মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৭২
عن جندب بن عبد الله قال: شهدت الأضحى يوم النحر مع رسول الله ﷺ فلم يعد أن صلى وفرغ من صلاته وسلم فإذا هو يرى لحم أضاحي قد ذبحت قبل أن يفرغ من صلاته فقال: «من كان ذبح قبل أن يصلي أو نصلي فليذبح مكانها أخرى» . وفي رواية: قال صلى النبي ﷺ يوم النحر ثم خطب ثم ذبح وقال: «من كان ذبح قبل أن يصلي فليذبح أخرى مكانها ومن لم يذبح فليذبح باسم الله». (متفق عليه)
তিনি বলেন, এক কুরবানীর ঈদে আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে উপস্থিত ছিলাম। (আমি দেখলাম) তিনি সলাত আদায় করলেন এবং সালাম ফিরায়ে সলাত হতে অবসর হওয়া ছাড়া আর কিছু করলেন না। এ সময় তিনি কিছু কুরবানীর গোশত দেখলেন, যা সলাত আদায়ের পূর্বেই যাবাহ করা হয়েছিল। তিনি তখন বললেন, যে সলাত আদায়ের আগে অথবা আমার সলাত আদায়ের আগে বর্ণনাকারীর সন্দেহ কুরবানীর পশু যাবাহ করছে সে যেন অন্য একটি কুরবানী করে নেয়। আর এক বর্ণনায় আছে, জুনদুব বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরবানীর দিন সলাত আদায় করলেন। তারপর ভাষণ প্রদান করলেন। এরপর কুরবানীর পশু যাবাহ করলেন এবং বললেন, যে ব্যক্তি সলাত আদায়ের আগে কুরবানীর পশু যাবাহ করেছে সে যেন আর একটি পশু যাবাহ করে। আর যে যাবাহ করেনি সে যেন আল্লাহর নামে যাবাহ করে। (বুখারী,মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৭৩
وعن نافع أن ابن عمر قال: الأضحى يومان بعد يوم الأضحى. رواه مالك
তিনি বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার (রাঃ) বলেন, কুরবানীর দিনের পরেও অর্থাৎ দশই যিলহাজ্জের পরেও দু'দিন কুরবানীর দিন অবশিষ্ট থাকে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৭৪
وقال: وبلغنى عن علي بن أبى طالب مثله
তিনি (ইমাম মালিক) আরো, 'আলী ইবনু আবী ত্বালিব (রাঃ) হতেও এরূপ একটি উক্তি প্রমাণিত। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৭৫
وعن ابن عمر قال: أقام رسول الله ﷺ بالمدينة عشر سنين يضحى. رواه الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাদীনায় দশ বছর বসবাস করেছেন। (আর এ দশ বছরই) তিনি একাধারে প্রতি বছর কুরবানী করেছেন। (তিরমিযী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৭৬
وعن زيد بن أرقم قال: قال أصحاب رسول الله ﷺ: يا رسول الله ما هذه الأضاحي؟ قال: «سنة أبيكم إبراهيم عليه السلام» قالوا: فما لنا فيها يا رسول الله؟ قال: «بكل شعرة حسنة» . قالوا: فالصوف يا رسول الله؟ قال: «بكل شعرة من الصوف حسنة» رواه أحمد وابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহাবীগণ তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ কুরবানীটা কি? তিনি বললেন, তোমাদের পিতা ইবরাহীম (আঃ)-এর সুন্নাত। তাঁরা আবার জিজ্ঞেস করলেন : এতে কি আমাদের জন্য সাওয়াব আছে, হে আল্লাহর রসূল! তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : কুরবানীর পশুর প্রত্যেকটি পশমের পরিবর্তে একটি করে প্রতিদান রয়েছে। সহাবীগণ আবার জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! পশমওয়ালা পশুদের ব্যাপারে কি হবে? (এদের পশম তো অনেক বেশী)? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : পশমওয়ালা পশুদের প্রতিটি পশমের পরিবর্তে একটি করে নেকী রয়েছে। (আহমাদ, ইবনু মাজাহ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৭৭
عن أبي هريرة عن النبي ﷺ قال: «لا فرع ولا عتيرة» . قال: والفرع: أول نتاج كان ينتج لهم كانوا يذبحونه لطواغيتهم. والعتيرة: في رجب. (متفق عليه)
তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন : এখন আর ফারা'ও নেই এবং 'আতীরাহ্-ও নেই। বর্ণনাকারী বলেন ফারা' হলো উট বা ছাগল বা ভেড়ার প্রথম বাচ্চা। এ বাচ্চা তারা তাদের দেব-দেবীর জন্য যাবাহ তথা উৎসর্গ করত। আর 'আতীরাহ্ হলো রজব মাসে যা করা হত। (বুখারি, মুসলিম) [১]