মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৫৩
عن أنس قال: ضحى رسول الله ﷺ بكبشين أملحين أقرنين ذبحهما بيده وسمى وكبر قال: رأيته واضعا قدمه على صفاحهما ويقول: «بسم الله والله أكبر». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন এক কুরবানীর ঈদে ধূসর রং ও শিংওয়ালা দু’টি দুম্বা কুরবানী করলেন। নিজ হাতে তিনি এ দুম্বা দু’টিকে বিস্মিল্লা-হ ও আল্ল-হু আকবার বলে যাবাহ করলেন। আমি তাকেঁ (যাবাহ করার সময়) দুম্বা দু’টির পাঁজরের উপর নিজের পা রেখে ‘বিস্মিল্লা-হি ওয়াল্ল-হু আকবার’ বলতে শুনেছি। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৫৪
وعن عائشة: أن رسول الله ﷺ أمر بكبش أقرن يطأ فى سواد ويبرك في سواد وينظر فى سواد فأتي به ليضحي به قال: «يا عائشة هلمي المدية» ثم قال: «اشحذيها بحجر» ففعلت ثم أخذها وأخذ الكبش فأضجعه ثم ذبحه ثم قال: «بسم الله اللهم تقبل من محمد وال محمد ومن أمة محمد» . ثم ضحى به. رواه مسلم
তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন একটি শিংওয়ালা দুম্বা আনতে বললেন যা কালোতে হাঁটে, কালোতে শোয়, কালোতে দেখে অর্থাৎ যে দুম্বার পা কালো, পেট কালো ও চোখ কালো। কুরবানী করার জন্য ঠিক এমনি একটি দুম্বা আনা হলো। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আয়িশাকে (রাঃ) বললেন, হে আয়িশাহ্! একটি ছুরি লও। এটিকে পাথরে ধাঁর করাও। আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, আমি তাই করলাম। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছুরিটি হাতে নিয়ে দুম্বাটিকে ধরলেন। অতঃপর এটাকে পাঁজরের উপর শোয়ালেন এবং যাবাহ করতে করতে বললেন, “আল্লাহ্র নামে শুরু করছি, হে আল্লাহ! তুমি এ কুরবানীকে মুহাম্মাদ, মুহাম্মাদের পরিবার এবং মুহাম্মাদের উম্মাতের পক্ষ হতে গ্রহণ করো।” এরপর তিনি এ কুরবানী দ্বারা লোকদের সকালের খাবার খাইয়ে দিলেন। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৫৫
وعن جابر قال: قال رسول الله ﷺ: «لا تذبحوا إلا مسنة إلا أن يعسر عليكم فتذبحوا جذعة من الضأن» . رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : তোমরা (কুরবানীতে) মুসিন্নাহ্ ছাড়া কোন পশু যাবাহ করবে না। হ্যাঁ ,যদি মুসিন্নাহ্ পাওয়া না যায় তবে দুম্বার জাযা’আহ্ যাবাহ করতে পার। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৫৬
وعن عقبة بن عامر: أن النبي ﷺ أعطاه غنما يقسمها على صحابته ضحايا فبقي عتود فذكره لرسول الله ﷺ فقال: «ضح به أنت» وفي رواية قلت: يا رسول الله ﷺ أصابني جذع قال: «ضح به». (متفق عليه)
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার তাঁর সাহাবীদের মধ্যে কুরবানী করার জন্য বন্টন করার সময় ‘উক্ববাকে কতগুলো ছাগল-ভেড়া দিলেন। বন্টনের পর একটি এক বছরের বাচ্চা ছাগল রয়ে গেল। তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তা জানালেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এটি তুমি কুরবানী করে দাও। অপর এক বর্ণনায় আছে, আমি বললাম হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমার ভাগে তো একটি মাত্র বাচ্চা ছাগল রইল। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি এটাই কুরবানী করে দাও। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৫৭
وعن ابن عمر قال: كان النبي ﷺ يذبح وينحر بالمصلى. رواه البخاري
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদগাহের ময়দানেই যাবাহ করতেন বা নহর করতেন। (বুখারী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৫৮
وعن جابر أن النبي ﷺ قال: «البقرة عن سبعة والجزور عن سبعة» . رواه مسلم وأبو داود واللفظ له
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : একটি উট সাতজনের পক্ষ হতে (ঠিক একইভাবে) একটি গরু সাতজনের পক্ষ থেকে (কুরবানী) করা বৈধ হবে। (মুসলিম, আবূ দাউদ; ভাষা আবু দাউদের) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৫৯
وعن أم سلمة قالت: قال رسول الله ﷺ: «إذا دخل العشر وأراد بعضكم أن يضحي فلا يمس من شعره وبشره شيئا» وفي رواية «فلا يأخذن شعرا ولا يقلمن ظفرا» وفي رواية «من رأى هلال ذي الحجة وأراد أن يضحي فلا يأخذ من شعره ولا من أظفاره» . رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : তোমাদের কেউ কুরবানী করার ইচ্ছা রাখলে, যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশক শুরু হয়ে গেলে সে যেন নিজের চুল ও চামড়ার কোন কিছু না ধরে অর্থাৎ না কাটে। অন্য এক বর্ণনায় আছে, সে যেন কেশ স্পর্শ না করে ও নখ না কাটে। অপর এক বর্ণনায় আছে, যে ব্যক্তি জিলহাজ্জ মনের নব চাঁদ দেখবে ও কুরবানী করার নিয়্যাত করবে সে যেন নিজের চুল ও নিজের নখগুলো কর্তন না করে। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৬০
وعن ابن عباس قال: قال رسول الله ﷺ: «ما من أيام العمل الصالح فيهن أحب إلى الله من هذه الأيام العشرة» قالوا: يا رسول الله ولا الجهاد في سبيل الله؟ قال: «ولا الجهاد في سبيل الله إلا رجل خرج بنفسه وماله فلم يرجع من ذلك بشيء» . رواه البخاري
তিনি বলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন : আল্লাহ তা‘আলার নিকট তাঁর দিনসমূহের মধ্যে এমন কোন দিন নেই, যে দিনের আমাল এ দশদিনের আমাল অপেক্ষা অধিক প্রিয়। সহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়। তবে যে ব্যক্তি নিজের জীবন ও সম্পদ নিয়ে বের হয়েছে। আর তা হতে কোন কিছু নিয়ে ফিরেনি। (বুখারী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৬১
عن جابر قال: ذبح النبي ﷺ يوم الذبح كبشين أقرنين أملحين موجئين فلما وجههما قال: «إنى وجهت وجهي للذى فطر السموت والأرض على ملة إبراهيم حنيفا وما أنا من المشركين إن صلاتى ونسكى ومحياي ومماتى لله رب العالمين لا شريك له وبذلك أمرت وأنا من المسلمين اللهم منك ولك عن محمد وأمته بسم الله والله أكبر ثم ذبح» . رواه أحمد وأبو داود وابن ماجه والدارمي وفي رواية لأحمد وأبي داود والترمذي: ذبح بيده وقال: «بسم الله والله أكبر اللهم هذا عني وعمن لم يضح من أمتى
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক কুরবানীর দিনে দু‘টি ছাই রঙের শিংওয়ালা খাশী দুম্বা কুরবানী করলেন। ওদের ক্বিবলামুখী করে বললেন “ইন্নী ওয়াজজাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাযী ফাত্বারাস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযা ‘আলা-মিল্লাতি ইবরা-হীমা হানীফাও্ ওয়ামা-আনা্- মিনাল মুশরিকীন, ইন্না সলা-তী ওয়া নুসুকী ওয়া মাহইয়া-ইয়া ওয়া মামা-তী লিল্লা-হি রব্বিল ‘আ-লামীন, লা-শারীকা লাহ্ ওয়াবিযা-লিকা আমারতু ওয়া আনা-মিনাল মুসলিমীন, আল্ল-হুম্মা মিনকা ওয়ালাকা ‘আন্ মুহাম্মাদিন ওয়া উম্মাতিহী, বিসমিল্লা-হি ওয়াল্ল-হু আকবার” বলে যাবাহ করতেন। (আহমাদ, আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ ও দারিমী। কিন্তু আহমাদ, আবু দাউদ ও তিরমিযী বণর্না করেছেন, নিজ হাতে যাবাহ করলেন এবং বললেন, বিসমিল্লা-হি ওয়াল্লা-হু আকবার, আল্ল-হুমা হা-যা-‘ আন্নী, ওয়া ‘আম্মান লাম ইউযাহহি মিন উম্মাতী” (অর্থাৎ হে আল্লাহ এ কুরবানী আমার পক্ষ থেকে কবূল করো। কবুল করো আমার উম্মাদগনণের মধ্য থেকে যারা কুরবানী করতে পারেনি তাদের পক্ষ হতে।) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৬২
وعن حنش قال: رأيت عليا يضحي بكبشين فقلت له: ما هذا؟ فقال: (إن رسول الله ﷺ أوصانى أن أضحي عنه فأنا أضحي عنه. رواه أبو داود وروى الترمذي نحوه
তিনি বলেন, আমি ‘আলী (রাঃ) কে দু‘টি দুম্বা কুরবানী করতে দেখে জিজ্ঞেস করলাম। এটাই কি (অর্থাৎ দু‘টি কেন)? ‘আলী (রাঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে তাঁর পক্ষ হতে কুরবানী করার জন্য ওয়াসীয়াত করে গেছেন। তাই আমি তাঁর পক্ষ হতে একটি দুম্বা কুরবানী করছি। (আবু দাউদ, তিরমিযী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৬৩
وعن علي قال: أمرنا رسول الله ﷺ أن نستشرف العين والأذن وألا نضحي بمقابلة ولا مدابرة ولا شرقاء ولا خرقاء. رواه الترمذي وأبو داود والنسائي والدارمي وانتهت روايته إلى قوله: والأذن
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরবানীর (জানোয়ারের) চোখ, নাক ভালভাবে দেখে নেয়ার জন্য আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। যে পশুর কানের সম্মুখ ভাগ শেষের ভাগ কাটা গেছে। অথবা যে পশুর কান গোলাকারবাভে ছিদ্রিত হয়ে গেছে বা যার কান পাশের দিকে থেকে কেটে গিয়াছে সেসব পশু যেন কুরবানী না করি। (তিরমিযী, আবূ দাউদ, নাসায়ী; তবে দারিমী (আরবী) “কান” পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৬৪
وعن علي قال: نهى رسول الله ﷺ أن نضحي بأعضب القرن والأذن. رواه ابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিং ভাঙ্গা, কান কাটা, পশু দিয়ে কুরবানী করতে বারণ করেছেন। (ইবনু মাজাহ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৬৫
وعن البراء بن عازب أن رسول الله ﷺ سئل: ماذا يتقى من الضحايا؟ فأشار بيده فقال: «أربعا العرجاء البين ظلعها والعوراء البين عورها والمريضة البين مرضها والعجفاء التى لا تنقى» . رواه مالك وأحمد والترمذي وأبو داود والنسائي وابن ماجه والدارمي
তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন্ ধরনের জানোয়ার কুরবানী করা হতে বেঁচে থাকা উচিত? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজ হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে বললেন, চার ধরনের পশু (কুরবানী করা হতে) বেঁছে থাকা উচিত। (১) যে পশু স্পষ্ট খোঁড়া। (২) যে পশু স্পষ্ট কানা। (৩) যে পশু সুস্পষ্ট রোগা ও দুর্বল। (৪) যে পশুর হাড়ের মজ্জা নেই তথা একেবারেই শুকিয়ে গেছে। (মালিক, আহমাদ, তিরমিযী, আবূ দাউদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ, দারিমী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৬৬
وعن أبى سعيد قال: كان رسول الله ﷺ يضحي بكبش أقرن فحيل ينظر في سواد ويأكل في سواد ويمشي في سواد. رواه الترمذي وأبو داود والنسائي وابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিংওয়ালা শক্তিশালী দুম্বা কুরবানী করতেন। যে দুম্বা অন্ধকারে দেখত। অন্ধকারে ভক্ষণ করত এবং অন্ধকারে চলত। অর্থাৎ যে দুম্বার চোখ কালো, চোখ মুখ কালো ও পা কালো। (তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসায়ী,ইবনু মাজাহ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৬৭
وعن مجاشع من بنى سليم أن رسول الله ﷺ كان يقول: «إن الجذع يوفي مما يوفي منه الثني» . رواه أبو داود والنسائي وابن ماجه
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন : ছয় মাস পূর্ণ ভেড়া এক বছর বয়সের ছাগলের কাজ পূরণ করে। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৬৮
وعن أبى هريرة قال: سمعت رسول الله ﷺ يقول: «نعمت الأضحية الجذع من الضأن» . رواه الترمذي
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি। ছয়মাস বয়স অতিবাহিত ভেড়া বেশ উত্তম কুরবানী। (তিরমিযী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৬৯
وعن ابن عباس قال: كنا مع رسول الله ﷺ في سفر فحضر الأضحى فاشتركنا في البقرة سبعة وفي البعير عشرة. رواه الترمذي والنسائي وابن ماجه وقال الترمذي: هذا حديث حسن غريب
তিনি বলেন, আমরা এক সফরে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন কুরবানীর সময় উপস্থিত হলো। আমরা তখন এক গরুতে সাতজন ও এক উটে দশজন করে (কুরবানীতে) অংশীদার হলাম। (তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান, গারীব।) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৭০
وعن عائشة قالت: قال رسول الله ﷺ: «ما عمل ابن ادم من عمل يوم النحر أحب إلى الله من إهراق الدم وإنه ليؤتى يوم القيامة بقرونها وأشعارها وأظلافها وإن الدم ليقع من الله بمكان قبل أن يقع بالأرض فطيبوا بها نفسا» . رواه الترمذي وابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : কুরবানীর দিনে আদাম সস্তানগণ এমন কোন কাজ করতে পারে না যা আল্লাহর নিকট রক্ত প্রবাহিত করার (অর্থাৎ কুরবানী করা) চেয়ে বেশী প্রিয় হতে পারে। কুরবানীর সকল পশুর শিং, পশম, এদের ক্ষুরসহ ক্বিয়ামাতের দিন (কুরবানীকারীর নেকীর পাল্লায়) এসে হাজির হবে। কুরবানীর পশুর রক্ত মাটি স্পর্শ করার পূর্বেই আল্লাহর নিকট মর্যাদাকর স্থানে পৌঁছে যায়। তাই তোমরা সানন্দে কুরবানী করবে। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৭১
وعن أبي هريرة قال: قال رسول الله ﷺ: «ما من أيام أحب إلى الله أن يتعبد له فيها من عشر ذي الحجة يعدل صيام كل يوم منها بصيام سنة وقيام كل ليلة منها بقيام ليلة القدر» . رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي إسناده ضعيف
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : জিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশদিন অপেক্ষা আর কোন উত্তম দিন নেই। যে দিন আল্লাহর 'ইবাদাত করার জন্য প্রিয়তর হতে পারে। এ দশদিনের প্রতি দিনের সিয়াম এক বছরের সিয়ামের সমমর্যাদার। এর প্রত্যেক রাতের সলাত ক্বদরের রাতের সলাত সমতুল্য। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটির সানাদ দুর্বল।) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৭২
عن جندب بن عبد الله قال: شهدت الأضحى يوم النحر مع رسول الله ﷺ فلم يعد أن صلى وفرغ من صلاته وسلم فإذا هو يرى لحم أضاحي قد ذبحت قبل أن يفرغ من صلاته فقال: «من كان ذبح قبل أن يصلي أو نصلي فليذبح مكانها أخرى» . وفي رواية: قال صلى النبي ﷺ يوم النحر ثم خطب ثم ذبح وقال: «من كان ذبح قبل أن يصلي فليذبح أخرى مكانها ومن لم يذبح فليذبح باسم الله». (متفق عليه)
তিনি বলেন, এক কুরবানীর ঈদে আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে উপস্থিত ছিলাম। (আমি দেখলাম) তিনি সলাত আদায় করলেন এবং সালাম ফিরায়ে সলাত হতে অবসর হওয়া ছাড়া আর কিছু করলেন না। এ সময় তিনি কিছু কুরবানীর গোশত দেখলেন, যা সলাত আদায়ের পূর্বেই যাবাহ করা হয়েছিল। তিনি তখন বললেন, যে সলাত আদায়ের আগে অথবা আমার সলাত আদায়ের আগে বর্ণনাকারীর সন্দেহ কুরবানীর পশু যাবাহ করছে সে যেন অন্য একটি কুরবানী করে নেয়। আর এক বর্ণনায় আছে, জুনদুব বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরবানীর দিন সলাত আদায় করলেন। তারপর ভাষণ প্রদান করলেন। এরপর কুরবানীর পশু যাবাহ করলেন এবং বললেন, যে ব্যক্তি সলাত আদায়ের আগে কুরবানীর পশু যাবাহ করেছে সে যেন আর একটি পশু যাবাহ করে। আর যে যাবাহ করেনি সে যেন আল্লাহর নামে যাবাহ করে। (বুখারী,মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৭৩
وعن نافع أن ابن عمر قال: الأضحى يومان بعد يوم الأضحى. رواه مالك
তিনি বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার (রাঃ) বলেন, কুরবানীর দিনের পরেও অর্থাৎ দশই যিলহাজ্জের পরেও দু'দিন কুরবানীর দিন অবশিষ্ট থাকে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৭৪
وقال: وبلغنى عن علي بن أبى طالب مثله
তিনি (ইমাম মালিক) আরো, 'আলী ইবনু আবী ত্বালিব (রাঃ) হতেও এরূপ একটি উক্তি প্রমাণিত। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৭৫
وعن ابن عمر قال: أقام رسول الله ﷺ بالمدينة عشر سنين يضحى. رواه الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাদীনায় দশ বছর বসবাস করেছেন। (আর এ দশ বছরই) তিনি একাধারে প্রতি বছর কুরবানী করেছেন। (তিরমিযী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৭৬
وعن زيد بن أرقم قال: قال أصحاب رسول الله ﷺ: يا رسول الله ما هذه الأضاحي؟ قال: «سنة أبيكم إبراهيم عليه السلام» قالوا: فما لنا فيها يا رسول الله؟ قال: «بكل شعرة حسنة» . قالوا: فالصوف يا رسول الله؟ قال: «بكل شعرة من الصوف حسنة» رواه أحمد وابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহাবীগণ তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ কুরবানীটা কি? তিনি বললেন, তোমাদের পিতা ইবরাহীম (আঃ)-এর সুন্নাত। তাঁরা আবার জিজ্ঞেস করলেন : এতে কি আমাদের জন্য সাওয়াব আছে, হে আল্লাহর রসূল! তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : কুরবানীর পশুর প্রত্যেকটি পশমের পরিবর্তে একটি করে প্রতিদান রয়েছে। সহাবীগণ আবার জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! পশমওয়ালা পশুদের ব্যাপারে কি হবে? (এদের পশম তো অনেক বেশী)? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : পশমওয়ালা পশুদের প্রতিটি পশমের পরিবর্তে একটি করে নেকী রয়েছে। (আহমাদ, ইবনু মাজাহ) [১]