মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩০১
عن عبد الرحمن بن عبد القاري قال: خرجت مع عمر بن الخطاب ليلة في رمضان إلى المسجد فإذا الناس أوزاع متفرقون يصلي الرجل لنفسه ويصلي الرجل فيصلي بصلاته الرهط فقال عمر: إني أرى لو جمعت هؤلاء على قارئ واحد لكان أمثل ثم عزم فجمعهم على أبي بن كعب ثم خرجت معه ليلة أخرى والناس يصلون بصلاة قارئهم. قال عمر : نعم البدعة هذه والتى تنامون عنها أفضل من التى تقومون. يريد اخر الليل وكان الناس يقومون أوله. رواه البخاري
তিনি বলেন, একবার রমযান মাসের রাত্রে ‘উমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) -এর সঙ্গে আমি মাসজিদে গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখলাম মানুষ অমীমাংসিত বিক্ষিপ্ত অবস্থায়। কেউ একা একা নিজের সলাত আদায় করছে। আর কারো পেছনে ছোট একদল সলাত আদায় করছে এ অবস্থা দেখে ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি যদি সকলকে একজন ইমামের পেছনে জমা করে দেই তাহলেই চমৎকার হবে। তাই তিনি এ কাজের ইচ্ছা পোষণ করে ফেললেন এবং সকলকে উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) -এর পেছনে জমা করে তাকে তারাবীহ সলাতের জন্যে লোকের ইমাম বানিয়ে দিলেন। ‘আবদুর রহমান বলেন, এরপর আমি একদিন ‘উমারের সঙ্গে মাসজিদে গেলাম। সকল লোককে দেখলাম তারা তাদের ইমামের পেছনে (তারাবীহের) সলাত আদায় করছে। ‘উমার তা দেখে বললেন, “উত্তম বিদ‘আত”। আর তারাবীহের এ সময়ের সলাত তোমাদের ঘুমিয়ে থাকার সময়ের সলাতের চেয়ে ভাল। এ কথার দ্বারা ‘উমার বুঝাতে চেয়েছেন শেষ রাতকে। অর্থাৎ তারাবীহের রাতের প্রথমাংশের চেয়ে শেষাংশে আদায় করাই উত্তম। ঐ সময়ের লোকেরা তারাবীহের সলাত প্রথম ভাগে আদায় করে ফেলতেন। (বুখারী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩০২
وعن السائب بن يزيد قال: أمر عمر أبي بن كعب وتميما الداري أن يقوما للناس في رمضان بإحدى عشرة ركعة فكان القارئ يقرأ بالمئين حتى كنا نعتمد على العصا من طول القيام فما كنا ننصرف إلا في فروع الفجر. رواه مالك
তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) উবাই ইবনু কা‘ব ও তামীম আদ দারী-কে আদেশ করলেন যেন তারা লোকেদেরকে নিয়ে রমাযান মাসের রাতের এগার রাকা‘আত তারাবীহের সলাত আদায় করে। এ সময় ইমাম তারাবীহের সলাতে এ সূরাগুলো পড়তেন। যে সূরার প্রত্যেকটিতে একশতের বেশী আয়াত ছিল। বস্তুতঃ কিয়াম বেশী লম্বা হওয়ার কারণে আমরা আমাদের লাঠির উপর ভর করে দাঁড়িয়ে ফাজরের নিকটবর্তী সময়ে সলাত শেষ করতাম। (মালিক) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩০৩
وعن الأعرج قال: ما أدركنا الناس إلا وهم يلعنون الكفرة فى رمضان قال: وكان القارئ يقرأ سورة البقرة فى ثمان ركعات وإذا قام بها فى ثنتى عشرة ركعة رأى الناس أنه قد خفف. رواه مالك
তিনি বলেন, আমরা সব সময় লোকদেরকে (সহাবীদেরকে) পেয়েছি তারা রমযান মাসে কাফিরদের ওপর লা‘নাত বর্ষণ করতেন। সে সময় ক্বারী অর্থাৎ তারাবীহের সলাতের ইমামগণ সূরাহ আল বাক্বারাহ-কে আট রাকা‘আতে পড়তেন। যদি কখনো সূরাহু আল বাক্বারাহ-কে বারো রাকা‘আতে পড়ত, তাহলে লোকেরা মনে করত ইমাম সলাত সংক্ষেপ করে ফেলেছেন। (মালিক) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩০৪
وعن عبد الله بن أبي بكر قال: سمعت أبي يقول: كنا ننصرف فى رمضان من القيام فنستعجل الخدم بالطعام مخافة فوت السحور. وفى أخرى مخافة الفجر. رواه مالك
তিনি বলেন, আমি উবাইকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমরা রমযান মাসে ‘ক্বিয়াম’ অর্থাৎ তারাবীহের সলাত শেষ করে ফিরতাম রাত শেষ হয়ে সাহরীর সময় থাকবে না ভয়ে খাদিমদেরকে তাড়াতাড়ি খাবার দিতে বলতাম। অন্য এক সূত্রের ভাষ্য হলো, ফাজরের সময় হয়ে যাবার ভয়ে (খাদিমদেরকে দ্রুত খাবার দিতে বলতাম)। (মালিক) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩০৫
وعن عائشة عن النبي ﷺ قال: «هل تدرين ما هذه الليل؟» يعنى ليلة النصف من شعبان قالت: ما فيها يا رسول الله فقال: «فيها أن يكتب كل مولود من بنى ادم فى هذه السنة وفيها أن يكتب كل هالك من بنى ادم في هذه السنة وفيها ترفع أعمالهم وفيها تنزل أرزاقهم» . فقالت: يا رسول الله ما من أحد يدخل الجنة إلا برحمة الله تعالى؟ فقال: «ما من أحد يدخل الجنة إلا برحمة الله تعالى» . ثلاثا. قلت: ولا أنت يا رسول الله؟ فوضع يده على هامته فقال: «ولا أنا إلا أن يتغمدني الله برحمته» . يقولها ثلاث مرات. رواه البيهقي في الدعوات الكبير
তিনি বলেন, নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন : তুমি কি জানো এ রাতে অর্থাৎ শা‘বান মাসের পনের তারিখে কি ঘটে? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি তো জানি না। আপনিই বলে দিন এ রাতে কি ঘটে? রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : বানী আদামের প্রতিটি লোক যারা এ বছর জন্মগ্রহণ করবে এ রাতে তাদের নাম লেখা হয়। আদাম সস্তানের যারা এ বছর মৃত্যুবরণ করবে এ রাতে তা ঠিক করা হয়। এ রাতে বান্দাদের ‘আমাল উপরে উঠিয়ে নেয়া হয়। এ রাতে বান্দাদের রিযক্ব আসমান থেকে নাযিল করা হয়। ‘আয়িশাহ এমএ প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রসূল! কোন লোকই আল্লাহর রহমাত ব্যতীত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না? তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করলেন : হ্যাঁ! কোন মানুষই আল্লাহর রহমাত ব্যতীত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ বাক্যটি তিনবার উচ্চারণ করলেন। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) আবেদন করলেন, এমনকি আপনিও নয়! এবার তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপন মাথায় হাত রেখে বললেন, আমিও না, তবে আল্লাহ তার রহমাত দ্বারা আমাকে আবৃত করে নেবেন। এ বাক্যটিও তিনি তিনবার উচ্চারণ করলেন। (বায়হাক্বী এ বর্ণনাটি দা‘ওয়াতুল কাবীর নামক গ্রন্থে নকল করেছে) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩০৬
وعن أبى موسى الأشعري عن رسول الله ﷺ قال: «إن الله تعالى ليطلع في ليلة النصف من شعبان فيغفر لجميع خلقه إلا لمشرك أو مشاحن» . رواه ابن ماجه
রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : আল্লাহ তা‘আলা শা‘বান মাসের পনের তারিখ রাত্রে অর্থাৎ ‘শবে বরাতে’ দুনিয়াবাসীর প্রতি ফিরেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া তাঁর সৃষ্টির সকলের গুনাহ ক্ষমা করে দেন। (ইবনু মাজাহ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩০৭
ورواه أحمد عن عبد الله بن عمرو بن العاص وفى روايته: «إلا اثنين مشاحن وقاتل نفس
ইমাম আহমাদ (রহঃ) এ হাদীসটি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের এক বর্ণনায় এ বাক্যটি আছে যে, কিন্তু দু’ লোক : ‘হিংসা পোষণকারী ও আত্মহত্যাকারী ব্যতীত আল্লাহ তার সকল সৃষ্টিকে মাফ করে দেন)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩০৮
وعن علي قال: قال رسول الله ﷺ: «إذا كانت ليلة النصف من شعبان فقوموا ليلها وصوموا يومها فإن الله تعالى ينزل فيها لغروب الشمس إلى السماء الدنيا فيقول: ألا من مستغفر فأغفر له؟ ألا مسترزق فأرزقه؟ ألا مبتلى فأعافيه؟ ألا كذا ألا كذا حتى يطلع الفجر». رواه ابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : শা‘বান মাসের পনের তারিখ রাত হলে তোমরা সে রাত্রে সলাত আদায় কর ও দিনে রোযা রাখো। কেননা, আল্লাহ তা‘আলা এ রাত্রে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং (দুনিয়াবাসীকে উদ্দেশ্য করে) বলেন, কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো। কোন রিযক্বপ্রার্থী আছে, আমি তাকে রিযক্ব দান করব? কোন বিপদগ্রস্ত কি আছে, আমি তাকে বিপদ মুক্ত করে দেব? এভাবে আল্লাহ মানুষের প্রতিটি দরকার ও প্রতিটি বিপদের নাম উল্লেখ করে তাঁর বান্দাদেরকে সকাল হওয়া পর্যন্ত আহবান করতে থাকেন। (ইবনু মাজাহ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩০৯
عن أم هانئ قالت: إن النبي ﷺ دخل بيتها يوم فتح مكة فاغتسل وصلى ثماني ركعات فلم أر صلاة قط أخف منها غير أنه يتم الركوع والسجود. وقالت في رواية أخرى: وذلك ضحى (متفق عليه)
তিনি বলেন, নবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাক্কাহ বিজয়ের দিন যখন আমার ঘরে আসলেন, প্রথমে তিনি গোসল করলেন। এরপর তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আট রাকা‘আত সলাত আদায় করলেন। এর আগে আমি কোন দিন তাঁকে এত সংক্ষেপে সলাত আদায় করতে দেখিনি। কিন্তু তিনি রুকূ‘ সাজদাহ ঠিক মতো করেছেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেছেন, এটা ছিল চাশতের সলাত। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩১০
وعن معاذة قالت: سألت عائشة: كم كان رسول الله ﷺ يصلى صلاة الضحى؟ قالت: أربع ركعات ويزيد ما شاء الله. رواه مسلم
তিনি বলেন, আমি উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ (রাঃ) -কে প্রশ্ন করলাম, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুহার সলাত কত রাকা‘আত করে আদায় করতেন? তিনি উত্তর দিলেন, তিনি চার রাকা‘আত আদায় করতেন। আল্লাহর ইচ্ছায় কখনো এর চেয়ে বেশীও আদায় করতেন। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩১১
وعن أبى ذر قال: قال رسول الله ﷺ: «يصبح على كل سلامى من أحدكم صدقة فكل تسبيحة صدقة وكل تحميدة صدقة وكل تهليلة صدقة وكل تكبيرة صدقة وأمر بالمعروف صدقة ونهي عن المنكر صدقة ويجزئ من ذلك ركعتان يركعهما من الضحى» . رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : সকাল হতেই তোমাদের প্রত্যেকের প্রতিটা গ্রস্থির জন্যে ‘সদাক্বাহ্’ দেয়া অবশ্য দায়িত্ব। অতএব প্রতিটা ‘তাসবীহ’ই অর্থাৎ ‘সুবহা-নাল্ল-হ’ বলা ‘সদাক্বাহ্’। প্রতিটি ‘তাহমীদ’ই অর্থাৎ ‘আলহামদুলিল্লা-হ’ পড়া সদাক্বাহ্। প্রতিটি ‘তাহলীল’ অর্থাৎ ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ বলা সদাক্বাহ্। প্রতিটি ‘তাকবীর’ অর্থাৎ ‘আল্ল-হ আকবার’ বলা সদাক্বাহ্। ‘নেক কাজের নির্দেশ’ করা সদাক্বাহ্। মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা সদাক্বাহ্। আর এ সবের পরিবর্তে ‘যুহার দু’ রাকা‘আত সলাত’ আদায় করে নেয়া যথেষ্ট। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩১২
وعن زيد بن أرقم أنه رأى قوما يصلون من الضحى فقال: لقد علموا أن الصلاة في غير هذه الساعة أفضل إن رسول الله ﷺ قال: «صلاة الأوابين حين ترمض الفصال» . رواه مسلم
তিনি একটি দলকে ‘যুহার’ সময় সলাত আদায় করতে দেখে বললেন, এসব লোকে জানে না, এ সময় ব্যতীত অন্য সময়ে সলাত আদায় করা অনেক ভাল। রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ নিবিষ্টচিত্তে লোকদের সলাতের সময় হলো উষ্ট্রীর দুধ দোহনের সময়ে। (মুসলিম) [১]