মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৭৭
عن ابن عباس قيل له : هل لك في أمير المؤمنين معاوية فإنه ما أوتر إلا بواحدة؟ قال: أصاب إنه فقيه وفي رواية: قال ابن أبى مليكة: أوتر معاوية بعد العشاء بركعة وعنده مولى لابن عباس فأتى ابن عباس فأخبره فقال: دعه فإنه قد صحب النبي ﷺ. رواه البخاري
তাঁর নিকট প্রশ্ন করা হলো যে, আমীরুল মু'মিনীন মু‘আবিয়াহ্ (রাঃ) -এর ব্যাপারে আপনার কিছু বলার আছে? তিনি বিতরের সলাত এক রাক্'আত আদায় করেন। (এ কথা শুনে) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, তিনি একজন ‘ফকীহ', যা করেন ঠিক করেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে, ইবনু আবূ মুলায়কাহ্ বলেন, মু‘আবিয়াহ্ ‘ইশার সলাতের পর বিতরের সলাত এক রাক্'আত আদায় করেছেন। তার কাছে ছিলেন ইবনু 'আব্বাস-এর আযাদ করা গোলাম। তিনি তা দেখে ইবনু ‘আব্বাসকে ব্যাপারটি জানিয়ে দিলেন। ইবনু ‘আব্বাস বললেন, তার সম্পর্কে কিছু বলো না। তিনি নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাহচর্যের মর্যাদা লাভ করেছেন। (বুখারী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৭৮
وعن بريدة قال: سمعت رسول الله ﷺ يقول: الوتر حق فمن لم يوتر فليس منا الوتر حق فمن لم يوتر فليس منا الوتر حق فمن لم يوتر فليس منا . رواه أبو داود
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি : বিতরের সলাত আবশ্যক (অর্থাৎ ওয়াজিব)। তাই যে লোক বিতরের সলাত আদায় করল না, সে আমার উম্মাতের মাঝে গণ্য নয়। ‘বিতরের সলাত সত্য', যে বিতরের সলাত আদায় করল না সে আমার উম্মাতের মাঝে গণ্য হবে না। ‘বিতরের সলাত সত্য', যে লোক বিতরের সলাত আদায় করল না সে আমার উম্মাতের মাঝে গণ্য হবে না। ‘বিতরের সলাত সত্য', যে ব্যক্তি বিতরের সলাত আদায় করল না সে আমার উম্মাতের মাঝে গণ্য হবে না। (আবূ দাঊদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৭৯
وعن أبي سعيد قال: قال رسول الله ﷺ: «من نام عن الوتر أو نسيه فليصل إذا ذكر أو إذا استيقظ» . رواه الترمذي أبو داود وابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : যে লোক বিতরের সলাত আদায় না করে ঘমিয়ে পড়লো অথবা আদায় করতে ভুলে গেল সে যেন যখনই স্মরণ হয় বা ঘুম হতে সজাগ হয়ে আদায় করে নেয়। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৮০
وعن مالك بلغه أن رجلا سأل ابن عمر عن الوتر: أواجب هو؟ فقال عبد الله: قد أوتر رسول الله ﷺ وأوتر المسلمون. فجعل الرجل يردد عليه وعبد الله يقول: أوتر رسول الله ﷺ وأوتر المسلمون. رواه في الموطأ
তিনি জানতে পারলেন যে, এক লোক ‘আব্দুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার-এর নিকট বিতরের সলাত ওয়াজিব কি-না তা প্রশ্ন করল। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার বললেন, বিতরের সলাত রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আদায় করেছেন এবং মুসলিমরাও (সহাবীগণ) আদায় করেছেন। ঐ লোক বারবার একই বিষয় জিজ্ঞেস করতে থাকেন। ইবনু 'উমারও একই উত্তর দিতে থাকেন যে, বিতরের সলাত রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আদায় করেছেন এবং মুসলিমরাও আদায় করেছেন। (মুয়াত্ত্বা ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৮১
وعن علي قال: كان رسول الله ﷺ يوتر بثلاث يقرأ فيهن بتسع سور من المفصل يقرأ في كل ركعة بثلاث سور اخرهن: ﴿قل هوا لله أحد﴾ [الإخلاص 112 : 1] رواه الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতরের সলাত তিন রাক্‘আত আদায় করতেন এবং তাতে মুফাসসালের নয়টি সূরাহ্ পাঠ করতেন। প্রতি রাক্‘আতে তিনটি সূরাহ্ এবং এগুলোর শেষ সূরাহ্ ছিল “কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ” (সূরাহ্ আল ইখলা-স)। (তিরমিযী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৮২
وعن نافع قال: كنت مع ابن عمر بمكة والسماء مغيمة فخشي الصبح فأوتر بواحدة ثم انكشف فرأى أن عليه ليلا فشفع بواحدة ثم صلى ركعتين ركعتين فلما خشي الصبح أوتر بواحدة. رواه مالك
তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার-এর সঙ্গে মাক্কায় ছিলাম। আসমান মেঘাচ্ছন্ন ছিল। ইবনু ‘উমার সকাল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করলেন। তখন তিনি এক রাক্‘আত বিতরের সলাত আদায় করে নিলেন। তারপর আসমান পরিষ্কার হয়ে গেলে দেখলেন, এখনো অনেক রাত অবশিষ্ট আছে। তাই তিনি আরো এক রাক্‘আত আদায় করে জোড়া করে নিলেন। এরপর দু' দু' রাক্'আত করে (নাফল) আদায় করলেন। তারপর যখন আবার সকাল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করলেন তিনি বিতরের এক রাক্'আত আদায় করলেন। (মালিক) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৮৩
وعن عائشة: أن رسول الله ﷺ كان يصلى جالسا فيقرأ وهو جالس فإذا بقي من قراءته قدر ما يكون ثلاثين أو أربعين اية قام وقرأ وهو قائم ثم ركع ثم سجد ثم يفعل في الركعة الثانية مثل ذلك. رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (শেষ বয়সে) বসে বসে ক্বিরাআত পড়তেন। ত্রিশ কি চল্লিশ আয়াত অবশিষ্ট থাকতে তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে যেতেন। বাকী (আয়াত) দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়তেন। তারপর রুকূ‘ করতেন ও সাজদায় যেতেন। এভাবে তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দ্বিতীয় রাক্‘আতও আদায় করতেন। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৮৪
وعن أم سلمة رضي الله عنها أن النبي ﷺ: «كان يصلى بعد الوتر ركعتين» رواه الترمذي وزاد ابن ماجه: خفيفتين وهو جالس
নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতরের পরে দু' রাক্'আত (সলাত) আদায় করতেন। [তিরমিযী; কিন্তু ইবনু মাজাহ আরো বলেছেন, সংক্ষেপে ও বসে বসে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৮৫
وعن عائشة رضي الله عنها قالت: كان رسول الله ﷺ يوتر بواحدة ثم يركع ركعتين يقرأ فيهما وهو جالس فإذا أراد أن يركع قام فركع. رواه ابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতরের এক রাক্‘আত আদায় করতেন। তারপর দু' রাক্‘আত (নাফল) আদায় করতেন। এতে তিনি বসে বসে ক্বিরাআত পড়তেন। রুকূ‘ করার সময় হলে তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে যেতেন ও রুকূ‘ করতেন। (ইবনু মাজাহ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৮৬
وعن ثوبان عن النبي ﷺ قال: «إن هذا السهر جهد وثقل فإذا أوتر أحدكم فليركع ركعتين فإن قام من الليل وإلا كانتا له» . رواه الدارمي
নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : তাহাজ্জুদের সলাতের জন্যে রাত্রে জেগে উঠা কষ্টকর ও কঠিন কাজ। তাই তোমাদের যে লোক রাতের শেষাংশে জাগরিত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়, সে ঘুমাবার পূর্বে ‘ইশার সলাতের পর বিতর আদায় করতে চাইলে যেন দু' রাক্‘আত আদায় করে নেয়। যদি তাহাজ্জুদের সলাতের জন্যে রাত্রে উঠে যায় তবে তো ভাল, উঠতে না পারলে ঐ দু' রাক্‘আত যথেষ্ট। (দারিমী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৮৭
وعن أبي أمامة: أن النبي ﷺ كان يصليهما بعد الوتر وهو جالس يقرأ فيهما ﴿إذا زلزلت﴾ و ﴿قل يا أيها الكافرون﴾ رواه أحمد
নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতরের পর দু’ রাক্‘আত সলাত বসে আদায় করতেন। আর এ দু’ রাক্‘আতে ‘ইযা- যুল্যিলাতি’ এবং ‘কুল ইয়া- আইয়্যুহাল কা-ফিরূন’ পড়তেন। (আহমদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৮৮
عن أبى هريرة: أن رسول الله ﷺ كان إذا أراد أن يدعو على احد أو يدعو لأحد قنت بعد الركوع فربما قال إذا قال: «سمع الله لمن حمده ربنا لك الحمد: اللهم أنج الوليد بن الوليد وسلمة ابن هشام وعياش بن ربيعة اللهم اشدد وطأتك على مضر واجعلها سنين كسنى يوسف» يجهر بذلك وكان يقول في بعض صلاته: «اللهم العن فلانا وفلانا لأحياء من العرب» حتى أنزل الله: ﴿ليس لك من الأمر شيء﴾ [سوره آل عمران 3 : 128] الآية. (متفق عليه)
রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন লোককে বদ্দু‘আ অথবা কোন লোককে দু‘আ করতে চাইলে রুকূ‘র পরে কুনূত পড়তেন। তাই কোন কোন সময় তিনি, ‘সামি‘আল্লা-হু লিমান হামিদাহ, রাব্বানা- লাকাল হাম্দু’ বলার পরে এ দু‘আ করতেন, ‘আল্লা-হুম্মা আন্জিল ওয়ালীদ ইবনিল ওয়ালীদ। ওয়া সালামাতাব্নি হিশা-ম, ওয়া ‘আইয়্যা-শাব্নি রবী‘আহ্, আল্লা-হুম্মাশ্দুদ ওয়াত্ব আতাকা ‘আলা-মুযারা ওয়াজ্‘আল্হা- সিনীনা কাসিনী ইউসুফা’। অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ! ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীদকে সালামাহ্ ইবনু হিশামকে, ‘আইয়্যাশ ইবনু আবূ রবী‘আকে তুমি মুক্তি দান করো। হে আল্লাহ! ‘মুয়ায জাতির’ ওপরে তুমি কঠিন ‘আযাব নাযিল করো। আর এ ‘আযাবকে তাদের ওপর ইউসুফ (আঃ) -এর বছরগুলোর ন্যায় দুর্ভিক্ষের রূপ ধারণ করে দাও।’ তিনি উচ্চৈঃস্বরে এ দু‘আ পড়তেন। কোন কোন সালাতে তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আরবে এসব গোত্রের জন্যে এভবে দু‘আ করতেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি অমুক অমুকের ওপর অভিশাপ বর্ষণ করো।’ তারপর আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত নাযিল করেছেন, ‘লাইসা লাকা মিনাল আম্রি শাইয়ুন’ অর্থাৎ “এ ব্যাপারে আপনার কোন দখল নেই”- (সূরাহ্ আ-লি ‘ইমরান ৩ : ১২৮)। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৮৯
وعن عاصم الأحول قال: سألت أنس بن مالك عن القنوت في الصلاة كان قبل الركوع أو بعده؟ قال: قبله إنما قنت رسول الله ﷺ بعد الركوع شهرا إنه كان بعث أناسا يقال لهم القراء سبعون رجلا فأصيبوا فقنت رسول الله ﷺ بعد الركوع شهرا يدعو عليهم. (متفق عليه)
তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) -কে “দু‘আয়ে কুনূত” ব্যাপারে প্রশ্ন করেছি যে, এটা সলাতে রুকূ‘র পূর্বে পড়া হয়, না পরে? আনাস বললেন, রুকূ‘র পূর্বে। তিনি আরো বললেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (ফাজ্রের সলাতে অথবা সকল সলাতে রুকূ‘র পরে দু‘আয়ে) কুনূত পড়েছেন শুধু একবার। (তারও কারণ ছিল) রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছু লোককে, যাদেরকে ক্বারী বলা হত, তাদের সংখ্যা ছিল সত্তরজন (তাবলীগের জন্য) কোথাও পাঠিয়েছিলেন। ওখানকার লোকেরা তাদেরকে শাহীদ করে দিয়েছে। সেজন্য রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক মাস পর্যন্ত রুকূ‘র পরে দু‘আয়ে কুনূত পড়ে হত্যাকারীদের জন্যে বদদু‘আ করেছেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]