মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ নিয়্যাতের উপরই কাজের ফলাফল নির্ভরশীল। মানুষ তাঁর নিয়্যাত অনুযায়ী ফল পাবে। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সস্তুষ্টির জন্য হিজরত করবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সস্তুষ্টির জন্যই গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার স্বার্থ প্রাপ্তির জন্য অথবা কোন মহিলাকে বিবাহের জন্য হিজরত করবে সে হিজরত তার নিয়্যাত অনুসারেই হবে যে নিয়্যাতে সে হিজরত করেছে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২
عن عمر بن الخطاب قال بينما نحن عند رسول الله ﷺ ذات يوم إذ طلع علينا رجل شديد بياض الثياب شديد سواد الشعر لا يرى عليه أثر السفر ولا يعرفه منا أحد حتى جلس إلى النبي ﷺ فأسند ركبتيه إلى ركبتيه ووضع كفيه على فخذيه وقال يا محمد أخبرني عن الإسلام قال «الإسلام : أن تشهد أن لا إله الا الله وأن محمدا رسول الله وتقيم الصلاة وتؤتي الزكاة وتصوم رمضان وتحج البيت إن استطعت إليه سبيلا» قال صدقت قال فعجبنا له يسأله ويصدقه قال فأخبرني عن الإيمان قال : «أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الاۤخر وتؤمن بالقدر خيره وشره» قال صدقت قال فأخبرني عن الإحسان قال : «أن تعبد الله كأنك تراه فإن لم تكن تراه فإنه يراك» قال فأخبرني عن الساعة قال : «ما المسئول عنها بأعلم من السائل» قال فأخبرني عن أمارتها قال : «أن تلد الأمة ربتها، وأن ترى الحفاة العراة العالة رعاء الشاء يتطاولون في البنيان» قال ثم انطلق فلبثت مليا ثم قال لي : «يا عمر! أتدري من السائل؟» قلت الله ورسوله أعلم قال : «فإنه جبريل أتاكم يعلمكم دينكم». رواه مسلم
তিনি বলেন, একদা আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দরবারে উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় জনৈক ব্যক্তি দরবারে আত্মপ্রকাশ করলেন। ধবধবে সাদা তাঁর পোশাক। চুল তাঁর কুচকুচে কালো। না ছিল তাঁর মধ্যে সফর করে আসার কোন চিহ্ন, আর না আমাদের কেউ তাকে চিনতে পেরেছেন। তিনি এসেই নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বসে পড়লেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাঁটুর সাথে তাঁর হাঁটু মিলিয়ে দিলেন। তাঁর দু’হাত তাঁর দুই উরুর উপর রেখে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে কিছু বলুন অর্থাৎ ইসলাম কি? উত্তরে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “ইসলাম হচ্ছে- তুমি সাক্ষ্য দিবে, আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ (উপাস্য) নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহ্র রসূল, সলাত ক্বায়িম করবে, যাকাত আদায় করবে, রমাযান মাসের সিয়াম পালন করবে এবং বাইতুল্লাহর হাজ্জ করবে যদি সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য থাকে।” আগন্তুক বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন।” আমরা আশ্চর্যান্বিত হলাম একদিকে তিনি রসূলকে (অজ্ঞের ন্যায়) প্রশ্ন করলেন, আবার অপরদিকে রসূলের বক্তব্যকে (বিজ্ঞের ন্যায়) সঠিক বলে সমর্থনও করলেন। এরপর তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, “আমাকে ঈমান সম্পর্কে কিছু বলুন।” রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উত্তর দিলেন, ঈমান হচ্ছেঃ আল্লাহ্ তা‘আলা, তাঁর মালায়িকাহ্, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রসূলগণ এবং পরকালকে সত্য বলে বিশ্বাস করা। এছাড়া তাক্বদীরের উপর অর্থাৎ জীবন ও জগতে কল্যাণ-অকল্যাণ যা কিছু ঘটছে, সবই আল্লাহ্র ইচ্ছায় হচ্ছে- এ কথার উপর বিশ্বাস করা। উত্তর শুনে আগন্তুক বললেন, “আপনি ঠিকই বলেছেন”। অতঃপর তিনি আবার বললেন, “আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন।” রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ইহসান হচ্ছে, “তুমি এমনভাবে আল্লাহ্র ‘ইবাদাত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছো। আর তুমি যদি তাঁকে না-ও দেখো, তিনি তোমাকে অবশ্যই দেখছেন”। আগন্তুক এবার বললেন, “আমাকে ক্বিয়ামাত সম্পর্কে বলুন।” উত্তরে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এ বিষয়ে যাকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে তিনি প্রশ্নকারীর চাইতে অধিক কিছু জানেন না।” আগন্তুক বললেন, “তবে ক্বিয়ামাতের নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে বলুন।” নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “ক্বিয়ামাতের নিদর্শন হল, দাসী তাঁর আপন মনীবকে প্রসব করবে, তুমি আরো দেখতে পাবে- খালি পায়ের উলঙ্গ-কাঙ্গাল মেষ চালকেরা বড় বড় দালান-কোঠা নিয়ে গর্ব ও অহংকার করবে।” ‘উমার (রাঃ) বললেন, অতঃপর আগন্তুক চলে গেলে আমি কিছুক্ষণ সেখানেই অবস্থান করলাম। পরে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন, ‘উমার! প্রশ্নকারী আগন্তুক কে চিনতে পেরেছো?” আমি বললাম, আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন, “ইনি হচ্ছেন জিবরীল (‘আলাহিসসালাম)। তিনি তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দেবার উদ্দেশ্যে এসেছিলেন”। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৩
ورواه أبو هريرة مع اختلاف وفيه وإذا رأيت الحفاة العراة الصم البكم ملوك الأرض في خمس لا يعلمهن الا الله . ثم قرأ (إن الله عنده‘ علم الساعة وينزل الغيث) الاۤية. متفق عليه
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতেও সামান্য শাব্দিক পরিবর্তনে হাদীসটি বর্ণিত রয়েছে। তা হচ্ছে- যখন উলঙ্গ কাঙ্গাল এবং মূক ও বধিরগণকে অর্থাৎ অযোগ্য লোকদেরকে দেশের রাজা বা শাসক হতে দেখবে। সে পাঁচটি বিষয় ক্বিয়ামাতের আলামাতের অন্তর্গত, যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। তারপর তিনি প্রমাণ হিসেবে কুরআনের এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আল্লাহ্ ক্বিয়ামাত সম্পর্কে ভাল জানেন কবে তা সংঘটিত হবে? কিভাবে হবে? বৃষ্টি তিনিই বর্ষিয়ে থাকেন” – (সূরাহ্ লুক্বমান ৩১:৩৪)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৪
عن ابن عمر رضي الله عنهما قال : قال رسول الله ﷺ بني الإسلام على خمس شهادة أن لا إله الا الله وأن محمدا عبدهٗ رسولهٗ وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة والحج وصوم رمضان. متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পাঁচটি স্তম্ভের উপর ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত। এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ্ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই ও মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রসূল, সলাত ক্বায়িম করা, যাকাত আদায় করা, হাজ্জ পালন করা এবং রমাযান মাসের সিয়াম পালন করা। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৫
وعن أبي هريرة قال : قال رسول الله ﷺ «الإيمان بضع وسبعون شعبة فأفضلها قول لا إله الا الله وأدناها إماطة الأذى عن الطريق والحياء شعبة من الإيمان». متفق عليه
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ঈমানের সত্তরটিরও বেশি শাখা রয়েছে। তন্মধ্যে সর্বোত্তম শাখা হল “আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ (উপাস্য) নেই”- এ ঘোষণা দেয়া। সাধারণ শাখা হল, কষ্টদায়ক কোন বস্তুকে পথ থেকে অপসারিত করা। আর লজ্জাশীলতা ঈমানের একটি শাখা। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৬
وعن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال : قال رسول الله ﷺ : المسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده والمهاجر من هجر ما نهى الله عنه هذا لفظ البخارى ولـمسلم قال : إن رجلا سأل النبي ﷺ أي المسلمين خير؟ قال : من سلم المسلمون من لسانه ويده
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পূর্ণাঙ্গ মুসলিম সে ব্যক্তি, যার হাত ও মুখ হতে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে। আর প্রকৃত মুহাজির হল সে ব্যক্তি যে সে সকল কাজ পরিত্যাগ করেছে যেসব কাজ করতে আল্লাহ্ বারণ করেছেন। হাদীসের শব্দগুলো সহীহুল বুখারীর। আর মুসলিম এ শব্দে বর্ণনা করেছেনঃ জনৈক ব্যক্তি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রশ্ন করল, মুসলিমদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, যার জিহবা ও হাত (’র অনিষ্ট) হতে অন্য মুসলিমগণ নিরাপদে থাকে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৭
وعن أنس قال : قال رسول الله ﷺ : لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من والده وولده والناس أجمعين. متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ (প্রকৃত) মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার কাছে তার পিতা, তার সন্তান-সন্ততি এবং অন্যান্য সকল মানুষ হতে প্রিয়তম হই। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৮
وعنه قال : قال رسول الله ﷺ : ثلاث من كن فيه وجد بهن حلاوة الإيمان من كان الله ورسولهٗ أحب إليه مما سواهما ومن أحب عبدا لا يحبهٗ الا لله ومن يكرهٗ أن يعود فى الكفر بعد إذ أنقذه الله منه كما يكره أن يلقى في النار. متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে লোকের মধ্যে তিনটি গুণের সমাবেশ ঘটে, সে ঈমানের প্রকৃত স্বাদ পেয়েছে। (১) তার মধ্যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের ভালবাসা দুনিয়ার সকল কিছু হতে অধিক প্রিয়। (২) যে লোক কোন মানুষকে কেবলমাত্র আল্লাহর উদ্দেশেই ভালবাসে। (৩) যে লোক কুফরী হতে নাজাতপ্রাপ্ত হয়ে ঈমান ও ইসলামের আলো গ্রহণ করার পর পুনরায় কুফরীতে ফিরে যাওয়াকে এত অপছন্দ করে যেমন আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে অপছন্দ করে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৯
وعن العباس بن عبد المطلب قال : قال رسول الله ﷺ ذاق طعم الإيمان من رضي بالله ربا وبالإسلام دينا وبمحمد رسولا. رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে লোক আল্লাহকে প্রতিপালক, ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে রসূল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট, সে-ই ঈমানের স্বাদ পেয়েছে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১০
وعن أبي هريرة قال : قال رسول الله ﷺ «والذي نفس محمد بيده لا يسمع بي أحد من هذه الأمة يهودي ولا نصراني ثم يموت ولم يؤمن بالذي أرسلت به الا كان من أصحاب النار». رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে প্রতিপালকের হাতে মুহাম্মাদের জীবন তাঁর কসম! এ উম্মাতের যে কেউই চাই ইয়াহূদী হোক বা খ্রীষ্টান, আমার রিসলাত ও নাবূওয়াত মেনে না নিবে ও আমার প্রেরিত শারী‘আতের উপর ঈমান না এনেই মৃত্যুবরণ করবে, সে নিশ্চয়ই জাহান্নামী।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১১
وعن أبي موسى الأشعري قال قال رسول الله ﷺ ثلاثة لهم أجران رجل من أهل الكتاب اۤمن بنبيه واۤمن بمحمد والعبد المملوك إذا أدى حق الله وحق مواليه ورجل كانت عنده أمة يطؤها فأدبها فأحسن تأديبها وعلمها فأحسن تعليمها ثم أعتقها فتزوجها فله أجران. متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তিন লোকের জন্য দ্বিগুণ পুরস্কার রয়েছে। প্রথমতঃ যে আহলি কিতাব নিজের নাবীর প্রতি ঈমান এনেছে আর মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতিও ঈমান এনেছে। দ্বিতীয়তঃ যে ক্রীতদাস যথানিয়মে আল্লাহর হাক্ব আদায় করেছে পুনরায় নিজের মুনীবের হাক্বও আদায় করেছে। তৃতীয়তঃ যার তত্ত্বাবধানে ক্রীতদাসী ছিল, সে তার সঙ্গে সহবাস করেছে, তাকে উত্তমরূপে আদব-কায়দাও শিক্ষা দিয়েছে, অতঃপর তাকে মুক্ত করে দিয়ে স্বীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করেছে, তার জন্য দ্বিগুণ পুরস্কার রয়েছে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২
وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال : قال رسول الله ﷺ أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله الا الله وأن محمدا رسول الله ويقيموا الصلاة ويؤتوا الزكاة فإذا فعلوا ذلك عصموا مني دماءهم وأموالهم الا بحق الإسلام وحسابهم على الله. متفق عليه. الا أن مسلما لم يذكر : الا بحق الإسلام
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহর পক্ষ হতে আমাকে হুকুম দেয়া হয়েছে যতক্ষণ পর্যন্ত লোকেরা এ কথা স্বীকার করে সাক্ষ্য না দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বূদ নেই, আর মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর প্রেরিত রসূল এবং সলাত আদায় করবে ও যাকাত আদায় করবে– ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার। যখন তারা এরূপ কাজ করবে আমার পক্ষ হতে তাদের জান ও মাল নিরাপদ থাকবে। কিন্তু ইসলামের বিধান অনুযায়ী কেউ যদি কোন দন্ড পাওয়ার উপযোগী কোন অপরাধ করে, তবে সে দন্ড তার উপর কার্যকর হবে। তারপর তার অদৃশ্য বিষয়ের (অন্তর সম্পর্কে) হিসাব ও বিচার আল্লাহর উপর ন্যস্ত। [১] তবে সহীহ মুসলিমে “কিন্তু ইসলামের বিধান অনুযায়ী” বাক্যটি উল্লেখ করেননি।
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩
وعن أنس، انه قال : قال رسول الله ﷺ من صلى صلاتنا واستقبل قبلتنا وأكل ذبيحتنا فذلك المسلم الذي لهٗ ذمة الله وذمة رسوله فلا تخفروا الله في ذمته. رواه البخاري
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের ন্যায় সলাত আদায় করে, আমাদের ক্বা’বাকে কিবলাহ হিসেবে গ্রহণ করে, আমাদের যাবাহকৃত পশুর গোশত খায়, সে এমন মুসলিম যার জন্য (জান-মাল, ইজ্জাত-সম্ভ্রম রক্ষায়) আল্লাহ ও রসূলের ওয়া’দা রয়েছে। তোমরা আল্লাহর অঙ্গীকার ভঙ্গ করো না। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪
وعن أبي هريرة قال : أتى أعرابي النبي ﷺ فقال دلني على عمل إذا عملته دخلت الجنة قال : تعبد الله ولا تشرك به شيئا وتقيم الصلاة المكتوبة وتؤدي الزكاة المفروضة وتصوم رمضان قال والذي نفسي بيده لا أزيد على هذا شيئا ولا أنقص منه فلما ولى قال النبي ﷺ من سره أن ينظر إلى رجل من أهل الجنة فلينظر إلى هذا. متفق عليه
তিনি বলেন, জনৈক (বেদুঈন) লোক রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন একটা কাজের সন্ধান দিন যা করলে আমি সহজে জান্নাতে পৌছাতে পারি। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আল্লাহর ‘ইবাদাত করতে থাকবে, তাঁর সাথে কাউকে শারীক করবে না, ফারয সলাত ক্বায়িম করবে, ফারয যাকাত আদায় করবে এবং রমাযানের সিয়াম পালন করবে। এ কথা শুনে লোকটি বলল, আল্লাহর কসম, যাঁর হাতে আমার জীবন রয়েছে! আমি এর থেকে বেশিও করব না, কমও করব না। সে লোক যখন চলে গেল তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, কেউ যদি জান্নাতী কোন লোককে দেখে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন এ লোককে দেখে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৫
وعن سفيان بن عبد الله الثقفي قال : قلت يا رسول الله قل لي في الإسلام قولا لا أسأل عنه أحدا بعدك وفي رواية غيرك قال :قل اۤمنت بالله ثم استقم. رواه مسلم
তিনি বলেন, আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাকে ইসলামের এমন একটি চূড়ান্ত কথা বলে দিন, যে সম্পর্কে আপনার পরে– অপর এক বর্ণনায় আছে, ‘আপনি ছাড়া’ আমাকে আর কারো কাছে জিজ্ঞেস করতে না হয়। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘আমি আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি’- তুমি এ কথা বল এবং এ ঘোষণায় দৃঢ় থাক। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬
وعن طلحة بن عبيد الله قال : جاء رجل إلى رسول الله ﷺ من أهل نجد ثائر الرأس نسمع دوي صوته ولا نفقهٗ ما يقول حتى دنا من رسول الله ﷺ فإذا هو يسأل عن الإسلام فقال رسول الله ﷺ : خمس صلوات في اليوم والليلة فقال : هل علي غيرهن؟ فقال : لا الا أن تطوع». قال رسول الله ﷺ : وصيام شهر رمضان. قال : هل علـي غيره؟ قال : لا الا أن تطوع. قال وذكر له رسول الله ﷺ الزكاة فقال هل علي غيرها؟ فقال : لا الا أن تطوع. قال : فأدبر الرجل وهو يقول : والله لا أزيد على هذا ولا أنقص منه فقال رسول الله ﷺ : أفلح الرجل إن صدق. متفق عليه
তিনি বলেন, একজন নাজদবাসী লোক এলোমেলো কেশে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে আসল। আমরা তার ফিসফিস শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। কিন্তু বেশ দূরে থাকার কারণে কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। এমনকি সে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খুব নিকটে এসে পৌঁছল। সে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল (ইসলাম কি?)। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উত্তরে বললেন, দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় করা। তখন সে লোকটি বলল, এছাড়া কি আর কোন সলাত আমার উপর ফারয? তিনি বললেন, না। তবে তুমি নাফল সলাত আদায় করতে পারো। তারপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, রমাযান মাসের সিয়াম পালন করবে। সে ব্যক্তি বলল, এছাড়া কি আর কোন সিয়াম আমার উপর ফারয? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, না। তবে ইচ্ছামাফিক (নাফল) সিয়াম পালন করতে পারো। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাকাতের কথা বর্ণনা করলেন। পুনরায় সে লোকটি বলল, এছাড়া কি আর কোন সদাক্বাহ আমার উপর ফারয? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, না, কিন্তু স্বেচ্ছায় দান করার ইখতিয়ার রয়েছে। অতঃপর লোকটি এ কথা বলতে বলতে চলে গেল– আল্লাহর কসম, এর উপর আমি কিছু বেশিও করব না এবং কমও করব না। (এটা শুনে) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, লোকটি যদি তার কথায় সত্য বলে থাকে, তাহলে (জাহান্নাম হতে) সাফল্য লাভ করল। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭
وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال : إن وفد عبد القيس لما أتوا النبي ﷺ : قال رسول الله ﷺ «من القوم؟ أو من الوفد؟» قالوا: ربيعة قال : مرحبا بالقوم أو : بالوفد غير خزايا ولا ندامى قالوا : يا رسول الله! إنا لا نستطيع أن نأتيك الا في الشهر الحرام وبيننا وبينك هذا الحي من كفار مضر فمرنا بأمر فصل نخبر به من وراءنا وندخل به الجنة وسألوه عن الأشربة فأمرهم بأربع ونهاهم عن أربع : أمرهم بالإيمان بالله وحده قال : أتدرون ما الإيمان بالله وحده؟ قالوا الله ورسوله أعلم قال : شهادة أن لا إله الا الله وأن محمدا رسول الله وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة وصيام رمضان وأن تعطوا من المغنم الخمس ونهاهم عن أربع عن الحنتم والدباء والنقير والمزفت وربما قال المقير وقال : احفظوهن وأخبروا بهن من وراءكم. متفق عليه. ولفظه للبخاري
তিনি বলেন, ‘আবদুল ক্বায়স গোত্রের এক প্রতিনিধি দল নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর কাছে পৌঁছলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, এরা কোন গোত্রের লোক (বা কোন প্রতিনিধি দল? লোকেরা জবাব দিল, এরা রবী‘আহ্ গোত্রের লোক। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, গোত্র বা প্রতিনিধি দলকে মুবারকবাদ! অপমান ও অনুতাপবিহীন অবস্থায় আগত প্রতিনিধি দলকে মুবারাকবাদ! প্রতিনিধি দল আরয করল, হে আল্লাহ্র রসূল! আপনার ও আমাদের মধ্যে কাফির যুদ্ধবাজ মুযার বংশ অন্তরায়স্বরূপ থাকায় হারাম মাস ব্যতীত অন্য মাসে আপনার নিকট আসতে পারি না। তাই আপনি হাক্ব ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়কারী এমন কিছু পরিষ্কার নির্দেশ দিন যা আমরা মেনে চলব এবং যাদেরকে দেশে রেখে এসেছি তাদেরকে গিয়ে বলতে পারব। যা দ্বারা আমরা (সহজে) জান্নাতে যেতে পারি। এর সাথে তারা (নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে) পানীয় বস্তু (পান পাত্র) সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করলেন। প্রত্যুত্তরে তিনি তাদেরকে চারটি কাজের আদেশ দিলেন আর চারটি কাজ হতে নিষেধ করলেন। (প্রথমে) তিনি তাদেরকে এক আল্লাহ্র প্রতি ঈমান আনার আদেশ করলেন এবং বললেন, আল্লাহ্র প্রতি ঈমান আনার অর্থ কি, তা কি তোমরা জান? তারা জবাবে বলল, আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলই অধিক ভাল জানেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই আর মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ্র রসূল- এ সাক্ষ্য দেয়া। (২) সলাত ক্বায়িম করা। (৩) যাকাত আদায় করা। এবং (৪) রমাযান মাসের সিয়াম পালন করা। এরপর (চারটি কাজ ছাড়াও) গনীমতের (জিহাদলব্ধ মালের) ‘খুমুস’ এক-পঞ্চমাংশ দেয়ার হুকুম দিলেন। অতঃপর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চারটি (মদের) পানপাত্র ব্যবহার নিষেধ করলেন। এগুলো হলঃ হানতাম (নিকেল করা সবুজ পাত্র), দুব্বা (কদুর খোল দ্বারা প্রস্ততকৃত পাত্রবিশেষ) নাকীর (গাছের বা কাঠের পাত্রবিশেষ), মুয়াফফাত (তৈলাক্ত পাত্রবিশেষ)। (এ জাতীয় পাত্রে তৎকালীন সময়ে মদ ব্যবহার করা হত) তিনি আরো বললেন, এ সকল কথা ভালভাবে স্মরণ রাখবে। যাদের দেশ ছেড়ে এসেছো তাদেরকেও বলবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৮
وعن عبادة بن الصامت قال : قال رسول الله ﷺ وحوله عصابة من أصحابه : بايعوني على أن لا تشركوا بالله شيئا ولا تسرقوا ولا تزنوا ولا تقتلوا أولادكم ولا تأتوا ببهتان تفترونه بين أيديكم وأرجلكم ولا تعصوا في معروف فمن وفى منكم فأجره على الله ومن أصاب من ذلك شيئا فعوقب في الدنيا فهو كفارة له ومن أصاب من ذلك شيئا ثم ستره الله فهو إلى الله إن شاء عفا عنه وإن شاء عاقبه فبايعناه على ذلك. متفق عليه
তিনি বলেন, একদা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–কে ঘিরে একদল সহাবী বসেছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, আমার হাতে এ কথার বাই’আত গ্রহণ কর যে, আল্লাহ্র সাথে কাউকে শারীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার (যিনা) করবে না, নিজেদের সন্তানাদি (অভাবের দরুন) হত্যা করবে না। কারো প্রতি (যিনার) মিথ্যা অপবাদ দিবে না। শারী’আতসম্মত কোন বিষয়ে অবাধ্য হবে না। তোমাদের মধ্যে যারা এ সকল অঙ্গীকার পূর্ণ করতে পারবে, তাদের জন্য আল্লাহ্র কাছে পুরষ্কার রয়েছে। অপরদিকে যে লোক (শির্ক ব্যতীত) অন্য কোন অপরাধ করবে এবং এজন্যে দুনিয়ায় শাস্তি পেয়ে যাবে তাহলে এ শাস্তি তার গুনাহ মাফ হবার কাফফারাহ্ হয়ে যাবে। আর যদি কোন গুনাহের কাজ করে, অথচ আল্লাহ্ তা ঢেকে রাখেন (বা ধরা না পড়ে), এজন্যে দুনিয়ায় এর কোন বিচার না হয়ে থাকে, তাহলে এ কাজ আল্লাহ্র মর্যির উপর নির্ভর করবে। তিনি ইচ্ছা করলে আখিরাতে তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন অথবা শাস্তিও দিতে পারেন। বর্ণনাকারী (‘উবাদাহ্) বলেন, আমরা এ সকল শর্তানুযায়ী নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর হাতে বায়’আত করলাম। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৯
وعن أبي سعيد الخدري قال : خرج رسول الله ﷺ في أضحى أو فطر إلى المصلى فمر على النساء فقال : يا معشر النساء تصدقن فإني أريتكن أكثر أهل النار» فقلن وبم يا رسول الله؟ قال تكثرن اللعن وتكفرن العشير ما رأيت من ناقصات عقل ودين أذهب للب الرجل الحازم من إحداكن. قلن وما نقصان ديننا وعقلنا؟ يا رسول الله! قال : أليس شهادة المرأة مثل نصف شهادة الرجل؟» قلن بلى قال «فذلك من نقصان عقلها. قال : أليس إذا حاضت لم تصل ولم تصم؟ قلن بلى قال فذلك من نقصان دينها. متفق عليه
তিনি বলেন, ঈদুল ফিত্র কিংবা কুরবানীর ঈদের দিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদগাহে গেলেন এবং নারীদের নিকট পৌঁছলেন। অতঃপর তাদের উদ্দেশ্যে বললেন, “হে নারী সমাজ! তোমরা দান-সদাক্বাহ্ কর। কেননা আমাকে অবগত করানো হয়েছে যে, জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী নারী সমাজেরই হবে”। (এ কথা শুনে) তারা বলল, হে আল্লাহ্র রসূল! এর কারণ কি? নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “তোমরা অধিক মাত্রায় অভিসম্পাত করে থাক এবং নিজ স্বামীদের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে থাক। বুদ্ধি ও দীনদারীতে দুর্বল হবার পরও বিচক্ষণ ও সচেতন পুরুষদের বেওকুফ বানিয়ে দেবার জন্য তোমাদের চেয়ে অধিক পারঙ্গম আমি আর কাউকে দেখিনি”। (এ কথা শুনে) নারীরা আরয করল, হে আল্লাহ্র রসূল! বুদ্ধি ও দ্বীনের ব্যাপারে আমাদের কী দুর্বলতা রয়েছে? নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “একজন নারীর সাক্ষ্য কি একজন পুরুষের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয়”? তারা বলল, জি হাঁ! নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “এটাই হল নারীদের বুদ্ধিমত্তার দুর্বলতা। আর নারীরা মাসিক ঋতু অবস্থায় সালাত দায় করতে ও সিয়াম পালন করতে পারে না। এটা কি সত্য নয়? তারা উত্তরে বলেন, হাঁ তা-ই। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ “এটাই হল তাদের দ্বীনের দুর্বলতা”। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২০
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ قال الله كذبني ابن اۤدم ولم يكن له ذلك وشتمني ولم يكن له ذلك فأما تكذيبه إياي فقوله لن يعيدني كما بدأني وليس أول الخلق بأهون علي من إعادته وأما شتمه إياي فقوله اتخذ الله ولدا وأنا الأحد الصمد الذي لم ألد ولم أولد ولم يكن لي كفوا أحد
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, আদম সন্তান আমাকে মিত্যাবাদী বানাচ্ছে, অথচ এটা তাদের জন্য অনুচিত। সে আমায় মন্দ বলছে অথচ এটাও তাদের পক্ষে সমীচীন নয়। আমাকে মিথ্যা বলার অর্থ হল- তারা বলে, এমনভাবে আল্লাহ্ আমাকে (আখিরাতে) অবশ্যই সৃষ্টি করতে পারবেন না ঠিক যেভাবে আল্লাহ্ আমাকে প্রথম (এ দুনিয়ায়) সৃষ্টি করেছেন। অথচ আমার পক্ষে দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করা প্রথমবার সৃষ্টি করার তুলনায় অধিকতর সহজ নয় কি? আর আমার ব্যাপারে মন্দ বলার অর্থ হল, তারা বলে, আল্লাহ্ নিজের পুত্র বানিয়েছেন, অথচ আমি একক ও অমুখাপেক্ষী। আমি কাউকে জন্ম দেইনি, আমাকেও কেউ জন্ম দেইনি, আর কেউ আমার সমকক্ষও নয়। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২১
وفى رواية ابن عباس : وأما شتمه إياي فقوله لي ولد فسبحاني أن أتخذ صاحبة أو ولدا. رواه البخاري
আর তাদের আমাকে মন্দ বলার অর্থ হলঃ তারা বলে, আল্লাহ্র সন্তান আছে, অথচ আমি স্ত্রী ও পুত্র হতে পবিত্র। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২২
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ : قال الله تعالى يؤذيني ابن اۤدم يسب الدهر وأنا الدهر بيدي الأمر أقلب الليل والنهار. متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, আদাম সন্তান আমাকে কষ্ট দিয়ে থাকে, তারা যুগ বা কালকে গালি দেয়, অথচ আমিই দাহ্র অর্থাৎ যুগ বা কাল। আমার হাতেই (কালের পরিবর্তনের) ক্ষমতা। দিন-রাত্রির পরিবর্তন আমিই করে থাকি। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৩
وعن أبي موسى الأشعري قال قال رسول الله ﷺ : ما أحد أصبر على أذى يسمعه من الله يدعون له الولد ثم يعافيهم ويرزقهم. متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, কষ্টদায়ক কোন বিষয় শুনেও সবর করার ক্ষমতা আল্লাহ্র চেয়ে অধিক কারো নেই। মানুষেরা তাঁর সন্তান আছে বলে দাবি করে। (এরপরও তিনি মানুষের ওপর কোন প্রতিশোধ গ্রহণ না করে), বরং তাদেরকে ক্ষমা করে দেন এবং তাদেরকে জীবিকা দান করে থাকেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৪
وعن معاذ قال كنت ردف النبي ﷺ على حمار ليس بيني وبينه الا مؤخرة الرحل فقال : يا معاذ هل تدري حق الله على عباده وما حق العباد على الله؟ قلت الله ورسوله أعلم قال : فإن حق الله على العباد أن يعبدوه ولا يشركوا به شيئا وحق العباد على الله أن لا يعذب من لا يشرك به شيئا. فقلت يا رسول الله أفلا أبشر به الناس؟ قال : لا تبشرهم فيتكلوا. متفق عليه
তিনি বলেন, আমি এক ভ্রমণে গাধার উপর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর পেছনে আরোহণ করলাম। আমার আর তাঁর মধ্যে হাওদার পেছন দিকের হেলানো কাঠ ছাড়া আর কোন ব্যবধান ছিল না। তিনি বললেন, হে মু’আয! বান্দাদের উপর আল্লাহ্র কি হাক্ব এবং আল্লাহ্র উপর বান্দার কি হাক্ব, তুমি কি জান? আমি বললাম, আল্লাহ্ ও আল্লাহ্র রসূলই এ ব্যাপারে অধিক অবগত। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, বান্দাদের উপর আল্লাহ্র হাক্ব হল, তারা আল্লাহ্র ‘ইবাদাত করবে, তাঁর সাথে কাউকে শারীক করবে না। আর আল্লাহ্র উপর বান্দার হাক্ব হল, যারা আল্লাহ্র সাথে কাউকে শারীক করেনি, আল্লাহ্ তাদেরকে শাস্তি দিবেন না। এ কথা শুনে আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রসূল! তাহলে আমি কি এ সুসংবাদ মানুষদেরকে জানিয়ে দিব না? তিনি বললেন, লোকদেরকে এ সুসংবাদ দিও না। কারণ তাহলে তারা এর উপর নির্ভর করে বসে থাকবে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৫
وعن أنس أن النبي ﷺ ومعاذ رديفه على الرحل قال : يا معاذ! قال لبيك يارسول الله ﷺ وسعديك قال : يا معاذ!» قال لبيك يا رسول الله وسعديك قال : يا معاذ! قال لبيك يا رسول الله وسعديك ثلاثا قال : ما من أحد يشهد أن لا إله الا الله وأن محمدا رسول الله صدقا من قلبه الا حرمه الله على النار قال : يا رسول الله! أفلا أخبر به الناس فيستبشروا؟ قال : إذا يتكلوا وأخبر بها معاذ عند موته تأثما. متفق عليه
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাহনের উপর বসা ছিলেন এবং তাঁর পেছনে মু’আয (রাঃ) আরোহণ করেছিলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে মু’আয! তিনি (মু’আয) বললেন, আমি উপস্থিত আছি, হে আল্লাহ্র রসূল! রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবার বললেন, হে মু‘আয! মু’আয (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আমি উপস্থিত আছি। তৃতীয়বার আবার রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, মু’আয! মু’আয (রাঃ) বললেন, আমি উপস্থিত আছি। এভাবে মু’আযকে তিনবার ডাকলেন এবং (মু’আয) তিনবারই তাঁর উত্তর দিলেন। অতঃপর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আল্লাহ্র যে বান্দা খাঁটি মনে এ ঘোষণা দিবে, “আল্লাহ্ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, আর মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ্র রসূল” আল্লাহ্ তার উপর জাহান্নাম হারাম করে দিবেন। তখন মু’আয (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! এ সুসংবাদটি কি আমি লোকদেরকে জানিয়ে দিব? তারা যাতে এ খোশখবরী শুনলে খুশী হয়? রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, না তাহলে তারা এর উপর নির্ভর করে বসে থাকবে। [আনাস (রাঃ) বলেন] মু’আয শুধুমাত্র হাদীস গোপন করার অপরাধে অপরাধী হওয়ার ভয়েই মৃত্যুকালে এ হাদীসটি প্রকাশ করে গিয়েছেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৬
وعن أبي ذر قال أتيت النبي ﷺ وعليه ثوب أبيض وهو نائم ثم أتيته وقد استيقظ فقال : ما من عبد قال لا إله الا الله ثم مات على ذلك الا دخل الجنة قلت وإن زنى وإن سرق؟ قال : وإن زنى وإن سرق. قلت وإن زنى وإن سرق؟ قال : «وإن زنى وإن سرق قلت وإن زنى وإن سرق؟ قال : «وإن زنى وإن سرق على رغم أنف أبي ذر. وكان أبو ذر إذا حدث بهذا قال وإن رغم أنف أبي ذر. متفق عليه
তিনি বলেন, আমি (একবার) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খিদমতে পৌঁছলাম। তিনি একটি সাদা কাপড় পরিহিত অবস্থায় ঘুমিয়েছিলেন। আমি ফেরত চলে এলাম। অতঃপর পুনরায় তাঁর নিকট গেলাম। তখন তিনি জেগে ছিলেন। তিনি (আমাকে দেখে) বললেন, যে ব্যক্তি (অন্তরের সাথে) ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ বলবে আর এ বিশ্বাসের উপর তার মৃত্যু হবে, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, সে চুরি ও ব্যভিচার (এর মত বড় গুনাহ) করে থাকে তবুও? রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ সে চুরি ও ব্যভিচার করলেও। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, চুরি ও ব্যভিচার করার পরও? নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হাঁ, চুরি ও ব্যভিচারের ন্যায় গুনাহ করলেও। আবূ যার-এর নাক ধূলায় মলিন হলেও। বর্ণনাকারী বলেন যখনই আবূ যার (রাঃ) এ হাদীসটি বর্ণনা করতেন (গৌরবের সাথে) এ শেষ বাক্যটি ‘আবূ যার-এর নাক ধুলায় মলিন হলেও’ অবশ্যই বর্ণনা করতেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৭
وعن عبادة بن الصامت قال قال رسول الله ﷺ : من شهد أن لا إله الا الله وحده لا شريك له وأن محمدا عبده ورسوله وأن عيسى عبد الله ورسوله وابن امته وكلمته ألقاها إلى مريم وروح منه والجنة والنار حق أدخله الله الجنة على ما كان من العمل. متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে লোক (অন্তরের সাথে) এ ঘোষণা দিবে, “আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, তাঁর কোন শারীক নেই, মুহাম্মাদ (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁরই রসূল এবং বিবি মারইয়াম-এর ছেলেও [‘ঈসা (আঃ)] আল্লাহর বান্দা ও তাঁরই রসূল, তাঁর বান্দীর সন্তান ও আল্লাহর কালিমা- যা তিনি মারইয়াম-এর প্রতি প্রেরণ করেছিলেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ‘রূহ’, আর জান্নাত-জাহান্নাম সত্য- তার ‘আমাল যা-ই হোক না কেন আল্লাহ তা’আলা তাকে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৮
وعن عمرو بن العاص قال أتيت النبي ﷺ فقلت ابسط يمينك فلأبايعك فبسط يمينه فقبضت يدي فقال : ما لك يا عمرو؟ قلت أردت أن أشترط فقال : تشترط ماذا؟ قلت أن يغفر لي قال : أما علمت يا عمرو! أن الإسلام يهدم ما كان قبله وأن الهجرة تهدم ما كان قبلها وأن الحج يهدم ما كان قبله؟ رواه مسلم والحديثان المرويان عن أبي هريرة قال : قال الله تعالى : أنا أغنى الشركاء عن الشرك» والاۤخر : الكبرياء ردائى سنذكرهما فى باب الرياء والكبر إن شاء الله تعالى
তিনি বলেন, আমি নাবী (সাল্লালাহূ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খিদমাতে উপস্থিত হয়ে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার দিকে আপনার হাত প্রসারিত করে দিন আমি আপনার কাছে ইসলাম গ্রহণের বায়’আত করব। তিনি (সাল্লালাহূ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর হাত প্রসারিত করে দিলেন, কিন্তু আমি আমার হাত টেনে নিলাম। তখন তিনি (সাল্লালাহূ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (অবাক হয়ে) বললেন, তোমার কি হল হে ‘আমর! আমি বললাম, আমার কিছু শর্ত আছে। তিনি (সাল্লালাহূ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, কি শর্ত? আমি বললাম, আমি চাই আমার (পূর্বের কৃ্ত) গুনাহ যেন মাফ করে দেয়া হয়। তখন তিনি (সাল্লালাহূ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘আমর! তুমি কি জান না ‘ইসলাম গ্রহণ’ পূর্বেকার সকল গুনাহ বিনাশ করে দেয়। হিজরত সে সকল গুনাহ মাফ করে দেয় যা হিজরতের পূর্বে করা হয়েছে। এমনিভাবে হাজ্জও তার পূর্বের সকল গুনাহ নষ্ট করে দেয়? [৪৫] আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে দু’টি হাদীস, প্রথমটি তিনি (সাল্লালাহূ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ আমি শারীককারীদের শিরক হতে মুক্ত। .... দ্বিতীয়টি হচ্ছে, ‘অহংকার আমার চাদর’- ইনশা’আল্লাহ তা’আলা রিয়ার অনুচ্ছেদে শীঘ্রই তা বর্ণনা করব। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ২৯
عن معاذ قال قلت يا رسول الله أخبرني بعمل يدخلني الجنة ويباعدني عن النار قال : «لقد سألت عن امر عظيم وإنه ليسير على من يسره الله عليه تعبد الله ولا تشرك به شيئا وتقيم الصلاة وتؤتي الزكاة وتصوم رمضان وتحج البيت ثم قال : ألا أدلك على أبواب الخير؟ الصوم جنة والصدقة تطفئ الخطيئة كما يطفئ الماء النار وصلاة الرجل في جوف الليل» قال ثم تلا : تتجافى جنوبهم عن المضاجع حتى بلغ ﴿يعملون﴾ ثم قال: ألا أدلك برأس الأمر كله وعموده وذروة سنامه؟ قلت بلى يا رسول الله! قال : رأس الأمر الإسلام وعموده الصلاة وذروة سنامه الجهاد». ثم قال ألا أخبرك بملاك ذلك كله؟ قلت بلى يا نبي الله فأخذ بلسانه؟ قال : كف عليك هذا فقلت يا نبي الله وإنا لمؤاخذون بما نتكلم به فقال : ثكلتك أمك يا معاذ! وهل يكب الناس في النار على وجوههم أو على مناخرهم الا حصائد ألسنتهم؟ رواه أحمد والترمذي وابن ماجة
তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! ‘আমলের কথা বলে দিন, যা আমাকে (সহজে) জান্নাতে নিয়ে যাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন করলে, কিন্তু যার পক্ষে আল্লাহ এটা সহজ করে দেন, তার পক্ষে এটা খুবই সহজ। তা হচ্ছে, আল্লাহর ‘ইবাদত করবে, কাউকে তাঁর সাথে শারীক করবে না। নিয়মিত সলাত ক্বায়িম করবে, যাকাত দিবে, রমযানের সিয়াম পালন করবে এবং বায়তুল্লাহর হাজ্জ করবে। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে মু‘আয! আমি কি তোমাকে কল্যাণকর দরজাসমূহ বলে দিব না? (জেনে রেখ) সিয়াম (কুপ্রবৃত্তির মুকাবিলায়) ঢালস্বরূপ। দান-সদাক্বাহ্ গুনাহকে নির্মূল করে দেয়। যেমনিভাবে পানি আগুনকে ঠান্ডা করে দেয়। এভাবে মানুষের মধ্য-রাত্রির (তাহাজ্জুদের) সলাত (আদায়ের মাধ্যমে গুনাহ শেষ হয়ে যায়)। অতঃপর (তার প্রমাণে কুরআনের এ আয়াত) তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঠ করলেন : “সৎ মু’মিনদের পাঁজর বিছানা থেকে আলাদা থাকে (অর্থাৎ তারা শয্যা ত্যাগ করে ‘ইবাদত রত থাকে) আর নিজেদের পরওয়ারদিগারকে আশা- নিরাশার স্বরে ডাকতে খাকে। যে সম্পদ আমি তাদেরকে দিয়েছি তা থেকে আল্লাহর পথে খরচ করে। কোন মানুষই জানে না, এ সৎ মু’মিনদের চোখ ঠান্ডা করার জন্য কি জিনিস লুক্কায়িত রাখা হয়েছে। এটা হল তাদের কৃত সৎ ‘আমালের পুরস্কার”- (সূরাহ্ সাজদাহ্ ৩২ : ১৬-১৭)। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমি কি তোমাকে বলে দিব না, (দ্বীনের) কাজের খুঁটি স্তম্ভ কি এবং তার উচ্চশিখরই বা কি? আমি বললাম, হাঁ, বলে দিন, হে আল্লাহর রসূল! তখন রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, দ্বীনের (সমস্ত কাজের) আসল হচ্ছে ইসলাম (অর্থাৎ কালিমা)। আর তার স্তম্ভ হল সলাত, আর উচ্চশিখর হচ্ছে জিহাদ। অতঃপর তিনি তিনি বললেন, আমি কি তোমাকে এ সকলের মূল বলে দিব না? আমি উত্তর দিলাম, হে আল্লাহর নাবী! অবশ্যই তা বলে দিন। রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জিহ্বা ধরে বললেন, এটাকে সংযত রাখ। আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রসূল। আমরা মুখ দ্বারা যা বলি, এ সম্পর্কেও কি (পরকালে) আমাদের জবাহদিহির সম্মুখীন হতে হবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সর্বনাশ, কি বললে হে মু‘আয! (জেনে রেখ কিয়ামতের দিন) মানুষকে মুখের উপর অথবা নাকের উপর উপুড় করে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। তার কারণ মুখ থেকে বেরিয়ে আসা অসংযত কথা। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৩০
وعن أبي أمامة قال قال رسول الله ﷺ : «من أحب لله وأبغض لله وأعطى لله ومنع لله فقد استكمل الإيمان». رواه أبو داوٗد
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যে ব্যক্তি আল্লাহর ওয়াস্তে কাউকে ভালবাসে, আর আল্লাহর ওয়াস্তে কারও সাথে বিদ্বেষ পোষণ করে এবং আল্লাহর ওয়াস্তেই দান- খয়রাত করে আবার আল্লাহর ওয়াস্তেই দান- খয়রাত থেকে বিরত থাকে। সে ঈমান পূর্ণ করেছে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৩১
رواه الترمذي عن معاذ بن أنس مع تقديم وتأخير فيه : فقد استكمل إيمانه
বর্ণনা করেছেন এবং এতে বর্ণিত হয়েছে, সে তার ঈমান পরিপূর্ণ করে নিয়েছে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৩২
وعن أبي ذر قال قال رسول الله ﷺ أفضل الأعمال الحب في الله والبغض في الله. رواه أبو داوٗد
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : ‘আমলের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট হল আল্লাহর ওয়াস্তে ভালবাসা, আর আল্লাহর জন্যই কারো সাথে ঘৃণা ও শত্রুতা পোষণ করা। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৩৩
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ : المسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده والمؤمن من أمنه الناس على دمائهم وأموالهم. رواه الترمذي والنسائـي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: সেই ব্যক্তি মুসলিম যার হাত ও মুখ হতে অপর মুসলিম নিরাপদ থাকে। আর (প্রকৃত ও পরিপূর্ণ) মু’মিন সে ব্যক্তি যার থেকে মানুষ নিজের জীবন ও সম্পদকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে মনে করে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৩৪
وزاد البيهقى فى شعب الايمان برواية فضالة : والمجاهد من جاهد نفسه فى طاعة الله والمهاجر من هجر الخطايا والذنوب
ইমাম বায়হাক্বী তাঁর শু’আবূল ঈমান গ্রন্থে ফাযালাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন তাতে এ শব্দগুলো বেশি রযেছে : “আর প্রকৃত মুজাহিদ হল সে, যে আল্লাহর আনুগত্যে নিজের নাফসের সাথে জিহাদ করে এবং (প্রকৃত) মুহাজির সে ব্যক্তি, যে সকল অপরাধ ও গুনাহ বর্জন করে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৩৫
وعن أنس قال : قلما خطبنا رسول الله ﷺ الا قال : لا إيمان لمن لا أمانة له ولا دين لمن لا عهد له». رواه البيهقي في شعب الإيمان
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরূপ খুৎবাহ্ খুব কমই দিয়েছেন যাতে এ কথা বলেননি যে, যার আমানাতদারী নেই তার ঈমানও নেই এবং যার ওয়া’দা-অঙ্গীকারের মূল্য নেই তার দীনও নেই। (বায়হাক্বী-এর শু’আবূল ঈমান)[১]