মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৫১৬
عن أبى هريرة قال: سمعت رسول الله ﷺ يقول: «الريح من روح الله تأتى بالرحمة وبالعذاب فلا تسبوها وسلوا الله من خيرها وعوذوا به من شرها» . رواه الشافعي وأبو داود وابن ماجه والبيهقي في الدعوات الكبير
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: বৃষ্টি না হওয়া প্রকৃত দুর্ভিক্ষ নয়। বরং প্রকৃত দুর্ভিক্ষ হলো, তোমরা বৃষ্টির পর বৃষ্টি লাভ করতে থাকবে অথচ মাটি ফসল উৎপাদন করবে না। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৫১৭
وعن ابن عباس أن رجلا لعن الريح عند النبي ﷺ فقال: «لا تلعنوا الريح فإنها مأمورة وأنه من لعن شيئا ليس له بأهل رجعت اللعنة عليه» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে বাতাসকে অভিসম্পাত করল। (এ কথা শুনে) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, বাতাসকে অভিসম্পাত করো না। কারণ তারা আজ্ঞাবহ। আর যে ব্যক্তি এমন কোন জিনিসকে অভিশাপ দেয় যে জিনিস অভিশাপ পাবার যোগ্য নয়। এ অভিশাপ তার নিজের ওপর ফিরে আসে। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, হাদীসটি গারীব) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৫১৮
وعن أبي بن كعب قال: قال رسول الله ﷺ: «لا تسبوا الريح فإذا رأيتم ما تكرهون فقولوا: اللهم إنا نسألك من خير هذه الريح وخير ما فيها وخير ما أمرت به ونعوذ بك من شر هذه الريح وشر ما فيها وشر ما أمرت به». رواه الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা বাতাসকে গালি-গালাজ করো না। বরং তোমরা যখন (এতে) মন্দ কিছু দেখবে বলবে, হে আল্লাহ! আমরা তোমার কাছে এ বাতাসের কল্যাণ দিক কামনা করছি। এতে যে কল্যাণ নিহিত রয়েছে তা এবং যে জন্য তাকে হুকুম দেয়া হয়েছে তার ভাল দিক চাই। আমরা তোমার কাছে পানাহ চাই, এ বাতাসের খারাপ দিক হতে। যত খারাপ এতে নিহিত রয়েছে তা হতেও। এ বাতাস যে জন্য নির্দেশিত হয়েছে তার মন্দ দিক হতেও। (তিরমিযী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৫১৯
وعن ابن عباس قال: ما هبت ريح قط إلا جثا النبي ﷺ على ركبتيه وقال: «اللهم اجعلها رحمة ولا تجعلها عذابا اللهم اجعلها رياحا ولا تجعلها ريحا» . قال ابن عباس في كتاب الله تعالى: ﴿إنا أرسلنا عليهم ريحا صرصرا﴾ [القمر 54 : 19]، و ﴿أرسلنا عليهم الريح العقيم﴾ [الذاريات 51 : 41] ﴿وأرسلنا الرياح لواقح﴾ [الحجر 15 : 22] و ﴿أن يرسل الرياح مبشرات﴾ [الروم 30 : 46]. رواه الشافعي والبيهقي في «الدعوات الكبير
তিনি বলেন, বাতাস প্রবাহিত হওয়া শুরু করলে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাঁটু ঠেক দিয়ে বসতেন আর বলতেন, “হে আল্লাহ! এ বাতাসকে তুমি রহমাতে রূপান্তরিত করো। আযাবে পরিণত করো না। হে আল্লাহ! একে তুমি বাতাসে পরিণত করো। ঝড়-তুফানে পরিণত করো না। “ইবনু ‘আব্বাস বলেন, আল্লাহর কিতাবে রয়েছেঃ আমি তাদের উপর পাঠিয়েছিলাম প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি”-(সূরাহ্ আল ক্বামার ৫৪ : ১৯)। “আমি তাদের কাছে পাঠিয়েছিলাম অকল্যাণকর বাতাস”-(সূরাহ্ আয্ যা-রিয়া-ত ৫১ : ৪১)। “আমি বৃষ্টি-সঞ্চারী বাতাস প্রেরণ করি’-(সূরাহ্ আল হিজর ১৫ : ২২)। “তিনি বায়ু প্রেরণ করেন সুসংবাদ দানের জন্য”-(সূরাহ্ আর্ রূম ৩০ : ৪৬)। (শাফি’ঈ, বায়হাক্বীর দা’ওয়াতুল কাবীর) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৫২০
وعن عائشة رضي الله عنها قالت: كان النبي ﷺ إذا أبصرنا شيئا من السماء تعني السحاب ترك عمله واستقبله وقال: «اللهم إني أعوذ بك من شر ما فيه» فإن كشفه حمد الله وإن مطرت قال: «اللهم سقيا نافعا» . رواه أبو داود والنسائي وابن ماجه والشافعي واللفظ له
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আকাশে মেঘ দেখলে কাজ-কর্ম ছেড়ে দিয়ে তার দিকেই নিবিষ্টচিত্ত হয়ে যেতেন। তিনি বলতেন, ”আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ’উযুবিকা মিন শাররি মা-ফীহি”-(অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই। এতে যে মন্দ রয়েছে তা হতে)। এতে যদি আল্লাহ মেঘ পরিষ্কার করে দিতেন। তিনি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করতেন। আর যদি বৃষ্টি বর্ষণ শুরু হত বলতেন, “আল্ল-হুম্মা সাক্বয়ান না-ফি’আনা”-(অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি কল্যাণকর পানি দান করো)। (আবূ দাউদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ, শাফি’ঈ; শব্দাবলি তাঁর) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৫২১
وعن ابن عمر أن النبي ﷺ: كان إذا سمع صوت الرعد والصواعق قال: «اللهم لا تقتلنا بغضبك ولا تهلكنا بعذابك وعافنا قبل ذلك» . رواه أحمد والترمذي وقال: هذا حديث غريب
তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মেঘের গর্জন, বজ্রপাতের শব্দ শুনলে বলতেন, “আল্ল-হুম্মা লা-তাক্বতুলনা-বিগাযাবিকা ওয়ালা- তুহলিকনা-বি’আযা-বিকা ওয়া ‘আ-ফিনা-ক্ববলা যা-লিকা” (অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে তোমার গজব দ্বারা মৃত্যু দিও না এবং তোমার ‘আযাব দ্বারা ধ্বংস করো না। বরং এ অবস্থার আগেই তুমি আমাদের নিরাপত্তার বিধান করো)। (আহমাদ, তিরমিযী, তিনি [ইমাম তিরমিযী] বলেন, হাদীসটি গারীব) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৫২২
عن عامر بن عبد الله بن الزبير أنه كان إذا سمع الرعد ترك الحديث وقال: سبحان الذى يسبح الرعد بحمده والملائكة من خيفته. رواه مالك (لم تتم دراسته)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মেঘের গর্জন শুনতেন কথাবার্তা বন্ধ করে দিতেন। তিনি বলতেন, আমি পবিত্রতা বর্ণনা করছি সে সত্তার যার পবিত্রতা বর্ণনা করে “মেঘের গর্জন, তার প্রশংসাসহ ফেরেশতাগণও তার ভয়ে তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা ও প্রশংসা করেন”। (ইমাম মালিক) [১]