তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৪৪

عن سعد بن إبراهيم عن أبيه أن عبد الرحمن بن عوف أتي بطعام وكان صائما فقال: قتل مصعب بن عمير وهو خير منى كفن فى بردة إن غطي رأسه بدت رجلاه وإن غطي رجلاه بدا رأسه وأراه قال: وقتل حمزة وهو خير منى ثم بسط لنا من الدنيا ما بسط أو قال: أعطينا من الدنيا ما أعطينا ولقد خشينا أن تكون حسناتنا عجلت لنا ثم جعل يبكى حتى ترك الطعام. رواه البخاري

তিনি তাঁর পিতা ইব্‌রাহীম (রাঃ) হতে বর্ননা করেছেন যে, একবার ‘আবদুর রহ্‌মান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) সওম রেখেছিলেন। (সন্ধ্যায়) তাঁর খাবার আনানো হলো। তিনি বললেন উহুদ যুদ্ধের শাহীদ মুস্‘আব ইবনু ‘উমায়র (রাঃ) আমার চেয়ে উত্তম ছিলেন। কিন্তু তাঁকে শুধু একটি চাদর দিয়ে দাফন করা হয়েছিল। এটা এমনই খাটো ছিল যে, যদি মাথা ঢাকা হত পা খুলে যেত আর পা ঢাকা হলে মাথা খুলে যেত। (সর্বশেষে [চাদর দিয়ে] তার মাথা ঢেকে পাগুলোর উপর ‘ইযখির’ [ঘাস] দেয়া হয়েছিল)। (হাদীসের রাবী) ইব্‌রাহীম বলেন, আমার মনে হয় ‘আবদুর রহ্‌মান ইবনু ‘আওফ এ কথাও বলেছেন, (উহুদের) আরেক শাহীদ হামযাহ্ও আমার চেয়ে উত্তম ছিলেন। (মুস্‘আব-এর মতো) তাঁরও এক চাদরে দাফন নাসীব হয়েছিল। (এখন মুসলিমদের দরিদ্র আল্লাহর ফযলে দূর হয়েছে) আমাদের জন্য এখন দুনিয়া বেশ প্রশস্ত হয়েছে, যা দৃশ্যমান। অথবা তিনি বলেছেন, “দুনিয়া এখন আমাদেরকে এতই পর্যাপ্ত পরিমাণে দেয়া হয়েছে যে, আমার ভয় হয় আমাদের নেক কাজের বিনিময় ফল আমরা মৃত্যুর আগে দুনিয়াতেই পেয়ে যাই কিনা। অতঃপর ‘আবদুর রহ্‌মান ইবনু আওফ কাঁদতে লাগলেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত সামনের খাবারই ছেড়ে দিলেন। (বুখারী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৪৫

وعن جابر قال: أتى رسول الله ﷺ عبد الله بن أبي بعدما أدخل حفرته فأمر به فاخرج فوضعه على ركبتيه فنفث فيه من ريقه وألبسه قميصه قال: وكان كسا عباسا قميصا. (متفق عليه)

তিনি বলেন, মুনাফিক্ব দলপতি ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাইকে ক্ববরে নামাবার পর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি তাকে ক্ববর থেকে উঠাবার নির্দেশ দিলেন। ক্ববর থেকে উঠাবার পর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে তাঁর দু‘হাঁটুর উপর রাখলেন। নিজের মুখের পবিত্র থুথু তার মুখে দিলেন। নিজের জামা তাকে পরালেন। জাবির (রাঃ) বলেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু উবাই ‘আব্বাস (রাঃ) কে তার নিজের জামা পরিয়েছিলেন। (বুখারী ও মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৪৬

وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «أسرعوا بالجنازة فإن تك صالحة فخير تقدمونها إليه وإن تك سوى ذلك فشر تضعونه عن رقابك». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসুলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জানাযার কার্যক্রম সলাত তাড়াতাড়ি আদায় কর। কারণ মৃত ব্যক্তি যদি নেক মানুষ হয় তাহলে তার জন্য কল্যাণ। কাজেই তাকে কল্যাণের দিকে তাড়াতাড়ি পাঠিয়ে দেবে। সে এরূপ না হলে খারাপ হবে। তাই তাকে তাড়াতাড়ি নিজেদের ঘাড় থেকে নামিয়ে দাও। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৪৭

وعن أبى سعيد الخدري قال: قال رسول الله ﷺ: «إذا وضعت الجنازة فاحتملها الرجال على أعناقهم فإن كانت صالحة قالت: قدمونى وإن كانت غير صالحة قالت لأهلها: يا ويلها أين تذهبون بها؟ يسمع صوتها كل شيء إلا الإنسان ولو سمع الإنسان لصعق». رواه البخاري

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জানাযাহ্ খাটিয়ায় রাখার পর লোকেরা যখন তাকে কাঁধে নেয় যে জানাযাহ্ যদি নেক লোকের হয় তাহলে সে বলে আমাকে (আমার মঞ্জীলের দিকে) তাড়াতাড়ি নিয়ে চলো। আর যদি বদ লোকের হয়, সে (তার নিজ লোকদেরকে) বলে, হায়! হায়! আমাকে কোথায় নিয়ে চলছ। মুর্দারের কথার এ আওয়াজ মানুষ ছাড়া সবাই শুনে। যদি মানুষ এ আওয়াজ শুনত তাহলে বেহুশ হয়ে পড়ে যেত। (বুখারী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৪৮

وعنه قال: قال رسول الله ﷺ: «إذا رأيتم الجنازة فقوموا فمن تبعها فلا يقعد حتى توضع». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা যখন কোন লাশ দেখবে, দাঁড়িয়ে যাবে। যারা জানাযার সাথে থাকে তারা যেন (জানাযাহ্ লোকদের কাঁধ থেকে মাটিতে অথবা ক্ববরে) রাখার আগে না বসে। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৪৯

وعن جابر قال: مرت جنازة فقام لها رسول الله ﷺ وقمنا معه فقلنا: يا رسول الله إنها يهودية فقال: «إن الموت فزع فإذا رأيتم الجنازة فقوموا». (متفق عليه)

তিনি বলেন, একটি জানাযাহ্ যাচ্ছিল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা দেখে দাঁড়িয়ে গেলেন। আমরাও তার সাথে দাঁড়ালাম। তারপর আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! এটা তো এক ইয়াহুদী মহিলার জানাযাহ্। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন। মৃত্যু একটি ভীতিকর বিষয়। অতএব যখনই তোমরা জানাযাহ্ দেখবে দাঁড়িয়ে যাবে। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৫০

وعن علي قال: رأينا رسول الله ﷺ قام فقمنا وقعد فقعدنا يعنى في الجنازة. رواه مسلم وفي رواية مالك وأبي داود: قام في الجنازة ثم قعد بعد

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জানাযাহ্ দেখে দাঁড়াতে দেখলাম। আমরাও তার সাথে দাঁড়িয়ে গেলাম। তিনি বসলে আমরাও বসলাম। (মুসলিম, ইমাম মালিক ও আবূ দাঊদের বর্ণনার ভাষ্য হলো, তিনি জানাযাহ্ দেখে দাঁড়াতেন, তারপর বসতেন।) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৫১

وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «من اتبع جنازة مسلم إيمانا واحتسابا وكان معه حتى يصلى عليها ويفرغ من دفنها فإنه يرجع من الأجر بقيراطين كل قيراط مثل أحد ومن صلى عليها ثم رجع قبل أن تدفن فإنه يرجع بقيراط». (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের জানাযায় ঈমান ও ইহ্তিসাবের সাথে অংশগ্রহণ করে, এমনকি তার জানাযার সলাত আদায় করে ক্ববরে দাফন করা পর্যন্ত সাথে থাকে। এমন ব্যক্তি দু' ক্বীরাত্ব সাওয়াব নিয়ে ঘরে ফেরে। প্রত্যেক ক্বীরাত্ব উহুদ পাহাড়ের সমান। আর যে ব্যক্তি শুধু জানাযার সলাত আদায় করে দাফন করার আগে ফিরে সে এক ক্বীরাত্ব সাওয়াব নিয়ে ফিরে এলো। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৫২

وعن أبى هريرة: أن النبي ﷺ نعى للناس النجاشي اليوم الذى مات فيه وخرج بهم إلى المصلى فصف بهم وكبر أربع تكبيرات. (متفق عليه)

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাবশার বাদশাহ নাজাশীর মৃত্যু সংবাদ তাঁর মৃত্যুর দিনই মানুষদেরকে জানিয়েছেন (অথচ তিনি মারা গিয়েছিলেন সুদূর হাবশায়)। তিনি সহাবা কিরামকে নিয়ে ঈদগায় গেলেন। সেখানে সকলকে জানাযার সলাতের জন্য কাতারবদ্ধ করলেন এবং চার তাকবীর বললেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৫৩

وعن عبد الرحمن بن أبى ليلى قال: كان زيد بن أرقم يكبر على جنائزنا أربعا وأنه كبر على جنازة خمسا فسألناه فقال: كان رسول الله ﷺ يكبرها. رواه مسلم

তিনি বলেন, যায়দ ইবনু আরক্বাম (রাঃ) সলাতুল জানাযায় চার তাকবীর বলতেন। এক জানাযায় তিনি পাঁচ তাকবীরও বললেন। আমরা তখন তাঁকে (এর কারণ) জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঁচ তাকবীরও দিয়েছেন। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৫৪

وعن طلحة بن عبد الله بن عوف قال: صليت خلف ابن عباس على جنازة فقرأ فاتحة الكتاب فقال: لتعلموا أنها سنة. رواه البخاري

তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস-এর পেছনে এক জানাযার সলাত আদায় করেছি। তিনি এতে সূরাহ্ আল্ ফা-তিহাহ্ পড়েছেন এবং বলেছেন, আমি (স্বরবে) সূরাহ্ আল ফা-তিহাহ্ এজন্য পড়েছি, যেন তোমরা জানতে পারো সূরাহ্ আল্ ফা-তিহাহ্ পড়া সুন্নাত। (বুখারী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৫৫

وعن عوف بن مالك قال: صلى رسول الله ﷺ على جنازة فحفظت من دعائه وهو يقول: «اللهم اغفر له وارحمه وعافه واعف عنه وأكرم نزله ووسع مدخله واغسله بالماء والثلج والبرد ونقه من الخطايا كما نقيت الثوب الأبيض من الدنس وأبدله دارا خيرا من داره وأهلا خيرا من أهله وزوجا خيرا من زوجه وأدخله الجنة وأعذه من عذاب القبر ومن عذاب النار» . وفي رواية: «وقه فتنة القبر وعذاب النار» قال حتى تمنيت أن أكون أنا ذلك الميت. رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন এক জানাযার সলাত আদায় করলেন। জানাযায় যেসব দু'আ তিনি পড়েছেন তা আমি মুখস্থ করে রেখেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন, “আল্ল-হুম্মাগ্ফির লাহ্ ওয়ার্হাম্হু ওয়া ’আ-ফিহী ওয়া’ফু আন্হু ওয়া আক্রিম নুযুলাহু ওয়া ওয়াস্সি' মু্দ্খলাহু ওয়াগ্সিল্হু বিলমা-য়ি ওয়াস্সালজি ওয়াল বারাদি ওয়ানাক্বিহী মিনাল খত্বা-ইয়া-কামা-নাক্কায়সাস্ সাওবাল আব্ইয়াযা মিনাদ্ দানাসি ওয়া আব্দিলহু দা-রান্ খয়রাম্ মিন দা-রিহী ওয়া আহলান খয়রাম্ মিন আহলিহী ওয়া যাওজান খয়রাম্ মিন যাওজিহী ওয়া আদ্খিলহুল ওয়াআ ’ইযহু মিন ’আযা-বিল ক্বব্রি ওয়ামিন আযা-বান্ না-র" (অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি তাকে মাফ করে দাও, তার উপর রহম করো, তাকে নিরাপদে রাখো। তার ভুল-ত্রূটি ক্ষমা করো, তাকে উত্তম মেহমানদারী করো (জান্নাতে), তার ক্ববরকে প্রশস্ত করে দাও। তাকে পানি, বরফ ও ঠাণ্ডা (পানি) দিয়ে গোসল করাও। গুনাহখাতা হতে তাকে পবিত্র করো, যেমন তুমি সাদা কাপড়কে ময়লা হতে পরিষ্কার করো। তাকে (দুনিয়ার) তার ঘরের চেয়ে উত্তম ঘর (জান্নাতে) দান করো, তার পরিবার অপেক্ষা উত্তম পরিবারও দান করো। (দুনিয়ার) স্ত্রীর চেয়ে উত্তম স্ত্রী (আখিরাতে) তাকে দিও। তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও, তাকে ক্ববরের আযাব এবং জাহান্নামের ’আযাব থেকে রক্ষা করো।")। অপর এক বর্ণনার ভাষায়- “ওয়াক্বহী ফিত্নাতাল ক্ববরি ওয়া ’আযা-বান্ না-র" (অর্থাৎ ক্ববরের ফিতনাহ্ এবং জাহান্নামের আগুন থেকে তাকে বাঁচাও)। এ দু'আ শুনার পর আমার বাসনা জাগলো, এ মৃত ব্যক্তি যদি আমি হতাম। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৫৬

وعن أبي سلمة بن عبد الرحمن أن عائشة لما توفي سعد بن أبى وقاص قالت: ادخلوا به المسجد حتى أصلى عليه فأنكر ذلك عليها فقالت: والله لقد صلى رسول الله ﷺ على ابني بيضاء في المسجد: سهيل وأخيه. رواه مسلم

তিনি বলেন, সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্বক্বাস (রাঃ) মৃত্যুবরণ করলে (তাঁর লাশ বাড়ী হতে দাফনের জন্য আনার পর) আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, তার জানাযাহ্ মসজিদে আনো, তাহলে আমিও জানাযাহ্ আদায় করতে পারব। লোকেরা (জানাযাহ্ মাসজিদে আনতে) অস্বীকার করলেন (কারণ তারা ভাবলেন, মসজিদে জানাযার সলাত কিভাবে আদায় করা যেতে পারে)। তখন আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘বায়যা' নামী মহিলার দু'ছেলে সুহায়ল ও তার ভাইয়ের জানাযার সলাত মসজিদে আদায় করিয়েছেন। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৫৭

وعن سمرة بن جندب قال: صليت وراء رسول الله ﷺ على امرأة ماتت فى نفاسها فقام وسطها. (متفق عليه)

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিছনে এক মহিলার জানাযার সলাত আদায় করেছি। মহিলাটি নিফাস অবস্থায় মারা গেছেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জানাযার সলাতে তার মাঝ বরাবর দাঁড়িয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৫৮

وعن ابن عباس أن رسول الله ﷺ مر بقبر دفن ليلا فقال: «متى دفن هذا؟» قالوا: البارحة. قال: «أفلا اذنتمونى؟» قالوا: دفناه فى ظلمة الليل فكرهنا أن نوقظك فقام فصففنا خلفه فصلى عليه. (متفق عليه)

তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন এক ক্ববরের কাছ দিয়ে গেলেন, যাতে রাতের বেলা কাউকে দাফন করা হয়েছিল। তিনি বললেন, একে কখন দাফন করা হয়েছে? সাহাবীগণ জবাব দিলেন গত রাতে। তিনি বললেন, তোমরা আমাকে খবর দাওনি কেন? সাহাবীগণ বললেন, আমরা তাকে অন্ধকার রাতে দাফন করেছি, তাই আপনাকে ঘুম থেকে জাগানো ভাল মনে করিনি। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে গেলেন, আর আমরাও তাঁর পিছনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জানাযার সলাত আদায় করলেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৫৯

وعن أبى هريرة أن امرأة سوداء كانت تقم المسجد أو شاب ففقدها رسول الله ﷺ فسأل عنها أو عنه فقالوا: مات. قال: «أفلا كنتم اذنتمونى؟» قال: فكأنهم صغروا أمرها أو أمره. فقال: «دلونى على قبره» فدلوه فصلى عليها. قال: «إن هذه القبور مملوءة ظلمة على اهلها وإن الله ينورها لهم بصلاتى عليهم» . ولفظه لمسلم. (متفق عليه)

তিনি বলেন, একজন কালো মহিলা অথবা একটি যুবক (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) মাসজিদে নবাবী ঝাড়ু দিত। একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে দেখতে পেলেন না। তিনি সে মহিলা অথবা যুবকটির খোঁজ নিলেন। লোকেরা বলল, সে ইন্তিকাল করেছে। তিনি বললেন, তোমরা আমাকে জানালে না কেন? (তাহলে আমিও জানাযায় শরীক থাকতাম)। বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা এ মহিলার বা যুবকের বিষয়টিকে ছোট বা তুচ্ছ ভেবেছিল। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাকে কোথায় ক্ববর দেয়া হয়েছে আমাকে দেখাও। তারা তাঁকে ক্ববর দেখিয়ে দিল। তখন তিনি তার (কাছে গেলেন ও) ক্ববরে জানাযার সলাত আদায় করালেন, তারপর বললেন, এ ক্ববরগুলো এর অধিবাসীদের জন্য ঘন অন্ধকারে ভরা ছিল। আর আমার সলাত আদায়ের ফলে আল্লাহ তা’আলা এগুলোকে আলোকিত করে দিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম; এ হাদীসের ভাষা মুসলিমের) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৬০

وعن كريب مولى ابن عباس عن عبد الله بن عباس أنه مات له ابن بقديد أو بعسفان فقال: يا كريب انظر ما اجتمع له من الناس. قال: فخرجت فإذا ناس قد اجتمعوا له فأخبرته فقال: تقول: هم أربعون؟ قال: نعم. قال: أخرجوه فإنى سمعت رسول الله ﷺ يقول: «ما من رجل مسلم يموت فيقوم على جنازته أربعون رجلا لا يشركون بالله شيئا إلا شفعهم الله فيه» . رواه مسلم

ইবনু আব্বাস-এর এক ছেলে (মাক্কার নিকটবর্তী) ’কুদায়দ’ অথবা ’উসফান’ নামক স্থানে মারা গিয়েছিল। তিনি আমাকে বললেন, হে কুরায়ব! জানাযার জন্য কেমন লোক জমা হয়েছে দেখো। কুরায়ব বলেন, আমি বের হয়ে দেখলাম, জানাযার জন্য কিছু লোক একত্রিত হয়েছে। অতঃপর তাকে আমি এ খবর জানালাম। তিনি বললেন, তোমার হিসেবে তারা কি চল্লিশজন হবে? আমি জবাব দিলাম, হ্যাঁ। ইবনু আব্বাস (রাঃ) তখন বললেন, তাহলে সলাতের জন্য তাকে বের করে আনো। কারণ আমি রাসূলুল্লা্হ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, কোন মুসলিম মারা গেলে আল্লাহর সাথে শরীক করেনি এমন চল্লিশজন যদি তার জানাযার সলাত আদায় করে তাহলে আল্লাহ তা’আলা এ মৃত ব্যক্তির জন্য তাদের সুপারিশ কবুল করেন। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৬১

وعن عائشة رضي الله عنها عن النبي ﷺ قال: «ما من ميت تصلى عليه أمة من المسلمين يبلغون مائة كلهم يشفعون له: إلا شفعوا فيه». رواه مسلم

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তির সলাতে জানাযায় একশতজন মুসলিমের দল হাযির থাকবে, তাদের প্রত্যেকেই তার জন্য শাফা’আত (মাগফিরাত) কামনা করবে। তাহলে তার জন্য তাদের এ শাফাআত (কবূল) হয়ে যাবে। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৬২

وعن أنس قال: مروا بجنازة فأثنوا عليها خيرا. فقال النبي ﷺ: «وجبت» ثم مروا بأخرى فأثنوا عليها شرا. فقال: «وجبت» فقال عمر: ما وجبت؟ فقال: «هذا أثنيتم عليه خيرا فوجبت له الجنة وهذا أثنيتم عليه شرا فوجبت له النار أنتم شهداء الله في الأرض» متفق عليه وفي رواية: «المؤمنون شهداء الله في الأرض

তিনি বলেন, সাহাবায়ে কিরাম (একবার) এক জানাযায় গেলেন। সেখানে তারা মৃতের প্রশংসা করতে লাগলেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা শুনে বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। (ঠিক) এভাবে তারা আর এক জানাযায় গেলেন সেখানে তারা তার বদনাম করতে লাগলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শুনে বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। এ কথা শুনে ‘‘উমার জানতে চাইলেন। কি ওয়াজিব হয়ে গেছে? (হে আল্লাহর রাসূল!) তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা যে ব্যক্তির প্রশংসা করেছ, তার জন্য জান্নাত প্রাপ্তি ওয়াজিব হয়ে গেছে। আর যার বদনাম করেছ, তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেছে। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা জমিনে আল্লাহর সাক্ষী। (বুখারী, মুসলিম; অন্য আর এক বর্ণনার ভাষা হলো তিনি বলেছেন, মু’মিন আল্লহ তা’আলার সাক্ষী)। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৬৩

وعن عمر قال: قال رسول الله ﷺ: «أيما مسلم شهد له أربعة بخير أدخله الله الجنة» قلنا: وثلاثة؟ قال: «وثلاثة» . قلنا واثنان؟ قال: «واثنان» ثم لم نسأله عن الواحد. رواه البخاري

তিনি বলেন, রসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে মুসলিম ব্যক্তির ভাল হবার ব্যাপারে চারজন লোক সাক্ষ্য দিবে, আল্লাহ তা’আলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আমরা আরয করলাম, যদি তিনজন (সাক্ষ্য দেয়)। তিনি বললেন, তিনজন দিলেও। আমরা (আবার) আরয করলাম, যদি দু’জন সাক্ষ্য দেয়? তিনি বললেন, দু’জন সাক্ষ্য দিলেও। তারপর আমরা আর একজনের (সাক্ষ্যের) ব্যাপারে তাঁকে কিছু জিজ্ঞেস করলাম না। (বুখারী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৬৪

وعن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله ﷺ: «لا تسبوا الأموات فإنهم قد أفضوا إلى ما قدموا» رواه البخاري

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা মৃতদেরকে গালি দিও না। কেননা তারা নিশ্চিতভাবে তাদের কৃতকর্মের ফল পেয়ে গেছে। (বুখারী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৬৫

وعن جابر أن رسول الله ﷺ كان يجمع بين الرجلين في قتلى أحد في ثوب واحد ثم يقول: «أيهم أكثر أخذا للقران؟» فإذا أشير له إلى أحدهما قدمه في اللحد وقال: «أنا شهيد على هؤلاء يوم القيامة» . وأمر بدفنهم بدمائهم ولم يصل عليهم ولم يغسلوا. رواه البخاري

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উহুদের শহীদদের দু’ দু’জনকে এক কাপড়ে জমা করেন। তারপর বলেন, কুরআন মজীদ এদের কারো বেশী মুখস্থ ছিল? এরপর দু’জনের যার বেশী কুরআন মুখস্থ আছে বলে ইশারা করা হয়েছে, তাকে আগে ক্ববরে রাখেন এবং বলেন, ক্বিয়ামাতের দিন আমি এদের জন্য সাক্ষ্য দিব। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রক্তাক্ত অবস্থায় তাদেরকে দাফন করার নির্দেশ দেন। তাদের জানাযার সলাতও আদায় করেননি গোসলও দেয়া হয়নি। (বুখারী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬৬৬

وعن جابر بن سمرة قال: أتى النبي ﷺ بفرس معرور فركبه حين انصرف من جنازة ابن الدحداح ونحن نمشى حوله. رواه مسلم

তিনি বলেন, একবার নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট জীন ছাড়া একটি ঘোড়া আনা হলো। (এ অবস্থায়ই) তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘোড়ার উপর আরোহণ করলেন। এরপর ইবনু দাহ্দাহ (রাঃ)-এর জানাযার সলাত সেরে তিনি ফিরে এলেন। আমরা তাঁর চারপাশে পায়ে হেঁটে চলছিলাম। (মুসলিম) [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية