মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৭৯
عن عبد الله بن عمرو قال: قال رسول الله ﷺ: «أمرت بيوم الأضحى عيدا جعله الله لهذه الأمة» . قال له رجل: يا رسول الله أرأيت إن لم أجد إلا منيحة أنثى أفأضحي بها؟ قال: «لا ولكن خذ من شعرك وأظفارك وتقص من شاربك وتحلق عانتك فذلك تمام أضحيتك عند الله» . رواه أبو داود والنسائي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আল্লাহ তা'আলা কুরবানীর দিনকে এ উম্মাতের জন্য 'ঈদ' হিসাবে পরিগণিত করেছেন। এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল! আমি যদি মাদী 'মানীহাহ্' ছাড়া অন্য কোন পশু না পাই। তবে কি তা দিয়েই কুরবানী করব? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : না; তবে তুমি এ দিন তোমার চুল ও নখ কাটবে। তোমার গোঁফ কাটবে। নাভির নিচের পশম কাটবে। এটাই আল্লাহর নিকট তোমার পরিপূর্ণ কুরবানী। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৮০
عن عائشة رضي الله عنها قالت: إن الشمس خسفت على عهد رسول الله ﷺ فبعث مناديا: الصلاة جامعة فتقدم فصلى أربع ركعات في ركعتين وأربع سجدات. قالت عائشة: ما ركعت ركوعا قط ولا سجدت سجودا قط كان أطول منه. (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সময়ে একবার সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। তখন তিনি একজন আহ্বানকারীকে, সলাত প্রস্তুত মর্মে ঘোষণা দেয়ার জন্য পাঠালেন। (লোকজন একত্র হলে) তিনি সামনে অগ্রসর হয়ে দু' দু' রাক্'আত সলাত আদায় করালেন। এতে চারটি রুকূ' ও চারটি সাজদাহ্ করলেন। 'আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, এ দিন যত দীর্ঘ রুকূ সাজদাহ্ আমি করেছি এত দীর্ঘ রুকূ সাজদাহ্ আর কোন দিন করিনি। (বুখারি, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৮১
وعن عائشة رضي الله عنها قالت: جهر النبي ﷺ في صلاة الخسوف بقراءته. (متفق عليه)
তিনই বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতে খুসূফে তাঁর ক্বিরাআত স্বরবে পরলেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৮২
عن عبد الله بن عباس قال: انخسفت الشمس على عهد رسول الله ﷺ فصلى رسول الله ﷺ فقام قياما طويلا نحوا من قراءة سورة البقرة ثم ركع ركوعا طويلا ثم رفع فقام قياما طويلا وهو دون القيام الأول ثم ركع ركوعا طويلا وهو دون الركوع الأول ثم رفع ثم سجد ثم قام قياما طويلا وهو دون القيام الأول ثم ركع ركوعا طويلا وهو دون الركوع الأول ثم رفع فقام قياما طويلا وهو دون القيام الأول ثم ركع ركوعا طويلا وهو دون الركوع الأول ثم رفع ثم سجد ثم انصرف وقد تجلت الشمس فقال ﷺ: «إن الشمس والقمر ايتان من ايات الله لا يخسفان لموت أحد ولا لحياته فإذا رأيتم ذلك فاذكروا الله» . قالوا: يا رسول الله رأيناك تناولت شيئا في مقامك ثم رأيناك تكعكعت؟ قال ﷺ: «إنى أريت الجنة فتناولت عنقودا ولو أخذته لأكلتم منه ما بقيت الدنيا وأريت النار فلم أر منظرا كاليوم قط أفظع ورأيت أكثر أهلها النساء» . قالوا: بم يا رسول الله؟ قال: «بكفرهن» . قيل: يكفرن بالله؟ . قال: «يكفرن العشير ويكفرن الإحسان لو أحسنت إلى إحداهن الدهر كله ثم رأت منك شيئا قالت: ما رأيت منك خيرا قط». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কালে একবার সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনগণকে সাথে নিয়ে সলাত আদায় করলেন। সলাতে তিনি সূরাহ আল বাক্বারাহ্ পড়ার মতো দীর্ঘ সময় পর্যন্ত দাঁড়ালেন। তারপর দীর্ঘ রুকু' করলেন। তারপর মাথা উঠিয়ে দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে থাকলেন। তবে এ দাঁড়ানো ছিল প্রথম দাঁড়ানো অপেক্ষা স্বল্প সময়ের। এরপর আবার লম্বা রুকু' করলেন। তবে তা প্রথম রুকূ অপেক্ষা ছোট ছিল। তারপর রুকূ' হতে মাথা উঠালেন ও দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন। তবে তা আগের দাঁড়ানোর চেয়ে কম। তারপর আবার দীর্ঘ রুকূ' করলেন। তবে এ রুকূ'ও আগের রুকূ' অপেক্ষা ছোট। তারপর মাথা উঠালেন ও সাজদাহ্ করলেন। এরপর সলাত শেষ করলেন। আর এ সময় সূর্য পূর্ন্ জ্যোতিময় হয়ে উঠে গেল। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেলেন, সূর্য ও চাঁদ আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু'টো নিদর্শন। তারা কারও জন্ম-মৃত্যুতে গ্রহনযুক্ত হয় না। তোমরা এরূপ 'গ্রহণ' দেখলে আল্লাহ তা'আলার যিক্র করবে। সাহাবীগণ নিবেদন করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনাকে আমরা দেখলাম। আপনি যেন এ স্থানে কিছু গ্রহণ করেছেন। তারপর দেখলাম পেছনের দিকে সরে গেলেন। রসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেলেন, তখন আমি জান্নাত দেখতে পেলাম। জান্নাত হতে এক গুচ্ছ আঙ্গুর নিতে আগ্রহী হলাম। যদি আমি তা গ্রহণ করতাম তাহলে তোমরা দুনিয়ায় বাকি থাকা পর্যন্ত সে আঙ্গুর খেতে পারতে। আর আমি তখন জাহান্নাম দেখতে পেলাম। জাহান্নামের মতো বীভৎস কুৎসিত দৃশ্য আর কখনো আমি দেখিনি। আমি আরো দেখলাম যে, জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসীই নারী। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! কি কারণে তা হলো। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তাদের কুফরির কারণে। আবার তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, তারা কি আল্লাহর সাথে কুফরি করে থাকে? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, না; বরং স্বামীর সাথে কুফ্রী করে থাকে। তারা (স্বামীর) সদ্ব্যবহার ভুলে যায়। সারা জীবন যদি তুমি তাদের কারও সাথে ইহসান করো। এরপর (কোন সময়) যদি সে তোমার পক্ষ হতে সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখে বলে উঠে। আমি জীবনেও তোমার কাছে ভাল ব্যবহার পেলাম না। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৮৩
وعن عائشة نحو حديث ابن عباس وقالت: ثم سجد فأطال السجود ثم انصرف وقد انجلت الشمس فخطب الناس فحمد الله وأثنى عليه ثم قال: «إن الشمس والقمر ايتان من ايات الله لا يخسفان لموت أحد ولا لحياته فإذا رأيتم ذلك فادعوا الله وكبروا وصلوا وتصدقوا» ثم قال: «يا أمة محمد والله ما من أحد أغير من الله أن يزني عبده أو تزني أمته يا أمة محمد والله لو تعلمون ما أعلم لضحكتم قليلا ولبكيتم كثيرا». (متفق عليه)
বরাতে বর্ণিত হওয়া এ ধরনের একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। বস্তুতঃ 'আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, তারপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাজদায় গেলেন। তিনি দীর্ঘ সাজদাহ্ করলেন। তারপর সলাত শেষ করলেন। তখন সূর্য বেশ আলোকিত হয়ে গেছে। তারপর তিনি জনগণের উদ্দেশ্য বক্তব্য প্রদান করলেন। তিনি সর্বপ্রথম আল্লাহর গুণকীর্তন করলেন। তারপর বললেন, সূর্য ও চাঁদ আল্লাহর নিদর্শনাবলীর দু'টো নিদর্শন। কারও মৃত্যুতে সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। আর কারও জন্মের কারণেও হয় না। তোমরা এ অবস্থা দেখতে পেলে আল্লাহর নিকট দু'আ করো এবং তাঁর বড়ত্ব ঘোষণা কর। সলাত আদায় কর। দান-সদাক্বাহ্ ও খয়রাত করো। এরপর তিনি বললেন, হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উম্মতেরা! আল্লাহর শপথ! আল্লাহ তা'আলার চেয়ে বেশী ঘৃণাকারী আর কেউ নেই। তাঁর যে বান্দা 'জিনা' তথা ব্যভিচার করবে অথবা তাঁর যে বান্দী 'জিনা' তথা ব্যভিচার করবে তিনি তাদের ঘৃণা করেন। হে মুহাম্মাদের উম্মতগণ! আল্লাহর কসম! আমি যা জানি যদি তোমরা তা জানতে, নিশ্চয় তোমরা কম হাসতে ও বেশি কাঁদতে। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৮৪
وعن أبي موسى قال: خسفت الشمس فقام النبي ﷺ فزعا يخشى أن تكون الساعة فأتى المسجد فصلى بأطول قيام وركوع وسجود ما رأيته قط يفعله وقال: «هذه الايات التى يرسل الله لا تكون لموت أحد ولا لحياته ولكن يخوف الله بها عباده فإذا رأيتم شيئا من ذلك فافزعوا إلى ذكره ودعائه واستغفاره». (متفق عليه)
তিনি বলেন, একবার সূর্যগ্রহণ হলো। এতে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে গেলেন। তাঁর উপর 'ক্বিয়ামাত' সংঘটিত হয়ে যাবার মতো ভয়-ভীতি আরোপিত হলো। অতঃপর তিনি মাসজিদে গমন করলেন। দীর্ঘ 'কিয়াম' 'রুকূ' ও সাজদাহ্' দিয়ে সলাত আদায় করলেন। সাধারনতঃ (এত দীর্ঘ সলাত আদায় করতে) আমি কখনো তাঁকে দেখিনি। অতঃপর তিনি বললেন, এসব নিদর্শনাবলী যা আল্লাহ তা'আলা পাঠিয়ে থাকেন তা না কারো মৃত্যুতে সংঘটিত হয়ে থাকে, আর না কারো জন্মে হয়ে থাকে। বরং এসব দিয়ে আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে থাকেন। অতএব তোমরা যখন এ নিদর্শনাবলীর কোন একটি অবলোকন করবে, আল্লাহকে ভয় করবে। তাঁর যিক্র করবে। তাঁর নিকট দু'আ ও ক্ষমা প্রার্থনা করবে। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৮৫
وعن جابر قال: انكسفت الشمس فى عهد رسول الله ﷺ يوم مات إبراهيم ابن رسول الله ﷺ فصلى بالناس ست ركعات بأربع سجدات. رواه مسلم
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় যেদিন তাঁর ছেলে ইব্রাহীমের ইন্তিকাল হলো। এদিন সূর্যগ্রহণ হলো। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনগণকে নিয়ে 'ছয় রুকূ' ও চার সাজদায় সলাত আদায় করালেন। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৮৬
وعن ابن عباس قال: رسول الله ﷺ حين كسفت الشمس ثمان ركعات في أربع سجدات
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূর্যগ্রহণের সময় (দু' রাক'আত) সলাত আট রুকূ' ও চার সাজদায় আদায় করেছেন। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৮৭
وعن علي مثل ذلك. رواه مسلم
আলী (রাঃ) হতেও ঠিক এরূপ একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৮৮
وعن عبد الرحمن بن سمرة قال: كنت أرمى بأسهم لى بالمدين في حياة رسول الله ﷺ إذ كسفت الشمس فنبذتها. فقلت: والله لأنظرن إلى ما حدث لرسول الله ﷺ في كسوف الشمس. قال: فأتيته وهو قائم في الصلاة رافع يديه فجعل يسبح ويهلل ويكبر ويحمد ويدعو حتى حسر عنها فلما حسر عنها قرأ سورتين وصلى ركعتين. رواه مسلم في صحيحه عن عبد الرحمن بن سمرة وكذا في شرح السنة عنه وفي نسخ المصابيح عن جابر بن سمرة.
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জীবদ্দশায় মাদীনায় আমি আমার তীরগুলো (লক্ষস্থলে) নিক্ষেপের মাধ্যমে প্রশিক্ষন গ্রহণ করছিলাম। এ সময় সূর্যগ্রহণ শুরু হলো। তীরগুলো আমি ছুঁড়ে ফেলে দিলাম। মনে মনে বললাম, আল্লাহর কসম! আমি আজ দেখব সূর্যগ্রহণের সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আজ কি করেন। এরপর আমি তাঁর নিকট এলাম। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি তাঁর হাত দু’টি উঠিয়ে সূর্যগ্রহণ ছেড়ে না যাওয়া পর্যন্ত আল্লাহর তাসবীহ, তাহলীল, তাকবীর ও হামদ করেছেন। আল্লাহর দরবারে দু’আয় মশগুল রয়েছেন। সূর্যগ্রহণ ছেড়ে গেলে তিনি দু’টি সূরাহ পড়লেন ও দু’ রাক’আত সলাত আদায় করলেন- (মুসলিম; শারহে সুন্নাতেও হাদীসটি এভাবে ‘আবদুর রহমান ইবনু সামুরাহ হতে বর্ণিত হয়েছে। আর মাসাবীহ হতেও এ বর্ণনাটি জাবির ইবনু সামুরাহ হতে নকল করে হয়েছে।) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৮৯
وعن أسماء بنت أبي بكر رضي الله عنهما قالت: لقد أمر النبي ﷺ بالعتاقة في كسوف الشمس. رواه البخاري
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূর্যগ্রহণ শুরু হলে দাস মুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। (বুখারী) [১]