প্রথম অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬১৬

عن أبى سعيد وأبى هريرة قالا: قال رسول الله ﷺ: «لقنوا موتاكم لا إله إلا الله» . رواه مسلم

তারা বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে যায় তাকে কালিমায়ে ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই) তালকীন দিও। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬১৭

وعن أم سلمة قالت: قال رسول الله ﷺ: «إذا حضرتم المريض أو الميت فقولوا خيرا فإن الملائكة يؤمنون على ما تقولون» . رواه مسلم

তিনি বলেন,রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা কোন অসুস্থ ব্যক্তির কাছে কিংবা কোন মৃত্যু পথযাত্রীর কাছে ভাল ভাল কথা বলবে। কারণ তোমরা তখন যা বলো, (তা’ শুনে) মালাকগণ (ফেরেশতারা) ‘আমীন’ ‘আমীন’ বলেন। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬১৮

وعن أم سلمة قالت: قال رسول الله ﷺ: «ما من مسلم تصيبه مصيبة فيقول ما أمره الله به: ﴿إنا لله وإنا إليه راجعون﴾ [البقرة 2 : 156]. اللهم أجرنى فى مصيبتى واخلف لى خيرا منها إلا أخلف الله له خيرا منها». فلما مات أبو سلمة قالت: أي المسلمين خير من أبى سلمة؟ أول بيت هاجر إلى رسول الله ﷺ ثم إني قلتها فأخلف الله لى رسول الله ﷺ. رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন কোন মুসলিম (কোন ছোট-বড়) বিপদে পতিত হয় এবং আল্লাহ তা’আয়ালার ইচ্ছা হলে এ কথাগুলো বলে, “ইন্না-লিল্লা-হি ওয়া ইন্না-ইলায়হি র-জি’ঊন [অর্থাৎ “আমরা আল্লাহ্‌রই জন্য এবং তাঁরই কাছে আমাদের প্রত্যাবর্তন”-(সূরাহ্ আল বাক্বারাহ ২ : ১৫৬)]।“ আল্ল-হুম্মা আজির্‌নী ফী মুসীবাতি ওয়া ওয়াখলিফলী খয়রাম মিন্হা” (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমার বিপদের জন্য আমাকে সওয়াব দাও। আর [এ বিপদে] যা আমি হারিয়েছি তার জন্য উত্তম বিনিময় আমাকে দান করো) আল্লাহ তা’আলা তাকে এ জিনিসের উত্তম বিনিময় দান করেন। উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) বলেন, যখন আবূ সালামাহ্ (অর্থাৎ তাঁর স্বামী) মারা গেলেন, আমি বললাম, “আবূ সালামাহ (রাঃ) হতে উত্তম কোন মুসলিম হতে পারে? এ আবূ সালামাহ্, যিনি সকলের আগে সপরিবারে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে হিজরত করেছেন। তারপর আমি উপরোক্ত বাক্যগুলো পড়েছিলাম। বস্তুত আল্লাহ তা’আলা আমাকে আবূ সালামার স্থলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দান করেছেন (অর্থাৎ তাঁর সাথে উম্মু সালামার বিয়ে হয়েছে)। (মুসলিম)[১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬১৯

وعن أم سلمة قالت: دخل رسول الله ﷺ على أبى سلمة قد شق بصره فأغمضه ثم قال: «إن الروح إذا قبض تبعه البصر» فضج ناس من أهله فقال: «لا تدعوا على انفسكم إلا بخير فإن الملائكة يؤمنون على ماتقولون» ثم قال: «اللهم اغفر لأبى سلمة وارفع درجته في المهديين واخلفه فى عقبه في الغابرين واغفر لنا وله يا رب العالمين وأفسح له في قبره ونور له فيه» . رواه مسلم

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (আমার প্রথম স্বামী) আবূ সালামার কাছে আসলেন যখন তাঁর চোখ স্থির হয়ে গিয়েছিল। তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চোখগুলো বন্ধ করে দিলেন। তারপর বললেন, যখন রুহ কবয করা হয় তখন তার দৃষ্টিশক্তিও চলে যায়। আবূ সালামার পরিবার (এ কথা শুনে বুঝল, আবূ সালামাহ ইন্তিকাল করেছেন) কাঁদতে ও চিল্লাতে লাগল। তখন রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা মাইয়্যিতের জন্য কল্যাণের দু’আ করো। কারণ তোমরা ভাল মন্দ যে দু’আই করো (তা ’শুনে) মালাকগণ (ফেরেশতারা) ‘আমীন’ বলে। তারপর তিনি এ দু’আ পাঠ করলেন, “ আল্ল-হুম্মাগফির লিয়াবী সালামাহ, ওয়ারফা’ দারাজতাহূ ফিল মাহ্দীয়্যিন, ওয়াখ্লুফ্হু ফী ‘আক্বিবিহী ফিল গ-বিরীন, ওয়াগ্ফির লানা-ওয়ালাহূ ইয়া-রব্বাল আ’-লামীন, ওয়া আফসিহ লাহূ ফী ক্বব্‌রিহী, ওয়ানাওয়ির লাহূ ফিহী” (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আবূ সালামাকে মাফ করে দাও। হিদায়াতপ্রাপ্তদের মধ্যে তার মর্যাদা বাড়িয়ে দাও। তার ছেড়ে যাওয়া লোকদের জন্য তুমি সহায় হয়ে যাও। হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে ও তাকে মাফ করে দাও। তার ক্ববরকে প্রশস্ত করে দাও। তার জন্য ক্ববরকে নূরের আলোতে আলোকিত করে দাও।)। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬২০

وعن عائشة قالت: إن رسول الله ﷺ حين توفي سجي ببرد حبرة. (متفق عليه)

তিনি বলেন, “রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইন্তিকালের পর তাঁর পবিত্র শরীরের উপর ইয়ামিনী চাদর দিয়ে তাঁকে ঢেকে রাখা হয়েছিল।” (বুখারী,মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬২১

عن معاذ بن جبل قال: قال رسول الله ﷺ: «من كان اخر كلامه لا إله إلا الله دخل الجنة» رواه أبو داود

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তির শেষ কথা, ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই) হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (আবূ দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬২২

وعن معقل بن يسار قال: قال رسول الله ﷺ: «اقرؤوا سورة (يس) على موتاكم» . رواه أحمد وأبو داود وابن ماجه

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা মৃত ব্যক্তির সামনে সূরাহ্ ইয়াসীন পড়ো। (আহমাদ, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ্) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬২৩

وعن عائشة قالت: إن رسول الله ﷺ قبل عثمان بن مظعون وهو ميت وهو يبكى حتى سال دموع النبي ﷺ على وجه عثمان. رواه الترمذي وأبو داود وابن ماجه

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ’উসমান ইবনু মায’উন-এর মৃত্যুর পর তাঁকে চুমু দিয়েছেন। এরপর অঝোরে কেঁদেছেন, এমনকি তাঁর চোখের পানি ‘উসমানের চেহারায় টপকে টপকে পড়েছে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ্) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬২৪

وعن عائشة قالت: إن أبا بكر قبل النبي ﷺ وهو ميت. رواه الترمذي وابن ماجه

তিনি বলেন, আবূ বাক্‌র সিদ্দীক্ব রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মৃত্যুর পর তাঁকে (চেহারা মুবারাকে) চুমু খেয়েছিলেন। (তিরমিযী,ইবনু মাজাহ্) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৬২৫

وعن حصين بن وحوح أن طلحة بن البراء مرض فأتاه النبي ﷺ يعوده فقال: «إني لا أرى طلحة إلا قد حدث به الموت فآذنوني به وعجلوا فإنه لا ينبغى لجيفة مسلم أن تحبس بين ظهراني أهله» . رواه أبو داود

তিনি বলেন, ত্বলহাহ্ ইবনু বারা অসুস্থ হলে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে দেখোতে গেলেন। তিনি তাঁর পরিবারের লোকজনকে বললেন, আমার মনে হচ্ছে ত্বলহার মৃত্যুর লক্ষণ দেখা দিয়েছে। অতএব তার মৃত্যুর সাথে সাথেই আমাকে খবর দিবে (যাতে আমি জানাযাহ্ আদায়ের জন্য আসতে পারি) আর তোমরা তার দাফন-কাফনের কাজ তাড়াতাড়ি করবে। কারণ মুসলিমের লাশ তার পরিবারের মধ্যে বেশীক্ষণ ফেলে রাখা ঠিক নয়। (আবূ দাঊদ) [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية