মিশকাতুল মাসাবিহ > তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৫২
عن عبد الله بن عمرو قال: حدثت أن رسول الله ﷺ قال: «صلاة الرجل قاعدا نصف الصلاة» قال: فأتيته فوجدته يصلى جالسا فوضعت يدى على رأسه فقال: «مالك يا عبد الله بن عمرو؟» قلت: حدثت يا رسول الله أنك قلت: «صلاة الرجل قاعدا على نصف الصلاة» وأنت تصلى قاعدا قال: «أجل ولكنى لست كأحد منكم» . رواه مسلم
তিনি বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : বসে (নাফ্ল) সলাত আদায় করলে, দাঁড়িয়ে সলাত আদায়ের অর্ধেক সাওয়াব পাওয়া যায়। তিনি (‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দরবারে হাযির হলাম। সে সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসে বসে সলাত আদায় করছিলেন। (সলাত শেষ হবার পর) আমি রসূলের মাথায় হাত রাখলাম। তিনি বললেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র! কি হয়েছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে তো বলা হয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : বসে সলাত আদায়কারীর সলাতে অর্ধেক সাওয়াব হয়। অথচ আপনি বসে বসে সলাত আদায় করছেন। জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ তা-ই। কিন্তু আমি তো তোমাদের মতো নই। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৫৩
وعن سالم بن أبي الجعد قال: قال رجل من خزاعة: ليتنى صليت فاسترحت فكأنهم عابوا ذلك عليه فقال: سمعت رسول الله ﷺ يقول: «أقم الصلاة يا بلال أرحنا بها» رواه أبو داود
তিনি বলেন, খুযা’আহ্ গোত্রের এক লোক বলল, হায় আমি যদি সলাত আদায় করতাম, আরাম পেতাম। লোকেরা তার কথা শুনে মন খারাপ করল। তখন লোকটি বলল, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)–কে বলতে শুনেছি : হে বিলাল! সলাতের জন্যে ইক্বামাত দাও। এর দ্বারা আমাকে আরাম দাও। (আবূ দাঊদ) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ > প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৫৪
عن ابن عمر قال: قال رسول الله ﷺ: صلاة الليل مثنى مثنى فإذا خشي أحدكم الصبح صلى ركعة واحدة توتر له ما قد صلى. (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : রাত্রের (নাফ্ল) সলাত দু’ রাক্’আত দু’ রাক্’আত করে (আদায় করতে হয়)। কারো ভোর হয়ে যাওয়ার আশংকাবোধ হলে সে যেন (দু’রাক্’আতের) সাথে সাথে আরো এক রাক্’আত আদায় করে নেয়। তাহলে এ রাক্’আত পূর্বে আদায় করা সলাতকে বেজোড় করে দেবে। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৫৫
وعن ابن عمر قال: قال رسول الله ﷺ: «الوتر ركعة من اخر الليل» . رواه مسلم
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, আর বিত্র এক রাক্’আত শেষ রাতে। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৫৬
وعن عائشة رضي الله عنها قالت: كان رسول الله ﷺ يصلى من الليل ثلاث عشرة ركعة يوتر من ذلك بخمس لا يجلس في شيء إلا في اخرها. (متفق عليه)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাত্রে (তাহাজ্জুদের সময়) তের রাক্’আত সলাত আদায় করতেন। তের রাক্’আতের মাঝে পাঁচ রাক্আত বিত্র। আর এর মাঝে (পাঁচ রাক্’আতের) শেষ রাক্’আত ব্যতীত কোন রাক্’আতে ‘তাশাহ্হুদ’ পড়ার জন্যে বসতেন না। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৫৭
وعن سعد بن هشام قال انطلقت إلى عائشة فقلت يا أم المؤمنين أنبئينى عن خلق رسول الله ﷺ قالت: ألست تقرأ القران؟ قلت: بلى. قالت: فإن خلق نبي الله ﷺ كان القران. قلت: يا أم المؤمنين أنبئينى عن وتر رسول الله ﷺ فقالت: كنا نعد له سواكه وطهوره فيبعثه الله ما شاء أن يبعثه من الليل فيتسوك ويتوضأ ويصلى تسع ركعات لا يجلس فيها إلا في الثامنة فيذكر الله ويحمده ويدعوه ثم ينهض ولا يسلم فيصلي التاسعة ثم يقعد فيذكر الله ويحمده ويدعوه ثم يسلم تسليما يسمعنا ثم يصلى ركعتين بعدما يسلم وهو قاعد فتلك إحدى عشرة ركعة يابني فلما أسن ﷺ وأخذ اللحم أوتر بسبع وصنع في الركعتين مثل صنيعه في الأولى فتلك تسع يا بني وكان نبي الله ﷺ إذا صلى صلاة أحب أن يداوم عليها وكان إذا غلبه نوم أو وجع عن قيام الليل صلى من النهار ثنتي عشرة ركعة ولا أعلم نبي الله ﷺ قرأ القران كله في ليلة ولا صلى ليلة إلى الصبح ولا صام شهرا كاملا غير رمضان. رواه مسلم
তিনি বলেন, আমি উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ (রাঃ) -এর কাছে গেলাম। তাঁর কাছে বললাম, উম্মুল মু’মিনীন! আমাকে রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর ‘খুলুক’ (স্বভাব-চরিত্র) ব্যাপারে কিছু বলুন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, তুমি কি কুরআন পড়ো না? আমি বললাম, হ্যাঁ পড়ি। এবার তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নৈতিকতা ছিল আল-কুরআন। আমি বললাম, হে উম্মুল মু’মিনীন! আমাকে রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর বিতর ব্যাপারে বলুন। তিনি বললেন, (রাতের বিতর সলাতের জন্যে) আমি পূর্বে থেকেই রসূলুল্লাহর মিসওয়াক ও উযূর পানির ব্যবস্থা করে রাখতাম। আল্লাহ তা‘আলা যখন তাঁকে ঘুম হতে সজাগ করতে চাইতেন, উঠাতেন। তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথমে মিসওয়াক করতেন, তারপর উযূ করতেন ও নয় রাক‘আত সলাত আদায় করতেন। অষ্টম রাক‘আত ব্যতীত কোন রাক‘আতে তিনি বসতেন না। আট রাক‘আত পড়া শেষ হলে (‘তাশাহহুদে’) বসতেন। আল্লাহর যিকর করতেন। তাঁর প্রশংসা করতেন। তাঁর নিকট দু‘আ করতেন অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করতেন। তারপর সালাম ফিরানো ব্যতীত নবম রাক‘আতের জন্যে দাঁড়িয়ে যেতেন। নবম রাক‘আত শেষ করে তাশাহহুদ পাঠ করার জন্যে বসতেন। আল্লাহর যিকর করতেন। তার প্রশংসা করতেন। তাঁর নিকট দু‘আ করতেন (অর্থাৎ তাশাহহুদ পড়তেন)। এরপর আমাদেরকে শুনিয়ে সশব্দে সালাম ফিরাতেন। তারপর বসে বসে দু’ রাক‘আত আদায় করতেন। হে বৎস! এ মোট এগার রাক‘আত হলো। এরপর যখন তিনি বার্ধক্যে পৌছে গেলেন এবং তাঁর শরীর ভারী হয়ে গেল, তখন বিতরসহ সাত রাক‘আত সলাত আদায় করতেন। আর পূর্বের মতোই দু’ রাক‘আত বসে বসে আদায় করতেন। প্রিয় বৎস! এ মোট নয় রাক‘আত হলো। আল্লাহর নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন সলাত আদায় করলে, তা নিয়মিত আদায় করতে পছন্দ করতেন। কোন দিন যদি ঘুম বেশী হয়ে যেত অথবা অন্য কোন সমস্যা দেখা দিত, যাতে তাঁর জন্যে রাত্রে দাঁড়ানো সম্ভব হত না, তখন তিনি দুপুরে বারো রাক‘আত সলাত আদায় করে নিতেন। আমার জানা মতে, আল্লাহর নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো এক রাতে সম্পুর্ণ কুর‘আন পড়েননি। অথবা ভোর পর্যন্ত সারা রাত্র ধরে সলাত আদায় করেননি এবং রমাযান মাস ব্যতীত অন্য কোন মাসে গোটা মাস সওম পালন করেননি। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৫৮
وعن ابن عمر عن النبي ﷺ قال: «اجعلوا اخر صلاتكم بالليل وترا» . رواه مسلم
নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : তোমরা বিতরকে তোমাদের রাতের শেষ সলাত করো। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৫৯
وعن ابن عمر عن النبي ﷺ قال: «بادروا الصبح بالوتر» . وراه مسلم
নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : তোমরা (ভোরের লক্ষণ ফুটে উঠার আগে) বিতরের সলাত আদায় করতে দ্রুত করো। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৬০
وعن جابر قال: قال رسول الله ﷺ: «من خاف أن لا يقوم من اخر الليل فليوتر أوله ومن طمع أن يقوم اخره فليوتر اخر الليل فإن صلاة اخر الليل مشهودة وذلك أفضل». رواه مسلم
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : যে লোক আশংকা করে যে, শেষ রাতে উঠতে পারবে না সে যেন প্রথম রাতেই বিতরের সলাত আদায় করে নেয়। আর যে লোক শেষ রাত্রে উঠতে পারবে বলে মনে করে, সে যেন শেষ রাতেই বিতরের সলাত আদায় করে। এজন্য যে, শেষ রাতের সলাতে ফেরেশতাগণ উপস্থিত হন। আর এটা অনেক ভাল। (মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৬১
وعن عائشة رضي الله عنها قالت: من كل الليل أوتر رسول الله ﷺ من أول الليل وأوسطه واخره وانتهى وتره إلى السحر. (متفق عليه)
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাত্রের প্রতি অংশেই বিতরের সলাত আদায় করেছেন- প্রথম রাতেও (ইশার সলাতের পরপর), মধ্যরাতেও এবং শেষ রাতেও। কিন্তু শেষ জীবনে তিনি (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিতরের সলাতের জন্যে রাতের সাহরীর সময় (শেষভাগ) নির্ধারিত করে নিয়েছিলেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]
মিশকাতুল মাসাবিহ ১২৬২
وعن أبى هريرة قال: أوصانى خليلى بثلاث: صيام ثلاثة أيام من كل شهر وركعتي الضحى وأن أوتر قبل أن أنام. (متفق عليه)
তিনি বলেন, আমার বন্ধু (রসূলুল্লাহ) আমাকে তিনটি বিষয়ে ওয়াসিয়্যাত করেছেন : প্রতি মাসে তিনটি সওম পালন করতে, যুহা’র দু’ রাক‘আত সলাত (ইশরাক অথবা চাশত) পড়তে এবং ঘুমাবার পূর্বে বিতরের সলাত আদায় করতে। (বুখারী, মুসলিম) [১]