দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৪২

عن علي ومعاذ بن جبل رضي الله عنهما قالا: قال رسول الله ﷺ: «إذا أتى أحدكم الصلاة والإمام على حال فليصنع كما يصنع الإمام» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب

তাঁরা বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কোনও লোক যখন জামাতের সালাতে শরীক হওয়ার জন্য আসবে তখন ইমাম যে অবস্থায় থাকবে ও যে কাজ করবে সেও সে কাজ করবে। (তিরমিযী; তিনি বলেন হাদিসটি গরীব) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৪৩

وعن أبي هريرة ؓ قال: قال رسول الله ﷺ: «إذا جئتم إلى الصلاة ونحن سجود فاسجدوا ولا تعدوه شيئا ومن أدرك ركعة فقد أدرك الصلاة» . رواه أبو داود

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেছেনঃ তোমরা জামা’আতে শরীক হওয়ার জন্য সালাতে আসলে আমাদেরকে সাজদাহ্‌ অবস্থায় পেলে তোমরাও সাজদায় যাও। আর এ সাজদাহকে (কোন রাক’আত) হিসেবে গণ্য করবে না। তবে যে লোক (ইমামের সাথে) এক রাক’আত প্রাপ্ত হবে সে সম্পূর্ণ সালাত পেয়ে গেল। (আবু দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৪৪

] وعن أنس قال: قال رسول الله ﷺ: من صلى لله أربعين يوما في جماعة يدرك التكبيرة الأولى كتب له براءتان: براءة من النار وبراءة من النفاق. رواه الترمذي

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ যে লোক চল্লিশ দিন পর্যন্ত তাকবীর তাহরীমাসহ আল্লাহ্‌র জন্য জামা’আতে সালাত আদায় করেন তার জন্য দু’প্রকার মুক্তি বরাদ্ধ করা হয়। এক জাহান্নাম থেকে মুক্তি। আর দ্বিতীয় মুনাফিক্বী থেকে মুক্তি। (তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৪৫

وعن أبي هريرة ؓ قال: قال رسول الله ﷺ: «من توضأ فأحسن وضوءه ثم راح فوجد الناس قد صلوا أعطاه الله مثل أجر من صلاها وحضرها لا ينقص ذلك من أجورهم شيئا» . رواه أبو داود والنسائي

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ যে লোক উযূ করেছে এবং ভালোভাবে সে তার উযূ সমাপ্ত করেছে। তারপর মাসজিদে গিয়েছে। সেখানে লোকদেরকে সালাত আদায় করে ফেলা অবস্থায় পেয়েছে। আল্লাহ্‌ তা’আলা তাকে ঐ সালাত আদায়কারীদের সমান সওয়াব দান করবেন যারা সেখানে হাজির হয়ে সালাত পুরা করেছে। অথচ তাতে তাদের পুণ্য একটুও কমতি হবে না। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৪৬

وعن أبي سعيد الخدري قال: جاء رجل وقد صلى رسول الله ﷺ فقال: «ألا رجل يتصدق على هذا فيصلي معه؟» فقام رجل فيصلى معه. رواه الترمذي وأبو داود

তিনি বলেন, একদিন এক লোক মাসজিদে এমন সময় আসলেন, যখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত আদায় করে ফেলেছেন। তিনি (তাকে দেখে) বললেন, এমন কোন মানুষ কি নেই যে তাকে সাদক্বাহ্‌ দিবে তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করে। এ মুহূর্তে এক লোক দাঁড়ালেন এবং তার সঙ্গে সালাত আদায় করলেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৪৭

عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة قال: دخلت على عائشة فقلت ألا تحدثيني عن مرض رسول الله ﷺ قالت بلى ثقل النبي ﷺ فقال: « أصلى الناس ؟» قلنا لا يا رسول الله وهم ينتظرونك فقال: «ضعوا لى ماء في المخضب» قالت ففعلنا فاغتسل فذهب لينوء فأغمي عليه ثم أفاق فقال ﷺ: «أصلى الناس؟» قلنا لا هم ينتظرونك يا رسول الله قال: «ضعوا لى ماء في المخضب» قالت فقعد فاغتسل ثم ذهب لينوء فأغمي عليه ثم أفاق فقال: «أصلى الناس؟» قلنا لا هم ينتظرونك يا رسول الله فقال: «ضعوا لى ماء في المخضب» فقعد فاغتسل ثم ذهب لينوء فأغمي عليه ثم أفاق فقال: «أصلى الناس» . قلنا لا هم ينتظرونك يا رسول الله والناس عكوف في المسجد ينتظرون النبي ﷺ لصلاة العشاء الآخرة. فأرسل النبي ﷺ إلى أبى بكر بأن يصلي بالناس فأتاه الرسول فقال إن رسول الله ﷺ يأمرك أن تصلي بالناس فقال أبو بكر وكان رجلا رقيقا يا عمر صل بالناس فقال له عمر أنت أحق بذلك فصلى أبو بكر تلك الأيام ثم إن النبي ﷺ وجد من نفسه خفة وخرج بين رجلين أحدهما العباس لصلاة الظهر وأبو بكر يصلى بالناس فلما رآه أبو بكر ذهب ليتأخر فأومأ إليه النبي ﷺ بأن لا يتأخر قال: «أجلسانى إلى جنبه» فأجلساه إلى جنب أبي بكر والنبي ﷺ قاعد. قال عبيد الله: فدخلت على عبد الله بن عباس فقلت له ألا أعرض عليك ما حدثتني به عائشة عن مرض رسول الله ﷺ؟ قال هات فعرضت عليه حديثها فما أنكر منه شيئا غير أنه قال أسمت لك الرجل الذى كان مع العباس قلت لا قال هو علي رضي الله عنه. (متفق عليه)

তিনি বলেন, একদিন আমি আয়িশাহ (রাঃ)-এর দরবারে হাযির হয়ে বললাম। আপনি কি আমাকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অসুস্থ অবস্থার (সলাত আদায় করার ব্যাপারে) কিছু বলবেন না? জবাবে তিনি বললেন, হ্যা! (বলব শুনো)। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুবই অসুস্থ হয়ে পড়লেন সলাতের সময়ের কথা জিজ্ঞেস করলেন, লোকেরা কি সলাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না, হে আল্লাহর রসূল! তারা আপনার অপেক্ষা করছে (এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)) বললেন। আমার জন্যে পাত্র ভরে পানি আনো। আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আমরা তার জন্যে পাত্র ভরে পানি আনলাম। সে পানি দিয়ে গোসল করলেন। চাইলেন দাঁড়াতে। (কিন্তু দুর্বলতার কারণে) তিনি বেহুশ হয়ে পড়লেন। হুশ ফিরে আসলে তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন। লোকেরা কি সলাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম না। এখনো পড়েনি। লোকেরা আপনার অপেক্ষায় আছে হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন, আমার জন্যে পাত্র ভরে পানি নিয়ে আসো। আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঠে বসলেন। আবার গোসল করলেন। চেয়েছিলেন দাঁড়াতে। কিন্তু (এ সময়) বেহুশ হয়ে পড়লেন, যখন হুশ হয়েছে আবার জিজ্ঞেস করেছেন, লোকেরা কি সলাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, এখনো পড়েনি। লোকেরা আপনার জন্যে অপেক্ষা করছে হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন পাত্র ভরে পানি নিয়ে আসো। আমরা পানি নিয়ে আসলাম। তিনি বসলেন, গোসল করলেন। তারপর আবার যখন উঠতে চাইলেন বেহুশ হয়ে গেলেন। যখন হুশ ফিরে আসলো তখন বললেন, লোকেরা কি সলাত আদায় করে ফেলেছে? আমরা বললাম, না; তারা আপনার অপেক্ষায় আছে, হে আল্লাহর রসূল। লোকেরা মসজিদে বসে বসে ঈশার সলাত পড়ার জন্য আপনার জন্যে অপেক্ষা করছে। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাউকে দিয়ে (বিলাল) আবু বকরের নিকট খবর পাঠালেন লোকদের সলাত পড়িয়ে দেয়ার জন্যে। তাই দূত [বেলাল (রাঃ)] তাঁর এর নিকট এলেন। বললেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনাকে লোকদের সলাত আদায় করার জন্যে আদেশ করেছেন। আবু বাকর ছিলেন কোমলমতি মানুষ। তিনি এ কথা শুনে উমারকে বললেন। উমার! তুমিই লোকদের সলাত পড়িয়ে দাও। কিন্তু উমার (রাঃ) বললেন। আপনিই সলাত আদায় করান এর জন্যে আপনিই সবচেয়ে বেশী উপযুক্ত। এরপর আবু বকর রসূলের অসুখের এ সময়ে (সতের ওয়াক্ত) সলাত সহাবীদেরকে নিয়ে আদায় করালেন। একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটু সুস্থতাবোধ করলে দু'লোকের ওপর ভর করে (এঁদের একজন ইবনু আব্বাস ছিলেন) যুহরের সলাতে (মাসজিদে গমন করলেন। তখন আবু বাকর সলাত পড়াচ্ছিলেন। রসূলুল্লাহর আগমন টের পেয়ে আবু বকর পেছনে সরে আসতে চাইলেন। কিন্তু রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইশারা দিয়ে তাকে পেছনে সরে আসতে নিষেধ করলেন। যাদের ওপরে ভর করে তিনি মসজিদে এসেছিলেন তাদের বললেন। আমাকে আবু বাকরের পাশে বসিয়ে দাও। ফলে তারা তাঁকে আবু বাকরের পাশে বসিয়ে দিলেন। তিনি বসে বসে সলাত পড়তে লাগলেন। উবায়দুল্লাহ (এ হাদীসের বর্ণনাকারী) বলেন। আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে এ হাদীস শুনে আমি 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। তাকে আমি বললাম, আমি রসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অসুখের সময়ের যে হাদীসটি আয়িশার (রাঃ) নিকট শুনলাম তা-কি আপনার নিকট বর্ণনা করব না? ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, হ্যা, শুনাও। তাই আমি তার সামনে আয়িশার নিকট শুনা হাদীসটি বর্ণনা করলাম। ইবনু আব্বাস (রাঃ) এ হাদীসের কোন কথা অস্বীকার করলেন না। অবশ্য তিনি বললেন, আয়িশাহ্ (রাঃ) তোমাকে এ লোকের নাম বলেননি যিনি ইবনু আব্বাসের সঙ্গে ছিলেন। আমি বললাম, না, বলেননি। ইবনু আব্বাস বললেন। তিনি ছিলেন আলী (রাঃ)। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৪৮

وعن أبي هريرة أنه كان يقول: من أدرك الركعة فقد أدرك السجدة ومن فاتته قراءة أم القران فقد فاته خير كثير . رواه مالك

তিনি বলেন, যে লোক (সলাতে) রুকু পেয়েছে সে গোটা রাকা’আতই পেয়েছে। আর যে লোকের সূরায়ে আল ফাতিহাহ পড়া ছুটে গিয়েছে, অনেক সাওয়াব তার থেকে ছুটে গিয়েছে। (মালিক)” [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১১৪৯

وعنه قال: الذى يرفع رأسه ويخفضه قبل الإمام فإنما ناصيته بيد الشيطان. رواه مالك

তিনি বলেন, যে লোক (রুকু ও সাজদায়) ইমামের পূর্বে নিজের মাথা উঠিয়ে ফেলে অথবা ঝুঁকিয়ে ফেলে তবে মনে করতে হবে তার কপাল শায়ত্বনের হাতে। (মালিক) [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية