু মাজাহ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৫৮

وعن أبى أمامة عن النبي ﷺ قال: «يقول الله تبارك وتعالى: يا ابن ادم إن صبرت واحتسبت عند الصدمة الأولى لم أرض لك ثوابا دون الجنة». رواه ابن ماجه

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন, আল্লাহ তা‘য়ালা (মানুষকে উদ্দেশ্য করে) বলেন, হে আদম সন্তান! তুমি যদি বিপদের প্রথম সময়ে ধৈর্যধারণ করো এবং আল্লাহর কাছে সাওয়াবের আশা পোষণ করো, তাহলে আমি তোমার জন্য জান্নাত ছাড়া অন্য কোন সাওয়াবে সন্তুষ্ট হব না। (ইবনু মাজাহ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৫৯

وعن الحسين بن علي عن النبي ﷺ قال: «ما من مسلم ولا مسلمة يصاب بمصيبة فيذكرها وإن طال عهدها فيحدث لذلك استرجاعا إلا جدد الله تبارك وتعالى له عند ذلك فأعطاه مثل أجرها يوم أصيب بها» . رواه أحمد والبيهقي فى شعب الإيمان

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন যে, কোন মুসলিম নর-নারী কোন বিপদাপদে পড়ার যত দীর্ঘ সময় পর মনে জেগে ওঠে আর সে নতুনভাবে “ইন্না-লিল্লা-হি ওয়া ইন্না-ইলাইহি রা-জি‘উন’ পড়ে তাহলে আল্লাহ তাকে নতুনভাবে সে সওয়াবই দিবেন যে সাওয়াব সে বিপদে পতিত হওয়ার প্রথম দিনই পেয়েছে। (আহমাদ, বায়হাক্বী‘র শু‘আবুল ঈমান) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৬০

وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «إذا انقطع شسع أحدكم فليسترجع فإنه من المصائب» . رواه البيهقي في شعب الإيمان

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কারো জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেলেও সে যেন ইস্‌তিরজা’ (ইন্না-লিল্লা-হি ওয়া ইন্না-ইলাইহি রা-জি‘উন) পড়ে। কারন এটা একটা বিপদই। (বায়হাক্বী‘র শু‘আবুল ঈমান) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৬১

وعن أم الدرداء قالت: سمعت أبا الدرداء يقول: سمعت أبا القاسم ﷺ يقول: «إن الله تبارك وتعالى قال: يا عيسى إنى باعث من بعدك أمة إذا أصابهم ما يحبون حمدوا الله وإن أصابهم ما يكرهون احتسبوا وصبروا ولا حلم ولا عقل. فقال: يا رب كيف يكون هذا لهم ولا حلم ولا عقل؟ قال: أعطيهم من حلمى وعلمى». رواهما البيهقي في شعب الإيمان

তিনি বলেন, আমি আবুদ্ দারদা (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, তিনি আবুল ক্বাসিমকে [রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে] বলতে শুনেছেন যে, আল্লাহ তা‘য়ালা বলেছেনঃ হে ‘ঈসা! আমি তোমার পরে এমন এক উম্মত পাঠাব, যারা তাদের পছন্দনীয় জিনিস পেলে আল্লাহর প্রশংসা করবে, আর বিপদে পড়লে সাওয়াবের আশা করবে ও ধৈর্যধারণ করবে। অথচ এই সময় তাদের কোন জ্ঞান ও ধৈর্যশক্তি থাকবে না। এ সময় তিনি [‘ঈসা (আলাইহিস সালাম)] নিবেদন করবেন, হে আমার রব! তাদের জ্ঞান ও ধৈর্য না থাকলে এটা এটা কেমন করে হবে? তখন আল্লাহ বললেন, আমি আমার সহিষ্ণুতা ও জ্ঞান হতে তাদেরকে কিছু দান করব। (উপরের দু‘টি হাদীসই বায়হাক্বী‘র শু‘আবিল ঈমানে বর্ণিত হয়েছে) [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية