মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৯৫
عن زيد بن ثابت: أن النبي ﷺ اتخذ حجرة في المسجد من حصير فصلى فيها ليالي حتى اجتمع عليه ناس ثم فقدوا صوته ليلة وظنوا أنه قد نام فجعل بعضهم يتنحنح ليخرج إليهم. فقال: «ما زال بكم الذى رأيت من صنيعكم حتى خشيت أن يكتب عليكم ولو كتب عليكم ما قمتم به. فصلوا أيها الناس في بيوتكم فإن أفضل صلاة المرء في بيته إلا الصلاة المكتوبة». (متفق عليه)
তিনি বলেন, নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (রমাযান) মাসে মাসজিদের ভিতরে চাটাই দিয়ে একটি কামরা তৈরি করলেন। তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এখানে কয়েক রাত (তারাবীহ) সলাত আদায় করলেন। আস্তে আস্তে তাঁর নিকট লোকজনের ভিড় জমে গেল। এক রাতে তাঁর কণ্ঠস্বর না শুনতে পেয়ে লোকের মনে করেছে তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুমিয়ে গেছেন। তাই কেউ কেউ গলা খাকারী দিলো, যাতে তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের কাছে বেরিয়ে আসেন। তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমাদের যে অনুরাগ আমি দেখছি তাতে আমার আশংকা হচ্ছে এ সলাত না আবার তোমাদের ওপর ফার্য হয়ে যায়। তোমাদের ওপর ফার্য হয়ে গেলে তোমরা তা পালন করতে সক্ষম হবে না। অতএব হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের বাড়ীতে সলাত আদায় কর। এজন্য ফার্য সলাত ব্যতীত যে সলাত ঘরে পড়া হয় তা উত্তম সলাত। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৯৬
وعن أبي هريرة قال: كان رسول الله ﷺ يرغب في قيام رمضان من غير أن يأمرهم فيه بعزيمة فيقول: «من قام رمضان إيمانا واحتسابا غفر له ما تقدم من ذنبه. فتوفي رسول الله ﷺ والأمر على ذلك ثم كان الأمر على ذلك في خلافة أبي بكر وصدرا من خلافة عمر على ذلك» . رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযানের মাসে ক্বিয়ামুল লায়লের উৎসাহ দিতেন (তারাবীহ সলাত), কিন্তু তাকিদ করে কোন নির্দেশ দিতেন না। তিনি বলতেন, যে লোক ঈমানের সঙ্গে ও পুণ্যের জন্যে রমাযান মাসে রাত জেগে ‘ইবাদত করে তার পূর্বের সব সগীরাহ্ গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর ওফাতের পর ব্যাপারটি এভাবেই থেকে গেল। (অর্থাৎ তারবীহের জন্য জামা‘আত নির্দিষ্ট ছিল না, বরং যে চাইতো সওয়াব অর্জনের জন্যে আদায় করে নিত)। আবূ বাক্রের খিলাফতকালেও এ অবস্থা ছিল। ‘উমারের খিলাফাতের প্রথম দিকেও এ অবস্থা ছিল। শেষের দিকে ‘উমার তারাবীহের সলাতের জন্যে জামা‘আতের ব্যবস্থা করেন এবং তখন থেকে লাগাতার তারবীহের জামা‘আত চলতে থাকল। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৯৭
وعن جابر قال: قال رسول الله ﷺ: «إذا قضى أحدكم الصلاة في مسجده فليجعل لبيته نصيبا من صلاته فإن الله جاعل في بيته من صلاته خيرا» . رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : তোমাদের কোন লোক যখন নিজের ফার্য সলাত মাসজিদে আদায় করে, সে যেন তার সলাতের কিছু অংশ বাড়ীতে আদায়ের জন্য জন্য রেখে দেয়। কেননা, আল্লাহ তা'আলা তার সলাতের দ্বারা ঘরের মাঝে কল্যাণ সৃষ্টি করে দেন।” (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৯৮
عن أبي ذر قال: صمنا مع رسول الله ﷺ رمضان فلم يقم بنا شيئا من الشهر حتى بقي سبع فقام بنا حتى ذهب ثلث الليل فلما كانت السادسة لم يقم بنا فلما كانت الخامسة قام بنا حتى ذهب شطر الليل فقلت: يارسول الله لو نفلتنا قيام هذه الليلة. قال فقال: «إن الرجل إذا صلى مع الإمام حتى ينصرف حسب له قيام الليلة» . قال: فلما كانت الرابعة لم يقم فلما كانت الثالثة جمع أهله ونساءه والناس فقام بنا حتى خشينا أن يفوتنا الفلاح. قال قلت: وما الفلاح؟ قال: السحور. ثم لم يقم بنا بقية الشهر. رواه أبو داود والترمذي والنسائي وروى ابن ماجه نحوه إلا أن الترمذي لم يذكر: ثم لم يقم بنا بقية الشهر
তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সঙ্গে (রমাযান মাসের) সওম পালন করেছি। তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাসের অনেক দিন আমাদের সঙ্গে ক্বিয়াম করেননি (অর্থাৎ তারাবীহের সলাত আদায় করেননি)। যখন রমযান মাসের সাতদিন অবশিষ্ট থাকল তখন তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সঙ্গে এক তৃতীয়াংশ রাত পর্যন্ত ক্বিয়াম করলেন অর্থাৎ তারাবীহের সলাত আদায় করালেন। যখন ছয় রাত বাকী থাকল (অর্থাৎ চব্বিশতম রাত এলো) তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সঙ্গে ক্বিয়াম করলেন না। আবার পাঁচ রাত অবশিষ্ট থাকতে অর্থাৎ পঁচিশতম রাতে তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সঙ্গে আধা রাত পর্যন্ত ক্বিয়াম করলেন। আমি আবেদন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আজ রাত যদি আরো অনেক সময় আমাদের সঙ্গে ক্বিয়াম করতেন (তাহলে কতই না ভাল হত)। রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যখন কোন লোক ফার্য সলাত ইমামের সঙ্গে আদায় করে। সলাত শেষে ফিরে চলে যায়, তার জন্যে গোটা রাত্রের ‘ইবাদাতের সাওয়াব লেখা হয়ে যায়। এরপর যখন চার রাত বাকী থাকে অর্থাৎ ছাব্বিশতম রাত আসে তখন তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সঙ্গে ক্বিয়াম করতেন না। এমনকি আমরা তাঁর জন্যে অপেক্ষা করতে করতে এক তৃতীয়াংশ রাত বাকী থাকল। যখন তিনরাত বাকী থাকল অর্থাৎ সাতাশতম রাত আসলো। তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পরিবারের নিজের বিবিগণের সকলকে একত্র করলেন এবং আমাদের সঙ্গে ক্বিয়াম করালেন (অর্থাৎ গোটা রাত আমাদেরকে সলাত আদায় করালেন)। এমনকি আমাদের আশংকা হলো যে, আবার না ‘ফালাহ’ ছুটে যায়। বর্ণনাকারী বললেন, আমি প্রশ্ন করলাম ‘ফালা-হ’ কি? ‘আবূ যার’ বললেন। ‘ফালা-হ’ হলো সাহরী খাওয়া। এরপর তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সঙ্গে মাসের বাকী দিনগুলো (অর্থাৎ আটাশ ও উনত্রিশতম দিন) ক্বিয়াম করেননি। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী; ইবনু মাজাহও এভাবে বর্ণনা নকল করেছেন। তিরমিয়ীও নিজের বর্ণনায় “এরপর আমাদের তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সঙ্গে মাসের অবশিষ্ট দিনগুলোতে কিয়াম করেননি” শব্দগুলো উল্লেখ করেনি।) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৯৯
وعن عائشة قالت: فقدت رسول الله ﷺ ليلة فإذا هو بالبقيع فقال أكنت تخافين أن يحيف الله عليك ورسوله؟ قلت: يا رسول الله إنى ظننت أنك أتيت بعض نسائك فقال: إن الله تعالى ينزل ليلة النصف من شعبان إلى السماء الدنيا فيغفر لأكثر من عدد شعر غنم كلب». رواه الترمذي وابن ماجه وزاد رزين: ممن استحق النار وقال الترمذي: سمعت محمدا يعني البخاري يضعف هذا الحديث
তিনি বলেন, একবার আমি রাত্রে রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বিছানায় খুঁজে না পেয়ে তাকে খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ জান্নাতুল বাকীতে দেখতে পেলাম। আমাকে দেখে তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি কি আশংকা করেছিলে যে, আল্লাহ ও রসূলুল্লাহ তোমার ওপর অবিচার করবে? আমি আবেদন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি মনে করেছিলাম আপনি আপনার কোন বিবির নিকট গিয়েছেন। তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, (‘আয়িশাহ্) আল্লাহ তা‘আলা শা‘বান মাসের পনের তারিখের রাত্রে প্রথম আকাশে নেমে আসেন। বানূ কাল্ব গোত্রের (বকরীর) দলের পশমের সংখ্যার চেয়েও বেশী পরিমাণ গুনাহ ক্ষমা করে দেন। (তিরমিয়ী, ইবনু মাজাহ; রযীন অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন “যাদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়েছে তাদের মধ্য থেকে”। আর তিরমিয়ী বলেছেন, আমি ইমাম বুখারীকে এ হাদীসটি দুর্বল হিসেবে উল্লেখ করতে শুনেছি) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩০০
وعن زيد بن ثابت قال: قال رسول الله ﷺ: «صلاة المرء فى بيته أفضل من صلاته في مسجدى هذا إلا المكتوبة» . رواه أبو داود والترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন : মানুষ তার ঘরে ফার্য সলাত ব্যতীত যে সলাত আদায় করবে তা এ মাসজিদে সলাত আদায়ের চেয়ে ভাল। (আবূ দাঊদ, তিরমিয়ী) [১]