প্রথম অনুচ্ছেদ - মিশকাতুল মাসাবিহ | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩২২

وعن أبى هريرة قال: قال رسول الله ﷺ لبلال عند صلاة الفجر: «يا بلال حدثني بأرجى عمل عملته في الإسلام فإني سمعت دق نعليك بين يدي الجنة» . قال: ما عملت عملا أرجى عندي أني لم أتطهر طهورا من ساعة من ليل ولا نهار إلا صليت بذلك الطهور ما كتب لى أن أصلي (متفق عليه)

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলালকে ফাজ্‌রের সলাতের সময়ে ইরশাদ করলেন : হে বিলাল! ইসলাম কবুল করার পর তুমি এমন কি ‘আমাল করেছ যার থেকে অনেক সওয়াব হাসিলের আশা করতে পার। কেননা, আমি আমার সম্মুখে জান্নাতে তোমার জুতার শব্দ শুনতে পেয়েছি। (এ কথা শুনে) বিলাল বললেন, আমি তো অনেক আশা করার মতো কোন ‘আমাল করিনি। তবে রাত্রে বা দিনে যখনই আমি উযূ করেছি, আমার সাধ্যমতো উযূ দিয়ে আমি (তাহ্ইয়্যাতুল উযূর) সালাত আদায় করেছি। (বুখারী, মুসলিম) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩২৩

عن جابر بن عبد الله قال: كان رسول الله ﷺ يعلمنا الاستخارة في الأمور كما يعلمنا السورة من القران يقول: «إذا هم أحدكم بالأمر فليركع ركعتين من غير الفريضة ثم ليقل: اللهم إني أستخيرك بعلمك وأستقدرك بقدرتك وأسألك من فضلك العظيم فإنك تقدر ولا أقدر وتعلم ولا أعلم وأنت علام الغيوب اللهم إن كنت تعلم أن هذا الأمر خير لى فى دينى ومعاشى وعاقبة أمرى - أوقال فى عاجل أمرى واجله - فاقدره لى ويسره لى ثم بارك لى فيه وإن كنت تعلم أن هذا الأمر شر لى فى دينى ومعاشى وعاقبة أمرى - أو قال فى عاجل أمرى واجله - فاصرفه عنى واصرفنى عنه واقدر لي الخير حيث كان ثم أرضنى به». قال: «ويسمي حاجته» . رواه البخاري

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে (আল্লাহর নিকট) ‘ইস্তিখারাহ্’ করার নিয়ম ও দু’আ এ রকম শিখাতেন, যেভাবে আমাদেরকে তিনি কুরআনের সূরাহ্ শিখাতেন। তিনি বলতেন, তোমাদের কোন লোক কোন কাজ করার সংকল্প করলে সে যেন ফার্য সলাত ব্যতিত দু’ রাক্‘আত নাফল সলাত আদায় করে। তারপর এ দু’আ পড়ে- “আল্ল-হুম্মা ইন্নি আস্তাখীরুকা বি‘’ইলমিকা ওয়া আস্তাক্বদিরুকা বিকুদরাতিকা ওয়া আস্আলুকা মিন ফাযলিকাল ‘আযীমি ফাইন্নাকা তাক্বদিরু ওয়ালা- আক্বদিরু ওয়া তা‘লামু ওয়ালা- আ‘লামু ওয়া আনতা ‘আল্লা-মুল গুয়ূব, আল্লা-হুম্মা ইন্না কুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আমরা খায়রুল লী ফী দীনী ওয়ামা ‘আ-শী ওয়া ‘আ-ক্বিবাতী আমরী আও ক্বা-লা ফী ‘আ-জিলি আমরী ওয়া আ-জিলিহী ফাক্বদুরহু লী ওয়া ইয়াসসিরহু লী সুম্মা বা-রিক লী ফিহি ওয়া ইন কুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আমরা শাররুল লী ফি দীনি ওয়ামা ‘আ-শী ওয়া ‘আ-ক্বিবাতী আমরী আও ক্বা-লা ফী ‘আ-জিলি আমরী ওয়া আ-জিলিহী ফাসরিফহু ‘আন্নী ওয়াসরিফ্নী ‘আন্হু ওয়াক্ব দুরলিয়াল খয়রা হায়সু কা-না সুম্মা আরযিনী বিহী” (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি তোমারই জানার ভিত্তিতে তোমার নিকট কল্যাণ কামনা করছি। তোমার কুদরতের দ্বারা তোমার নিকট নেক ‘আমাল করার শক্তি প্রার্থনা করছি। তোমার নিকট তোমার মহা ফজল চাই। এজন্য তুমি সকল কাজের শক্তি দাও। আমি তোমার ইচ্ছা ব্যতিত কোন কাজ করতে পারব না। তুমি সব কিছুই জানো। আমি কিছুই জানি না। সব গোপন কথা তোমার জানা। হে আল্লাহ! তুমি যদি ইচ্ছা কর এ কাজটি (উদ্দেশ্য) আমার জন্য আমার দীনে, দুনিয়ায়, আমার জীবনে, আমার পরকালে অথবা বলেছেন, এ দুনিয়ায় ঐ দুনিয়ায় ভাল হবে, তাহলে তা আমার জন্যে ব্যবস্থা করে দাও। আমার জন্য তা সহজ করে দাও। তারপর আমার জন্য বারাকাত দান করো। আর তুমি যদি এ কাজকে আমার জন্য আমার দীন, আমার জীবন, আমার পরকাল অথবা বলেছেন, আমার ইহকাল ও পরকালে ক্ষতিগ্রস্থ মনে করো, তাহলে আমাকে তার থেকে, আর তাকে আমার থেকে ফিরিয়ে রাখো। আর আমার জন্যে যা কল্যাণকর তা করে দাও। অতঃপর এর সঙ্গে আমাকে রাজী করো।) হাদীস বর্ণনাকারী বলেন, ‘এ কাজটি’ বলার সময় দরকারের ব্যাপারটি স্মরণ করতে হবে। (বুখারী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩২৪

وعن علي قال: حدثني أبو بكر وصدق أبو بكر. قال: سمعت رسول الله ﷺ يقول: ما من رجل يذنب ذنبا ثم يقوم فيتطهر ثم يصلي ثم يستغفر الله إلا غفر الله له ثم قرأ هذه الاية: ﴿والذين إذا فعلوا فاحشة أو ظلموا أنفسهم ذكروا الله فاستغفروا لذنوبهم﴾ [آل عمران 3 : 135]. رواه الترمذي وابن ماجه إلا أن ابن ماجه لم يذكر الاية

তিনি বলেন, আমীরুল মু’মিনীন আবূ বাকর সিদ্দীক্ব (রাঃ) আমাকে বলেছেন এবং তিনি সম্পূর্ণ সত্য বলেছেন। তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি : যে কোন লোক অন্যায় করার পর (লজ্জিত হয়ে) উঠে গিয়ে উযূ করে ও সলাত আদায় করে এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তা‘আলা তার গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তারপর তিনি এ আয়াত পড়লেন (মূল আয়াত হাদীসে আছে) : -“এবং যেসব লোক এমন কোন কাজ করে বসে যা বাড়াবাড়ি ও নিজেদের ওপর যুলম, এরপর আল্লাহর কথা স্মরণ হয়, তখন নিজেদের গুনাহের জন্যে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকে”- (সূরাহ আ-ল ‘ইমরান ৩ : ১৩৫)। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ; কিন্তু ইবনু মাজাহ উপরোক্ত আয়াত উল্লেখ করেননি)। [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩২৫

وعن حذيفة قال: كان النبي ﷺ إذا حزبه أمر صلى. رواه أبو داود

তিনি বলেন, কোন সম্পর্কে নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে চিন্তিত করে তুললে তিনি নাফল্ সলাত আদায় করতে দাঁড়িয়ে যেতেন। (আবূ দাঊদ) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩২৬

وعن بريدة قال: أصبح رسول الله ﷺ فدعا بلالا فقال: «بم سبقتنى إلى الجنة ما دخلت الجنة قط إلا سمعت خشخشتك أمامى» . قال: يا رسول الله ما أذنت قط إلا صليت ركعتين وما أصابنى حدث قط إلا توضأت عنده ورأيت أن لله علي ركعتين. فقال رسول الله ﷺ: «بهما». رواه الترمذي

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাজ্‌রের সময় বিলালকে ডাকলেন। তাকে তিনি বললেন, কি ‘আমাল দ্বারা তুমি আমার পূর্বে জান্নাতে চলে গেছ। আমি যখনই জান্নাতে প্রবেশ করেছি, তোমার জুতার আওয়াজ শুনেছি। বিলাল আবেদন করলেন, হে আলাহর রাসূল! আমি আযান দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে দু’ রাক্‘আত সলাত অবশ্যই আদায় করি। আর আমার উযূ নষ্ট হয়ে গেলে তখনই আমি উযূ করে আল্লাহর জন্যে দু’ রাক্‘আত সলাত আদায় করা জরুরী মনে করেছি। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : হ্যাঁ, এ কারণেই তুমি এত বিশাল মর্যাদায় পৌঁছে গেছ। (তিরমিযী) [১]


মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩২৭

وعن عبد الله بن أبى أوفى قال: قال رسول الله ﷺ: «من كانت له حاجة إلى الله أو إلى أحد من بنى ادم فليتوضأ فليحسن الوضوء ثم ليصل ركعتين ثم ليثن على الله تعالى وليصل على النبي ﷺ ثم ليقل: لا إله إلا الله الحليم الكريم سبحان الله رب العرش العظيم والحمد لله رب العالمين أسألك موجبات رحمتك وعزائم مغفرتك والغنيمة من كل بر والسلامة من كل إثم لا تدع لي ذنبا إلا غفرته ولا هما إلا فرجته ولا حاجة هي لك رضى إلا قضيتها يا أرحم الراحمين». رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي: هذا حديث غريب

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ আল্লাহর নিকট বা কোন লোকের নিকট কারো কোন দরকার হয়ে পড়লে সে যেন ভাল করে উযূ করে দু’রাক্’আত সলাত আদায় করে। তারপর আল্লাহর প্রশংসা করে, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পড়ে, এ দু’আ পড়ে (দু’আর বাংলা অর্থঃ) “আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। তিনি বড়ই ধৈর্যশীল ও অনুগ্রহশীল। আল্লাহ মহাপবিত্র, তিনি ‘আরশে আযীমের অধিপতি। সব প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার, যিনি সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ঐসব জিনিস চাই যার উপর তোমার রহমত বর্ষিত হয় এবং যা তোমার ক্ষমা পাওয়ার উপায় হয়। আর আমি আমার ভাল কাজের অংশ চাই। সকল গুনাহ থেকে বাঁচতে চাই। হে আল্লাহ! তুমি আমার কোন গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া ব্যতীত, আমার কোন দুঃখ দূর করে দেয়া ব্যতীত, আমার কোন দরকার যা তোমার নিকট পছন্দনীয়, পূরণ করা ব্যতীত রেখে দিও না, হে আর্‌হামার রহিমীন”। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ্; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদিসটি গরীব।) [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية