মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪২৬
عن أبى سعيد الخدري قال: كان النبي ﷺ يخرج يوم الفطر والأضحى إلى المصلى فأول شيء يبدأ به الصلاة ثم ينصرف فيقوم مقابل الناس والناس جلوس على صفوفهم فيعظهم ويوصيهم ويأمرهم وإن كان يريد أن يقطع بعثا قطعه أو يأمر بشيء أمر به ثم ينصرف. (متفق عليه)
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন (ঘর থেকে) বের হয়ে ঈদগাহের ময়দানে গমন করতেন। প্রথমে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখানে গিয়ে সলাত আদায় করাতেন। এরপর তিনি মানুষের দিকে মুখ ফিরে দাঁড়াতেন। মানুষরা সে সময় নিজ নিজ সারিতে বসে থাকতেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে ভাষণ শুনাতেন, উপদেশ দিতেন। আর যদি কোন দিকে কোন সেনাবাহিনী পাঠাবার ইচ্ছা করতেন, তাদেরকে নির্বাচন করতেন। অথবা কাউকে কোন নির্দেশ দেয়ার থাকলে তা দিতেন। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (ঈদগাহ) হতে প্রত্যাবর্তন করতেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪২৭
وعن جابر بن سمرة قال: صليت مع رسول الله ﷺ العيدين غير مرة ولا مرتين بغير أذان ولا إقامة. رواه مسلم
তিনি বলেন, তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে দু’ঈদের সলাত একবার নয়, দু’বার নয়, আযান ও ইক্বামাত ছাড়া... (বহুবার) আদায় করেছি। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪২৮
وعن ابن عمر قال: كان رسول الله ﷺ وأبو بكر وعمر يصلون العيدين قبل الخطبة. (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ বাক্র ও ‘উমার (রাঃ) দু ’ঈদের সলাত খুতবার পূর্বেই আদায় করতেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪২৯
وسئل ابن عباس: أشهدت مع رسول الله ﷺ العيد؟ قال: نعم خرج رسول الله ﷺ فصلى ثم خطب ولم يذكر أذانا ولا إقامة ثم أتى النساء فوعظهن وذكرهن وأمرهن بالصدقة فرأيتهن يهوين إلى اذانهن وحلوقهن يدفعن إلى بلال ثم ارتفع هو وبلال إلى بيته. (متفق عليه)
আপনি কি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে ঈদের সলাতে উপস্থিত ছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, ছিলাম। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদের সলাতের জন্য ঈদগাহে এসেছেন। (প্রথমে) সলাত আদায় করেছেন, তারপর খুত্বাহ্ প্রদান করেছেন। তবে তিনি আযান ও ইক্বামাতের কথা উল্লেখ করেননি। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মহিলাদের নিকট এসেছেন। তাদের ওয়াজ নাসীহাত করেছেন। অতঃপর আমি দেখলাম মহিলাগণ নিজ নিজ কান ও গলার দিকে হাত বাড়াচ্ছেন। গহনা খুলে খুলে বিলালের নিকট দিতে লাগলেন। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও বিলাল বাড়ীর দিকে চলে গেলেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৩০
وعن ابن عباس: أن النبي ﷺ صلى يوم الفطر ركعتين لم يصل قبلهما ولا بعدهما. (متفق عليه)
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদুল ফিত্রের দিন মাত্র দু’ রাক্’আত সলাত আদায় করেছেন। এর পূর্বেও তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন সলাত আদায় করেননি, পরেও পড়েননি। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৩১
وعن أم عطية رضي الله عنها قالت: أمرنا أن نخرج الحيض يوم العيدين وذوات الخدور فيشهدن جماعة المسلمين ودعوتهم وتعتزل الحيض عن مصلاهن قالت امرأة: يا رسول الله إحدانا ليس لها جلباب؟ قال: «لتلبسها صاحبتها من جلبابها». (متفق عليه)
তিনি বলেন, দু’ঈদের দিনে ঋতুবতী ও পর্দানশীন মহিলাদেরকে মুসলিমদের জামা‘আতে ও দু‘আয় অংশ নিতে বের করে নেবার জন্য আমাদেরকে নির্দেশ দেয়া হলো। তবে ঋতুবতীগণ যেন সলাতের জায়গা হতে সরে বসেন। একজন মহিলা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহ্র রসূল! আমাদের কারো কারো (শরীর ঢাকার জন্য) বড় চাদর নেই। তিনি বললেন, তাঁর সাথী-বান্ধবী তাঁকে আপন চাদর প্রদান করবে। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৩২
وعن عائشة قالت: إن أبا بكر دخل عليها وعندها جاريتان في أيام منى تدففان وتضربان وفي رواية: تغنيان بما تقاولت الأنصار يوم بعاث والنبي ﷺ متغش بثوبه فانتهرهما أبو بكر فكشف النبي ﷺ عن وجهه فقال: «دعهما يا أبا بكر فإنها أيام عيد وفى رواية: يا أبا بكر إن لكل قوم عيدا وهذا عيدنا». (متفق عليه)
তিনি বলেন, (বিদায় হাজ্জে) মিনায় অবস্থানকালে আবূ বাক্র তাঁর নিকটে গেলেন। সে সময় আনসারদের দু’জন বালিকা সেখানে গান গাচ্ছিল ও দফ্ বাজাচ্ছিল। অন্য বর্ণনায় আছে, তারা বু‘আস যুদ্ধে আনসার গোত্রের লোকেরা যে সব গান গেয়ে গর্ব করেছিল সে সব গান আবৃত্তি করছিল। এ সময় নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চাদর মুড়ে নিজেকে ঢেকে রেখেছিলেন। এ অবস্থা দেখে আবূ বাক্র বালিকা দু’টিকে ধমক দিলেন। এ সময় নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাপড় হতে মুখ খুলে বললেন, হে আবূ বাক্র ওদেরকে ছেড়ে দাও। এটা ঈদের দিন। অন্য বর্ণনায়, হে আবূ বাক্র! প্রত্যেক জাতির একটা ঈদের দিন আছে। আর এটা হলো আমাদের ঈদের দিন। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৩৩
وعن أنس قال: كان رسول الله ﷺ لا يغدو يوم الفطر حتى يأكل تمرات ويأكلهن وترا. رواه البخاري
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদুল ফিত্রের দিন কয়েকটি খেজুর না খেয়ে বের হতেন না। আর খেজুরও খেতেন তিনি বিজোড়। (বুখারী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৩৪
وعن جابر قال: كان النبي ﷺ إذا كان يوم عيد خالف الطريق. رواه البخاري
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদের দিন (ঈদের মাঠে) যাতায়াতের পথ পরিবর্তন করতেন। (বুখারী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৩৫
وعن البراء قال: خطبنا النبي ﷺ يوم النحر فقال: «إن أول ما نبدأ به في يومنا هذا أن نصلي ثم نرجع فننحر فمن فعل ذلك فقد أصاب سنتنا ومن ذبح قبل أن نصلي فإنما هو شاة لحم عجله لأهله ليس من النسك في شيء». (متفق عليه)
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক কুরবানীর ঈদের দিন আমাদের সামনে এক ভাষণ প্রদান করেন। তিনি বলেন, এ ঈদের দিন প্রথমে আমাদেরকে সলাত আদায় করতে হবে। এরপর আমরা বাড়ী গিয়ে কুরবানী করব। যে ব্যক্তি এভাবে করল সে আমাদের পথে চলল। আর যে ব্যক্তি আমাদের সলাত আসায় করার পূর্বে কুরবানী করল সে তাঁর পরিবারের জন্য তাড়াতাড়ি যাবাহ করে নিশ্চয়ই তা গোশত ভক্ষণের ব্যবস্থা করল, তা কুরবানীর কিছুই নয়। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৩৬
وعن جندب بن عبد الله البجلي قال: قال رسول الله ﷺ: «من ذبح قبل الصلاة فليذبح مكانها أخرى ومن لم يذبح حتى صلينا فليذبح على اسم الله». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : যে ব্যক্তি সলাতের আগে যাবাহ করেছে সে যেন এর পরিবর্তে (সলাতের পরে) আর একটি যাবাহ করে। আর যে ব্যক্তি আমাদের সলাত আদায়ের পূর্ব পর্যন্ত যাবাহ করেনি সে যেন (সলাতের পর) আল্লাহ্র নামে যাবাহ করে (এটাই প্রকৃত কুরবানী)। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৩৭
وعن البراء قال: قال رسول الله ﷺ: «من ذبح قبل الصلاة فإنما يذبح لنفسه ومن ذبح بعد الصلاة فقد تم نسكه وأصاب سنة المسلمين». (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন : যে ব্যক্তি (ঈদের) সলাতের আগে যাবাহ করল সে নিজের (খাবার) জন্যই যাবাহ করল। আর যে ব্যক্তি সলাত আদায়ের পর যাবাহ করল তার কুরবানী পরিপূর্ণ হলো। সে মুসলিমদের নিয়ম অনুসরণ করল। (বুখারি, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৩৮
وعن ابن عمر قال: كان رسول الله ﷺ يذبح وينحر بالمصلى. رواه البخاري
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাবাহ করতেন এবং নহর করতেন ঈদগাহের ময়দানে। (বুখারী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৩৯
عن أنس قال: قدم النبي ﷺ المدينة ولهم يومان يلعبون فيهما فقال: «ما هذان اليومان؟» قالوا: كنا نلعب فيهما في الجاهلية فقال رسول الله ﷺ: «قد أبدلكم الله بهما خيرا منهما: يوم الأضحى ويوم الفطر». رواه أبو داود
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাদীনায় আগমন করার পর তাদের দু’টি দিন ছিল। এ দিন দু’টিতে তারা খেলাধুলা ও আমোদ-প্রমোদ করত। (এ দেখে) তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, এ দু’টি দিন কি? তারা বলল ইসলামের পূর্বে জাহিলিয়্যাতের সময় এ দিন দু’টিতে আমরা খেলাধুলা করতাম। (এ কথা শ্রবণে) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এ দু’দিনের পরিবর্তে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্য আরো উত্তম দু’টি দিন দান করেছেন। এর একটি হলো ঈদুল আযহার দিন ও অপরটি ঈদুল ফিত্রের দিন। (আবূ দাউদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৪০
وعن بريدة قال: كان النبي ﷺ لا يخرج يوم الفطر حتى يطعم ولا يطعم يوم الأضحى حتى يصلي. رواه الترمذي وابن ماجه والدارمي
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদুল ফিতরের দিন কিছু না খেয়ে ও ঈদুল আযহার দিন কিছু খেয়ে সলাতের জন্য বের হতেন না। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, দারিমী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৪১
وعن كثير بن عبد الله عن أبيه عن جده أن النبي ﷺ كبر في العيدين في الأولى سبعا قبل القراءة وفي الاخرة خمسا قبل القراءة. رواه الترمذي وابن ماجه والدارمي
তিনি তাঁর পিতা ‘আম্র ইবনু ‘আওফ হতে বর্ণনা করেছেন যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’ঈদের প্রথম রাক্’আতে ক্বিরাআতের পূর্বে সাতবার ও দ্বিতীয় রাক্’আতে ক্বিরাআতের পূর্বে পাঁচবার তাকবীর বলেছেন। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ ও দারিমী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৪২
وعن جعفر بن محمد مرسلا أن النبي ﷺ وأبا بكر وعمر كبروا في العيدين والاستسقاء سبعا وخمسا وصلوا قبل الخطبة وجهروا بالقراءة. رواه الشافعي
জা’ফার সাদিক্ব ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) মুরসাল হিসেবে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও আবূ বাক্র, ‘উমার দু’ ঈদে ও ইস্তিক্বার সলাতে সাতবার ও পাঁচবার করে তাকবীর বলেছেন। তাঁরা সলাত আদায় করতেন খুতবার পূর্বে। সলাতে ক্বিরাআত পড়েছেন উচ্চৈঃস্বরে। (শাফি’ঈ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৪৩
وعن سعيد بن العاص قال: سألت أبا موسى وحذيفة: كيف كان رسول الله ﷺ يكبر في الأضحى والفطر؟ فقال أبو موسى: كان يكبر أربعا تكبيره على الجنازة. فقال حذيفة: صدق. رواه أبو داود
তিনি বলেন, আমি আবূ মূসা আল আশ্’আরী ও হুযায়ফাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করছিলাম, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিত্রের সলাতে কতবার তাকবীর বলতেন? তখন আবূ মূসা আল আশ্’আরী বললেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জানাযার তাকবীরের মতো চার তাকবীর বলতেন। এ জবাব শুনে হুযায়ফাহ্ (রাঃ) বললেন, তিনি ঠিকই বলেছেন। (আবূ দাউদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৪৪
وعن البراء أن النبي ﷺ نوول يوم العيد قوسا فخطب عليه. رواه أبو داود
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ঈদের দিনে একটি ক্বাওস দেয়া হলো। তিনি এ ক্বাওসের উপর ভর করে (ঈদের) খুতবাহ্ দান করলেন। (আবূ দাউদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৪৫
وعن عطاء مرسلا أن النبي ﷺ كان إذا خطب يعتمد على عنزته اعتمادا. رواه الشافعي
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুতবাহ্ প্রদান করার সময় নিজের লাঠির উপর ঠেস দিয়ে (খুতবাহ্) দিতেন। (শাফি’ঈ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৪৬
وعن جابر قال: شهدت الصلاة مع النبي ﷺ في يوم عيد فبدأ بالصلاة قبل الخطبة بغير أذان ولا إقامة فلما قضى الصلاة قام متكئا على بلال فحمد الله وأثنى عليه ووعظ الناس وذكرهم وحثهم على طاعته ثم قال: ومضى إلى النساء ومعه بلال فأمرهن بتقوى الله ووعظهن وذكرهن. رواه النسائي
তিনি বলেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ঈদের সলাতে উপস্থিত ছিলাম। তিনি খুতবার আগেই আযান ও ইক্বামাত ছাড়া সলাত শুরু করে দিলেন। সলাত শেষ করার পর তিনি বিলালের গায়ে ভর করে দাঁড়ালেন। অতঃপর আল্লাহ তা’আলার মহত্ত্ব ও গুণ গরীমা বর্ণনা করলেন। লোকদের উপদেশ বাণী শুনালেন। তাদেরকে আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। আল্লাহর আদেশ নিষেধ অনুসরণ করার প্রতি অনুপ্রেরণা যোগালেন। তারপর তিনি মহিলাদের দিকে এগিয়ে গেলেন। তাঁর সাথে ছিলেন বেলাল। তাদেরকে তিনি আল্লাহর ভয়-ভীতির কথা বললেন, ওয়াজ করলেন। পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। (নাসায়ী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৪৭
وعن أبي هريرة قال: كان النبي ﷺ إذا خرج يوم العيد في طريق رجع في غيره. رواه الترمذي والدارمي
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদের দিন এক পথ দিয়ে (ঈদগাহে) আসতেন। আবার অন্য পথ দিয়ে (বাড়ীতে) ফিরতেন। (তিরমিযী, দারিমী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৪৮
وعن أبى هريرة أنه أصابهم مطر في يوم عيد فصلى بهم النبي ﷺ صلاة العيد في المسجد. رواه أبو داود وابن ماجه
তিনি বলেন, একবার ঈদের দিন তাঁদের সেখানে বৃষ্টি হচ্ছিল। তাই নাবী (সাল্লাল্লাহু‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের সবাইকে নিয়ে মাসজিদে ঈদের সলাত আদায় করলেন। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৪৯
وعن أبي الحويرث أن رسول الله ﷺ كتب إلى عمرو بن حزم وهو بنجران عجل الأضحى وأخر الفطر وذكر الناس. رواه الشافعي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাজরানে নিযুক্ত তাঁর প্রশাসক আম্র ইবনু হায্ম-এর নিকট চিঠি লিখলেন। ঈদুল আযহার সলাত তাড়াতাড়ি আদায় করাবে। আর ঈদুল ফিত্রের সলাত বিলম্ব করে আদায় করবে। লোকজনকে ওয়াজ নাসীহাত করবে। (শাফি’ঈ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৪৫০
وعن أبي عمير بن أنس عن عمومة له من أصحاب النبي ﷺ: أن ركبا جاءوا إلى النبي ﷺ يشهدون أنهم رأوا الهلال بالأمس فأمرهم أن يفطروا وإذا أصبحوا أن يغدو إلى مصلاهم. رواه أبو داود والنسائي
তিনি তাঁর এক চাচা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন সাহাবীদের অন্তর্ভক্ত। (তিনি বলেন) একবার একদল আরোহী নাবী কারীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে সাক্ষ্য দিলো যে, তারা গতকাল (শাওয়াল মাসের) নতুন চাঁদ দেখেছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের সওম ভেঙ্গে ফেলার ও পরের দিন সকালে ঈদগাহের ময়দানে যেতে নির্দেশ দিলেন। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী) [১]