মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭০০
عن عروة بن الزبير قال: كان بالمدينة رجلان أحدهما يلحد والاخر لا يلحد. فقالوا: أيهما جاء أولا عمل عمله. فجاء الذى يلحد فلحد لرسول الله ﷺ. رواه في شرح السنة
তিনি বলেন, মাদীনায় দু’ ব্যক্তি ছিলেন (তারা ক্ববর খুঁড়তেন)। তাদের একজন (আবূ ত্বলহাহ্ আল আনসারী) লাহ্দী (বুগলী) ক্ববর খুঁড়তেন আর দ্বিতীয়জন (আবূ ‘উবায়দাহ্ ইবনুল জাররাহ্) লাহ্দী ক্ববর খুঁড়তেন না (বরং সিন্ধুকী ক্ববর খুঁড়তেন)। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইন্তিকাল হলে সাহাবীগণ (সম্মিলিতভাবে বললেন), এ দু’ ব্যক্তির যিনি আগে আসবেন তিনিই তার মতো করে ক্ববর খনন করবেন। পরিশেষে তিনিই আগে আসলেন যিনি লাহ্দী ক্ববর খুঁড়তেন (অর্থাৎ আবূ ত্বলহাহ্ আল আনসারী)। তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জন্য লাহ্দী ক্ববর খুঁড়লেন। (শারহুস্ সুন্নাহ্) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭০১
وعن ابن عباس قال: قال رسول الله ﷺ: «اللحد لنا والشق لغيرنا» رواه الترمذي وأبو داود وابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, লাহ্দী ক্ববর আমাদের জন্য। আর শাক্ক্ (সিন্ধুকী) ক্ববর আমাদের অপরদের জন্য। (তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭০২
ورواه أحمد عن جرير بن عبد الله
আর ইমাম আহমাদ এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭০৩
وعن هشام بن عامر أن النبي ﷺ قال يوم أحد: «احفروا وأوسعوا وأعمقوا وأحسنوا وادفنوا الاثنين والثلاثة فى قبر واحد وقدموا أكثرهم قرانا» . رواه أحمد والترمذي وأبو داود والنسائي وروى ابن ماجه إلى قوله وأحسنوا
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উহুদের যুদ্ধের দিন বলেছেন, ক্ববর খনন কর, ক্ববরকে প্রশস্ত কর, বেশ গভীর করে খনন কর এবং এগুলোকে ভালো করে কর, অর্থাৎ মাটি এবং ধূলিকণা থেকে পরিষ্কার কর। এক-একটি ক্ববরে দু’ দু’, তিন তিন জন করে দাফন করো। আর তাদের মধ্যে যার বেশী করে কুরআন হিফ্জ আছে তাকে ক্ববরে আগে রাখো। (আহ্মাদ, তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসায়ী এবং ইমাম ইবনু মাজাহ ‘ওয়া আহসিনূ’ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭০৪
وعن جابر قال: لما كان يوم أحد جاءت عمتى بأبى لتدفنه فى مقابرنا فنادى منادى رسول الله ﷺ: «ردوا القتلى إلى مضاجعهم» . رواه أحمد والترمذي وأبو داود والنسائي والدارمي ولفظه للترمذي
তিনি বলেন, উহুদের যুদ্ধের দিন আমার ফুফু আমার পিতার (‘আবদুল্লাহর) লাশ আমাদের ক্ববরস্থানে দাফন করার জন্য নিয়ে আসলেন। কিন্তু রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তরফ থেকে একজন আহবানকারী জানালেন, শাহীদদেরকে তাঁদের শাহাদাতের জায়গায় পৌছিয়ে দাও। (আহ্মাদ, তিরমিযী, আবূ দাউদ, নাসায়ী, দারিমী; হাদীসের শব্দগুলো হলো তিরমিযীর)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭০৫
وعن ابن عباس قال: سل رسول الله ﷺ من قبل رأسه. رواه الشافعي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ক্ববরে নামানোর সময় মাথার দিক দিয়ে নামানো হয়েছে। (শাফি’ঈ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭০৬
وعن ابن عباس: أن النبي ﷺ دخل قبرا ليلا فأسرج له بسراج فأخذ من قبل القبلة وقال: «رحمك الله إن كنت لأواها تلاء للقران» . رواه الترمذي وقال فى شرح السنة: إسناده ضعيف
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার রাতের বেলা মৃতকে রাখার জন্য ক্ববরে নামলেন। তার জন্য চেরাগ জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছিল। তিনি মাইয়্যিতকে ক্বিবলার দিক থেকে ধরলেন (তাকে ক্ববরে রাখলেন) এবং এ দু’আ পড়লেন, “রহিমাকাল্ল-হু ইন্ কুন্তা লাআও্ওয়া-হান তাল্লা-আন লিল কুরআ-ন” [অর্থাৎ আল্লাহ তোমার ওপর রহম করুন। (তুমি আল্লাহর ভয়ে) কাঁদতে, আর কুরআনে কারীম বেশী বেশী পড়তে (এ দু’টি কারণে তুমি রহ্মাত ও মাগফিরাতের উপযোগী)] ( তিরমিযী; শারহুস্ সুন্নাহ্য় বলা হয়েছে এ বর্ণনার সনদ দুর্বল)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭০৭
وعن ابن عمر أن النبي ﷺ كان إذا أدخل الميت القبر قال: «بسم الله وبالله وعلى ملة رسول الله» . وفى رواية: «وعلى سنة رسول الله». رواه أحمد والترمذي وابن ماجه وروى أبو داود الثانية
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কোন মৃত ব্যক্তিকে ক্ববরে রাখতেন, বলতেন, “বিসমিল্লা-হ, ওয়াবিল্লা-হি ওয়া ‘আলা- মিল্লাতি রসূলিল্লা-হ”। অন্য এক বর্ণনায় আছে, “ওয়া ‘আলা- সুন্না-তি রসূলিল্লা-হ” (অর্থাৎ আল্লাহর নামে ও আল্লাহর হুকুম মুতাবিক রসূলুল্লাহর মিল্লাতের উপর ক্ববরে নামাচ্ছি)। অন্য বর্ণনায় ‘মিল্লাতি রসূলিল্লা-হ’-এর জায়গায় ‘সুন্নাতি রসূলিল্লা-হ’ বর্ণিত হয়েছে। (আহমাদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; আবূ দাঊদ দ্বিতীয়াংশটি) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭০৮
وعن جعفر بن محمد عن أبيه مرسلا أن النبي ﷺ حثا على الميت ثلاث حثيات بيديه جميعا وأنه رش على قبر ابنه إبراهيم ووضع عليه حصباء. رواه في شرح السنة وروى الشافعي من قوله: رش
তিনি তাঁর পিতা হতে মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের দু’ হাতের মুষ্টি ভরে মাটি নিয়ে মাইয়্যিতের ক্ববরের উপর তিনবার দিয়েছেন। তিনি তার পুত্র ইব্রাহীমের ক্ববরে পানি ছিটিয়েছেন এবং (চিহ্ন রাখার জন্য) ক্ববরের উপর কংকর দিয়েছেন। (শারহুস্ সুন্নাহ্; ইমাম শাফি’ঈ “পানি ছিটিয়েছেন” থেকে [শেষ পর্যন্ত] বর্ণনা করেছেন) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭০৯
وعن جابر قال: نهى رسول الله ﷺ أن تجصص القبور وأن يكتب عليها وأن توطأ. رواه الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্ববরে সিমেন্ট চুন দিয়ে কোন কাজ করতে, তার উপর কিছু লিখতে অথবা খোদাই করে কিছু করতে নিষেধ করেছেন। (তিরমিযী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭১০
وعن جابر قال: رش قبر النبي ﷺ وكان الذى رش الماء على قبره بلال بن رباح بقربة بدأ من قبل رأسه حتى انتهى إلى رجليه. رواه البيهقي. فى دلائل النبوة
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ক্ববরের উপর পানি ছিটিয়ে দেয়া হয়েছিল। তাঁর ক্ববরে বিলাল ইবনু রাবাহ (রাঃ) পানি ছিটিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি মশক দিয়ে তাঁর মাথা থেকে আরম্ভ করে পা পর্যন্ত পানি ছিটিয়ে দেন। (বায়হাক্বী- দালায়িলুল নিবুওয়াহ্) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭১১
وعن المطلب بن أبى وداعة قال: لما مات عثمان ابن مظعون أخرج بجنازته فدفن أمر النبي ﷺ رجلا أن يأتيه بحجر فلم يستطع حملها فقام إليه رسول الله ﷺ وحسر عن ذراعيه. قال المطلب: قال الذى يخبرنى عن رسول الله ﷺ: كأنى أنظر إلى بياض ذراعي رسول الله ﷺ حين حسر عنهما ثم حملها فوضعها عند رأسه وقال: «أتعلم بها قبر أخى وأدفن إليه من مات من أهلى» . رواه أبو داود
তিনি বলেন, যখন ‘উসমান ইবনু মায্’ঊন (রাঃ)-এর মৃত্যুবরণ করেন, তখন তার লাশ বের করা হয় এবং তা দাফন করা হয়। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (ক্ববরের চিহ্ন রাখার জন্য এক ব্যক্তিকে হুকুম দিলেন একটি বড়) পাথর আনার জন্য। লোকটি পাথর উঠিয়ে আনতে পারলেন না। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা উঠিয়ে আনার জন্য উঠে দাঁড়ালেন এবং নিজের দু’ হাতের আস্তিন গুটিয়ে নিলেন। হাদীসের রাবী বলেন, যে ব্যক্তি আমার কাছে রসূলের এ হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলতেন, যখন তিনি হাতা গুটাচ্ছিলেন- মনে হচ্ছে এখনো আমি রসূলের পবিত্র বাহুদ্বয়ের শুভ্রতার চমক অনুভব করছি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সে পাথরটি উঠিয়ে এনে ‘উসমানের ক্ববরের মাথার দিকে রেখে দিলেন এবং বললেন, আমি এ পাথর দেখে আমার ভাইয়ের ক্ববর চিনতে পারব। এখন আমার পরিবারের যে মারা যাবে তাকে এর পাশে দাফন করব।“ (আবূ দাঊদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭১২
وعن القاسم بن محمد قال: دخلت على عائشة فقلت: يا أماه اكشفى لى عن قبر النبي ﷺ وصاحبيه فكشفت لى عن ثلاثة قبور لا مشرفة ولا لا طئة مبطوحة ببطحاء العرصة الحمراء. رواه أبو داود
তিনি বলেন, আমি একবার উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। আরয করলাম, হে আমার মা! যিয়ারত করার জন্য আমাকে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর দু’ সাথী (আবূ বাক্র ও ‘উমারের) ক্ববর খুলে দিন। তিনি তিনটি ক্ববরই খুলে দিলেন। আমি দেখলাম, তিনটি ক্ববরই না খুব উঁচু না মাটির সাথে একেবারে সমতল। বরং মাটি হতে এক বিঘত উঁচু ছিল। আর এ ক্ববরগুলোর উপর (মাদীনার পাশের) আরসা ময়দানের লাল কংকর বিছানো ছিল। (আবূ দাঊদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭১৩
وعن البراء بن عازب قال: خرجنا مع رسول الله ﷺ في جنازة رجل من الأنصار فانتهينا إلى القبر ولم يلحد بعد فجلس النبي ﷺ مستقبل القبلة وجلسنا معه. رواه أبو داود والنسائي وابن ماجه وزاد في اخره: كأن على رؤوسنا الطير
তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে আনসারদের এক ব্যক্তির জানাযার জন্য বের হলাম। আমরা ক্ববরস্থানে পৌঁছে দেখলাম (এখনো ক্ববর তৈরি না হওয়ার কারণে) দাফনের কাজ শুরু হয়নি। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্বিবলার দিকে মুখ করে বসে গেলেন, আমরাও তাঁর সাথে বসে গেলাম। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ; ইবনু মাজাহ হাদীসের শেষে বাড়িয়েছেন, অর্থাৎ মনে হচ্ছিল আমাদের মাথার উপর পাখি বসেছে ।) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭১৪
وعن عائشة: أن رسول الله ﷺ قال: «كسر عظم الميت ككسره حيا» . رواه مالك وأبو داود وابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তির হাড় ভাঙ্গা, জীবিতকালে তার হাড় ভাঙ্গারই মতো। (মালিক, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭১৫
عن أنس قال: شهدنا بنت رسول الله ﷺ تدفن ورسول الله ﷺ جالس على القبر فرأيت عينيه تدمعان فقال: «هل فيكم من أحد لم يقارف الليلة؟ . فقال أبو طلحة: أنا. قال: فانزل فى قبرها فنزل فى قبرها». رواه البخاري
তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা (উম্মু কুলসুমের) দাফনের সময় উপস্থিত ছিলাম। আর যখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্ববরের পাশে বসেছিলেন। এমতাবস্থায় আমি দেখলাম, তাঁর দু’চোখ বেয়ে পানি পড়ছে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমাদের মধ্যে কি কেউ এমন আছে, যে গত রাতে স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়নি? আবূ ত্বলহাহ্ (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ আছি, ইয়া রসূলুল্লাহ! আমি। তিনি বললেন, (মাইয়্যিতকে ক্ববরে রাখার জন্য) তুমিই ক্ববরে নামো। তখন তিনি ক্ববরে নামলেন। (বুখারী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭১৬
وعن عمرو بن العاص قال لابنه وهو في سياق الموت: إذا أنا مت فلا تصحبنى نائحة ولا نار فإذا دفنتمونى فشنوا علي التراب شنا ثم أقيموا حول قبرى قدر ما ينحر جزور ويقسم لحمها حتى أستأنس بكم وأعلم ماذا أراجع به رسل ربي. رواه مسلم
‘আম্র ইবনুল ‘আস (রাঃ) মৃত্যুর সময় তাঁর ছেলে ‘আবদুল্লাহকে ওয়াসিয়্যাত করেছিলেন যে, যখন আমি মারা যাব তখন আমার জানাযার সাথে যেন মাতম করার জন্য কোন রমণী না থাকে। আর না থাকে কোন আগুন। আমাকে দাফন করার সময় আমার উপর আস্তে আস্তে মাটি ঢালবে। দাফনের পরে দু’আ ও মাগফিরাতের জন্য এতটা সময় (আমার ক্ববরের কাছে) অপেক্ষা করবে, যতটা সময় একটি উট যবেহ করে তার গোশ্ত বণ্টন করতে লাগে। তাহলে আমি তোমাদের সাথে একটু পরিচিত থাকবো এবং (নির্ভয়ে) জেনে নেব, আমি আমার রবের মালায়িকার (ফেরেশতাগণের) নিকট কি জবাব দিবো। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭১৭
وعن عبد الله بن عمر قال: سمعت النبي ﷺ يقول: «إذا مات أحدكم فلا تحبسوه وأسرعوا به إلى قبره وليقرأ عند رأسه فاتحة البقرة وعند رجليه بخاتمة البقرة» . رواه البيهقي في شعب الإيمان. وقال: والصحيح أنه موقوف عليه
তিনি বলেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তোমাদের কেউ মারা গেলে তাকে আটকিয়ে রেখ না। বরং তাকে তার ক্ববরে তাড়াতাড়ি পৌঁছে দাও। তার (ক্ববরে দাঁড়িয়ে) মাথার কাছে সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্-র প্রথমাংশ এবং তার দুই পায়ের কাছে সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্-র শেষাংশের আয়াতগুলো পড়বে। (বায়হাক্বী; এ বর্ণনাটিকে শু’আবুল ঈমানে উদ্ধৃত করেছেন এবং বলেছেন, এটি মাওকুফ হাদীস) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭১৮
وعن ابن أبى مليكة قال: لما توفي عبد الرحمن بن أبى بكر بالحبشي (موضع قريب من مكة) وهو موضع فحمل إلى مكة فدفن بها فلما قدمت عائشة أتت قبر عبد الرحمن بن أبى بكر فقالت: وكنا كندماني جذيمة حقبة من الدهر حتى قيل لن يتصدعا فلما تفرقنا كأني ومالكا لطول اجتماع لم نبت ليلة معا ثم قالت: والله لو حضرتك ما دفنت إلا حيث مت ولو شهدتك ما زرتك رواه الترمذي
তিনি বলেন হুবশী (মক্কার নিকটবর্তী একটি জায়গার নাম) নামক স্থানে ‘আবদুর রহ্মান ইবনু আবূ বাক্রের মৃত্যু হলে তাঁর লাশ মক্কায় নিয়ে এসে দাফন করা হয়। উম্মুল মু’মিনীন আয়িশাহ্ (রাঃ) (মক্কায় হজ্জ করতে) এলে তিনি ‘আবদুর রহ্মানের (ভাইয়ের) ক্ববরের কাছে এলেন। ওখানে তিনি (কবি তামীম ইবনু নুওয়াইরার কবিতার এ দু’টি পংক্তি আবৃত্তি করেন যাতে কবি তার ভাই মালিকের জন্য শোক প্রকাশ করেছিলেন)- ওয়া কুন্না- কানাদ্ মা-নী জাযীমাতা হিক্ববাতান মিনাদ্ দাহরি হাত্তা-ক্বীলা লাই ইয়াতা সাদ্দা’আ ফালাম্মা- তাফার্রাক্বনা- কাআন্নী ওয়ামা-লিকান লিতূলিজ্ তিমা-’ইন লাম নাবিত লাইলাতাম্ মা’আ। অর্থাৎ আমরা দু’ ভাই বোন, জাযিমার সে দু’ বন্ধুর মতো অনেক দিন পর্যন্ত একত্রে কালযাপন করছিলাম। তাদের এ অবস্থা দেখে লোকেরা বলাবলি করতে লাগল, এরা তো কখনো (একে অপর থেকে) পৃথক হবে না। কিন্তু যখন আমরা দুজন অর্থাৎ আমি ও তুমি একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হলাম, তখন দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এক সাথে থাকার পরও মনে হলো, আমরা একটি রাতের জন্যও একত্রে এক জায়গায় ছিলাম না। এরপর ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি যদি তোমার ইন্তিকালের সময় তোমার কাছে থাকতাম, তাহলে আমি তোমাকে সেখানেই দাফন করতাম, যেখানে তুমি মৃত্যুবরণ করেছিলে। আর আমি যদি তোমার মৃত্যুর সময় তোমার কাছে থাকতাম তাহলে আজ তোমার ক্ববরের পাশে আমি আসতাম না। (তিরমিযী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭১৯
وعن أبى رافع قال: سل رسول الله ﷺ سعدا ورش على قبره ماء. رواه ابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সা’দ এর লাশকে মাথার দিক থেকে ধরে কবরে নামিয়েছেন। তারপর তিনি তাঁর কবরে পানি ছিটিয়ে দিয়েছেন। (ইবনু মাজাহ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭২০
وعن أبى هريرة: أن رسول الله ﷺ صلى على جنازة ثم أتى القبر فحثا عليه من قبل رأسه ثلاثا. رواه ابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার একটি জানাযার সলাত আদায় করালেন। তারপর তিনি ক্ববরের কাছে এলেন এবং ক্ববরে তার মাথা বরাবর তিন মুষ্টি মাটি রাখলেন। (ইবনু মাজাহ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৭২১
وعن عمرو بن حزم قال: راني النبي ﷺ متكئا على قبر فقال: لا تؤذ صاحب هذا القبر أولا تؤذه. رواه أحمد
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন আমাকে ক্ববরে হেলান দিয়ে বসে থাকতে দেখে বললেন, তুমি এ ক্ববরবাসীকে কষ্ট দিও না। অথবা বললেন, তুমি একে কষ্ট দিওনা। (আহমাদ) [১]