প্রথম অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৩৩

عن أنس: أن رسول الله ﷺ صلى الظهر بالمدينة أربعا وصلى العصر بذي الحليفة ركعتين. (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মাদীনায় যুহরের সলাত চার রাক্’আত আদায় করেছেন। তবে যুল হুলায়ফায় ‘আস্‌রের সলাত দু’রাক্’আত আদায় করেছেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৩৪

وعن حارثة بن وهب الخزاعي قال: صلى بنا رسول الله ﷺ ونحن أكثر ما كنا قط وامنه بمنا ركعتين. (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে সাথে নিয়ে ‘মিনায়’ দু’রাক্’আত সলাত আদায় করেছেন। এ সময় আমার সংখ্যায় এত বেশী ছিলাম যা এর আগে কখনো ছিলান না এবং নিরাপদ ছিলাম। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৩৫

وعن يعلى بن أمية قال: قلت لعمر بن الخطاب: إنما قال الله تعالى ﴿أن تقصروا من الصلاة إن خفتم أن يفتنكم الذين كفروا﴾ [النساء 4 : 101] ، فقد أمن الناس. قال عمر: عجبت مما عجبت منه فسألت رسول الله ﷺ. فقال: «صدقة تصدق الله بها عليكم فاقبلوا صدقته» رواه مسلم

তিনি বলেন, আমি ‘উমারের কাছে নিবেদন করলাম, আল্লাহ তা’আলার বানী হলো, “তোমরা সলাত কম আদায় করো, অর্থাৎ ক্বস্‌র করো, যদি অমুসলিমরা তোমাদেরকে বিপদে ফেলবে বলে আশংকা করো”-(সূরাহ্‌ আন্‌ নিসা ৪:১০১)। এখন তো লোকেরা নিরাপদ। তাহলে ক্বস্‌রের সলাত আদায়ের প্রয়োজনটা কি? ‘উমার (রাঃ) বললেন, তুমি এ ব্যাপারে যেমন বিস্মিত হচ্ছো, আমিও এরুপ আশ্চর্য হয়েছিলাম। তাই রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ব্যাপারটি সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সলাতে ক্বস্‌র করাটা আল্লাহর একটা সদাকাহ বা দান, যা তিনি তোমাদেরকে দান করেছেন। অতএব তোমরা তার এ দান গ্রহণ করো। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৩৬

وعن أنس قال: خرجنا مع رسول الله ﷺ من المدينة إلى مكة فكان يصلى ركعتين ركعتين حتى رجعنا إلى المدينة قيل له: أقمتم بمكة شيئا قال: «أقمنا بها عشرا». (متفق عليه)

তিনি বলেন, আমরা (বিদায় হাজ্জের সময়) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে মাদীনাহ্ হতে মাক্কায় গমন করেছিলাম। সেখানে তিনি মাদীনার ফেরত না আসা পর্যন্ত চার রাক্’আত ফার্‌য সলাতের স্থলে দু’রাক্’আত আদায় করেছেন। আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, আপনারা কি মাক্কায় কয়েক দিন অবস্থান করেছিলেন? জবাবে আনাস বললেন, হ্যাঁ, আমরা মাক্কায় দশদিন অবস্থান করেছিলাম। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৩৭

وعن ابن عباس قال: سافر النبي ﷺ سفرا فأقام تسعة عشر يوما يصلى ركعتين ركعتين قال ابن عباس: فنحن نصلى فيما بيننا وبين مكة تسعة عشر ركعتين ركعتين فإذا أقمنا أكثر من ذلك صلينا أربعا. رواه البخاري

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ভ্রমনে গিয়ে ঊনিশ দিন অবস্থান করেন। এ সময় তিনি দু’রাক্’আত করে ফার্‌য সলাত আদায় করেন। ইবনু ‘আব্বাস বলেন আমরাও মাক্কাহ্ মাদীনার মধ্যে কোথাও গেলে সেখানে উনিশ দিন অবস্থান করলে আমরা দু’রাক্’আত করে সলাত আদায় করতাম। এর চেয়ে বেশী দিন অবস্থান করলে চার রাক্’আত করে ক্বায়িম করতাম। (বুখারী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৩৮

وعن حفص بن عاصم قال: صحبت ابن عمر فى طريق مكة فصلى لنا الظهر ركعتين ثم جاء رحله وجلس فرأى ناسا قياما فقال: ما يصنع هؤلاء؟ قلت: يسبحون. قال: لو كنت مسبحا أتممت صلاتي. صحبت رسول الله ﷺ فكان لا يزيد في السفر على ركعتين وأبا بكر وعمر وعثمان كذلك. (متفق عليه)

তিনি বলেন, একবার মাক্কাহ্-মাদীনার পথে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমারের সাথে থাকার আমার সোভাগ্য ঘটেছ। (যুহরের সালাতের সময় হলে) তিনি আমাদেরকে দু’রাক্’আত সলাত (জামা’আতে) আদায় করালেন। এখান থেকে তাঁবুতে ফিরে গিয়ে তিনি দেখলেন লোকেরা দাঁড়িয়ে আছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন লোকেরা কি করছে? আমি বললাম তারা নাফ্‌ল সলাত আদায় করছে। তিনি বললেন, আমাকে যদি নাফ্‌ল সালাতই আদায় করতে হয়, তাহলে ফার্‌য সলাতই তো পরিপূর্ণভাবে আদায় করা বেশী ভালো ছিল। কিন্তু যখন সহজ করার জন্য ফার্‌য সলাত ক্বস্‌র আদায়ের হুকুম হয়েছে তখন তো নফল সলাত ছেড়ে দেয়াই উত্তম। আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে থাকার সৌভাগ্যও পেয়েছি। তিনি সফরের অবস্থায় দু’রাক’আতের বেশী (ফার্‌য) সলাত আদায় করতেন না। আবূ বাক্‌র, ‘উমার, উসমান (রাঃ) এর সাথে চলারও সুযোগ আমার হয়েছে। তাঁরাও এভাবে দু’ রাক’আতের বেশী আদায় করতেন না। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৩৯

وعن ابن عباس قال: كان رسول الله ﷺ يجمع بين الظهر والعصر إذا كان على ظهر سير ويجمع بين المغرب والعشاء. رواه البخاري

তিনি বলেন রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সফরে গেলে যুহর ও ‘আস্‌রের সলাত এক সাথে আদায় করতেন। (ঠিক এমনিভাবে) মাগরিব ও ‘ইশার সলাত একসাথে আদায় করতেন। (বুখারী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৪০

وعن ابن عمر قال: كان رسول الله ﷺ يصلى في السفر على راحلته حيث توجهت به يومئ إيماء صلاة الليل إلا الفرائض ويوتر على راحلته. (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভ্রমণে গেলে রাতের বেলায় ফার্‌য সলাত ছাড়া (অন্য সলাত) সওয়ারীর উপর বসেই ইশারা করে আদায় করতেন। সওয়ারীর মুখ যে দিকে থাকতো তার মুখও সে দিকে থাকত। এমনি ভাবে বিত্‌রের সলাত তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সওয়ারীর উপরই আদায় করেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৪১

وعن عائشة رضي الله عنها قالت: كان ذلك قد فعل رسول الله ﷺ قصر الصلاة وأتم. رواه في شرح السنة

তিনি বলেন সফরকালে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সব রকমই করেছেন। তিনি (সফর অবস্থায়) ক্বস্‌রও আদায় করতেন আবার পূর্ণ সলাতও আদায় করতেন। (শারহূস্‌ সুন্নাহ্‌) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৪২

وعن عمران بن حصين قال: غزوت مع النبي ﷺ وشهدت معه الفتح فأقام بمكة ثماني عشرة ليلة لا يصلى إلا ركعتين يقول: «يا أهل البلد صلوا أربعا فإنا سفر» . رواه أبو داود

তিনি বলেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে অনেক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। মাক্কাহ্ বিজয়ের সময়ও তাঁর সাথে ছিলাম। এ সময়ে তিনি আঠার দিন মাক্কায় অবস্থানরত ছিলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চার রাক্’আত বিশিষ্ট সলাত দু’রাক্‌আত আদায় করেছিলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন হে শহরবাসীরা! তোমরা চার রাক্’আত করে সলাত আদায় কর। আমি মুসাফির (তাই দু’রাক্’আত আদায় করছি)। (আবূ দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৪৩

وعن ابن عمر قال: صليت مع النبي ﷺ الظهر في السفر ركعتين وبعدها ركعتين وفي رواية قال: صليت مع النبي ﷺ في الحضر والسفر فصليت معه في الحضر الظهر أربعا وبعدها ركعتين وصليت معه في السفر الظهر ركعتين وبعدها ركعتين والعصر ركعتين ولم يصل بعدها شيئا والمغرب في الحضر والسفر سواء ثلاث ركعات ولا ينقص في حضر ولا سفر وهي وتر النهار وبعدها ركعتين. رواه الترمذي

তিনি বলেন, আমি নাবী কারীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে সফরে দু’রাক্’আত যুহর ও এরপর দু’রাক্’আত সুন্নাত আদায় করেছি। আর এক বর্ণনায় আছে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার বলেন আবাসে ও সফরে আমি নবী কারীম(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে সলাত আদায় করেছি। আবাসে তাঁর সাথে যুহর সলাত আদায় চার রাক্’আত আদায় করেছি এবং সফরে যুহর দু’রাক্’আত ও ‘আস্‌র দু’রাক্’আত আদায় করেছি। এর পর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আর কোন সলাত আদায় করেননি। মাগরিবের সলাত আদায় করেছেন আবাসে ও সফরে সমান ভাবে তিন রাক্’আত। আবাসে ও সফরে কোন অবস্থাতেই মাগরিবের বেশ কম হয় না। এইটা হল দিনের বিত্‌রের সলাত। এরপর তিনি আদায় করেছেন দু’রাক্’আত সুন্নাত। (তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৪৪

وعن معاذ بن جبل قال: كان النبي ﷺ في غزوة تبوك: إذا زاغت الشمس قبل أن يرتحل جمع بين الظهر والعصر وإن ارتحل قبل أن تزيغ الشمس أخر الظهر حتى ينزل للعصر وفي المغرب مثل ذلك إذا غابت الشمس قبل أن يرتحل جمع بين المغرب والعشاء وإن ارتحل قبل أن تغيب الشمس أخر المغرب حتى ينزل للعشاء ثم يجمع بينهما. رواه أبو داود والترمذي

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাবূকের যুদ্ধ চলাকালে যুহরের সময় সূর্য ঢলে গেলে যুহর ও ‘আস্‌রের সলাত দেরী করতেন এবং ‘আস্‌রের সলাতের জন্য মঞ্জিলে নামতেন অর্থাৎ- যুহর ও ‘আস্‌রের সলাত একসাথে আদায় করতেন। মাগরিবের সলাতের সময়ও তিনি এরুপ করতেন। সূর্য তাঁর ফিরে আসার আগে ডুবে গেলে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাগরিব ও ‘ইশার সলাত একত্রে আদায় করতেন। আর সূর্য অস্ত যাবার আগে চলে আসলে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাগরিবের সলাতে দেরী করতেন। ’ইশার সলাতের জন্য নামতেন এবং দু’সলাত একত্রে আদায় করতেন। (আবূ দাউদ, তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৪৫

وعن أنس قال: كان رسول الله ﷺ إذا سافر وأراد أن يتطوع استقبل القبلة بناقته فكبر ثم صلى حيث وجهه ركابه. رواه أبو داود

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সফরে (অর্থাৎ শহরের বাইরে) যেতেন (মুসাফির অবস্থায় হোক অথবা মুক্বীম) নাফ্‌ল সলাত আদায় করতে চাইতেন, তখন উটের মুখ ক্বিবলার দিকে করে নিতেন এবং তাকবীরে তাহরীমাহ্‌ বলে যেদিকে সওয়ারীর মুখ করতেন সেদিকে মুখ করে তিনি সলাত আদায় করতেন।(আবূ দাউদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৪৬

وعن جابر قال: بعثنى رسول الله ﷺ في حاجة فجئت وهو يصلى على راحلته نحو المشرق ويجعل السجود أخفض من الركوع. رواه أبو داود

তিনি বলেন রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কোন প্রয়োজনে আমাকে পাঠালেন। আমি প্রত্যাবর্তন করে এসে দেখি তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বাহনের উপর পূর্ব দিকে মুখ ফিরে সলাত ক্বায়িম করছেন। তবে তিনি রুকু’ হতে সাজদায় একটু বেশী নীচু হতেন।(আবূ দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৪৭

عن ابن عمر قال: صلى رسول الله ﷺ بمنى ركعتين وأبو بكر بعده وعمر بعد أبي بكر وعثمان صدرا من خلافته ثم إن عثمان صلى بعد أربعا فكان ابن عمر إذا صلى مع الإمام صلى أربعا وإذا صلاها وحده صلى ركعتين. (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিনায় (চার রাক্’আত বিশিষ্ট সলাত) দু’রাক্’আত সলাত আদায় করেছেন। তারপর আবূ বাক্রও দু’রাক্’আত সলাত আদায় করেছেন। অতঃপর ‘উমারও দু’রাক্’আত সলাত আদায় করেছেন। ‘উসমান (রাঃ) তার খিলাফাতকালের প্রথম দিকে দু’রাক্আত্ই সলাত আদায় করতেন। কিন্তু পরে তিনি চার রাক্’আত আদায় করতে শুরু করেন। ইবনু ‘উমার-এর ব্যাপারে বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন ইমামের (‘উসমান-এর) সাথে সলাত আদায় করতেন, তখন চার রাক্’আত আদায় করতেন। আর একাকী হলে (সফরে) দু’রাক্’আত আদায় করতেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية