মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭২২
عن أنس قال: دخلنا مع رسول الله ﷺ على أبى سيف القين وكان ظئرا لإبراهيم فأخذ رسول الله ﷺ إبراهيم فقبله وشمه ثم دخلنا عليه بعد ذلك وإبراهيم يجود بنفسه فجعلت عينا رسول الله ﷺ تذرفان. فقال له عبد الرحمن بن عوف: وأنت يا رسول الله؟ فقال: «يا ابن عوف إنها رحمة ثم أتبعها بأخرى فقال: إن العين تدمع والقلب يحزن ولا نقول إلا ما يرضى ربنا وإنا بفراقك يا إبراهيم لمحزونون». (متفق عليه)
তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে আবূ সায়ফ কর্মকারের ঘরে প্রবেশ করলাম। তিনি ছিলেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পুত্র ইব্রাহীমের ধাত্রীর স্বামী। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইব্রাহীমকে কোলে তুলে নিলেন, চুমু খেলেন ও শুঁকলেন। এরপর আমরা আবার একদিন আবু সায়ফ-এর ঘরে গেলাম। এ সময় নাবীতনয় মৃত্যু শয্যায়। (তার এ অবস্থা দেখে) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর দু’চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগল। এ অবস্থা দেখে ‘আবদুর রাহমান ইবনু ‘আওফ আরয করলেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আপনি কাঁদছেন! তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে ইবনু ‘আওফ! এটা আল্লাহ্র রহ্মাত। তারপরও তাঁর দু’চোখ বেয়ে পানি পড়তে লাগল। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ চোখ পানি বহাচ্ছে, হৃদয় শোকাহত। কিন্তু এরপরও আমাদের মুখ দিয়ে এমন শব্দ বেরুচ্ছে যার জন্য আমাদের পরওয়ারদিগার আমদের উপর সন্তুষ্ট। হে ইব্রাহীম! আমরা তোমার বিচ্ছেদে খুবই শোকাহত। (বুখারী, মুসলীম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭২৩
وعن أسامة بن زيد قال: أرسلت ابنة النبي ﷺ إليه: إن ابنا لى قبض فأتنا. فأرسل يقرئ السلام ويقول: «إن لله ما أخذ وله ما أعطى وكل عنده بأجل مسمى فلتصبر ولتحتسب» . فأرسلت إليه تقسم عليه ليأتينها فقام ومعه سعد بن عبادة ومعاذ بن جبل وأبي بن كعب وزيد ابن ثابت ورجال فرفع إلى رسول الله ﷺ الصبي ونفسه تتقعقع ففاضت عيناه. فقال سعد: يا رسول الله ما هذا؟ فقال: «هذه رحمة جعلها الله فى قلوب عباده. فإنما يرحم الله من عباده الرحماء». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কন্যা (যায়নাব) কাউকে দিয়ে তাঁর কাছে খবর পাঠালেন যে, তাঁর ছেলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছে, তাই তিনি যেন তাড়াতাড়ি তাঁর কাছে আসেন। (এ কথা শুনে) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে সালাম পাঠালেন আর বললেন, যে জিনিস (অর্থাৎ সন্তান) আল্লাহ নিয়ে নেন তা তাঁরই। আর যে জিনিস তিনি দিয়ে রেখেছেন তাও তাঁরই। প্রতিটি জিনিসই তার কাছে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। অতএব অপরিসীম ধৈর্য ও ইহ্তিসাবের সাথে থাকতে হবে (শোকে দুঃখে বিহ্বল না হওয়া উচিত)। নাবী কন্যা আবার তাঁকে কসম দিয়ে তাড়াতাড়ি তাঁর কাছে যাবার জন্য খবর পাঠালেন। এবার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সা’দ ইবনু ‘উবাদাহ্, মা’আয ইবনু জাবাল, উবাই ইবনু কা’ব, যায়দ ইবনু সাবিত সহ কিছু লোককে সাথে নিয়ে ওখানে গেলেন। বাচ্চাটিকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কোলে তুলে দেয়া হলো। তখন তার শ্বাস ওঠানামা করছে। বাচ্চার এ অবস্থা দেখে রসূলের চোখ বেয়ে পানি পড়তে লাগল। সা’দ রসূলের চোখে পানি দেখে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটা কি? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এটা রহমাত, যা আল্লাহ বান্দার মনে সৃষ্টি করে দেন আর আল্লাহ তাঁর দয়াশীল বান্দাগণের প্রতি দয়া করেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭২৪
وعن عبد الله بن عمر قال: اشتكى سعد بن عبادة شكوى له فأتاه النبي ﷺ يعوده مع عبد الرحمن بن عوف وسعد بن أبى وقاص وعبد الله بن مسعود فلما دخل عليه وجده في غاشية فقال: (قد قضى؟ قالوا: لا يا رسول الله فبكى النبي ﷺ فلما رأى القوم بكاء النبي ﷺ بكوا فقال: ألا تسمعون؟ أن الله لا يعذب بدمع العين ولا بحزن القلب ولكن يعذب بهذا وأشار إلى لسانه أو يرحم وإن الميت ليعذب ببكاء أهله. (متفق عليه)
তিনি বলেন, সা’দ ইবনু ‘উবাদাহ্ খুব অসুস্থ হয়ে পড়লে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে দেখতে গেলেন। তাঁর সাথে ছিলেন ‘আবদুর রহ্মান ইবনু ‘আওফ, সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্বক্বাস ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ। তিনি ওখানে প্রবেশ করে সা’দ ইবনু ‘উবাদাহকে বেহুঁশ অবস্থায় পেলেন। জিজ্ঞেস করলেন, সে কি মারা গেছে? সাহাবী জবাব দিলেন, জ্বী না, হে আল্লাহর রাসূল! তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাঁদতে লাগলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কাঁদতে দেখে সাহাবীগণও কাঁদতে লাগলেন। এসময় নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ সাবধান তোমরা শুনে রাখ অশ্রু বিসর্জন ও মনের শোকের কারণে আল্লাহ তা’আলা কাউকে শাস্তি দেবেন না। তিনি তার মুখের দিকে ইশারা করে বললেন, অবশ্য আল্লাহ এজন্য ‘আযাবও দেন আবার রহ্মাতও করেন। আর মৃতকে তার পরিবার-পরিজনের বিলাপের কারণে ‘আযাব দেয়া হয়। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭২৫
وعن عبد الله بن مسعود قال: قال رسول الله ﷺ: «ليس منا من ضرب الخدود وشق الجيوب ودعا بدعوى الجاهلية». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (মৃত ব্যক্তির শোকে) নিজের মুখাবয়বে আঘাত করে, জামার গলা ছিঁড়ে ফেলে ও জাহিলিয়্যাতের যুগের মত হা-হুতাশ করে বিলাপ করে, সে আমাদের দলের মধ্যে গণ্য নয়। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭২৬
وعن أبى بردة قال: أغمي على أبى موسى فأقبلت امرأته أم عبد الله تصيح برنة ثم أفاق فقال: ألم تعلمى؟ وكان يحدثها أن رسول الله ﷺ قال: «أنا برىء ممن حلق وصلق وخرق» . ولفظه لمسلم. (متفق عليه)
একবার আমার পিতা আবূ মূসা অজ্ঞান হয়ে গেলেন। এতে (আমার বিমাতা) তাঁর স্ত্রী ‘আবদুল্লাহর মা বিলাপ করতে লাগল। অতঃপর তিনি সংজ্ঞা লাভ করলেন এবং ‘আবদুল্লাহর মাকে বললেন, তুমি কি জানো না? তারপর তিনি একটি হাদীস বর্ণনা করলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি তার সাথে সম্পর্কহীন যে মাথার চুল ছিঁড়ে, উচ্চৈঃস্বরে বিলাপ করে এবং জামার গলা ফাঁড়ে। (বুখারী ও মুসলিম; কিন্তু পাঠ মুসলিমের) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭২৭
وعن أبي مالك الأشعري قال: قال رسول الله ﷺ: «أربع فى أمتى من أمر الجاهلية لا يتركونهن: الفخر في الأحساب والطعن في الأنساب والاستسقاء بالنجوم والنياحة». وقال: «النائحة إذا لم تتب قبل موتها تقام يوم القيامة وعليها سربال من قطران ودرع من جرب» . رواه مسلم
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যে জাহিলিয়্যাত যুগের চারটি বিষয় রয়ে গেছে যা তারা ছাড়ছে না, (১) নিজের গুনের গর্ব, (২) কারো বংশের নিন্দা, (৩) গ্রহ-নক্ষত্র যোগে বৃষ্টি চাওয়া এবং (৪) বিলাপ করা। অতঃপর তিনি বলেন, বিলাপকারিণী যদি তার মৃত্যুর পূর্বে তাওবাহ্ না করে, ক্বিয়ামাতের দিন তাকে উঠানো হবে-তখন তার গায়ে থাকবে আলকাতরার জামা ও ক্ষতের পিরান। (মুসলিম ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭২৮
وعن أنس قال: مر النبي ﷺ بامرأة تبكي عند قبر فقال: «اتقي الله واصبرى» قالت: إليك عنى فإنك لم تصب بمصيبتى ولم تعرفه فقيل لها: إنه النبي ﷺ. فأتت باب النبي ﷺ فلم تجد عنده بوابين فقالت: لم أعرفك. فقال: «إنما الصبر عند الصدمة الأولى». (متفق عليه)
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন একজন মহিলার কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে একটি ক্ববরের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছিল। তিনি তাকে বললেন, আল্লাহকে ভয় করো এবং ধৈর্যধারণ করো। মহিলাটি বলল, আপনি আমার কাছ থেকে চলে যান, আমার উপর পতিত বিপদ আপনাকে স্পর্শ করেনি। মহিলাটি তাঁকে চিনতে পারেনি। পরে মহিলাটিকে বলা হলো, ইনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তখন মহিলাটি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাড়ীর দরজায় এলো। সেখানে কোন দারোয়ান বা পাহারাদার মোতায়েন ছিল না। সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনাকে চিনতে পারিনি। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, 'সবরতো তাকেই বলা হয় যা বিপদের প্রথম অবস্থায় ধারণ করা হয়।' (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭২৯
وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «لا يموت لمسلم ثلاث من الولد فيلج النار إلا تحلة القسم». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন মুসলিমের তিনটি সন্তান মারা গেলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। তবে কসম পুরা করার জন্য (ক্ষণিকের জন্য হলেও) প্রবেশ করানো হবে। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৩০
وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ لنسوة من الأنصار: «لا يموت لإحداكن ثلاثة من الولد فتحتسبه إلا دخلت الجنة. فقال امرأة منهن: أو اثنان يا رسول الله؟ قال: أو اثنان». رواه مسلم وفى رواية لهما: «ثلاثة لم يبلغوا الحنث
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনসারদের কিছু সংখ্যক মহিলাকে উদ্দেশ করে বলেন, তোমাদের যে কারো তিনটি সন্তান মৃত্যুবরণ করবে, আর সে (এজন্য) ধৈর্যধারণ করে সাওয়াবের প্রত্যাশা করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (এ কথা শুনে) তাদের একজন বলল, যদি দু' সন্তান মৃত্যুবরণ করে, হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন, হ্যাঁ। দু'জন করলেও। (মুসলিম; মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, এমন তিন সন্তান মারা গেলে যারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি [তাদের জন্য এ সুসংবাদ]) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৩১
وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «يقول الله: ما لعبدي المؤمن عندي جزاء إذا قبضت صفيه من أهل الدنيا ثم احتسبه إلا الجنة». رواه البخاري
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমি যখন আমার কোন মু'মিন বান্দার প্রিয় জিনিসকে দুনিয়া হতে উঠিয়ে নেই আর বান্দা এজন্য সবর অবলম্বন করে সাওয়াবের প্রত্যাশী হয়, তাহলে আমার কাছে তার জন্য জান্নাতের চেয়ে উত্তম কোন পুরস্কার নেই। (বুখারী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৩২
عن أبى سعيد الخدري قال: لعن رسول الله ﷺ النائحة والمستمعة. رواه أبو داود
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শোকে মাতমকারিণী ও তা শ্রবণকারিণীদের অভিসম্পাত করেছেন। (আবূ দাউদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৩৩
وعن سعد بن أبى وقاص قال: قال رسول الله ﷺ: «عجب للمؤمن: إن أصابه خير حمد الله وشكر وإن أصابته مصيبة حمد الله وصبر فالمؤمن يؤجر فى كل أمره حتى في اللقمة يرفعها إلى في امرأته». رواه البيهقي في شعب الإيمان
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মু'মিনের কাজ বড় বিস্ময়কর। সে সুখের সময় যেমন আল্লাহর প্রশংসা ও শুকর করে, আবার বিপদেরও তেমনি আল্লাহর প্রশংসা ও ধৈর্যধারণ করে। মু'মিনকে প্রতিটি কাজের জন্যই প্রতিদান দেয়া হয়। এমনকি তার স্ত্রীর মুখে খাবারের লোকমা তুলে দেয়ার সময়ও। (বায়হাক্বী'র শু'আবুল ঈমান) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৩৪
وعن أنس قال: قال رسول الله ﷺ: «ما من مؤمن إلا وله بابان: باب يصعد منه عمله وباب ينزل منه رزقه. فإذا مات بكيا عليه فذلك قوله تعالى: ﴿فما بكت عليهم السماء والأرض﴾.[الدخان 44 : 29]. رواه الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রত্যেক মু'মিনের জন্য দু'টি দরজা রয়েছে। একটি দরজা দিয়ে তার নেক 'আমাল উপরের দিকে উঠে। আর দ্বিতীয়টি দিয়ে তার রিয্ক্ব নীচে নেমে আসে। যখন সে মৃত্যুবরণ করে, এ দু'টি দরজা তার জন্য কাঁদে। এ বিষয়ে আল্লাহ তা'আলার এ বাণীটি। তিনি বলেছেন, "এ কাফিদের জন্য না আকাশ কাঁদে আর না জমিন"-(সূরাহ আদ দুখান ৪৪ :২৯)। (তিরমিযী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৩৫
وعن ابن عباس قال: قال رسول الله ﷺ: «من كان له فرطان من أمتى أدخله الله بهما الجنة». فقالت عائشة: فمن كان له فرط من أمتك؟ قال: «ومن كان له فرط يا موفقة» . فقالت: فمن لم يكن له فرط من أمتك؟ قال: «فأنا فرط أمتى لن يصابوا بمثلى» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যে যে ব্যক্তির দু'টি সন্তান শৈশবে মারা যাবে, আল্লাহ তা'আলা এ কারণে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (এ কথা শুনে) 'আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, আপনার উম্মাতের যে ব্যক্তির একটি মারা যাবে? তিনি বললেন, যার একটি শিশু সন্তান মারা যাবে তার জন্যও, হে যথাযোগ্য প্রশ্নকারিণী! 'আয়িশাহ্ (রাঃ) এবার বললেন, যার একটি বাচ্চাও মরেনি, তার জন্য কি শুভ সংবাদ? তিনি বললেন, আমিই আমার উম্মাতের জন্য এ অবস্থানে। কারণ আমার মুসীবাত বা মৃত্যুর চেয়ে আর বড় কোন সুসীবত তাদের স্পর্শ করতে পারে না। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, এ হাদিস গরীব) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৩৬
وعن أبى موسى أشعري قال: قال رسول الله ﷺ: «إذا مات ولد العبد قال الله تعالى لملائكته: قبضتم ولد عبدى؟ فيقولون: نعم. فيقول: قبضتم ثمرة فؤاده؟ فيقولون: نعم. فيقول: ماذا قال عبدى؟ فيقولون: حمدك واسترجع. فيقول الله: ابنوا لعبدى بيتا في الجنة وسموه بيت الحمد». رواه أحمد والترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন বান্দার সন্তান মারা গেলে আল্লাহ তা'আলা মালাকগণকে (ফেরেশ্তাদেরকে) বলেন, তোমরা আমার বান্দার রূহ কবয করেছ? তারা বলেন, জ্বি হ্যাঁ, করেছি। তারপর তিনি বলেন, তোমরা আমার বান্দার হৃদয়ের ফলকে কবয করেছ? তারা বলেন, জ্বি হ্যাঁ, করেছি। তারপর আল্লাহ বলেন, (এ ঘটনায়) আমার বান্দা কি বলেছে? তারা বলেন, সে তোমার প্রশংসা করেছে এবং ইস্তিরজা' (ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহি রা-জিউন) পড়েছে। এবার আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমার বান্দার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করো এবং এ ঘরটির নাম রাখো 'বায়তুল হাম্দ'। (আহ্মাদ ও তিরমিযী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৩৭
وعن عبد الله بن مسعود قال: قال رسول الله ﷺ: «من عزى مصابا فله مثل أجره» . رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي: هذا حديث غريب لا نعرفه مرفوعا إلا من حديث علي بن عاصم الراوي وقال: ورواه بعضهم عن محمد بن سوقة بهذا الإسناد موقوفا
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন বিপদাপন্নকে সান্ত্বনা দেবে, তাকেও বিপদগ্রস্তের সমান সওয়াব দেয়া হবে। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি গরীব। আমি এ হাদীসটিকে ‘আলি ইবনু ‘আসিম ছাড়া আর কোন ব্যক্তি হতে মারফু’ হিসেবে পাইনি। ইমাম তিরমিযী এ কথাও বলেন যে, কোন কোন মুহাদ্দিস এ বর্ণনাটিকে মুহাম্মদ ইবনু সূকা হতে এ সানাদে ‘মাওকুফ” হিসেবে উদ্ধৃত করেছেন।) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৩৮
وعن أبي برزة قال: قال رسول الله ﷺ: «من عزى ثكلى كسي بردا في الجنة» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন সন্তানহারা নারীকে সান্ত্বনা যোগাবে তাকে জান্নাতে খুবই উত্তম পোশাক পরানো হবে। (তিরমিযী, তিনি এ হাদীসটিকে গরীব বলেছেন) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭৩৯
وعن عبد الله بن جعفر قال: لما جاء نعي جعفر قال النبي ﷺ: «صانعوا لآل جعفر طعاما فقد أتاهم ما يشغلهم». رواه الترمذي وأبو داود وابن ماجه
তিনি বলেন, জা’ফার-এর ইন্তিকালের খবর আসার পর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (আহলে বায়াতকে) বললেন, তোমরা জা’ফারের পরিবার-পরিজনের জন্য খাবার তৈরি করো। কেননা তাদের ওপর এমন এক বিপদ এসে পড়েছে, যা তাদেরকে রান্নাবান্না করে খেতে বাধা সৃষ্টি করবে। (তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ) [১]