মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৬৭
وعن المغيرة بن شعبة أن النبي ﷺ قال: «الراكب يسير خلف الجنازة والماشى يمشى خلفها وأمامها وعن يمينها وعن يسارها قريبا منها والسقط يصلى عليه ويدعى لوالديه بالمغفرة والرحمة» . رواه أبو داود وفي رواية أحمد والترمذي والنسائي وابن ماجه قال: «الراكب خلف الجنازة والماشى حيث شاء منها والطفل يصلى عليه» وفي المصابيح عن المغيرة بن زياد
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আরোহী চলবে জানাযার পশ্চাতে এবং পায়ে হাঁটা ব্যক্তিরা চলবে জানাযার সামনে পেছনে ডানে-বামে জানাযার কাছ ঘেষে। আর অকালে ভূমিষ্ট বাচ্চার সলাত আদায় করবে, তাদের মাতা-পিতার জন্য মাগফিরাত ও রাহ্মাতের দু’আ করবে। (আবূ দাঊদ) [১] ইমাম আহ্মাদ, তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ্-এর এক বর্ণনায় রাবী বলেছেন, আরোহীরা জানাযার পেছনে থাকবে। আর পায়ে চলা ব্যক্তির আগেপিছে যেভাবে পারে হাঁটবে। মৃত ছোট বাচ্চাদের জন্যও জানাযার সলাত আদায় করতে হবে। মাসাবীহ হতে এ বর্ণনাটি মুগীরাহ্ ইবনু যিয়াদ বর্ণনা করেছেন।
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৬৮
وعن الزهري عن سالم عن أبيه قال: رأيت رسول الله ﷺ وأبا بكر وعمر يمشون أمام الجنازة. رواه أحمد وأبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه وقال الترمذي وأهل الحديث كأنهم يرونه مرسلا
তিনি বর্ণনা করেছেন সালিম (রহঃ) থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ বাক্র, ‘উমারকে জানাযার আগে আগে হেঁটে চলতে দেখেছি। (আহ্মাদ, আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ্, ইমাম তিরমিয়ী বলেনঃ আহলুল হাদীসগণ যেন হাদীসটি মুরসাল মনে করেছেন [কিন্তু হাদীসটি সহীহ]) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৬৯
وعن عبد الله بن مسعود قال: قال رسول الله ﷺ: «الجنازة متبوعة ولا تتبع ليس معها من تقدمها» . رواه الترمذي وأبو داود وابن ماجه وقال الترمذي وأبو ماجد الراوى رجل مجهول
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ লাশের অনুসরণ করতে হয়। লাশ কারো অনুসরণ করে না। যে ব্যক্তি জানাযায় লাশের আগে যাবে সে জানাযার সাথের লোক নয়। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ্, ইমাম তিরমিযী বলেন, বর্ণনাকারী আবূ মাজিদ মাজহুল [অজ্ঞাত লোক])। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৭০
وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «من تبع جنازة وحملها ثلاث مرات: فقد قضى ما عليه من حقها». رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জানাযার অনুসরণ করেছে এবং জীবনে তিনবার জানাযার লাশ বহন করেছে সে এ ব্যাপারে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পাদন করেছে। (তিরমিযী; তিনি [তিরমিযী] বলেছেন, হাদীসটি গরীব)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৭১
وقد روى فى «شرح السنة» : أن النبي ﷺ حمل جنازة سعد ابن معاذ بين العمودين
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সা'দ ইবনু মুআয (রাঃ)-এর লাশ দু' কাঠের মাঝে ধরে বহন করেছেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৭২
وعن ثوبان قال: خرجنا مع النبي ﷺ في جنازة فرأى ناسا ركبانا فقال: «ألا تستحيون؟ إن ملائكة الله على أقدامهم وأنتم على ظهور الدواب» . رواه الترمذي وابن ماجه وروى أبو داود نحوه وقال الترمذي: وقد روى عن ثوبان موقوفا
তিনি বলেন, আমরা (একদিন) এক ব্যক্তির জানাযাহ্ সলাতের জন্য নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বের হলাম। তিনি কিছু লোককে আরোহী অবস্থায় দেখে বললেন, তোমাদের কি লজ্জাবোধ হচ্ছে না? আল্লাহর মালায়িকাহ্ (ফেরেশ্তাগণ) নিজেদের পায়ে হেঁটে চলেছেন, আর তোমরা পশুর পিঠে বসে যাচ্ছ? (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ্ ইমাম আবূ দাঊদ ও ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি সাওবান থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৭৩
وعن ابن عباس: أن النبي ﷺ قرأ على الجنازة بفاتحة الكتاب. رواه الترمذي وأبو داود وابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জানাযার সলাতে সূরাহ্ আল্ ফা-তিহাহ্ পাঠ করেছেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ্) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৭৪
وعن أبي هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «إذا صليتم على الميت فأخلصوا له الدعاء» . رواه أبو داود وابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা জানাযার সলাত আদায়ের সময় মৃত ব্যক্তির জন্য খালেস অন্তরে দু’আ করবে। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ্) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৭৫
وعن أبي هريرة قال: كان رسول الله ﷺ إذا صلى على الجنازة قال: « اللهم اغفر لحينا وميتنا وشاهدنا وغائبنا وصغيرنا وكبيرنا وذكرنا وأنثانا. اللهم من أحييته منا فأحيه على الإسلام ومن توفيته منا فتوفه على الإيمان. اللهم لا تحرمنا أجره ولا تفتنا بعده» . رواه أحمد وأبو داود والترمذي وابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন জানাযার সলাত আদায় করতেন, তখন বলতেন, "আল্ল-হুম্মাগ ফির্লি হাইয়্যিনা-, ওয়া মাইয়্যিতিনা-, ওয়া শা-হিদিনা, ওয়া গ-য়িবিনা-, ওয়া সগীরিনা-, ওয়া কাবীরিনা- ওয়া যাকারিনা-, ওয়া উন্সা-না-, আল্ল-হুম্মা মান আহ্ ইয়াইতাহ মিন্না- ফা আহ্য়িহী 'আলাল ইসলা-ম, ওয়ামান তাওয়াফ্ ফায়তাহ্ মিন্না- ফাতা ওয়াফ্ফাহূ ’আলাল ঈ-মান, আল্ল-হুম্মা লা- তাহরিমনা- আজরাহু ওয়ালা- তাফতিন্না বা’দাহ্” (অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমাদের জীবিত-মৃত, উপস্থিত-অনুপস্থিত, ছোট-বড়, নর-নারীগণকে ক্ষমা করো। হে আল্লাহ আমাদের মধ্যে যাদেরকে তুমি জীবিত রাখবে তাদেরকে তুমি ইসলাম ধর্মের উপর জীবিত রাখ। আর যাদের মৃত্যুদান করবে তাদের ঈমানের উপর মৃত্যুদান করো। হে আল্লাহ তুমি আমাদেরকে মৃত ব্যক্তির সাওয়াব হতে বঞ্চিত করো না এবং এরপর আমাদেরকে বিপদাপন্ন করো না )। (আহমাদ, আবূ দাঊদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ্)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৭৬
ورواه النسائي عن إبراهيم الأشهلي عن أبيه وانتهت روايته عند قوله: و «أنثانا» . وفي رواية أبي داود: «فأحيه على الإيمان وتوفه على الإسلام» . وفي اخره: «ولا تضلنا بعده
তিনি তার পিতা হতে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি, “ওয়া উন্সা-না-" পর্যন্ত তার কথা শেষ করেছেন- আর আবূ দাঊদের বর্ণনায়, "ফাআহ্য়িহী 'আলাল ঈমা-ন ওয়াতা ওয়াফ্ফাহু ’আলাল ইস্লা-ম, ওয়ালা- তুযিল্লানা- বা’দাহু" উল্লেখ আছে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৭৭
وعن واثلة بن الأسقع قال: صلى بنا رسول الله ﷺ على رجل من المسلمين فسمعته يقول: «اللهم إن فلان بن فلان في ذمتك وحبل جوارك فقه من فتنة القبر وعذاب النار وأنت أهل الوفاء والحق اللهم اغفر له وارحمه إنك أنت الغفور الرحيم» . رواه أبو داود وابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে নিয়ে একজন মুসলিম ব্যক্তির জানাযাহ্ সলাতে ইমামাত করলেন। আমরা তাঁকে (এ সলাতে) পড়তে শুনেছি, "আল্ল-হুম্মা ইন্না ফুলা-ন ইবনু ফুলা-ন ফী যিম্মাতিকা, ওয়া হাব্লি জাওয়া-রিকা ফাক্বিহী মিন ফিত্নাতিল ক্বব্রি ওয়া ’আযা-বিন্না-র, ওয়া আন্তা আহ্লুল ওফা-য়ি ওয়াল হাক্বি, আল্ল-হুম্মাগ্ফির লাহু ওয়ার্হাম্হ, ইন্নাকা আন্তাল গফুরুর রহীম" (অর্থাৎ হে আল্লাহ! অমুকের ছেলে অমুককে তোমার যিম্মায় ও তোমার প্রতিবেশীসুলভ নিরাপত্তায় সোপর্দ করলাম। অতএব তুমি তাকে ক্ববরের ফিত্নাহ্ ও জাহান্নামের ’আযাব থেকে রক্ষা করো। তুমি ওয়া’দা রক্ষাকারী ও সত্যের অধিকারী। হে আল্লাহ! তুমি তাকে মাফ করে দাও, তার উপর রহ্মাত বর্ষণ করো, তুমি ক্ষমাশীল ও দয়াময় )। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ্) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৭৮
وعن ابن عمر قال: قال رسول الله ﷺ: «اذكروا محاسن موتاكم وكفوا عن مساويهم» . رواه أبو داود والترمذي
তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের মৃত ব্যক্তিদের ভাল গুণগুলোই আলোচনা করো, তাদের খারাপ গুণ বা কাজগুলোর আলোচনা হতে বিরত থাকো। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৭৯
وعن نافع أبى غالب قال: صليت مع أنس بن مالك على جنازة رجل فقام حيال رأسه ثم جاؤوا بجنازة امرأة من قريش فقالوا: يا أبا حمزة صل عليها فقام حيال وسط السرير فقال له العلاء بن زياد: هكذا رأيت رسول الله ﷺ قام على الجنازة مقامك منها ومن الرجل مقامك منه؟ قال: نعم. رواه الترمذي وابن ماجه وفي رواية أبي داود نحوه مع زيادة وفيه: فقام عند عجيزة المرأة
তিনি বলেন, আমি একবার আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর সাথে এক জানাযায় (‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘‘উমার-এর ) সলাত আদায় করেছি। তিনি (আনাস (রাঃ) ) (জানাযার) মাথার বরাবর দাঁড়ালেন। এরপর লোকেরা কুরাইশ বংশের এক মহিলার লাশ নিয়ে এলেন এবং বললেন, হে আবূ হামযাহ্ (এটা আনাসের ডাক নাম) এর জানাযার সলাত আদায় করে দিন। (এ কথা শুনে) আনাস খাটের মাঝখানে দাঁড়িয়ে জানাযার সলাত আদায় করে দিলেন। এটা দেখে ‘আলা ইবনু যিয়াদ বললেন, আপনি কি রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এভাবে দাঁড়িয়ে সলাতে জানাযাহ্ আদায় করতে দেখেছেন, যেভাবে আপনি এ মহিলার সলাত মাঝখানে দাঁড়িয়ে ও পুরুষটির জানাযাহ্ মাথার কাছে দাঁড়িয়ে পড়লেন? আনাস (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ দেখেছি। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ্; ইমাম আবূ দাঊদ এ হাদীসটিকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর বর্ণনায় অতিরিক্ত রয়েছে, “মহিলার জানাযায় তার খাটের মধ্যভাগে দাঁড়িয়েছিলেন” উল্লেখ করেছেন।) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৮০
عن عبد الرحمن بن أبى ليلى قال: كان ابن حنيف وقيس ابن سعد قاعدين بالقادسية فمر عليهما بجنازة فقاما فقيل لهما: إنها من أهل الأرض أي من أهل الذمة فقالا: إن رسول الله ﷺ مرت به جنازة فقام فقيل له: إنها جنازة يهودي. فقال: «أليست نفسا؟». (متفق عليه)
তিনি বলেন, (একদিন) সাহ্ল ইবনু হুনায়ফ ও ক্বায়স ইবনু সা‘দ (রাঃ) ক্বাদিসিয়্যাহ্ নামক স্থানে বসেছিলেন। এ সময় তাদের পাশ দিয়ে একটি জানযাহ্ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তা দেখে তারা উভয়েই দাঁড়িয়ে গেলেন। তাদের (দাঁড়াতে দেখে) বলা হলো, এ জানযাহ্ জমিনবাসীর অর্থাৎ যিম্মির। তখন উভয় সাহাবী বললেন, (তাতে কি হয়েছে? এভাবে একদিন) রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে দিয়েও একটি জানাযাহ্ যাচ্ছিল। তা দেখে তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তাঁকেও বলা হয়েছিল, ‘এটা একজন ইয়াহূদীর জানযাহ্।’ এ কথা শুনে তিনি বললেন, সে মানুষ নয়? (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৮১
وعن عبادة بن الصامت قال: كان رسول الله ﷺ إذا تبع جنازة لم يقعد حتى توضع في اللحد فعرض له حبر من اليهود فقال له: إنا هكذا نضع يا محمد قال: فجلس رسول الله ﷺ وقال: «خالفوهم» . رواه الترمذي وأبو داود وابن ماجه وقال الترمذي: هذا حديث غريب وبشر بن رافع الراوي ليس بالقوي
তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন জানাযার সাথে গেলে যতক্ষণ পর্যন্ত তা’ ক্ববরে রাখা না হত ততক্ষণ বসতেন না। একবার এক ইয়াহূদী ‘আলিম রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে এসে আরয করল, ‘হে মুহাম্মাদ! আমরাও এরূপ করি।’ অর্থাৎ মুর্দা ক্ববরে রাখার আগে বসি না। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর থেকে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (জানাযাহ্ ক্ববরে রাখা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতেন না) বসে যেতেন। তিনি বলতেন, তোমরা ইয়াহূদীদের বিপরীত করবে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ্; ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি গরীব। বিশ্র ইবনু রাফি‘ বর্ণনাকারী হিসেবে শক্তিশালী নয়।)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৮২
وعن علي قال: كان رسول الله ﷺ أمرنا بالقيام في الجنازة ثم جلس بعد ذلك وأمرنا بالجلوس. رواه أحمد
তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (প্রথম দিকে) আমাদেরকে জানাযাহ্ দেখলে দাঁড়িয়ে যেতে বলেছেন। (পরে) তিনি নিজে বসে থাকতেন। আমাদেরকেও বসে থাকতে নির্দেশ দেন। (আহ্মাদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৮৩
وعن محمد بن سيرين قال: إن جنازة مرت بالحسن بن علي وابن عباس فقام الحسن ولم يقم ابن عباس فقال الحسن: أليس قد قام رسول الله ﷺ لجنازة يهودي؟ قال: نعم ثم جلس. رواه النسائي
তিনি বলেন, একবার একটি জানাযাহ্ হাসান ইবনু ‘আলী ও ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিল। (জানাযাহ্ দেখে) হাসান দাঁড়িয়ে গেলেন। কিন্তু ইবনু ‘আব্বাস দাঁড়ালেন না। হাসান (ইবনু ‘আব্বাসকে দাঁড়াননি দেখে) বললেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি একজন ইয়াহূদীর লাশ দেখে দাঁড়িয়ে যাননি? ইবনু আব্বাস বললেন, হ্যাঁ দাঁড়িয়েছিলেন, (প্রথম দিকে) শেষের দিকে আর দাঁড়াননি। (নাসায়ী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৮৪
وعن جعفر بن محمد عن أبيه أن الحسن بن علي كان جالسا فمر عليه بجنازة فقام الناس حتى جاوزت الجنازة فقال الحسن: إنما مر بجنازة يهودي وكان رسول الله ﷺ على طريقها جالسا وكره أن تعلوا رأسه جنازة يهودي فقام. رواه النسائي
একবার হাসান ইবনু “আলী (রাঃ) (এক জায়গায়) বসেছিলেন। তাঁর সম্মুখ দিয়ে একটি জানাযাহ্ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। লোকেরা (এ সময়) দাঁড়িয়ে গেল। তা অতিক্রম করে না যাওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকল। তা দেখে হাসান বললেন, (একবার) একটি ইয়াহূদীর লাশ যাচ্ছিল আর সে সময় রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাস্তার পাশে বসেছিলেন। ইয়াহূদীর লাশ তাঁর মাথা ছাড়িয়ে যাক তা তিনি অপছন্দ করলেন। তাই দাঁড়িয়ে গেলেন। (নাসায়ী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৮৫
وعن أبى موسى أن رسول الله ﷺ قال: «إذا مرت بك جنازة يهودي أو نصراني أو مسلم فقوموا لها فلستم لها تقومون إنما تقومون لمن معها من الملائكة» . رواه أحمد
তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কাছ দিয়ে কোন ইয়াহূদী, নাসারা অথবা মুসলিমের লাশ অতিবাহিত হতে দেখলে দাঁড়িয়ে যাবে। তোমাদের এ দাঁড়ানো লাশের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য নয়। বরং লাশের সাথে যেসব মালাক (ফেরেস্তা) থাকেন তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য। (আহ্মাদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৮৬
وعن أنس أن جنازة مرت برسول الله فقام فقيل: إنها جنازة يهودي فقال: «إنما قمت للملائكة» . رواه النسائي
রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছ দিয়ে একটি জানাযাহ্ যাচ্ছিল। তা দেখে তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। সাহাবীগণ আরয করলেন, এটা তো একজন ইয়াহূদীর জানাযাহ্ (একে দেখে দাঁড়াবার কারণ কি?) রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, জানাযার সম্মানে দাঁড়াইনি। তাদের সম্মানে দাঁড়িয়েছি যারা জানাযার সাথে আছেন (অর্থাৎ ফেরেশ্তা)। (নাসায়ী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৮৭
وعن مالك بن هبيرة قال: سمعت رسول الله ﷺ يقول: «ما من مسلم يموت فيصلى عليه ثلاثة صفوف من المسلمين إلا أوجب» . فكان مالك إذا استقل أهل الجنازة جزأهم ثلاثة صفوف لهذا الحديث. رواه أبو داود وفي رواية الترمذي: قال كان مالك بن هبيرة إذا صلى الجنازة فتقال الناس عليها جزأهم ثلاثة أجزاء ثم قال: قال رسول الله ﷺ: «من صلى عليه ثلاثة صفوف أوجب» . وروى ابن ماجه نحوه
তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, কোন মুসলিমের মৃত্যু ঘটলে তিন সারি বিশিষ্ট জামা'আত দ্বারা জানাযার সলাত আদায় সম্পন্ন করা গেলে আল্লাহ তা’আলা তার জন্য (জান্নাত ও মাগফিরাত) ওয়াজিব করে দেন। এ কারণে মালিক ইবনু হুবায়রাহ্ (রাঃ) জানাযার সলাতে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা কম দেখলে এ হাদীস অনুযায়ী তাদেরকে তিন সারিতে দাঁড় করাতেন। (আবূ দাঊদ)। আর ইমাম তিরমিযীর একক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেছেন, মালিক ইবনু হুবায়রাহ্ যখন জানাযার সলাত আদায় করতেন, আর (উপস্থিত) মানুষের সংখ্যা কম দেখতেন, তখন তাদের তিন কাতারে বিন্যস্ত করে দিতেন। আর বলতেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তির জানাযার সলাত তিন সারি লোকে পড়ে, আল্লাহ তা’আলা তাঁর জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দেন। ইবনু মাজাহ্ও এরুপ বর্ণনা করেছেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৮৮
وعن أبى هريرة عن النبي ﷺ في الصلاة على الجنازة: «اللهم أنت ربها وأنت خلقتها وأنت هديتها إلى الإسلام وأنت قبضت روحها وأنت أعلم بسرها وعلانيتها جئنا شفعاء فاغفر له». رواه أبو داود
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জানাযার সলাতে এ দু’আ পড়তেন, “আল্ল-হুম্মা আন্তা রব্বুহা-, ওয়া আন্তা খলাক্বতাহা-, ওয়া আন্তা হাদায়তাহা- ইলাল ইস্লা-ম ওয়া আন্তা ক্ববায্তা রুহাহা-, ওয়া আন্তা আ’লামু বিসির্রিহা- ওয়া ‘আলা- নিয়াতিহা-, জি’না- শুফা’আ- আ ফাগ্ফির লাহূ” (অর্থাৎ হে আল্লাহ! এ [জানাযার] ব্যক্তির তুমিই ‘রব’। তুমিই তাকে সৃষ্টি করেছ, তুমিই তাকে ইসলামে দীক্ষিত করেছ, তুমিই তার রুহ কবয করেছ, তুমিই তার গোপন ও প্রকাশ্য [সব কিছু] জানো। আমরা তার জন্য তোমার কাছে সুপারিশ করতে এসেছি, তুমি তাকে মাফ করে দাও।) (আবূ দাঊদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৮৯
وعن سعيد بن المسيب قال: صليت وراء أبى هريرة على صبي لم يعمل خطيئة قط فسمعته يقول: اللهم أعذه من عذاب القبر. رواه مالك
তিনি বলেন, একবার আমি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) এর পেছনে এমন একটি বালকের জানাযার সলাত আদায় করলাম, যে কক্ষনো কোন গুনাহের কাজ করেনি। আমি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) কে তাঁর জন্য দু’আ করতে শুনলাম, “আল্ল-হুম্মা আ’ইয্হু মিন ‘আযা-বিল ক্বব্রি” (অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তুমি এ ছেলেটিকে ক্ববর ‘আযাব থেকে রক্ষা করো)। (মালিক) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৯০
وعن البخاري تعليقا قال: يقرأ الحسن على الطفل فاتحة الكتاب ويقول: اللهم اجعله لنا سلفا وفرطا وذخرا وأجرا
ইমাম বুখারি (রহঃ) তা’লীক্ব পদ্ধতিতে (অর্থাৎ সহীহুল বুখারীর তরজমাতুল বাবে সানাদ ছাড়া, এ হাদীসটি উদ্ধৃ্ত করেছেন), হাসান (রহঃ) বাচ্চার জানাযার সলাতে (প্রথম তাকবীরের পর) সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ পড়তেন। (আর তৃতীয় তাকবীরে) এ দু’আ পড়তেন, “আল্ল-হুম্মাজ্ ‘আল্হু লানা- সালাফান ওয়া ফারাত্বান ওয়া যুখ্রান ওয়া আজ্রান” (অর্থাৎ হে আল্লাহ! এ ছেলেটিকে (ক্বিয়ামতের দিন) আমাদের অগ্রবর্তী ব্যবস্থাপক, রক্ষিত ভান্ডার ও সাওয়াবের কারণ বানাও)। ।[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৯১
وعن جابر أن النبي ﷺ قال: الطفل لا يصلى عليه ولا يرث ولا يورث حتى يستهل . رواه الترمذي وابن ماجه إلا أنه لم يذكر: ولا يورث
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (অপূর্ণাঙ্গ) বাচ্চাদের জন্য না জানাযার সলাত আদায় করতে হবে, না তাকে কারো ওয়ারিশ বানানো যাবে। আর না তার কোন ওয়ারিশ হবে। যদি সে জন্মের সময় কোন শব্দ করে না থাকে। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ্; কিন্তু ইবনু মাজাহ্ “তারও কেউ উত্তরাধিকারী হবেনা” এমন উল্লেখ করেননি। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৯২
وعن أبى مسعود الأنصاري قال: نهى رسول الله ﷺ أن يقوم الإمام فوق شيء والناس خلفه يعنى أسفل منه. رواه الدراقطني وأبو داود
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইমামকে কোন কিছুর উপর (একা) ও মুক্তাদীগণ নীচে দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। (দারাকুত্বনী, আবূ দাঊদ) [১]