পিতা-মাতার অবাধ্যতা এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হারাম - রিয়াদুস সলেহিন | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

রিয়াদুস সলেহিন > পিতা-মাতার অবাধ্যতা এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হারাম

রিয়াদুস সলেহিন ৩৪১

عن ابن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏إن أبر البر أن يصل الرجل ود أبيه‏" ‏‏‏

তিনি বলেন, (একদিন) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার বললেন, ‘‘আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় (কাবীরাহ গোনাহগুলো সম্পর্কে জ্ঞাত করবো না?’’ সবাই বললেন, ‘অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল!’ তিনি বললেন, ‘‘(সেগুলো হচ্ছে) আল্লাহর সাথে শির্ক করা এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া।’’ তিনি হেলান দিয়ে বসেছিলেন, এবার সোজা হয়ে বসে বললেন, ‘‘শুনে রাখ, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া।’’ এ কথাটি তিনি পুনঃ পুনঃ বলতে থাকলেন। এমনকি আমরা বলতে লাগলাম, ‘আর যদি তিনি না বলতেন!’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৪২

وعن عبد الله بن دينار عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أن رجلاً من الأعراب لقيه بطريق مكة، فسلم عليه عبد الله بن عمر، وحمله على حمار كان يركبه، وأعطاه عمامة كانت على رأسه، قال ابن دينار‏:‏ فقلنا له‏:‏ أصلحك الله إنهم الأعراب وهم يرضون اليسير فقال عبد الله بن عمر‏:‏ إن أبا هذا كان ودًا لعمر بن الخطاب رضي الله عنه وإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول‏:‏ ‏‏إن أبر البر صلة الرجل أهل ود أبيه‏"‏‏.‏ وفي رواية عن ابن دينار عن ابن عمر أنه كان إذا خرج إلى مكة كان له حمار يتروح عليه إذا مل ركوب الراحلة، وعمامة يشد بها رأسه، فبينا هو يومًا على ذلك الحمار إذ مر به أعرابي، فقال‏:‏ ألست ابن فلان بن فلان‏؟‏ قال‏:‏ بلى‏.‏ فأعطاه الحمار، فقال‏:‏ اركب هذا، وأعطاه العمامة وقال‏:‏ اشدد بها رأسك ، فقال له بعض أصحابه‏:‏ غفر الله لك أعطيت هذا الأعرابي حمارًا كنت تروح عليه، وعمامة كنت تشد بها رأسك‏؟‏ فقال‏:‏إني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول‏:‏ ‏"‏إن من أبر البر أن يصل الرجل أهل ود أبيه بعد أن يولي‏"‏ وإن أباه كان صديقًا لعمر رضي الله عنه ،"

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, ‘‘কাবীরাহ গুনাহসমূহ হচ্ছে, আল্লাহর সাথে শরীক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, প্রাণ হত্যা করা এবং মিথ্যা কসম খাওয়া।’’ (বুখারী) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৪৩

و عن أبي أُسَيد- بضم الهمزة وفتح السين- مالك بن ربيعة الساعدي رضي الله عنه قال‏:‏ بينا نحن جلوس عند رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ جاءه رجل من بني سلمة فقال‏:‏ يا رسول الله هل بقي من بر أبوي شيء أبرهما به بعد موتهما‏؟‏ فقال‏:‏ ‏ ‏ نعم، الصلاة عليهما، والاستغفار لهما، وإنفاذ عهدهما من بعدهما، وصلة الرحم التي لا توصل إلا بهما، وإكرام صديقهما‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود‏)‏‏)‏‏‏

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘কাবীরাহ গুনাহসমূহের একটি হল আপন পিতা-মাতাকে গালি দেওয়া।’’ জিজ্ঞেস করা হল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপন পিতা-মাতাকে কি কোনো ব্যক্তি গালি দেয়?’ তিনি বললেন, ‘‘হ্যাঁ, সে লোকের পিতাকে গালি-গালাজ করে, তখন সেও তার পিতাকে গালি-গালাজ করে থাকে এবং সে অন্যের মা-কে গালি দেয়, সুতরাং সেও তার মা-কে গালি দেয়।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [১] অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘‘কাবীরাহ গুনাহসমূহের একটি হল নিজের পিতা-মাতাকে অভিশাপ করা।’’ জিজ্ঞেস করা হল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! মানুষ নিজের পিতা-মাতাকে কিভাবে অভিশাপ করে?’ তিনি বললেন, ‘‘সে অপরের পিতাকে গালি-গালাজ করে, তখন সেও তার পিতাকে গালি-গালাজ করে থাকে। আর সে অন্যের মা-কে গালি দেয়, বিনিময়ে সেও তার মা-কে গালি দেয়।’’


রিয়াদুস সলেহিন ৩৪৪

وعن عائشة رضي الله عنها قالت‏:‏ ما غرت على أحد من نساء النبي صلى الله عليه وسلم ما غرت على خديجة رضي الله عنها، وما رأيتها قط، ولكن كان يكثر ذكرها، وربما ذبح الشاة، ثم يقطعها أعضاء، ثم يبعثها في صدائق خديجة، فربما قلت له‏:‏ كأن لم يكن في الدنيا إلا خديجة‏!‏ فيقول‏:‏ ‏‏إنها كانت وكانت وكان لي منها ولد‏"‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ ‏.‏ وفي رواية وإن كان ليذبح الشاء، فيُهدي في خلائلها منها ما يسعهن‏.‏ وفي رواية كان إذا ذبح الشاة يقول‏:‏ ‏"‏أرسلوا بها إلى أصدقاء خديجة‏"‏‏.‏ وفي رواية قالت‏:‏ استأذنت هالة بنت خويلد أخت خديجة على رسول الله صلى الله عليه وسلم، فعرف استئذان خديجة، فارتاح لذلك فقال‏:‏ اللهم هالة بنت خويلد‏"‏‏.‏"

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।’’ সুফিয়ান তাঁর বর্ণনায় বলেন, অর্থাৎ ‘‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৪৫

وعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال‏:‏ خرجت مع جرير بن عبد الله البجلي رضي الله عنه في سفر، فكان يخدمني فقلت له‏:‏ لا تفعل، فقال‏:‏ إني قد رأيت الأنصار تصنع برسول الله صلى الله عليه وسلم شيئًا آليت على نفسي أن لا أصحب أحدًا منهم إلا خدمته‏.‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ ‏.‏

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের জন্য (তিনটি কর্মকে) হারাম করেছেন; মায়ের অবাধ্যাচরণ করা, অধিকার প্রদানে বিরত থাকা ও অনধিকার কিছু প্রার্থনা করা এবং কন্যা জীবন্ত প্রোথিত করা। আর তিনি তোমাদের জন্য অপছন্দ করেছেন (তিনটি কর্ম); ভিত্তিহীন বাজে কথা বলা (বা জনরবে থাকা), অধিক (অনাবশ্যক) প্রশ্ন করা (অথবা প্রয়োজনের অধিক যাচ্ঞা করা) এবং ধন-মাল বিনষ্ট (অপচয়) করা।’’ (বুখারী ৫৯৭৫নং ও মুসলিম) [১]


রিয়াদুস সলেহিন > পিতা-মাতার ও নিকটাত্মীয়ের বন্ধু, স্ত্রীর সখী এবং যাদের সম্মান করা কর্তব্য তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার মাহাত্ন্য

রিয়াদুস সলেহিন ৩৪৬

وعن يزيد بن حيان قال‏:‏ انطلقت أنا وحصين بن سبرة، وعمرو بن مسلم إلى زيد بن أرقم رضي الله عنهم، فلما جلسنا إليه قال له حصين‏:‏ لقد لقيت يا زيد خيرًا كثيرًا، رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم وسمعت حديثه، وغزوت معه، وصليت خلفه‏:‏ لقد لقيت يا زيد خيرًا كثيرًا، حدثنا يا زيد ما سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ يا ابن أخى والله لقد كبرت سني، وقدم عهدي، ونسيت بعض الذي كنت أعي من رسول الله صلى الله عليه وسلم، فماحدثتكم ، فاقبلوا، وما لا فلا تكلفونيه ثم قال‏:‏ قام رسول الله صلى الله عليه وسلم يومًا فينا خطيبًا بماء يدعى خماء بين مكة والمدينة، فحمد الله، وأثنى عليه، ووعظ، وذكر، ثم قال‏:‏ ‏‏أما بعد، ألا أيها الناس، فإنما أنا بشر يوشك أن يأتي رسول ربي فأجيب، وأنا تارك فيكم ثقلين‏.‏ أولهما كتاب الله، فيه الهدى والنور، فخذوا بكتاب الله، واستمسكوا به‏.‏ فحث على كتاب الله، ورغب فيه ثم قال‏:‏ ‏"‏وأهل بيتي أذكركم الله في أهل بيتي، أذكركم الله في أهل بيتي‏"‏، فقال له حصين‏:‏ ومن أهل بيته يا زيد، أليس نساؤه من أهل بيته‏؟‏ قال‏:‏ نساؤه من أهل بيته، ولكن أهل بيته من حرم الصدقة بعده، قال‏:‏ ومن هم‏؟‏ قال‏:‏ هم آل علي، وآل عقيل، وآل جعفر، وآل عباس قال‏:‏ كل هؤلاء حرم الصدقة‏؟‏ قال‏:‏ نعم‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏ وفي رواية ‏"‏ ألا وإني تارك فيكم ثقلين‏:‏ أحدهما كتاب الله وحبل الله، ومن أتبعه كان على الهدى، ومن تركه كان على ضلالة‏"‏‏.‏"

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যার সাথে পিতার মৈত্রী সম্পর্ক ছিল, তা অক্ষুণ্ণ রাখা সবচেয়ে বড় পুণ্যের কাজ।’’ আব্দুল্লাহ ইবনু দ্বীনার আব্দুল্লাহ (রাঃ) ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, এক বেদুঈন মক্কার পথে তাঁর সাথে মিলিত হল। অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবনু উমার তাকে সালাম দিলেন এবং তিনি যে গাধার উপর সওয়ার ছিলেন তার উপর চাপিয়ে নিলেন। আর যে পাগড়ী তাঁর মাথায় ছিল, তিনি তা তাকে দিয়ে দিলেন। ইবনু দ্বীনার বলেন, আমরা বললাম, ‘আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন, এরা তো বেদুঈন, এরা তো অল্পেই তুষ্ট হয় (ফলে এর সাথে এত কিছু করার কী প্রয়োজন)?’ আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) বললেন, ‘এর পিতা উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-এর বন্ধু ছিলেন। আর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ‘‘পিতার বন্ধুর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা সবচেয়ে বড় নেকী।’’ অন্য এক বর্ণনায় ইবনু দ্বীনারের সূত্রে ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ইবনু উমারের মক্কা যাওয়ার সময় তার সাথে একটি গাধা থাকত। তিনি যখন উটের উপরে চেপে বিরক্ত হয়ে পড়তেন, তখন (এক ঘেঁয়েমি কাটানোর জন্য) ঐ গাধার উপর চেপে বিশ্রাম নিতেন। তাঁর একটি পাগড়ী ছিল, তিনি তা মাথায় বাঁধতেন। একদিন তিনি গাধার উপর সওয়ার ছিলেন, এমতাবস্থায় এক বেদুঈন তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম করল। তিনি বললেন, ‘তুমি কি অমুকের পুত্র অমুক নও?’ সে বলল, ‘অবশ্যই!’ অতঃপর তিনি তাকে গাধাটি দিয়ে বললেন, ‘এর উপর আরোহন কর’ এবং তাকে পাগড়ীটি দিয়ে বললেন, ‘এটি তোমার মাথায় বাঁধ।’ (এ দেখে) তাঁকে তাঁর কিছু সাথী-সঙ্গী বলল, ‘আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন! আপনি এই বেদুঈনকে ঐ গাধাটি দিয়ে দিলেন, যার উপর চড়ে আপনি বিশ্রাম নিতেন এবং তাকে ঐ পাগড়ীটিও দিলেন, যেটি আপনি নিজ মাথায় বাঁধতেন?’ তিনি বললেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ‘‘পিতার মৃত্যুর পর তার বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা সবচেয়ে বড় নেকীর কাজ।’’ আর এর পিতা উমার (রাঃ)-এর বন্ধু ছিলেন। [১] এ বর্ণনাগুলো সবই ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।


রিয়াদুস সলেহিন ৩৪৭

وعن ابن عمر رضي الله عنهما، عن أبي بكر رضي الله عنه موقوفًا عليه أنه قال ‏:‏ ارقبوا محمدًا صلى الله عليه وسلم في أهل بيته، ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏.‏

কোনো একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে বসা ছিলাম। এমন সময় বানী সালামা সম্প্রদায়ের জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, হে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিতা-মাতার মারা যাবার পরও আমার উপর তাদের প্রতি সদাচারণ করার দায়িত্ব আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তুমি তাদের জন্য দু‘আ করবে, তাদের গুনাহের মাগফিরাত প্রার্থনা করবে, তাদের কৃত ওয়াদা পূর্ণ করবে, তাদের আত্মীয়-স্বজনের সাথে এ জন্যে উত্তম ব্যবহার করবে যে, এরা তাদেরই আত্মীয় এবং বন্ধু-বান্ধব এবং তাদেরকে সম্মান দেখাবে।[১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৪৮

وعن أبي مسعود عقبة بن عمرو البدري الأنصاري رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏‏يؤم القوم أقرؤهم لكتاب الله، فإن كانوا في القراءة سواء، فأعلمهم بالسنة، فإن كانوا في السنة سواء، فأقدمهم هجرة، فإن كانوا في الهجرة سواء، فأقدمهم سنًا، ولا يؤمن الرجل الرجل في سلطانه، ولا يقعد في بيته على تكرمته إلا بإذنه‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏ وفي رواية له‏:‏ ‏"‏فأقدمهم سلمًا‏"‏ بدل ‏"‏سنًا‏"‏ ‏:‏ أو إسلامًا‏.‏ وفي رواية‏:‏ يؤم القوم أقرؤهم لكتاب الله، وأقدمهم قراءة، فإن كانت قراءتهم فيؤمهم أقدمهم هجرة، فإن كانوا في الهجرة سواء، فليؤمهم أكبرهم سنًا‏"‏‏.‏"

তিনি বলেন, খাদীজা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার প্রতি আমার যতটা ঈর্ষা হতো, ততটা ঈর্ষা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অপর কোন স্ত্রীর প্রতি হতো না। অথচ আমি তাঁকে কখনো দেখিনি। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ সময় তাঁর কথা আলোচনা করতেন এবং যখনই তিনি ছাগল যবাই করতেন, তখনই তার বিভিন্ন অঙ্গ কেটে খাদীজার বান্ধবীদের জন্য উপহারস্বরূপ পাঠাতেন। আমি তাঁকে মাঝে মধ্যে (রসিকতা ছলে) বলতাম, ‘মনে হয় যেন দুনিয়াতে খাদীজা ছাড়া আর কোন মেয়েই নেই।’ তখন তিনি (তাঁর প্রশংসা করে) বলতেন, ‘‘সে এই রকম ছিল, ঐ রকম ছিল। আর তাঁর থেকেই আমার সন্তান-সন্তুতি।’’ অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বকরী যবাই করতেন, তখন খাদীজার বান্ধবীদের নিকট এতটা পরিমাণে গোশত পাঠাতেন, যা তাদের জন্য যথেষ্ট হত।’ অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বকরী যবাই করতেন, তখন বলতেন, ‘‘খাদীজার বান্ধবীদের নিকট এই গোশত পাঠিয়ে দাও।’’ অন্য এক বর্ণনায় আছে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহ বলেন, ‘একদা খাদীজার বোন হালা বিনতে খুআইলিদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসার অনুমতি চাইল। তিনি খাদীজার অনুমতি চাওয়ার কথা স্মরণ করলেন, সুতরাং তিনি আনন্দবোধ করলেন এবং বললেন, ‘‘আল্লাহ! হালা বিনতে খুআইলিদ?’’ এ বর্ণনায় فَارتَاحَ (আনন্দবোধ করলেন) শব্দ এসেছে। আর হুমাইদীর ‘আল-জাম‘উ বাইনাস সহীহাইন’-এ এসেছে فَارتَاعَ শব্দ। অর্থাৎ তার প্রতি যত্ন নিলেন ও আগ্রহ প্রকাশ করলেন।[১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩৪৯

وعنه قال‏:‏ كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يمسح مناكبنا في الصلاة ويقول‏:‏ ‏ ‏استووا ولا تختلفوا، فتختلف قلوبكم، ليلني منكم أولو الأحلام والنهى، ثم الذين يلونهم‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

একদা আমি জারীর ইবনু আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)-এর সাথে সফরে বের হলাম। (আমার চেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও) তিনি আমার খিদমত করতেন। সুতরাং আমি তাঁকে বললাম, ‘আপনি এমন করবেন না।’ তিনি বললেন, ‘আমি আনসারগণকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে (অনেক) কিছু করতে দেখেছি। তাই আমি শপথ করেছি যে, তাঁদের মধ্যে যাঁরই সঙ্গী হব, তাঁরই খিদমত করব।’ (মুসলিম) [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية