মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৪১
وعن عائشة رضي الله عنها قالت: كان ذلك قد فعل رسول الله ﷺ قصر الصلاة وأتم. رواه في شرح السنة
তিনি বলেন সফরকালে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সব রকমই করেছেন। তিনি (সফর অবস্থায়) ক্বস্রও আদায় করতেন আবার পূর্ণ সলাতও আদায় করতেন। (শারহূস্ সুন্নাহ্) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৪২
وعن عمران بن حصين قال: غزوت مع النبي ﷺ وشهدت معه الفتح فأقام بمكة ثماني عشرة ليلة لا يصلى إلا ركعتين يقول: «يا أهل البلد صلوا أربعا فإنا سفر» . رواه أبو داود
তিনি বলেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে অনেক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। মাক্কাহ্ বিজয়ের সময়ও তাঁর সাথে ছিলাম। এ সময়ে তিনি আঠার দিন মাক্কায় অবস্থানরত ছিলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চার রাক্’আত বিশিষ্ট সলাত দু’রাক্আত আদায় করেছিলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন হে শহরবাসীরা! তোমরা চার রাক্’আত করে সলাত আদায় কর। আমি মুসাফির (তাই দু’রাক্’আত আদায় করছি)। (আবূ দাঊদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৪৩
وعن ابن عمر قال: صليت مع النبي ﷺ الظهر في السفر ركعتين وبعدها ركعتين وفي رواية قال: صليت مع النبي ﷺ في الحضر والسفر فصليت معه في الحضر الظهر أربعا وبعدها ركعتين وصليت معه في السفر الظهر ركعتين وبعدها ركعتين والعصر ركعتين ولم يصل بعدها شيئا والمغرب في الحضر والسفر سواء ثلاث ركعات ولا ينقص في حضر ولا سفر وهي وتر النهار وبعدها ركعتين. رواه الترمذي
তিনি বলেন, আমি নাবী কারীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে সফরে দু’রাক্’আত যুহর ও এরপর দু’রাক্’আত সুন্নাত আদায় করেছি। আর এক বর্ণনায় আছে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার বলেন আবাসে ও সফরে আমি নবী কারীম(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে সলাত আদায় করেছি। আবাসে তাঁর সাথে যুহর সলাত আদায় চার রাক্’আত আদায় করেছি এবং সফরে যুহর দু’রাক্’আত ও ‘আস্র দু’রাক্’আত আদায় করেছি। এর পর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আর কোন সলাত আদায় করেননি। মাগরিবের সলাত আদায় করেছেন আবাসে ও সফরে সমান ভাবে তিন রাক্’আত। আবাসে ও সফরে কোন অবস্থাতেই মাগরিবের বেশ কম হয় না। এইটা হল দিনের বিত্রের সলাত। এরপর তিনি আদায় করেছেন দু’রাক্’আত সুন্নাত। (তিরমিযী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৪৪
وعن معاذ بن جبل قال: كان النبي ﷺ في غزوة تبوك: إذا زاغت الشمس قبل أن يرتحل جمع بين الظهر والعصر وإن ارتحل قبل أن تزيغ الشمس أخر الظهر حتى ينزل للعصر وفي المغرب مثل ذلك إذا غابت الشمس قبل أن يرتحل جمع بين المغرب والعشاء وإن ارتحل قبل أن تغيب الشمس أخر المغرب حتى ينزل للعشاء ثم يجمع بينهما. رواه أبو داود والترمذي
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাবূকের যুদ্ধ চলাকালে যুহরের সময় সূর্য ঢলে গেলে যুহর ও ‘আস্রের সলাত দেরী করতেন এবং ‘আস্রের সলাতের জন্য মঞ্জিলে নামতেন অর্থাৎ- যুহর ও ‘আস্রের সলাত একসাথে আদায় করতেন। মাগরিবের সলাতের সময়ও তিনি এরুপ করতেন। সূর্য তাঁর ফিরে আসার আগে ডুবে গেলে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাগরিব ও ‘ইশার সলাত একত্রে আদায় করতেন। আর সূর্য অস্ত যাবার আগে চলে আসলে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাগরিবের সলাতে দেরী করতেন। ’ইশার সলাতের জন্য নামতেন এবং দু’সলাত একত্রে আদায় করতেন। (আবূ দাউদ, তিরমিযী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৪৫
وعن أنس قال: كان رسول الله ﷺ إذا سافر وأراد أن يتطوع استقبل القبلة بناقته فكبر ثم صلى حيث وجهه ركابه. رواه أبو داود
তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সফরে (অর্থাৎ শহরের বাইরে) যেতেন (মুসাফির অবস্থায় হোক অথবা মুক্বীম) নাফ্ল সলাত আদায় করতে চাইতেন, তখন উটের মুখ ক্বিবলার দিকে করে নিতেন এবং তাকবীরে তাহরীমাহ্ বলে যেদিকে সওয়ারীর মুখ করতেন সেদিকে মুখ করে তিনি সলাত আদায় করতেন।(আবূ দাউদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৪৬
وعن جابر قال: بعثنى رسول الله ﷺ في حاجة فجئت وهو يصلى على راحلته نحو المشرق ويجعل السجود أخفض من الركوع. رواه أبو داود
তিনি বলেন রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কোন প্রয়োজনে আমাকে পাঠালেন। আমি প্রত্যাবর্তন করে এসে দেখি তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বাহনের উপর পূর্ব দিকে মুখ ফিরে সলাত ক্বায়িম করছেন। তবে তিনি রুকু’ হতে সাজদায় একটু বেশী নীচু হতেন।(আবূ দাঊদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৪৭
عن ابن عمر قال: صلى رسول الله ﷺ بمنى ركعتين وأبو بكر بعده وعمر بعد أبي بكر وعثمان صدرا من خلافته ثم إن عثمان صلى بعد أربعا فكان ابن عمر إذا صلى مع الإمام صلى أربعا وإذا صلاها وحده صلى ركعتين. (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিনায় (চার রাক্’আত বিশিষ্ট সলাত) দু’রাক্’আত সলাত আদায় করেছেন। তারপর আবূ বাক্রও দু’রাক্’আত সলাত আদায় করেছেন। অতঃপর ‘উমারও দু’রাক্’আত সলাত আদায় করেছেন। ‘উসমান (রাঃ) তার খিলাফাতকালের প্রথম দিকে দু’রাক্আত্ই সলাত আদায় করতেন। কিন্তু পরে তিনি চার রাক্’আত আদায় করতে শুরু করেন। ইবনু ‘উমার-এর ব্যাপারে বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন ইমামের (‘উসমান-এর) সাথে সলাত আদায় করতেন, তখন চার রাক্’আত আদায় করতেন। আর একাকী হলে (সফরে) দু’রাক্’আত আদায় করতেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৪৮
وعن عائشة قالت: فرضت الصلاة ركعتين ثم هاجر رسول الله ﷺ ففرضت أربعا وتركت صلاة السفر على الفريضة الأولى. قال الزهري: قلت لعروة: ما بال عائشة تتم؟ قال: تأولت كما تأول عثمان. (متفق عليه)
তিনি বলেন, (ইসলামের প্রথম দিকে) দু’রাক্’আতই সলাত ফার্য ছিল। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিজরাত করলে মুক্বীমের জন্য চার রাক্’আত সলাত নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। আর সফর অবস্থায় প্রথম থেকেই দু’রাক্’আত ফার্য ছিল। ইমাম যুহরী (রহঃ) বলেন, আমি ‘উরওয়ার নিকট আরয করলাম, ‘আয়িশার কি হলো যে, তিনি সফর অবস্থায়ও পুরো চার রাক্’আত সলাত আদায় করেন। (উত্তরে) তিনি বললেন, তিনিও ‘উসমান-এর মত ব্যাখ্যা করেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৪৯
وعن ابن عباس قال: فرض الله الصلاة على لسان نبيكم ﷺ في الحضر أربعا وفي السفر ركعتين وفي الخوف ركعة. رواه مسلم
তিনি বলেন, আল্লাহ তা’আলা তোমাদের নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জবানিতে মুক্বীম অবস্থায় চার রাক্’আত আর সফরকালে দু’রাক্’আত সলাত ফার্য করেছেন। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৫০
وعن ابن عباس وعن ابن عمر قالا: سن رسول الله ﷺ صلاة السفر ركعتين وهما تمام غير قصر والوتر في السفر سنة. رواه ابن ماجه
তাঁরা বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সফরের অবস্থায় সলাত দু’রাক্’আত নির্ধারিত করে দিয়েছেন। আর এ দু’রাক্’আতই হলো (সফরের) পূর্ণ সলাত, ক্বস্র নয়। আর সফরে বিত্র সলাত আদায় করা সুন্নাত। (ইবনু মাজাহ্) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৫১
وعن مالك بلغه أن ابن عباس كان يقصر في الصلاة في مثل ما يكون بين مكة والطائف وفي مثل ما يكون بين مكة وعسفان وفى مثل ما بين مكة وجدة قال مالك: وذلك أربعة برد. رواه في الموطأ
তিনি শুনেছেন যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস মাক্কাহ্ ও ত্বায়িফ, মাক্কাহ্ ও ‘উসফান, মাক্কাহ্ ও জিদ্দার দূরত্বের মাঝে ক্বস্রের সলাত আদায় করতেন। ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, এসবের দূরত্ব ছিল চার বারীদ অর্থাৎ আটচল্লিশ মাইল। (মুয়াত্ত্বা) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৫২
وعن البراء قال: صحبت رسول الله ﷺ ثمانية عشر سفرا فما رأيته ترك ركعتين إذا زاغت الشمس قبل الظهر. رواه أبو داود والترمذي وقال: هذا حديث غريب
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে আঠারোটি সফরে তাঁর সফরে সঙ্গী ছিলাম, এ সময় আমি তাঁকে সূর্য ঢলে পড়ার পরে আর যুহরের সলাতের আগে দু’রাক্’আত সলাত আদায় করা ছেড়ে দিতে কখনো দেখিনি। ( আবূ দাঊদ, তিরমিযী; ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি গরীব।) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৫৩
وعن نافع قال: إن عبد الله بن عمر كان يرى ابنه عبيد الله يتنفل في السفر فلا ينكر عليه. رواه مالك
তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার তাঁর পুত্র ‘উবায়দু’ল্লাহকে সফর অবস্থায় নাফ্ল সলাত আদায় করতে দেখেছেন। তিনি তাঁকে তা করতে নিষেধ করতেন না। (মালিক) [১]