মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৩৯
عن أنس قال: قدم النبي ﷺ المدينة ولهم يومان يلعبون فيهما فقال: «ما هذان اليومان؟» قالوا: كنا نلعب فيهما في الجاهلية فقال رسول الله ﷺ: «قد أبدلكم الله بهما خيرا منهما: يوم الأضحى ويوم الفطر». رواه أبو داود
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাদীনায় আগমন করার পর তাদের দু’টি দিন ছিল। এ দিন দু’টিতে তারা খেলাধুলা ও আমোদ-প্রমোদ করত। (এ দেখে) তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, এ দু’টি দিন কি? তারা বলল ইসলামের পূর্বে জাহিলিয়্যাতের সময় এ দিন দু’টিতে আমরা খেলাধুলা করতাম। (এ কথা শ্রবণে) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এ দু’দিনের পরিবর্তে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্য আরো উত্তম দু’টি দিন দান করেছেন। এর একটি হলো ঈদুল আযহার দিন ও অপরটি ঈদুল ফিত্রের দিন। (আবূ দাউদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৪০
وعن بريدة قال: كان النبي ﷺ لا يخرج يوم الفطر حتى يطعم ولا يطعم يوم الأضحى حتى يصلي. رواه الترمذي وابن ماجه والدارمي
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদুল ফিতরের দিন কিছু না খেয়ে ও ঈদুল আযহার দিন কিছু খেয়ে সলাতের জন্য বের হতেন না। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, দারিমী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৪১
وعن كثير بن عبد الله عن أبيه عن جده أن النبي ﷺ كبر في العيدين في الأولى سبعا قبل القراءة وفي الاخرة خمسا قبل القراءة. رواه الترمذي وابن ماجه والدارمي
তিনি তাঁর পিতা ‘আম্র ইবনু ‘আওফ হতে বর্ণনা করেছেন যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’ঈদের প্রথম রাক্’আতে ক্বিরাআতের পূর্বে সাতবার ও দ্বিতীয় রাক্’আতে ক্বিরাআতের পূর্বে পাঁচবার তাকবীর বলেছেন। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ ও দারিমী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৪২
وعن جعفر بن محمد مرسلا أن النبي ﷺ وأبا بكر وعمر كبروا في العيدين والاستسقاء سبعا وخمسا وصلوا قبل الخطبة وجهروا بالقراءة. رواه الشافعي
জা’ফার সাদিক্ব ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) মুরসাল হিসেবে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও আবূ বাক্র, ‘উমার দু’ ঈদে ও ইস্তিক্বার সলাতে সাতবার ও পাঁচবার করে তাকবীর বলেছেন। তাঁরা সলাত আদায় করতেন খুতবার পূর্বে। সলাতে ক্বিরাআত পড়েছেন উচ্চৈঃস্বরে। (শাফি’ঈ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৪৩
وعن سعيد بن العاص قال: سألت أبا موسى وحذيفة: كيف كان رسول الله ﷺ يكبر في الأضحى والفطر؟ فقال أبو موسى: كان يكبر أربعا تكبيره على الجنازة. فقال حذيفة: صدق. رواه أبو داود
তিনি বলেন, আমি আবূ মূসা আল আশ্’আরী ও হুযায়ফাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করছিলাম, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিত্রের সলাতে কতবার তাকবীর বলতেন? তখন আবূ মূসা আল আশ্’আরী বললেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জানাযার তাকবীরের মতো চার তাকবীর বলতেন। এ জবাব শুনে হুযায়ফাহ্ (রাঃ) বললেন, তিনি ঠিকই বলেছেন। (আবূ দাউদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৪৪
وعن البراء أن النبي ﷺ نوول يوم العيد قوسا فخطب عليه. رواه أبو داود
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ঈদের দিনে একটি ক্বাওস দেয়া হলো। তিনি এ ক্বাওসের উপর ভর করে (ঈদের) খুতবাহ্ দান করলেন। (আবূ দাউদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৪৫
وعن عطاء مرسلا أن النبي ﷺ كان إذا خطب يعتمد على عنزته اعتمادا. رواه الشافعي
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুতবাহ্ প্রদান করার সময় নিজের লাঠির উপর ঠেস দিয়ে (খুতবাহ্) দিতেন। (শাফি’ঈ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৪৬
وعن جابر قال: شهدت الصلاة مع النبي ﷺ في يوم عيد فبدأ بالصلاة قبل الخطبة بغير أذان ولا إقامة فلما قضى الصلاة قام متكئا على بلال فحمد الله وأثنى عليه ووعظ الناس وذكرهم وحثهم على طاعته ثم قال: ومضى إلى النساء ومعه بلال فأمرهن بتقوى الله ووعظهن وذكرهن. رواه النسائي
তিনি বলেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ঈদের সলাতে উপস্থিত ছিলাম। তিনি খুতবার আগেই আযান ও ইক্বামাত ছাড়া সলাত শুরু করে দিলেন। সলাত শেষ করার পর তিনি বিলালের গায়ে ভর করে দাঁড়ালেন। অতঃপর আল্লাহ তা’আলার মহত্ত্ব ও গুণ গরীমা বর্ণনা করলেন। লোকদের উপদেশ বাণী শুনালেন। তাদেরকে আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। আল্লাহর আদেশ নিষেধ অনুসরণ করার প্রতি অনুপ্রেরণা যোগালেন। তারপর তিনি মহিলাদের দিকে এগিয়ে গেলেন। তাঁর সাথে ছিলেন বেলাল। তাদেরকে তিনি আল্লাহর ভয়-ভীতির কথা বললেন, ওয়াজ করলেন। পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। (নাসায়ী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৪৭
وعن أبي هريرة قال: كان النبي ﷺ إذا خرج يوم العيد في طريق رجع في غيره. رواه الترمذي والدارمي
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদের দিন এক পথ দিয়ে (ঈদগাহে) আসতেন। আবার অন্য পথ দিয়ে (বাড়ীতে) ফিরতেন। (তিরমিযী, দারিমী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৪৮
وعن أبى هريرة أنه أصابهم مطر في يوم عيد فصلى بهم النبي ﷺ صلاة العيد في المسجد. رواه أبو داود وابن ماجه
তিনি বলেন, একবার ঈদের দিন তাঁদের সেখানে বৃষ্টি হচ্ছিল। তাই নাবী (সাল্লাল্লাহু‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের সবাইকে নিয়ে মাসজিদে ঈদের সলাত আদায় করলেন। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৪৯
وعن أبي الحويرث أن رسول الله ﷺ كتب إلى عمرو بن حزم وهو بنجران عجل الأضحى وأخر الفطر وذكر الناس. رواه الشافعي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাজরানে নিযুক্ত তাঁর প্রশাসক আম্র ইবনু হায্ম-এর নিকট চিঠি লিখলেন। ঈদুল আযহার সলাত তাড়াতাড়ি আদায় করাবে। আর ঈদুল ফিত্রের সলাত বিলম্ব করে আদায় করবে। লোকজনকে ওয়াজ নাসীহাত করবে। (শাফি’ঈ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৫০
وعن أبي عمير بن أنس عن عمومة له من أصحاب النبي ﷺ: أن ركبا جاءوا إلى النبي ﷺ يشهدون أنهم رأوا الهلال بالأمس فأمرهم أن يفطروا وإذا أصبحوا أن يغدو إلى مصلاهم. رواه أبو داود والنسائي
তিনি তাঁর এক চাচা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন সাহাবীদের অন্তর্ভক্ত। (তিনি বলেন) একবার একদল আরোহী নাবী কারীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে সাক্ষ্য দিলো যে, তারা গতকাল (শাওয়াল মাসের) নতুন চাঁদ দেখেছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের সওম ভেঙ্গে ফেলার ও পরের দিন সকালে ঈদগাহের ময়দানে যেতে নির্দেশ দিলেন। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৫১
عن ابن جريج قال: أخبرنى عطاء عن ابن عباس وجابر ابن عبد الله قالا: لم يكن يؤذن يوم الفطر ولا يوم الأضحى ثم سألته يعنى عطاء بعد حين عن ذلك فأخبرنى قال: أخبرنى جابر بن عبد الله أن لا أذان للصلاة يوم الفطر حين يخرج الإمام ولا بعد ما يخرج ولا إقامة ولا نداء ولا شيء لا نداء يومئذ ولا إقامة. رواه مسلم
তিনি বলেন, আত্বা (রহঃ) আমার কাছে আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস ও জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা দু’জনেই বলেছেন, (রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জীবদ্দশায়) ঈদুল ফিত্র ও ঈদুল আযহার সলাতের জন্য আযান দেয়া হত না। ইবনু জুরায়জ বলেন, এর কিছুদিন পর আমি আবার আত্বা (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম। আত্বা (রহঃ) তখন বললেন, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) আমাকে বলেছেন। ঈদুল ফিত্রের সলাত আদায়ের জন্য আযানের প্রয়োজন নেই। ইমাম (সলাতের জন্য) বের হবার সময়েও না। বের হয়ে আসার পরেও না। (এভাবে) ইক্বামাত ও কোন আহবানও নেই। না অন্য কিছু আছে। এ দিন না কোন আহবান আছে। আর না কোন ইক্বামাত। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৫২
وعن أبي سعيد الخدري أن رسول الله ﷺ كان يخرج يوم الأضحى ويوم الفطر فيبدأ بالصلاة فإذا صلى صلاته قام فأقبل على الناس وهم جلوس في مصلاهم فإن كانت له حاجة ببعث ذكره للناس أو كانت له حاجة بغير ذلك أمرهم بها وكان يقول: «تصدقوا تصدقوا تصدقوا» . وكان أكثر من يتصدق النساء ثم ينصرف فلم يزل كذلك حتى كان مروان ابن الحكم فخرجت مخاصرا مروان حتى أتينا المصلى فإذا كثير بن الصلت قد بنى منبرا من طين ولبن فإذا مروان ينازعني يده كأنه يجرنى نحو المنبر وأنا أجره نحو الصلاة فلما رأيت ذلك منه قلت: أين الابتداء بالصلاة؟ فقال: لا يا أبا سعيد قد ترك ما تعلم قلت: كلا والذى نفسى بيده لا تأتون بخير مما أعلم ثلاث مرات ثم انصرف. رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিত্রের দিন (ঈদগাহে গিয়ে) প্রথমে সলাত আরম্ভ করতেন। সলাত আদায় করা শেষ হলে (খুতবাহ্ প্রদানের জন্য) মানুষের দিকে ফিরে দাঁড়াতেন। তাঁরা নিজ নিজ জায়গায় বসে থাকতেন। বস্ততঃ যদি কোথাও সৈন্য বাহিনী পাঠাবার প্রয়োজন থাকত তাহলে, তা মানুষদেরকে বলে (বাহিনী পাঠিয়ে) দিতেন। অথবা জনগণের প্রয়োজনের ব্যাপারে কোন কথা থাকলে সে ব্যাপারে নির্দেশ দিয়ে দিতেন। তিনি খুতবায় বলতেন, তোমরা সদাক্বাহ্ দাও, তোমরা সাদক্বাহ্ দাও, তোমরা সাদক্বাহ্ দাও। বস্তুতঃ মহিলারাই অধিক পরিমাণে সদাক্বাহ্ করতেন। এরপর তিনি নিজ বাড়ীতে ফিরে আসতেন। এভাবেই (দু’ঈদের সলাত) চলতে থাকল যে পর্যন্ত (মু’আবিয়ার পক্ষ হতে) মারওয়ান ইবনু হাকাম (মাদীনার) শাসক নিযুক্ত না হন। (এ সময় এক ঈদের দিনে) মারওয়ান-এর হাত ধরে আমি ঈদগাহের ময়দানে উপস্থিত হলাম। এসে দেখি কাসির ইবনু সাল্ত মাটি ও কাঁচা ইট দিয়ে একটি মিম্বার তৈরি করেছেন। এ সময় মারওয়ান হাত দিয়ে আমার হাত ধরে টানাটানি আরম্ভ করল আমি যেন মিম্ভারে উঠে খুতবাহ্ দেই। আর আমি তাকে সলাত আদায়ের জন্য টানতে লাগলাম। আমি তার এ অবস্থা দেখে বললাম, সলাত দিয়ে শুরু করা কোথায় গেল? সে বলল, না আবূ সা’ঈদ! আপনি যা জানেন না তা এখন নেই। আমি বললাম, কখনো নয়। আমার জান যার হাতে নিবন্ধ তার শপথ করে বলছি। আমি যা জানি এর চেয়ে ভাল কিছু তোমরা কখনো বের করতে পারবে না। বর্ণনাকারী বলেন এ কথা তিনি তিনবার বললেন, তারপর (ঈদগাহ হতে) চলে গেলেন। (মুসলিম) [১]