মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৩
عن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ : إن الله تجاوز عن أمتى ما وسوست به صدورها مالم تعمل به أوتتكـلم. متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : আমার উম্মাতের অন্তরে যে ওয়াসওয়াসাহ্ বা খট্কার উদয় হয়, আল্লাহ তা’আলা তা মাফ করে দিবেন, যতক্ষণ না তারা তা কার্যে রূপায়ণ করে অথবা তা মুখে প্রকাশ করে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৪
وعنه قال جاء ناس من أصحاب رسول الله ﷺ إلى النبي ﷺ فسألوه إنا نجد في أنفسنا ما يتعاظم أحدنا أن يتكـلم به قال : أوقد وجدتموه؟ قالوا نعم قال : ذاك صريح الإيمان. رواه مسلم
তিনি বলেন, (একদা) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কতক সহাবা তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের মধ্যে কেউ তার মনে কোন কোন সময় এমন কিছু কথা (সংশয়) অনুভব করে যা মুখে ব্যক্ত করাও আমাদের মধ্যে কেউ তা গুরুতর অপরাধ মনে করে। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি তা এমন গুরুতর বলে মনে কর? সহাবীগণ বললেন, হাঁ! তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এটাই হল স্বচ্ছ ঈমান। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৫
وعنه قال قال رسول الله ﷺ : يأتي الشيطان أحدكم فيقول من خلق كذا؟ من خلق كذا؟ حتى يقول من خلق ربك؟ فإذا بلغهٗ فليستعذ بالله ولينته. متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : শয়তান তোমাদের মধ্যে কারো কারো নিকটে আসে এবং (বিভিন্ন ব্যাপারে) প্রশ্ন করে, এটা কে সৃষ্টি করেছে? ঐটা কে সৃষ্টি করেছে? এমনটি অবশেষে এটাও বলে বসে যে, তোমার রবকে কে সৃষ্টি করেছে? শয়তান যখন এ পর্যায়ে পৌঁছে, তখন তার উচিত আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা যাতে সে এ ধারণা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৬
وعنه قال قال رسول الله ﷺ «لا يزال الناس يتساءلون حتى يقال هذا خلق الله الخلق فمن خلق الله؟ فمن وجد من ذلك شيئا فليقل اۤمنت بالله ورسوله». متفق عليه
তিনি বলেন,রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, সব সময় মানুষ (বিভিন্ন ব্যাপারে) পরস্পর কথোপকথন করতে থাকে। পরিশেষে এ পর্যায়ে এসে পৌঁছে যে, এসব মাখলূক্ব তো আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, তাহলে আল্লাহকে সৃষ্টি করেছে কে? তাই যে ব্যক্তির মনে এ জাতীয় খট্কা, সংশয়, সন্দেহের উদয় হয় সে যেন বলে উঠে, আমি আল্লাহর প্রতি ও আল্লাহর রসূলের প্রতি ঈমান এনেছি। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৭
وعن ابن مسعود قال قال رسول الله ﷺ : «ما منكم من أحد الا وقد وكل به قرينه من الجن وقرينه من الملائكة» قالوا : وإياك يا رسول الله؟ قال : «وإياي، ولكن الله أعانني عليه فأسلم فلا يأمرني الا بخير». رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার সাথে তার একটি জিন্ (শায়ত্বন) ও একজন মালাক (ফেরেশতা) সঙ্গী হিসেবে নিযুক্ত করে দেয়া হয়নি। সহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার সাথেও কি? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমার সাথেও, তবে আল্লাহ তা’আলা আমাকে জিন্ শাইত্বনের ব্যাপারে সাহায্য করেছেন। ফলে সে আমার অনুগত হয়েছে। ফলে সে কক্ষনও আমাকে কল্যাণকর কাজ ব্যতীত কোন পরামর্শ দেয় না। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৮
وعن انس قال قال رسول الله ﷺ : «إن الشيطان يجري من الإنسان مجرى الدم». متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : মানুষের মধ্যে শয়তান (তার) শিরা-উপশিরায় রক্তের মধ্যে বিচরণ করে থাকে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৬৯
وعن أبي هريرة قال قال رسول الله ﷺ : «ما من بني اۤدم مولود الا يمسه الشيطان حين يولد فيستهل صارخا من مس الشيطان غير مريم وابنها». متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : আদাম সন্তানের মধ্যে এমন কেউ নেই যার জন্মলগ্নে শয়তান তাকে স্পর্শ করেনি। আর এ কারণেই সন্তান জন্মকালে চিৎকার দিয়ে উঠে। শুধুমাত্র মারইয়াম ও তাঁর পুত্র [‘ঈসা আঃ] এর ব্যতিক্রম (তাদের শয়তান স্পর্শ করতে পারেনি)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৭০
عنه قال قال رسول الله ﷺ : صياح المولود حين يقع نزغة من الشيطان. متفق عليه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : জন্মের সময় শিশু এজন্য চিৎকার করে যে, শয়তান তাকে খোঁচা মারে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৭১
وعن جابر قال قال رسول الله ﷺ : «إن إبليس يضع عرشهٗ على الماء ثم يبعث سراياه يفتنون الناس فأدناهم منه منزلة أعظمهم فتنة يجيء أحدهم فيقول فعلت كذا وكذا فيقول ما صنعت شيئا قال ثم يجيء أحدهم فيقول ما تركتهٗ حتى فرقت بينهٗ وبين امرأته قال فيدنيه منه ويقول نعم أنت» قال الأعمش أراه قال : فيلتزمهٗ. رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : ইবলীস (শায়ত্বন) সমুদ্রের পানির উপর তার সিংহাসন স্থাপন করে। অতঃপর মানুষের মধ্যে ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টি করার জন্য সেখান থেকে তার বাহিনী চারদিকে প্রেরণ করে। এদের মধ্যে সে শায়ত্বনই তার নিকট সর্বাধিক সম্মানিত যে শয়তান মানুষকে সবচেয়ে বেশী ফিতনায় নিপতিত করতে পারে। তাদের মধ্যে একজন ফিরে এসে বলে, আমি এরূপ এরূপ ফিতনাহ্ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করেছি। তখন সে (ইবলীস) প্রত্যুত্তরে বলে, তুমি কিছুই করনি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, অতঃপর এদের অপর একজন এসে বলে, আমি মানব সন্তানকে ছেড়ে দেইনি, এমনকি দম্পতির মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ করে দিয়েছি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, শয়তান এ কথা শুনে তাকে নিকটে বসায় আর বলে, তুমিই উত্তম কাজ করেছো। বর্ণনাকারী আ’মাশ বলেন, আমার মনে হয় জাবির (রাঃ) এটাও বলেছেন যে, “অতঃপর ইবলীস তার সাথে আলিঙ্গন করে”। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৭২
وعنه قال قال رسول الله ﷺ : «إن الشيطان قد أيس من أن يعبده المصلون في جزيرة العرب ولكن في التحريش بينهم». رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: শয়তান এ বিষয়ে নিরাশ হয়ে গেছে যে, জাযীরাতুল ‘আরাব-এর মুসল্লীরা তার ‘ইবাদাত করবে, তবে সে তাদের পরস্পরের মধ্যে বিচ্ছেদ-বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টির ব্যাপারে নিরাশ হয়নি। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৩
عن ابن عباس أن النبي ﷺ جاءه رجل فقال إنى أحدث نفسى بالشيء لان أكون حممة أحب إلي من أن أتكلم به قال : «الحمد لله الذى رد أمره إلى الوسوسة». رواه أبو داوٗد
তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খিদমাতে এসে বলল,হে আল্লাহর রসূল! আমি মনে এমন কুধারণা পাই যা মুখে প্রকাশ অপেক্ষা আগুনে জ্বলে কয়লা হয়ে যাওয়াই শ্রেয়। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আল্লাহর শুকরিয়া যে, আল্লাহ (তোমার) এ বিষয়কে কল্পনার সীমা পর্যন্তই রেখে দিয়েছেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৪
وعن ابن مسعود قال قال رسول الله ﷺ : «إن للشيطان لمة بابن اۤدم وللملك لمة فأما لمة الشيطان فإيعاد بالشر وتكذيب بالحق وأما لمة الملك فإيعاد بالخير وتصديق بالحق فمن وجد ذلك فليعلم أنه من الله فليحمد الله ومن وجد الأخرى فليتعوذ بالله من الشيطان الرجيم». ثم قرأ : ﴿الشيطان يعدكم الفقر ويأمركم بالفحشاۤء﴾. رواه الترمذي وقال هذا حديث غريب
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : সকল মানুষের ওপরই শায়ত্বনের একটি ছোঁয়া রয়েছে এবং একইভাবে মালায়িকারও (ফেরেশতাদেরও) একটি ছোঁয়া আছে। শায়ত্বনের ছোঁয়া হল, সে মানুষকে মন্দ কাজের দিকে উস্কে দেয়, আর সত্যকে মিথ্যায় প্রতিপন্ন করে। অপরদিকে মালায়িকার ছোঁয়া হল, তারা মানুষকে কল্যাণের দিকে উৎসাহিত করে, আর সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করে। সুতরাং যে লোক মালায়িকার উৎসাহ-উদ্দীপনার অবস্থা নিজের মধ্যে দেখতে পায়, তখন তার মনে করতে হবে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে হচ্ছে, আর এ কারণে সে যেন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি নিজের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থা অর্থাৎ শায়ত্বনের ওয়াস্ওয়াসাহ্ পায় সে যেন অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চায়। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সমর্থনে (কুরআনের আয়াতটি) পাঠ করলেন (অনুবাদ) : “শায়ত্বন তোমাদেরকে অভাব-অনটনের ভয় দেখিয়ে থাকে এবং অশ্লীলতার আদেশ করে থাকে”- (সূরাহ বাক্বারাহ্ ২ : ২৬৮)। এ হাদীসটি তিরমিযী নকল করেছেন এবং বলেছেন হাদীসটি গরীব। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ৭৫
وعن أبي هريرة عن رسول ﷺ قال : «لا يزال الناس يتساءلون حتى يقال هذا خلق الله الخلق فمن خلق الله؟ فإذا قالوا ذلك فقولوا الله أحد الله الصمد لم يلد ولم يولد ولم يكن له كفوا أحد ثم ليتفل عن يساره ثلاثا وليستعذ من الشيطان الرجيم». رواه أبو داوٗد وسنذكر حديث عمرو بن الأحوص في باب خطبة يوم النحر إن شاء الله تعالى
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : মানুষেরা তো (প্রথম সৃষ্টি জগত ইত্যাদি সম্পর্কে) পরস্পরের প্রতি প্রশ্ন করতে থাকবে, এমনটি সর্বশেষে এ প্রশ্নও করবে, সমস্ত মাখলূক্বাতকে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, তবে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? যখন তারা এ প্রশ্ন উত্থাপন করে তখন তোমরা বলবে : আল্লাহ এক, তিনি অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি আর কেউ তাকে জন্ম দেননি। তাঁর সমকক্ষও কেউ নেই। অতঃপর (শাইত্বনের উদ্দেশে) তিনবার নিজের বাম দিকে থু থু ফেলবে এবং বিতাড়িত শয়তান হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাবে। [১] (মিশকাতের লেখক বলেন) ‘উমার ইবনু আহ্ওয়াস-এর হাদীস ‘খুতবাতু ইয়াওমিন্ নাহ্র’ অধ্যায়ে বর্ণনা করবে ইন্শাআল্লাহ তা’আলা।