সলাতুত্ তাসবীহ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > সলাতুত্ তাসবীহ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩২৮

عن ابن عباس أن النبي ﷺ قال: للعباس بن عبد المطلب: «يا عباس يا عماه ألا أعطيك؟ ألا أمنحك؟ ألا أحبوك؟ ألا أفعل بك عشر خصال إذا أنت فعلت ذلك غفر الله لك ذنبك أوله واخره قديمه وحديثه خطأه وعمده صغيره وكبيره سره وعلانيته: أن تصلي أربع ركعات تقرأ في كل ركعة فاتحة الكتاب وسورة. فإذا فرغت من القراءة في أول ركعة وأنت قائم قلت سبحان الله والحمد لله ولا إله إلا الله والله أكبر خمس عشرة مرة ثم تركع فتقولها وأنت راكع عشرا ثم ترفع رأسك من الركوع فتقولها عشرا ثم تهوي ساجدا فتقولها وأنت ساجد عشرا ثم ترفع رأسك من السجود فتقولها عشرا ثم تسجد فتقولها عشرا ثم ترفع رأسك فتقولها عشرا فذلك خمس وسبعون في كل ركعة تفعل ذلك في أربع ركعات إن استطعت أن تصليها في كل يوم فافعل فإن لم تفعل ففي كل جمعة مرة فإن لم تفعل ففي كل شهر مرة فإن لم تفعل ففى كل سنة مرة فإن لم تفعل ففى عمرك مرة». رواه أبو داود وابن ماجه والبيهقي في الدعوات الكبير

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আব্বাস ইবনু ‘আবদু’ল মুত্তালিবকে বললেন, হে ‘আব্বাস! হে আমার চাচাজান! আমি কি আপনাকে দান করব না? আমি কি আপনাকে দান করব না? আমি কি আপনাকে বলে দেব না? আপনাকে কি দশটি অভ্যাসের অধিপতি বানিয়ে দেব না? আপনি যদি এগুলো ‘আমাল করেন তাহলে আল্লাহ আপনাকে পূর্বের, পরের, পুরানো ও নতুন, ইচ্ছাকৃত অথবা ভুলক্রমের, ছোট কি বড়, প্রকাশ্য কি গোপন সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। আর সেটা হলো আপনি চার রাক্’আত সলাত আদায় করবেন। প্রতি রাকআতে ফাতিহাতুল কিতাব ও সঙ্গে একটি সূরাহ্। প্রথম রাকআতে ক্বিরাআত্ পড়া শেষ হলে দাঁড়ানো অবস্থায় পনের বার এ তাসবীহ পড়বেনঃ “সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াল হাম্‌দু লিল্লা-হি, ওয়ালা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু আল্লা-হু আকবার”। তারপর রুকুতে যাবেন। রুকু’তে এ তাসবীহটি দশবার পড়বেন। তারপর রুকু’ থেকে মাথা উঠিয়ে এ তাসবীহ আবার দশবার পড়বেন। তারপর সাজদাহ করবেন। সাজদায় এ তাসবীহ দশবার পড়বেন। তারপর সাজদাহ হতে মাথা উঠাবেন। সেখানেও এ তাসবীহ দশবার পড়বেন। তারপর দ্বিতীয় সাজদায় যাবেন। এ তাসবীহ দশবার এখানেও পড়বেন। সর্বমোট এ তাসবীহ এক রাকআতে পঁচাত্তর বার হবে। চার রাকআতে এরকম পড়ে যেতে হবে। আপনি যদি প্রতিদিন এ সলাত এরকম পড়তে পারেন তাহলে প্রতিদিনই পড়বেন। প্রতিদিন পড়তে না পারলে সপ্তাহে একদিন পড়বেন। সপ্তাহে একদিন পড়তে না পারলে প্রতি মাসে একদিন পড়বেন। যদি প্রতিমাসে একদিন পড়তে না পারেন, বছরে একবার পড়বেন। যদি বছরেও একবার পড়তে না পারেন, জীবনে একবার অবশ্যই পড়বেন। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ্, বায়হাক্বী’র দা’ওয়াতুল কাবীর) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩২৯

وروى الترمذي عن أبى رافع نحوه

ইমাম তিরমিযী এ ধরনের বর্ণনা আবূ রাফি হতে নকল করেছেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৩০

وعن أبي هريرة قال: سمعت رسول الله ﷺ يقول: «إن أول ما يحاسب به العبد يوم القيامة من عمله صلاته فإن صلحت فقد أفلح وأنجح وإن فسدت فقد خاب وخسر فإن انتقص من فريضته شيء قال الرب تبارك وتعالى: نظروا هل لعبدى من تطوع؟ فيكمل بها ما انتقص من الفريضة ثم يكون سائر عمله على ذلك». وفي رواية: «ثم الزكاة مثل ذلك ثم تؤخذ الأعمال حسب ذلك» . رواه أبو داود

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ ক্বিয়ামাতের দিন সব জিনিসের পূর্বে লোকের যে ‘আমালের হিসাব হবে, তা হলো সলাত। যদি তার সলাত সঠিক হয় তাহলে সে সফলকাম হবে ও নাজাত পাবে। আর যদি সলাত বিনষ্ট হয়ে যায় তাহলে সে বিফল ও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। যদি ফার্‌য সলাতের কিছু ভুল হয়ে যায়, তাহলে আল্লাহ তা’আলা মালায়িকাহ-কে (ফেরেশ্‌তাগণকে) বলবেন, দেখো! আমার বান্দার নিকট সুন্নাত ও নাফ্‌ল সলাত আছে কি-না? তাহলে সেখান থেকে এনে বান্দার ফার্‌য সলাতের ত্রুটি পূরণ করে দেয়া হবে। এরপর এ রকম বান্দার অন্যান্য হিসাব নেয়া হবে। অন্য এক বিবরণ এসেছে, তারপর এ রকম যাকাতের হিসাব নেওয়া হবে। অতঃপর অবশিষ্ট সব ‘আমালের হিসাব একের পর এক এ রকম নেয়া হবে। (আবূ দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৩১

ورواه أحمد عن رجل

ইমাম আহ্‌মাদ এ হাদীস আর এক লোক হতে নকল করেছেন। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৩২

وعن أبى أمامة قال: قال رسول الله ﷺ: «ما أذن الله لعبد في شيء أفضل من الركعتين يصليهما وإن البر ليذر على رأس العبد ما دام فى صلاته وما تقرب العباد إلى الله بمثل ما خرج منه» يعني القران. رواه أحمد والترمذي

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তা’আলা বান্দার কোন ‘আমালের প্রতি তাঁর করুণার সঙ্গে এত বেশী লক্ষ্য করেন না, যতটা তার পড়া দু’রাক্’আত সলাতের প্রতি করেন। বান্দা যতক্ষন সলাতে লিপ্ত থাকে তার মাথার উপর নেক ও কল্যাণ ছড়িয়ে দেয়া হয়। আর বান্দা আল্লাহর নৈকট্য লাভের সম্পর্কে যেভাবে তার থেকে বের হয়ে আসা হিদায়াতের উৎস অর্থাৎ আল-কুরআন হতে উপকৃত হয়, আর কোন জিনিস হতে এমন উপকৃত হয় না। (আহ্‌মাদ, তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৩৩

عن أنس: أن رسول الله ﷺ صلى الظهر بالمدينة أربعا وصلى العصر بذي الحليفة ركعتين. (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মাদীনায় যুহরের সলাত চার রাক্’আত আদায় করেছেন। তবে যুল হুলায়ফায় ‘আস্‌রের সলাত দু’রাক্’আত আদায় করেছেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৩৪

وعن حارثة بن وهب الخزاعي قال: صلى بنا رسول الله ﷺ ونحن أكثر ما كنا قط وامنه بمنا ركعتين. (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে সাথে নিয়ে ‘মিনায়’ দু’রাক্’আত সলাত আদায় করেছেন। এ সময় আমার সংখ্যায় এত বেশী ছিলাম যা এর আগে কখনো ছিলান না এবং নিরাপদ ছিলাম। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৩৫

وعن يعلى بن أمية قال: قلت لعمر بن الخطاب: إنما قال الله تعالى ﴿أن تقصروا من الصلاة إن خفتم أن يفتنكم الذين كفروا﴾ [النساء 4 : 101] ، فقد أمن الناس. قال عمر: عجبت مما عجبت منه فسألت رسول الله ﷺ. فقال: «صدقة تصدق الله بها عليكم فاقبلوا صدقته» رواه مسلم

তিনি বলেন, আমি ‘উমারের কাছে নিবেদন করলাম, আল্লাহ তা’আলার বানী হলো, “তোমরা সলাত কম আদায় করো, অর্থাৎ ক্বস্‌র করো, যদি অমুসলিমরা তোমাদেরকে বিপদে ফেলবে বলে আশংকা করো”-(সূরাহ্‌ আন্‌ নিসা ৪:১০১)। এখন তো লোকেরা নিরাপদ। তাহলে ক্বস্‌রের সলাত আদায়ের প্রয়োজনটা কি? ‘উমার (রাঃ) বললেন, তুমি এ ব্যাপারে যেমন বিস্মিত হচ্ছো, আমিও এরুপ আশ্চর্য হয়েছিলাম। তাই রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ব্যাপারটি সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সলাতে ক্বস্‌র করাটা আল্লাহর একটা সদাকাহ বা দান, যা তিনি তোমাদেরকে দান করেছেন। অতএব তোমরা তার এ দান গ্রহণ করো। (মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৩৬

وعن أنس قال: خرجنا مع رسول الله ﷺ من المدينة إلى مكة فكان يصلى ركعتين ركعتين حتى رجعنا إلى المدينة قيل له: أقمتم بمكة شيئا قال: «أقمنا بها عشرا». (متفق عليه)

তিনি বলেন, আমরা (বিদায় হাজ্জের সময়) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে মাদীনাহ্ হতে মাক্কায় গমন করেছিলাম। সেখানে তিনি মাদীনার ফেরত না আসা পর্যন্ত চার রাক্’আত ফার্‌য সলাতের স্থলে দু’রাক্’আত আদায় করেছেন। আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, আপনারা কি মাক্কায় কয়েক দিন অবস্থান করেছিলেন? জবাবে আনাস বললেন, হ্যাঁ, আমরা মাক্কায় দশদিন অবস্থান করেছিলাম। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৩৭

وعن ابن عباس قال: سافر النبي ﷺ سفرا فأقام تسعة عشر يوما يصلى ركعتين ركعتين قال ابن عباس: فنحن نصلى فيما بيننا وبين مكة تسعة عشر ركعتين ركعتين فإذا أقمنا أكثر من ذلك صلينا أربعا. رواه البخاري

তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ভ্রমনে গিয়ে ঊনিশ দিন অবস্থান করেন। এ সময় তিনি দু’রাক্’আত করে ফার্‌য সলাত আদায় করেন। ইবনু ‘আব্বাস বলেন আমরাও মাক্কাহ্ মাদীনার মধ্যে কোথাও গেলে সেখানে উনিশ দিন অবস্থান করলে আমরা দু’রাক্’আত করে সলাত আদায় করতাম। এর চেয়ে বেশী দিন অবস্থান করলে চার রাক্’আত করে ক্বায়িম করতাম। (বুখারী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৩৮

وعن حفص بن عاصم قال: صحبت ابن عمر فى طريق مكة فصلى لنا الظهر ركعتين ثم جاء رحله وجلس فرأى ناسا قياما فقال: ما يصنع هؤلاء؟ قلت: يسبحون. قال: لو كنت مسبحا أتممت صلاتي. صحبت رسول الله ﷺ فكان لا يزيد في السفر على ركعتين وأبا بكر وعمر وعثمان كذلك. (متفق عليه)

তিনি বলেন, একবার মাক্কাহ্-মাদীনার পথে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমারের সাথে থাকার আমার সোভাগ্য ঘটেছ। (যুহরের সালাতের সময় হলে) তিনি আমাদেরকে দু’রাক্’আত সলাত (জামা’আতে) আদায় করালেন। এখান থেকে তাঁবুতে ফিরে গিয়ে তিনি দেখলেন লোকেরা দাঁড়িয়ে আছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন লোকেরা কি করছে? আমি বললাম তারা নাফ্‌ল সলাত আদায় করছে। তিনি বললেন, আমাকে যদি নাফ্‌ল সালাতই আদায় করতে হয়, তাহলে ফার্‌য সলাতই তো পরিপূর্ণভাবে আদায় করা বেশী ভালো ছিল। কিন্তু যখন সহজ করার জন্য ফার্‌য সলাত ক্বস্‌র আদায়ের হুকুম হয়েছে তখন তো নফল সলাত ছেড়ে দেয়াই উত্তম। আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে থাকার সৌভাগ্যও পেয়েছি। তিনি সফরের অবস্থায় দু’রাক’আতের বেশী (ফার্‌য) সলাত আদায় করতেন না। আবূ বাক্‌র, ‘উমার, উসমান (রাঃ) এর সাথে চলারও সুযোগ আমার হয়েছে। তাঁরাও এভাবে দু’ রাক’আতের বেশী আদায় করতেন না। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৩৯

وعن ابن عباس قال: كان رسول الله ﷺ يجمع بين الظهر والعصر إذا كان على ظهر سير ويجمع بين المغرب والعشاء. رواه البخاري

তিনি বলেন রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সফরে গেলে যুহর ও ‘আস্‌রের সলাত এক সাথে আদায় করতেন। (ঠিক এমনিভাবে) মাগরিব ও ‘ইশার সলাত একসাথে আদায় করতেন। (বুখারী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩৪০

وعن ابن عمر قال: كان رسول الله ﷺ يصلى في السفر على راحلته حيث توجهت به يومئ إيماء صلاة الليل إلا الفرائض ويوتر على راحلته. (متفق عليه)

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভ্রমণে গেলে রাতের বেলায় ফার্‌য সলাত ছাড়া (অন্য সলাত) সওয়ারীর উপর বসেই ইশারা করে আদায় করতেন। সওয়ারীর মুখ যে দিকে থাকতো তার মুখও সে দিকে থাকত। এমনি ভাবে বিত্‌রের সলাত তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সওয়ারীর উপরই আদায় করেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية