মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৯৩
عن الحسن: أن عمر بن الخطاب جمع الناس على ابي بن كعب فكان يصلى بهم عشرين ليلة ولا يقنت بهم إلا في النصف الباقى فإذا كانت العشر الأواخر تخلف فصلى فى بيته فكانوا يقولون: أبق أبي. رواه أبو داود
তিনি বলেন, আমীরুল মু’মিনীন ‘উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) (রমাযান মাসের তারাবীহের জন্যে) লোকজনকে একত্র করলেন। তিনি (‘উমার) উবাই ইবনু কা‘বকে ইমাম নিযুক্ত করলেন। উবাই ইবনু কা‘ব তাদের নিয়ে বিশ রাত সলাত আদায় করালেন। তিনি (উবাই) রমযানের শেষ পনের দিন ছাড়া আর কোন দিন লোকদেরকে নিয়ে দু‘আ কুনূত পড়েননি। শেষ দশ দিন উবাই ইবনু কা‘ব মসজিদে আসেননি। বরং তিনি বাড়িতেই সলাত আদায় করতে লাগলেন। লোকেরা বলতে লাগল, উবাই ইবনু কা‘ব ভেগে গেছেন। (আবূ দাঊদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৯৪
وسئل أنس بن مالك عن القنوت. فقال: قنت رسول الله ﷺ بعد الركوع وفي رواية: قبل الركوع وبعده. رواه ابن ماجه
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) -কে কুনূত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুকূ‘র পরে দু‘আ কুনূত পড়তেন। আর এক সূত্রে আছে, তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু‘আ কুনূত পড়তেন কখনো রুকূ‘র পূর্বে, আর কখনো রুকূ‘র পরে। (ইবনু মাজাহ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৯৫
عن زيد بن ثابت: أن النبي ﷺ اتخذ حجرة في المسجد من حصير فصلى فيها ليالي حتى اجتمع عليه ناس ثم فقدوا صوته ليلة وظنوا أنه قد نام فجعل بعضهم يتنحنح ليخرج إليهم. فقال: «ما زال بكم الذى رأيت من صنيعكم حتى خشيت أن يكتب عليكم ولو كتب عليكم ما قمتم به. فصلوا أيها الناس في بيوتكم فإن أفضل صلاة المرء في بيته إلا الصلاة المكتوبة». (متفق عليه)
তিনি বলেন, নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (রমাযান) মাসে মাসজিদের ভিতরে চাটাই দিয়ে একটি কামরা তৈরি করলেন। তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এখানে কয়েক রাত (তারাবীহ) সলাত আদায় করলেন। আস্তে আস্তে তাঁর নিকট লোকজনের ভিড় জমে গেল। এক রাতে তাঁর কণ্ঠস্বর না শুনতে পেয়ে লোকের মনে করেছে তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুমিয়ে গেছেন। তাই কেউ কেউ গলা খাকারী দিলো, যাতে তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের কাছে বেরিয়ে আসেন। তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমাদের যে অনুরাগ আমি দেখছি তাতে আমার আশংকা হচ্ছে এ সলাত না আবার তোমাদের ওপর ফার্য হয়ে যায়। তোমাদের ওপর ফার্য হয়ে গেলে তোমরা তা পালন করতে সক্ষম হবে না। অতএব হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের বাড়ীতে সলাত আদায় কর। এজন্য ফার্য সলাত ব্যতীত যে সলাত ঘরে পড়া হয় তা উত্তম সলাত। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৯৬
وعن أبي هريرة قال: كان رسول الله ﷺ يرغب في قيام رمضان من غير أن يأمرهم فيه بعزيمة فيقول: «من قام رمضان إيمانا واحتسابا غفر له ما تقدم من ذنبه. فتوفي رسول الله ﷺ والأمر على ذلك ثم كان الأمر على ذلك في خلافة أبي بكر وصدرا من خلافة عمر على ذلك» . رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযানের মাসে ক্বিয়ামুল লায়লের উৎসাহ দিতেন (তারাবীহ সলাত), কিন্তু তাকিদ করে কোন নির্দেশ দিতেন না। তিনি বলতেন, যে লোক ঈমানের সঙ্গে ও পুণ্যের জন্যে রমাযান মাসে রাত জেগে ‘ইবাদত করে তার পূর্বের সব সগীরাহ্ গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর ওফাতের পর ব্যাপারটি এভাবেই থেকে গেল। (অর্থাৎ তারবীহের জন্য জামা‘আত নির্দিষ্ট ছিল না, বরং যে চাইতো সওয়াব অর্জনের জন্যে আদায় করে নিত)। আবূ বাক্রের খিলাফতকালেও এ অবস্থা ছিল। ‘উমারের খিলাফাতের প্রথম দিকেও এ অবস্থা ছিল। শেষের দিকে ‘উমার তারাবীহের সলাতের জন্যে জামা‘আতের ব্যবস্থা করেন এবং তখন থেকে লাগাতার তারবীহের জামা‘আত চলতে থাকল। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৯৭
وعن جابر قال: قال رسول الله ﷺ: «إذا قضى أحدكم الصلاة في مسجده فليجعل لبيته نصيبا من صلاته فإن الله جاعل في بيته من صلاته خيرا» . رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : তোমাদের কোন লোক যখন নিজের ফার্য সলাত মাসজিদে আদায় করে, সে যেন তার সলাতের কিছু অংশ বাড়ীতে আদায়ের জন্য জন্য রেখে দেয়। কেননা, আল্লাহ তা'আলা তার সলাতের দ্বারা ঘরের মাঝে কল্যাণ সৃষ্টি করে দেন।” (মুসলিম) [১]