মিশকাতুল মাসাবিহ > দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৬৩
عن غضيف بن الحارث قال: قلت لعائشة: أرأيت رسول الله ﷺ كان يغتسل من الجنابة في أول الليل أم في اخره؟ قالت: ربما اغتسل فى أول الليل وربما اغتسل فى اخره قلت: الله أكبر الحمد لله الذى جعل في الأمر سعة قلت: كان يوتر أول الليل أم فى اخره؟ قالت: ربما أوتر فى أول الليل وربما أوتر في اخره قلت: الله أكبر الحمد لله الذى جعل في الأمر سعة قلت: كان يجهر بالقراءة أم يخفت؟ قالت: ربما جهر به وربما خفت قلت: الله أكبر الحمد لله الذى جعل في الأمر سعة. رواه أبو داود وروى ابن ماجه الفصل الأخير
তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ) -কে প্রশ্ন করলাম। রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফারয গোসল রাতে প্রথম অংশে না শেষ অংশে করতেন? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, কোন কোন সময় রাতের প্রথম প্রহরে কোন কোন সময় রাতের শেষ প্রহরে গোসল করতেন। আমি বললাম, আল্লাহ তা‘আলা অনেক বড়। সব প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্যে। যিনি দ্বীনের ‘আমালের ব্যাপারে সহজ (ব্যবস্থা) করে দিয়েছেন। আবার তিনি জিজ্ঞেস করলেন, রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি বিতরের সলাত রাতের প্রথম ভাগে আদায় করে নিতেন না রাতের শেষ ভাগে আদায় করতেন? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, তিনি কখনো রাতের প্রথম ভাগেই আদায় করতেন, আবার কখনো শেষ রাতে আদায় করতেন। আমি বললাম, আল্লাহ তা‘আলা অনেক বড়। সব প্রশংসা তাঁর যিনি দ্বীনের কাজ সহজ (ব্যবস্থা) করে দিয়েছেন। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি তাহাজ্জুদের সলাতে অথবা অন্য কোন সলাতে শব্দ করে ক্বিরাআত পড়তেন, না আস্তে আস্তে? তিনি বললেন, কখনো তো শব্দ করে ক্বিরাআত পড়তেন, আবার কখনো নিচু স্বরে। আমি বললাম, আল্লাহ তা‘আলা অনেক বড় ও সব প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য, যিনি দ্বীনের কাজ সহজ ও প্রশস্ত করে দিয়েছেন। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ! ইবনু মাজাহ এ সূত্রে শুধু শেষ অংশ [যাতে ক্বিরাআতের উল্লেখ হয়েছে] নকল করেছেন) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৬৪
وعن عبد الله بن أبي قيس قال: سألت عائشة: بكم كان رسول الله ﷺ يوتر؟ قالت: كان يوتر بأربع وثلاث وست وثلاث وثمان وثلاث وعشر وثلاث ولم يكن يوتر بأنقص من سبع ولا بأكثر من ثلاث عشرة. رواه أبو داود
তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ) -কে প্রশ্ন করলাম, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কত রাক‘আত বিতরের সলাত আদায় করতেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো চার ও তিন (অর্থাৎ সাত), আবার কখনো ছয় ও তিন (অর্থাৎ নয়), কখনো আট ও তিন (অর্থাৎ এগার) আবার কখনো দশ ও তিন (অর্থাৎ তের) রাক‘আত বিতরের সলাত আদায় করতেন। তিনি সাত-এর কম ও তের-এর বেশী বিতরের সলাত আদায় করতেন না। (আবূ দাঊদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৬৫
وعن أبى أيوب قال: قال رسول الله ﷺ: الوتر حق على كل مسلم فمن أحب أن يوتر بخمس فليفعل ومن أحب أن يوتر بثلاث فليفعل ومن أحب أن يوتر بواحدة فليفعل . رواه أبو داود والنسائي وابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : বিতরের সলাত প্রত্যেক মুসলিমের আদায় করা কর্তব্য। তাই যে লোক বিতরের সলাত পাঁচ রাক‘আত আদায় করতে চায় সে যেন পাঁচ রাক‘আত আদায় করে। যে লোক তিন রাক‘আত আদায় করতে চায় সে যেন তিন রাক‘আত আদায় করে। যে লোক এক রাক‘আত আদায় করতে চায় সে যেন এক রাক‘আত আদায় করে। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৬৬
وعن علي قال: قال رسول الله ﷺ: «إن الله وتر يحب الوتر فأوتروا يا أهل القران» . رواه الترمذي وأبو داود والنسائي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : আল্লাহ তা‘আলা বিতর (বিজোড়)। তিনি বিজোড়কে ভালোবাসেন। অতএব হে কুরআনের বাহকগণ! তোমরা বিতর সলাত আদায় কর। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৬৭
وعن خارجة بن حذافة قال: خرج علينا رسول الله ﷺ وقال: إن الله أمدكم بصلاة هي خير لكم من حمر النعم: الوتر جعله الله لكم فيما بين صلاة العشاء إلى أن يطلع الفجر. رواه الترمذي وأبو داود
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : আল্লাহ তা'আলা এমন এক সলাত দিয়ে তোমাদের সহযোগিতা করেছেন (পাঞ্জেগানা সলাত ছাড়া) যা তোমাদের জন্যে লাল উটের চেয়েও অনেক উত্তম। তা হলো বিতরের সলাত। আল্লাহ তা'আলা এ সলাত তোমাদের জন্য ইশার সলাতের পর থেকে ফাজরের সলাতের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মাঝে আদায়ের জন্যে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। (তিরমিয়ী, আবূ দাঊদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৬৮
وعن زيد بن أسلم قال: قال رسول الله ﷺ: «من نام عن وتره فليصل إذا أصبح» . رواه الترمذي مرسلا
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : যে লোক বিতরের সলাত আদায় না করে শুয়ে পড়েছে (আর উঠতে পারেনি), সে যেন (ফাজরের সলাতের পূর্বে) ভোর হয়ে গেলেও তা পড়ে নেয়। (তিরমিয়ী মুরসাল হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেছেন) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৬৯
وعن عبد العزيز بن جريج قال: سألنا عائشة رضي الله عنها بأي شيء كان يوتر رسول الله ﷺ؟ قالت: كان يقرأ في الأولى بــ ﴿سبح اسم ربك الأعلى﴾ [الأعلى 87 : 1] وفي الثانية بــ ﴿قل يا أيها الكافرون﴾ [الكافرون 109 : 1]، وفى الثالثة بــ ﴿قل هو الله أحد﴾ [الإخلاص 112 : 1] والمعوذتين» ورواه الترمذي وأبو داود
তিনি বলেন, আমরা আয়িশাহ (রাঃ) -কে প্রশ্ন করেছিলাম, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতরের সলাতে কোন কোন সূরাহ পড়তেন? আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, তিনি প্রথম রাকাআতে সাবিহিস্মা রব্বিকাল আ'লা- দ্বিতীয় রাকাআতে কুল ইয়া- আইয়াহাল কা-ফিরুন এবং তৃতীয় রাকাআতে ‘কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’, ‘কুল আ‘উয়ু বিরব্বিল ফালাক্ব’ ও ‘কুল আ‘উয়ু বিরব্বিন না-স’ পড়তেন। (তিরমিয়ী, আবূ দাঊদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৭০
ورواه النسائي عن عبد الرحمن بن أبزى
এ বর্ণনাটিকে ইমাম নাসায়ী আবদুর রহমান ইবনু আবযা হতে বর্ণনা করেছেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৭১
ورواه ألأحمد عن أبي بن كعب
আর ইমাম আহমাদ উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৭২
والدارمي عن ابن عباس ولم يذكروا والمعوذتين
আর দারিমী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে নকল করেছেন। কিন্তু ইমাম আহমাদ ও দারিমী নিজেদের বর্ণনায় “মু‘আব্বিযাতায়ন” উল্লেখ করেননি)। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৭৩
وعن الحسن بن علي رضي الله عنهما قال: علمنى رسول الله ﷺ كلمات أقولهن في قنوت الوتر: «اللهم اهدنى فيمن هديت وعافنى فيمن عافيت وتولنى فيمن توليت وبارك لى فيما أعطيت وقنى شر ما قضيت فإنك تقضى ولا يقضى عليك وإنه لا يذل من واليت تباركت ربنا وتعاليت» . رواه الترمذي وأبو داود والنسائي وابن ماجه والدارمي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতরের দুআ কুনুত পাঠ করার জন্য আমাকে কিছু কালিমাহ্ শিক্ষা দিয়েছেন। সে কালিমাগুলো হলো, “আল্ল-হুম্মাহদিনী ফীমান হাদায়তা ওয়া ‘আ-ফিনী ফীমান ‘আ-ফায়তা, ওয়াতা ওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লায়তা, ওয়াবা-রিক লী ফীমা- আ-‘ত্বায়তা, ওয়াক্বিনী শাররা মা- ক্বযায়তা, ফাইন্নাকা তাক্বযী ওয়ালা- ইউক্বযা- ‘আলায়কা, ওয়া ইন্নাহূ লা- ইয়াযিল্লু মাওঁ ওয়ালায়তা, তাবা-রাক্তা রব্বানা- ওয়াতা‘আ-লায়তা” অর্থাৎ “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে হিদায়াত দান করে সে সব মানুষের সঙ্গে যাদের তুমি হিদায়াত দান করেছ (নবী রসূলগণ)। তুমি আমাকে দুনিয়ার বিপদাপদ থেকে হিফাযাত করো ওসব লোকের সঙ্গে যাদেরকে তুমি হিফাযাত করেছ। যাদের তুমি অভিভাবক হয়েছো, তাদের মাঝে আমারও অভিভাবক হও। তুমি আমাকে যা দান করেছ (জীবন, জ্ঞান সম্পদ, ধন, নেক ‘আমাল), এতে বারাকাত দান করো। আর আমাকে তুমি রক্ষা করো ওসব অনিষ্ট হতে যা আমার তাকদীরে লিখা হয়ে গেছে। নিশ্চয় তুমি যা চাও তাই আদেশ করো। তোমাকে কেউ আদেশ করতে পারে না। তুমি যাকে ভালোবাসো তাকে কেউ অপমানিত করতে পারে না। হে আমার রব! তুমি বারাকাতে পরিপূর্ণ। তুমি খুব উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন"। (তিরমিয়ী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ, দারিমী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৭৪
وعن أبي بن كعب قال: كان رسول الله ﷺ إذا سلم في الوتر قال: «سبحانك الملك القدوس» رواه أبو داود والنسائي وزاد: ثلاث مرات يطيل في آخرهن
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতরের সলাতের সালাম ফিরাবার পর বলতেন, “সুবহা-নাল মালিকিল কুদূস” অর্থাৎ পাক-পবিত্র বাদশাহ খুবই পবিত্র। (আৰু দাঊদ, নাসায়ী; তিনি [নাসায়ী] বৃদ্ধি করেছেন যে, তিনবার দু'আটি পড়তেন, শেষের বারে দীর্ঘায়িত করতেন) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৭৫
وفي رواية للنسائي عن عبد الرحمن بن أبزى عن أبيه قال: كان يقول إذا سلم: «سبحان الملك القدوس» ثلاثا ويرفع صوته بالثالثة
নাসায়ীর একটি বর্ণনা ‘আবদুর রহমান ইবনু আবৃযা তার পিতা হতে নকল করেছেন : তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সালাম ফিরাতেন, তিনবার বলতেন "সুবহা-নাল মালিকিল কুদ্দূস", তৃতীয়বার উচ্চৈঃস্বরে বলতেন। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৭৬
وعن علي قال: إن النبي ﷺ كان يقول في اخر وتره: «اللهم إني أعوذ برضاك من سخطك وبمعافاتك من عقوبتك وأعوذ بك منك لا أحصى ثناء عليك أنت كما أثنيت على نفسك» . رواه أبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه
তিনি বলেন, নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার বিতরের সলাত শেষে এ দুআ পড়তেন : “আল্ল-হুম্মা ইনী আ‘ঊযু বিরিযা-কা মিন সাখাতিকা ওয়া বিমু‘আ-ফা-তিকা মিন উকুবাতিকা ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিনকা, লা- উহসী সানা-য়ান ‘আলায়কা, আনতা কামা- আস্নায়তা ‘আলা- নাফসিকা” (অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ! আমি পানাহ চাই তোমার সন্তুষ্টির মাধ্যমে তোমার গজব থেকে, তোমার নিরাপত্তার মাধ্যমে তোমার আযাব থেকে। আমি পানাহ চাই তোমার নিকট তোমার অসন্তোষ থেকে। তোমার প্রশংসা বর্ণনা করে আমি শেষ করতে পারবো না। তুমি তেমন, যেমন তুমি তোমার বিবরণ দিয়েছ )। (আবূ দাঊদ, তিরমিয়ী, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৭৭
عن ابن عباس قيل له : هل لك في أمير المؤمنين معاوية فإنه ما أوتر إلا بواحدة؟ قال: أصاب إنه فقيه وفي رواية: قال ابن أبى مليكة: أوتر معاوية بعد العشاء بركعة وعنده مولى لابن عباس فأتى ابن عباس فأخبره فقال: دعه فإنه قد صحب النبي ﷺ. رواه البخاري
তাঁর নিকট প্রশ্ন করা হলো যে, আমীরুল মু'মিনীন মু‘আবিয়াহ্ (রাঃ) -এর ব্যাপারে আপনার কিছু বলার আছে? তিনি বিতরের সলাত এক রাক্'আত আদায় করেন। (এ কথা শুনে) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, তিনি একজন ‘ফকীহ', যা করেন ঠিক করেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে, ইবনু আবূ মুলায়কাহ্ বলেন, মু‘আবিয়াহ্ ‘ইশার সলাতের পর বিতরের সলাত এক রাক্'আত আদায় করেছেন। তার কাছে ছিলেন ইবনু 'আব্বাস-এর আযাদ করা গোলাম। তিনি তা দেখে ইবনু ‘আব্বাসকে ব্যাপারটি জানিয়ে দিলেন। ইবনু ‘আব্বাস বললেন, তার সম্পর্কে কিছু বলো না। তিনি নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাহচর্যের মর্যাদা লাভ করেছেন। (বুখারী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৭৮
وعن بريدة قال: سمعت رسول الله ﷺ يقول: الوتر حق فمن لم يوتر فليس منا الوتر حق فمن لم يوتر فليس منا الوتر حق فمن لم يوتر فليس منا . رواه أبو داود
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি : বিতরের সলাত আবশ্যক (অর্থাৎ ওয়াজিব)। তাই যে লোক বিতরের সলাত আদায় করল না, সে আমার উম্মাতের মাঝে গণ্য নয়। ‘বিতরের সলাত সত্য', যে বিতরের সলাত আদায় করল না সে আমার উম্মাতের মাঝে গণ্য হবে না। ‘বিতরের সলাত সত্য', যে লোক বিতরের সলাত আদায় করল না সে আমার উম্মাতের মাঝে গণ্য হবে না। ‘বিতরের সলাত সত্য', যে ব্যক্তি বিতরের সলাত আদায় করল না সে আমার উম্মাতের মাঝে গণ্য হবে না। (আবূ দাঊদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৭৯
وعن أبي سعيد قال: قال رسول الله ﷺ: «من نام عن الوتر أو نسيه فليصل إذا ذكر أو إذا استيقظ» . رواه الترمذي أبو داود وابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : যে লোক বিতরের সলাত আদায় না করে ঘমিয়ে পড়লো অথবা আদায় করতে ভুলে গেল সে যেন যখনই স্মরণ হয় বা ঘুম হতে সজাগ হয়ে আদায় করে নেয়। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৮০
وعن مالك بلغه أن رجلا سأل ابن عمر عن الوتر: أواجب هو؟ فقال عبد الله: قد أوتر رسول الله ﷺ وأوتر المسلمون. فجعل الرجل يردد عليه وعبد الله يقول: أوتر رسول الله ﷺ وأوتر المسلمون. رواه في الموطأ
তিনি জানতে পারলেন যে, এক লোক ‘আব্দুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার-এর নিকট বিতরের সলাত ওয়াজিব কি-না তা প্রশ্ন করল। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার বললেন, বিতরের সলাত রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আদায় করেছেন এবং মুসলিমরাও (সহাবীগণ) আদায় করেছেন। ঐ লোক বারবার একই বিষয় জিজ্ঞেস করতে থাকেন। ইবনু 'উমারও একই উত্তর দিতে থাকেন যে, বিতরের সলাত রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আদায় করেছেন এবং মুসলিমরাও আদায় করেছেন। (মুয়াত্ত্বা ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৮১
وعن علي قال: كان رسول الله ﷺ يوتر بثلاث يقرأ فيهن بتسع سور من المفصل يقرأ في كل ركعة بثلاث سور اخرهن: ﴿قل هوا لله أحد﴾ [الإخلاص 112 : 1] رواه الترمذي
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতরের সলাত তিন রাক্‘আত আদায় করতেন এবং তাতে মুফাসসালের নয়টি সূরাহ্ পাঠ করতেন। প্রতি রাক্‘আতে তিনটি সূরাহ্ এবং এগুলোর শেষ সূরাহ্ ছিল “কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ” (সূরাহ্ আল ইখলা-স)। (তিরমিযী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৮২
وعن نافع قال: كنت مع ابن عمر بمكة والسماء مغيمة فخشي الصبح فأوتر بواحدة ثم انكشف فرأى أن عليه ليلا فشفع بواحدة ثم صلى ركعتين ركعتين فلما خشي الصبح أوتر بواحدة. رواه مالك
তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার-এর সঙ্গে মাক্কায় ছিলাম। আসমান মেঘাচ্ছন্ন ছিল। ইবনু ‘উমার সকাল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করলেন। তখন তিনি এক রাক্‘আত বিতরের সলাত আদায় করে নিলেন। তারপর আসমান পরিষ্কার হয়ে গেলে দেখলেন, এখনো অনেক রাত অবশিষ্ট আছে। তাই তিনি আরো এক রাক্‘আত আদায় করে জোড়া করে নিলেন। এরপর দু' দু' রাক্'আত করে (নাফল) আদায় করলেন। তারপর যখন আবার সকাল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করলেন তিনি বিতরের এক রাক্'আত আদায় করলেন। (মালিক) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৮৩
وعن عائشة: أن رسول الله ﷺ كان يصلى جالسا فيقرأ وهو جالس فإذا بقي من قراءته قدر ما يكون ثلاثين أو أربعين اية قام وقرأ وهو قائم ثم ركع ثم سجد ثم يفعل في الركعة الثانية مثل ذلك. رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (শেষ বয়সে) বসে বসে ক্বিরাআত পড়তেন। ত্রিশ কি চল্লিশ আয়াত অবশিষ্ট থাকতে তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে যেতেন। বাকী (আয়াত) দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়তেন। তারপর রুকূ‘ করতেন ও সাজদায় যেতেন। এভাবে তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দ্বিতীয় রাক্‘আতও আদায় করতেন। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৮৪
وعن أم سلمة رضي الله عنها أن النبي ﷺ: «كان يصلى بعد الوتر ركعتين» رواه الترمذي وزاد ابن ماجه: خفيفتين وهو جالس
নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতরের পরে দু' রাক্'আত (সলাত) আদায় করতেন। [তিরমিযী; কিন্তু ইবনু মাজাহ আরো বলেছেন, সংক্ষেপে ও বসে বসে। [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৮৫
وعن عائشة رضي الله عنها قالت: كان رسول الله ﷺ يوتر بواحدة ثم يركع ركعتين يقرأ فيهما وهو جالس فإذا أراد أن يركع قام فركع. رواه ابن ماجه
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতরের এক রাক্‘আত আদায় করতেন। তারপর দু' রাক্‘আত (নাফল) আদায় করতেন। এতে তিনি বসে বসে ক্বিরাআত পড়তেন। রুকূ‘ করার সময় হলে তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে যেতেন ও রুকূ‘ করতেন। (ইবনু মাজাহ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৮৬
وعن ثوبان عن النبي ﷺ قال: «إن هذا السهر جهد وثقل فإذا أوتر أحدكم فليركع ركعتين فإن قام من الليل وإلا كانتا له» . رواه الدارمي
নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : তাহাজ্জুদের সলাতের জন্যে রাত্রে জেগে উঠা কষ্টকর ও কঠিন কাজ। তাই তোমাদের যে লোক রাতের শেষাংশে জাগরিত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়, সে ঘুমাবার পূর্বে ‘ইশার সলাতের পর বিতর আদায় করতে চাইলে যেন দু' রাক্‘আত আদায় করে নেয়। যদি তাহাজ্জুদের সলাতের জন্যে রাত্রে উঠে যায় তবে তো ভাল, উঠতে না পারলে ঐ দু' রাক্‘আত যথেষ্ট। (দারিমী) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৮৭
وعن أبي أمامة: أن النبي ﷺ كان يصليهما بعد الوتر وهو جالس يقرأ فيهما ﴿إذا زلزلت﴾ و ﴿قل يا أيها الكافرون﴾ رواه أحمد
নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতরের পর দু’ রাক্‘আত সলাত বসে আদায় করতেন। আর এ দু’ রাক্‘আতে ‘ইযা- যুল্যিলাতি’ এবং ‘কুল ইয়া- আইয়্যুহাল কা-ফিরূন’ পড়তেন। (আহমদ) [১]